Sponsor

banner image

recent posts

||♥♥ ছোট্ট বেলার সাথী♥♥|| ||md Asad Rahman||

||writer|| Md Asad Rahman|| ||Kotchandpur|| ||Jhenaidah || মিনার শুন না এই মিনার ওই হারামি(ফয়সাল ধাক্কা দিয়ে) ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ ♥ কি হয়েছে?? >মিনার ভয় পেয়ে কি ভাবছিস আনমনে >ফয়সাল কিছু না এমনি>মিনার কি বলবি বল>মিনার বলছিলাম আজকে আমার একটা ইন্টারভিউ আছে আমার যেতে হবে তুই কি থাকবি নাকি বের হবি??>ফয়সাল না আজকে আমার ও ইন্টারভিউ আছে>মিনার মুচকি হেসে বলিছ কিরে বাব্বু >ফয়সাল হুম বেব্বি>মিনার চল তাহলে রেড়ি হয়ে নি>ফয়সাল তারপর দুই বন্ধু রেড়ি হয়ে বের হয়ে গেল ইন্টারভিউ দিতে। রিকসা করে গন্তব্যে পৌঁছালো দুইজন। আমি চলে এসেছি >ফয়সাল আমি ও চলে এসেছি >মিনার মুচকি হাসি দিয়ে বেব্বি আজকে যদি দুইজনের চাকরি হয়ে যায় তাহলে রাতে পার্টি করবো সবাই মিলে>ফয়সাল হেসে হেসে আগে ভিতরে চল>মিনার দুইজন ভিতরে গেল এক জন এক জন করে ইন্টারভিউ দিল মোট ৬ জন ছিল তার মধ্যে ৩ জনের চাকরি হয়ে গেল...... মিনার আর ফয়সাল খুশি মনে বাসায় ফিরে এলো। রাতে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে.. সবাই বলতে ৪ জন নিপন শাহাদাত সাইদ ফয়সাল আর মিনার এই ৪ জন এক জন আরেক জনের প্রাণ.... আড্ডা দিয়ে শাহাদাত সাইদ নিপন চলে গেল তাদের বাসায়..... ফয়সাল ও ঘুমিয়ে যায় আর মিনার জেগে আছে জানালার পাশে বসে ওই নীল আকাশের চাঁদ দেখছে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিনার...... হয়তো প্রিয়জনের কথা খুব মনে পড়ছে তাই এই ভাবে অপলকে তাকিয়ে আছে... মিনার হঠাৎ উঠে টেবিল থেকে ডায়রিটা হাতে নিল সাথে একটা কলম... আর আনমনে কি যে লিখছে... কিছুক্ষণ লিখার পর ঘুমিয়ে গেল.... সকাল সকাল ফোন বেজে উঠে.. মিনার কল রিসিভ করে... ওপাশ থেকে বলে... স্যার আপনি যে কালকে ইন্টারভিউ দিয়েছেন সেখান থেকে বলছি আপনার জয়েনিং পরশু দিন থেকে শুভ কামনা স্যার...... আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ >মিনার স্যার কালকে আমাদের অফিস এর স্যার এর মেয়ের জন্মদিন তাই স্যার বলেছিল সবাইকে ইনভাইট করতে নতুন পুরাতন সবাই আপনি কালকে বিকেলে অফিসে আসবেন সেখান থেকে সবাইকে নিয়ে যাবে...... আসলে কালকে আমি আসতে পারবো না আমার একটা জরুরি কাজ আছে>মিনার আচ্ছা সমস্যা নাই স্যার.... ধন্যবাদ >মিনার তারপর কল কেটে গেল.. মিনার না যাওয়ার কারণ হচ্ছে কালকে তার জীবনের সব চেয়ে কাছের মানুষের জন্মদিন সেই দিনে তার সাথে মিনারের বন্ধুত্ব হয় সেই দিনই তার প্রিয় মানুষটি জীবন থেকে হারিয়ে যায় এর পর থেকে মিনার এই দিনে একটা নদীর পাড়ে সময় কাটায় আর পথশিশু দের সাথে থাকে। মিনার ছেলেটা খুব অদ্ভুত সব সময় অন্য এর বিপদে হাত বাড়ায় কারো মন খারাপ থাকলে মন ভালো করতে তার এক মিনিট লাগে যতই কিছু হোক না কেন একটাই কথা বলবে চিন্তা করার কিছু নাই সব টিক হয়ে যাবে.... সারাদিন সবাইকে হাসিখুশি রাখা ছেলেটা দিন শেষে ভালো থাকার কারণ খুঁজে পাইনা মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ হয় তার কিন্তু কেন হয় সেটা অজানা তার কারণ খুঁজে পাইনা সে কেন এমন হয়। (আপনাদের জানা থাকলে প্লিজ বলবেন আমার মন খারাপ হলে আমি কোন মতেই কারণ খুঁজে পাইনা প্লিজ জানাবেন) প্রতিদিনের মত মিনার আজ ও ছাঁদে যাবে কিছুক্ষণ থাকার পর চলে আসবে এটাই তার নিয়ম হয়তো প্রিয়জনকে না দেখার স্বাদটা আকাশের দিকে তাকিয়ে নেই। পর দিন সকালে মিনার ভোরে ঘুম থেকে উঠে তারপর নামাজে যায় নামাজ পড়ে রওনা দেই গ্রামের উদ্দেশ্য খুব সকাল সকাল পৌঁছে যায়। সোজা চলে গেল স্কুলের পাশের নদীর পাড়ে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অনেক গুলো ছেলেমেয়ে এসে হাজির ছেলেমেয়ে গুলো যেন মিনারের আসার অপেক্ষায় ছিল ওদের মুখ খুশিতে ভরে উঠল। দুপুর পর্যন্ত তাদের সাথে ছিল তারপর বাসায় গেল (গ্রামের বাসায়) মিনারের আম্মু জানে আজ মিনার আসবে যতই বাঁধা আসুক আজকের দিনে মিনার কে আটকে রাখা সম্ভব না। বিকাল পর্যন্ত বাসায় ছিল তারপর আবার শহরে ফিরে আসে। রাতে ঘুমানোর আগে ডাইরিটা হতে নিল আজকের দিনের সব কিছু লিখে রাখলো তারপর ঘুমিয়ে গেল। মিনার মাঝে মাঝে ভাবে যার জন্য আমি আজও অপেক্ষা করছি সে কি আমাকে মনে রেখেছে ওর কি মনে আছে যে কোন এক সময় মিনার নামের কেউ তার জীবনে ছায়ার মত পাশে থাকতো সুখে দুঃখে সব সময় ভরসা দিত মনে আছে কি তার?? পরদিন সকাল বেলা ভোরে মিনার উঠে নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরলো হাতে নাস্তা নিয়ে তারপর ফয়সাল কে ডাক দিল ফয়সাল ফ্রেশ হয়ে এসে দুজনে নাস্তা সেরে নিল। আজকে অফিসের প্রথম দিন তাই লেট করা চলবে না। তারাতাড়ি বেরিয়ে গেল বাসা থেকে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যায় অফিসে। রহিম চাচা (অফিসের পিয়ন)এসে মিনারের ডেস্ক দেখিয়ে দিয়ে চলে গেলেন ফয়সালের ডেস্ক অন্য পাশে.. মিনার নিজের কাজ বুঝে নিয়ে কাজ করতে লাগলো কিছুক্ষণ পর রহিম চাচা আসলেন। আপনাকে স্যার ডেকেছেন>রহিম চাচা আচ্ছা চাচা আপনি যান আমি যাচ্ছি>মিনার রহিম চাচা চলে গেলেন মিনার বসা থেকে উঠে বস এর কেবিনের দিকে হাঁটা ধরলো। দরজার সামনে যেতেই ভিতর থেকে ফয়সাল বের হলো। কিরে কি বললেন স্যার>মিনার কি আর বলবে ভালো করে নিজের মত করে কাজ করতে বললেন>ফয়সাল ওহ আচ্ছা টিক আছে যা ডেস্কে গিয়ে কাজ কর>মিনার ফয়সাল চলে গেল মিনার কেবিনের ভিতর গেল। স্যার আসতে পারি>মিনার আসুন >বস (পিছন ফিরা অবস্থায়) স্যার আমায় ডেকেছিলেন>মিনার হুম বসুন >বস ওনি পিছন থেকে সামনের দিকে ফিরলেন..... মিনার তুমি>বস স্যার আপনি >মিনার অবাক হয়ে এটা তো আমার অফিস তুমি এই শহরে এসেছো অথছ আমাকে একবার ও বললে না >বস আসলে স্যার এমনি আর কি>মিনার কখন আসলে কেমন আছো>বস স্যার ভালো আছি আসলাম ১ মাস আগে>মিনার তোমার ফাইলটা আগে দেখিনি না হলে তো আর তোমাকে কষ্ট করে ইন্টারভিউ দিতে হতো না>বস মিনার উনার কথা শুনে মুচকি হাসছে.... আপনারা হয়তো বুঝেন নাই বস এর সাথে মিনারের পরিচয় কিভাবে তাহলে শুনেন। আজ থেকে একবছর আগে.. মিস্টার জাফর মানে অফিসের বস মিনারদের গ্রামে গিয়েছিল একটা কাজে সেখান থেকে ফিরার সময় উনার গাড়ি হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় মাঝ রাস্তায় ড্রাইভার নেমে গেলেন দেখার জন্য কিন্তু ড্রাইভার সেখান থেকে পালিয়ে যায় আর পিছন থেকে একটা ট্রাক এসে উনার গাড়িতে ধাক্কা দেয় তখন মিস্টার জাফর গাড়ির ভিতরে ছিলেন.... গাড়িটা ধাক্কা দেয়ার ফলে ২-৩ বার উল্টে গিয়ে সামনে পড়ে সেই রাস্তা দিয়ে মিনার যাচ্ছিল হঠাৎ করে মিনারের চোখে পড়ে একটা গাড়ি উল্টে আছে মিনার তাড়াতাড়ি করে গাড়ির কাছে গেল এবং দেখলো কেউ একজন গাড়ির ভিতরে আছে উনাকে বের করে পাশের একটা হসপিটালে নিয়ে যায় উনার অনেক রক্ত এর প্রয়োজন ছিল তাই মিনার নিজে রক্ত দিয়ে উনাকে সেদিন বাঁচিয়ে নেয়... এরপর উনার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত মিনার হসপিটালে ছিল. উনার জ্ঞান ফেরার পর ডাক্তার উনাকে সব খুলে বলে তারপর উনি মিনারের সাথে দেখা করতে চাইলেন পরিচয় হয় মিনারের সাথে অনেক্ক্ষণ কথা বলে উনার সাথে এর মাঝে মিনার উনার মেয়ের নাম্বার নিয়ে কল দিয়ে আসতে বললেন ঠিকানা দিয়ে... উনার মেয়ে না আসা পর্যন্ত সেখানে ছিল তারপর হঠাৎ করে মিনার ঘড়ির দিকে তাকালো তারপর মিনার মিস্টার জাফর এর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে বের হয়ে আসার সময় একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খায় মিনার মেয়েটাকে সরি বলে তারাতাড়ি করে সেখান থেকে চলে গেল মেয়েটা কিচ্ছুক্ষণ মিনারের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ভিতরে চলে গেল..... এরপর থেকে মিনারের সাথে মিস্টার জাফর এর সাথে মিনারের একটা ভালো সম্পর্ক হয় মাঝে ফোন দিতেন মিস্টার জাফর দেখা ও করছেন দুইবার.... মিনার কি খাবে বল >মিস্টার জাফর না স্যার কিছু খাবো না>মিনার মিস্টার জাফর রহিম চাচাকে কল দিয়ে দুইটা কফি দিয়ে যেতে বললেন। তো তুমি চাকরি করবে সেটা আমাকে বললে তো পারতে>মিস্টার জাফর না স্যার আপনাকে শুধু শুধু কষ্ট দিতে চাইনি>মিনার যে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে তার জন্য একটা চাকরি দেয়া আমার জন্য কষ্ট হয়ে যেতো আমি যে তোমার কাছে ঋনি মিনার>মিস্টার জাফর (মিনার এর হাত ধরে স্যার আমাকে শুধু শুধু লজ্জা দিচ্ছেন ওইটা আমার কর্তব্য ছিল আমি শুধু আমার কর্তব্য পালন করেছি>মিনার তোমার এই স্যার বলার অভ্যাস টা কবে বদলাবে আজ থেকে আমাকে আন্কেল বলবে নানহয় অনেক খারাপ হবে বলে দিলাম>মিস্টার জাফর চেষ্টা করবো😘মিনার ততক্ষণে রহিম চাচা কফি দিয়ে চলে গেলেন কফি খেতে খেতে উনি মিনারের সাথে গল্প করছেন... কিছুক্ষণ কথা বলার পর মিনার উঠে চলে আসার জন্য ফিরলো হঠাৎ কি মনে করে আবার মিস্টার জাফর এর কাছে গেলেন.. আচ্ছা সেদিনের ঘটনাটি কিভাবে হয়েছিল জানা হয়নি কিন্তু😘মিনার সবি আমার ভাগ্য এর দোষ মিনার>মিস্টার জাফর সেটা বুঝলাম কিন্তু আপনি যে রোড়ে এক্সিডেন্ট হয়েছিলেন সেই রোড় দিয়ে কোন গাড়ি তেমন চলাচল করে না রাস্তাটা বলতে গেলে প্রায় বন্ধ আপনাদের কেউ বলেনি সেই রোড় দিয়ে না যেতে😘মিনার মানা করেছিল কিন্তু ড্রাইভার বলেছিল ওই রোড় দিয়ে সহজে শহরে পৌঁছে যাবো তাই ওই রোড় দিয়ে যাওয়া>মিস্টার জাফর আপনার ড্রাইভার কেন এমন করলো জানেন কিছু>মিনার না শুধু এইটুকু জানি..................😍 চলবে...........😍 আগে মত গল্প লেখা হয় না.. তাই কেউ এখন সাথে নেই সেটা জানি তারপর ও লিখলাম...😍 সকলে নামাজ আদায় করুন😍😍
||♥♥ ছোট্ট বেলার সাথী♥♥|| ||md Asad Rahman|| ||♥♥ ছোট্ট বেলার সাথী♥♥|| ||md Asad Rahman|| Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.