||ছায়াময় || 😍||লেখকঃ মোঃআসাদ রহমান ||

||লেখকঃমোঃআসাদ রহমান || ||ঝিনাইদহ||কোটচাঁদপুর|| ||গল্প:ছায়াময়|| লেখক: Parvej Imran( প্রহর ) সামনে বিশাল দীঘি। তার চারপাশে অনেক ছোট ছোট ছাউনি দিয়ে বসার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করা হয়েছে পার্কের ভেতর। কাপলরা দখল করে রেখেছে তার বেশির ভাগটা। আমি রয়েছি তার একটাতে। পাশের সিটে বাসানোর কাউকে পাইনি আজও। তবে চেষ্টায় আছি। এখানে আসছি আপাতত সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে। বা দিক টায় আমার জানে যিগার বন্ধু রণ তার গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে চুটিয়ে প্রেম করছে। বাদাম ওয়ালার কাছে পাঁচ টাকার বাদাম চাইতে এক ঝাড়ি খাইলাম। বলে পাঁচ টাকার হয়না। বাধ্য হয়ে দশ টাকার নিলাম। শালা বাইরে থেকে পাঁচ টাকার কিনলে এর থেকে বেশি দিত। গুন গুন করে গান গাইতেছি। এদিক আবার বাদাম শেষ। টাইম কাটাতে হাটতে লাগলাম। কি রোমান্টিক সিন চলছে রে সব খানে..... কবে আইবো আমার পালারে........ গান টা মনে পড়ছে খুব। পার্কের গেটে চোখ পড়তে চেনা কাউকে দেখতে পেলাম। চোখের শার্পনেস খুব বেশি না। তাই কাছে না আসা পর্যন্ত তাকিয়ে থাকলাম। রুপ, ওর বোন আর দুলাভাই। রুপের আর একটা পরিচয় আছে অবশ্য। "কেয়ারটেকার ".... আমি বলি। আমার উপর ওর এক্সট্রা কেয়ার এর জন্য। না দেখার ভাব করে পিছন ফিরে একটা টোং এ বসে পড়লাম। আড় চোখে দেখলাম বোন দুলাভাইয়ের সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। যাক ভালই হল। আবার মেয়ে দেখায় মন দিলাম। কিন্তু লাভ কি? সবাই তার বিএফ এর সাথে ব্যস্ত। কিছুক্ষন পরই দেখলাম একটা সিংগেল আপুকে। এদিক ওদিক করে কাকে যেন খুজতেছে। চান্স নিলাম..... - হাই... - আমাকে বলছেন? - জি আপনাকে! - হ্যা বলেন.... - কাউকে খুজছেন? > হ্যা খুঁজছে ( পেছন থেকে কেউ আমার কান ধরে বলল কথাটা ) - আউ........... কে????? > আবার শুরু করেছিস না? - তুই??? দিলি তো ইজ্জতের ফালুদা করে। মেয়েটাকে পটাচ্ছিলাম। চলে গেল...... > তুই কি বদলাবি না? - তাইলে আমার সাথে প্রেম কর! > তোর সাথে কোন মেয়ে প্রেম করবে বল? - কেন? আমি দেখতে খারাপ? > না.... তবে তুই অনেক কেয়ারলেস, টাইম সেন্স নাই, কোথায় কিভাবে চলতে হবে বুঝিস না, কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানিস না, আর মেয়ে দেখলে তো কথাই নেই....... - বাআ........প রে! > বাপ না ডেকে একটু সিরিয়াস হ... - আচ্ছা হলাম। > এখানে কেন আসছিস? - যেভাবে দাড়িয়ে আছিস সেভাবে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাড়া। > হুম দাড়ালাম.... - কিছু দেখতে পাচ্ছিস? > না তো... দু পা সামনে গিয়ে রুপের পেছন থেকে কোমড় ধরে উচু করলাম ওকে। - এখন দেখতে পাস? > হুম.... - কি? তখনি ও পা ছুড়তে শুরু করল..... - ছাড় আমাকে.... ওমনি ছেড়ে দিলাম। ধপাস করে পড়ল আমার সামনে। > এটা কি হল? - তুই তো বললি ছেড়ে দিতে! > ছেড়ে দিতে বলছি, ফেলে দিতে না। মাগো গেলাম....... - হাত দে... > দুর হ.... - কি দেখলি ওপাশে? > রণ আর ওর জিএফ...... - কি করে ঝোপের ও পাশে? > ওইটা ওদের ব্যাপার তোর কি? - কবে আইবো আমার পালারে...... রুপ আমার দিকে চোখ কুচকে তাকালো। ওর এই লুক টা আমি ভয় পাই। আক্রমনাত্বক...... যে কোন সময় হামলা হতে পারে। আগেই সরি বলে ওর হাত ধরে ফেললাম। - বাহ এদিকে দেখি শুটিং চলতেছে! রণরা যে কখন পেছেনে এসে দাড়িয়েছে খেয়াল করিনি.... - তোদের প্রেম করা শেষ? - প্রমির বাসা থেকে ফোন আসছে যেতে হবে। দোস্ত কিছু মনে করিস না তুই এখানে থাক আমি ওকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে তোকে নিয়ে যাব। - তার দরকার নাই আপনি যান..... ; শালা বেঈমান, জিএফ এর জন্য বন্ধুকে ফেলে রেখে চলে গেল। - আমি গেলাম..... - ওই রুপ শোন... - আপু বকবে... বা রে কেউ পাত্তাই দিচ্ছেনা? কপোত-কপোতীদের গুষ্টি উদ্ধার করতে করতে বেরিয়ে পড়লাম পার্ক থেকে। রিক্সা করে বাড়ি। শার্ট খোলার সময় খেয়াল করলাম মেয়েলী পারফিউম এর গন্ধ আসছে শার্ট থেকে। তখন রুপকে উঁচু করে ধরছিলাম সেটাই। উপরে উপরে যতই না না বলুক আমি জানি ও আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু আমি যে কত বার ওকে প্রপোজ করলাম তবুও না করে। কখনও উত্তর না দিয়ে চলে যায়। ভাবতে ভাবতেই ফোন এল ওর... - জী বলেন... - কি করছিলি? - আপনার কথাই ভাবছিলাম। - মিথ্যা বলাটা তোর অভ্যাস এ পরিনত হইছে। - তোর বিশ্বাস না হলে পাবলিক দের কাছে জি গা..... - কাল কলেজে যাওয়ার সময় আমাকে নিয়ে যাস... - ওক্কে... - বাই... ; - কি রে হেটে হেটে কলেজ যাবি নাকি? - হা প্রবলেম হচ্ছে তোর? - প্রবলেম কেন হবে? সুন্দরীদের সাথে হাটা তো ভাগ্যের ব্যাপার! - তাইলে হাটতে থাক.... - এত দুর? ক্লাস পাব না আজ। - আজ ক্লাস করব না... - তাহলে আসতে বললি যে... - তোকে কিছু বলার ছিল। - ওকে....বল। - প্রহর তুই আমাকে কতটা বুঝিস? রুপ কখনো আমার নাম ধরে ডাকে না। বিভিন্ন বিশেষণ বের করে ও.....আর যখন নাম ধরে তখন ও খুব সিরিয়াস হয়ে যায়। আমার ইয়ার্কি এমনিই অফ তখন। - অনেক টা বুঝি... - যেমন? - এই ধর তুই আমাকে ভালবাসিস কিন্তু মুখে কখনো বলিস না... - তুই শিওর আমি তোকে ভালবাসি? - হুম শিওর..... - কি ভাবে? - জানি না.... - তোকে একটা কথা বলি? - ওরে বাবা তুই আবার পারমিশন ও নিস আজ কাল.......! > হাই প্রহর? ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে দেখি তুনা। - হেই তুনা...? কেমন আছ? > এইতো ভাল। তোমাকে খুজছিলাম গত দুদিন ধরে। - কেন? > তোমার কথা ভেবে দেখলাম। আমি রাজি..... - সত্যিই????? (তুনা আমার ছয় বা সাত নাম্বার প্রপোজ গার্ল। কিছু দিন আগে ওকে প্রপোজ করেছিলাম।) > হা সত্যি... - এই রুপ.. ও তুনা কিছুদিন আগে ওকে প্রপোজ করছিলাম... রুপ হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে। কিছু বলছে না। সেদিনের মত রুপের সাথে বিদায় নিয়ে তুনার সাথে চললাম। ও নাকি ওর ফ্রেন্ডের সাথে মিট করিয়ে দেবে... দুই জন পাশাপাশি হাটছি। আজ থেকে আমি আর সিংগেল না। আমারও জিএফ আছে। টি শার্ট পরে আছি, শার্ট হলে কলার টা উঁচু করে দিতাম। বুক তো আধ হাত ফুলেই আছে.....খালি হাত কেমন কেমন লাগছে। তাই তুনার হাত ধরলাম..... > এই কি করছ? - হাত ধরলাম। > প্রথম দিনেই কেউ এমনে হাত ধরে? ছাড়... - ওহ সরি...( কি যে নিয়ম কানুন!) > কিছু বললে? - না না..... ; কয়েকদিন রুপের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারলাম না। নতুন নতুন প্রেম হল তো বন্ধুদের খোজ নেয়ার সময় হল না। লাস্ট দু দিন ওকে ফোনে অনেক চেষ্টা করেও পাওয়া গেল না। বাসায় গেলাম ওর। আন্টি খুব আদর করে আমাকে। আজও তার ব্যতিক্রম হল না। নাস্তা শেষ করে বসে আছি তাও রুপ আসছে না। - আন্টি রুপের কিছু হয়েছে? - কি জানি বাবা! সারা দিন রুমেই থাকে। দরকার ছাড়া বের হচ্ছে না। - আমি যাব ওর রুমে? - আমি বলেছি ওকে! ও বলল তোমাকে চলে যেতে পরে দেখা করবে। - আচ্ছা..... ; রুপের সেই পরে সময়টা আর হয়ে ওঠেনি আজ এক বছরেও। কতবার কত ভাবে চেষ্টা করলাম। প্রতিবার এক গুচ্ছ হতাশা উপহার পেয়েছি। লাস্ট শুনেছি ওর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে। কিছু কথা যে আমারও বলার ছিল ওকে সেটা মনে হয় আর বলা হল না। সময়ের কাছে সব কিছুই বড় অসহায়। আমিও তার ব্যতিক্রম না। পারিনি রুপের সাথে যোগাযোগ করতে। এত দিনে হয়ত হাজবেন্ড নিয়ে সুখের সংসার শুরু করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে যখন একা থাকি তখন নিজেকে খুব খারাপ মনে হয়। আমার ফাজলামির মাত্রা যদি লিমিট ক্রস না করত হয়ত রুপ এভাবে চলে যেত না। ও কি বুঝত না আমি ওর ভালবাসা পাওয়ার জন্য এত সব করতাম। অন্য মেয়েদের সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতাম ওকে জালানোর জন্য। যা কিছু করতাম সবই তো ওকে পাওয়ার জন্য। এসব ভাবতে ভাবতেই কখন দু এক ফোটা পানি পড়ে যায় চোখ থেকে বুঝতে পারি না। - মা দেখ আংকেল টা কাঁদছে..... কথাটা কানে যেতেই শার্ট এর হাতায় চোখটা মুছে নিলাম। বাচ্চাটা এখনো আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আশপাশে কাউকে দেখলাম না। বাচ্চাটা মা বলল কাকে? - কি নাম বাবু? নাম জিগেস করতে দিল দৌড়। একটা মহিলার আচল জড়িয়ে ধরল এদিক পেছনে ফিরে বসা তাই মুখ দেখা যাচ্ছে না। সেই পার্কে বসে আছি, যেখানে রণর সাথে মাঝে মধ্যেই আসতে হত। আজও ওদের সাথেই এসেছি। তবে ওরা এখন আর বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড না। স্বামী আর স্ত্রী..... ঝগড়া যতই হোক বন্ধুত্তটা যায়নি। কোথাও গেলে এখন প্রহরকে তার লাগেই! একা একা বোরিং লাগছে। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে মুখে নিলাম। লাইটার টা পাচ্ছিনা..... ক্যান্টিনে গিয়ে ধরিয়ে নিলাম। পেছনে ঘুরতে গিয়ে ঘটে গেল এক্সিডেন্ট টা.....মেয়েটার সাথে ধাক্কা লেগে তার আইস্ক্রিম গুলা পড়ে গেল। কিন্তু সেদিকে কারো খেয়াল নেই। মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছি। - রুপ.........! কথা না বলে চলে গেল ও। - রুপ আমার কথা শুনে যাও প্লিজ। - রুপ আমি কিন্তু তোমাকে ভালবাসি। কয়েক মুহূর্তের জন্য থামল রুপ। কি জানি ভেবে ঘুরে আবার এদিকে আসছে। - ঠাশশশশ........... - এইটা কি হল? - আমার পিছু যেন আসবি না তুই। - দেখছ... আমি তুই থেকে তুমি বলতেছি। - যা খুশি বল যাহ.... - আবার কই যাচ্ছিস? কথা আছে তো..... -- ওই রুপ...... ওর পেছন পেছন হাটা শুরু করলাম। নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে। - তুই কিন্তু সত্যিই মার খাবি প্রহর! - খাব... মার এদিক ওদিক খুজে একটা শুকনা গাছের ডাল উঠাল হাতে... আগের মত এখন আর পালাচ্ছি না ওর মারের ভয়ে। ঠায় দাড়িয়ে আছি সেখানেই। - দেখ প্রহর সামনে আপু দুলাভাই আছে। - আমি চলে যাব তুই শুধু বল ভালবাসিস না আমাকে। - না বাসি না... - আমার দিকে তাকিয়ে বল - বললাম তো বাসি না। যা.... - আচ্ছা যাচ্ছি। এত দিন তোকে এই কথাটা বলার জন্য খুজেছিলাম। বলা হয়ে গেছে। এখন তোর উত্তরটাও পেয়ে গেছি। ভাল থাকিস..... ; বাসায় কেউ নেই। নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে শুয়ে পড়লাম। বিকেলে কখনো ঘুম আসে না। তাই স্লিপিং পিলের সাহায্য নিলাম। পিলের কারনে একটু পরেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছি। ঘুম থেকে উঠে দেখি রাত তিন টা। ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম আটটা মিসড কল। একটা মেসেজ... " আজও বুঝতে পারনি আমি ভালবাসি।সেদিনই কথাটা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমার কথাটা না শুনেই তুনার হাত ধরে চলে গিয়েছিলে। আমার কতটা কষ্ট হয়েছিল ভেবে দেখেছ কখনো? আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, বিয়েটা কেন হয়নি ভেবেছ কখনো? আমি হতে দেইনি। কেন জান? তোমার জন্য। আজও শুধু আমার রাগ দেখেছ। ভালবাসা দেখনি......."! ডিসপ্লের উপর কয়েক ফোটা পানি পড়ল চোখ থেকে। চোখ মুছে উঠে পড়লাম বিছানা থেকে। গেট এখন বন্ধ। কাধে করে নিজের সাইকেল আর একটা দড়ি নিয়ে নামলাম নিচে। দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে সাইকেলটা দড়ির সাহায্যে টেনে তুললাম। ; আধ ঘন্টা লাগল রুপের বাসার সামনে আসতে। ফোন দিলাম। প্রথম বার রিং হতেই রুপ ফোন রিসিভ করল। - আমি তোর বাসার সামনে রাস্তায় দাড়িয়ে আছি। - আসছি...... মৃদু আওয়াজ তুলল লোহার গেটটা। সেই ড্রেসটা এখনো পরে আছে রুপ। কাছে আসতে খেয়াল করলাম চোখ দুটো ফুলে আছে। কতক্ষন দাড়িয়ে ছিলাম মাথা নিচু করে। রুপও বলছে না কিছু। হঠাৎ গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। ফুঁপিয়ে উঠছে থেকে থেকে.....দুরে কোথাও কুকুর ডেকে উঠলো। ভয় পেয়ে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তখন। - আমি জানতাম আসবে তুমি... - সে জন্য কি ড্রেস চেঞ্জ হয়নি এখনো? - জানিনা। এত দেরি করে আসছ কেন? - পিল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। - খুব বাহাদুরি দেখাইছে পিল খেয়ে। - ভাল তো বাস এত নাটক করার দরকার কি ছিল? - এত সস্তা না ভালবাসা। বললাম আর হয়ে গেল। যেটা সহজে পাবে সেটার জন্য টান থাকে না। এই ছাড় কেউ দেখে ফেলবে। - রাত সাড়ে তিনটার সময় তোমার নানা আসছে দেখার জন্য....... - এই চল আজ সারা রাত তোমার সাইকেলে ঘুরব আমরা..... - বসার জাইগা নাই তো পেছনে... - আজিব........ পেছনে কেন?? সামনে বসব.... - কষ্ট হবে সামনে বসতে। - বেশি বোঝ কেন এত। সারা দেশ যখন ঘুমের অতল গভীরে। আমরা তখন দুজন দুজনের এত কাছে, নিশ্বাসের আওয়াজটাও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। - রুপ... - উমমম... - অনেক ভালবাসি তোমাকে। - আমিও... সমাপ্ত ||writer:Asad Rahman|| ||Jhenaidah||kotchandpur||

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.