রোমান্টিক অত্যাচার

লেখকঃMd Asad Rahman ||kotchandpur||Jhenaidah|| Part:7 আকাশ ঃ তানিয়া তুমি ঐ খানে দারিয়ে কি করছো। আর কে এসেছে? তানিয়াঃ আরে তুমি তারা তা...

লেখকঃMd Asad Rahman ||kotchandpur||Jhenaidah|| Part:7 আকাশ ঃ তানিয়া তুমি ঐ খানে দারিয়ে কি করছো। আর কে এসেছে? তানিয়াঃ আরে তুমি তারা তারি এদিকে এসো। দেখে যাও রিয়াদ কাকে নিয়ে এসেছে। আকাশঃ কাকে নিয়ো এলো এতো রাতে। আরে রিয়া তুমি এখানে( কিছু টা খুশি হয়ে।) তানিয়া আপু ঃ হে রিয়া আর যানো রিয়াদ রিয়া কে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে।কিন্তু একা একা করলো( কিছু টা মন খারাপ করে) আমার রিয়া কে অনেক আগেই পছন্দ হয়ে ছিলো। আমি তো মনে মনে ঠিক ও করে রেখেছিলান রিয়া কেই রিয়াদের বউ করে আনবো। আকাশ ঃ তুমি কি বলছো এসব।রিয়াদ রিয়া কে বিয়ে করছে( কিছু টা অবাক হয়ে।) রিয়াদঃ হে আকাশ ভাইয়া রিয়াকে আমি বিয়ে করেছি। কেনো তুমি খুশি হও নি। তানিয়া আপুঃ খুশি না হবার কি আছে।এটা তো খুশির খবরি।তাই না আকাশ। আকাশ ঃ আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। রিয়াদঃ আপু আমি যানি তুমি কতটা খুশি হয়েছো।তবু ও আমি আকাশ ভাইয়ার মুখ থেকে কথা টা শুনতে চাই। আকাশ ঃ হে য়ে খুশি হয়েছি।কিন্তু এমন হুট করে৷ বিয়ে টা করে ফেললে আমাদের কিছু তো যানালেই না। তানিয়া আপুঃ আরে এসব কথা আমি তোমাকে পরে বলবো নে।আগে নতুন বউ কে তো বরন করতে হবে। রিয়াঃ আমার সাথে আজ সারা দিন কি কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।তানিয়া আপু আমাকে বরন করে নিলো। তারপর আমাকে রিয়াদ স্যারের রুমে নিয়ে গেলো। তানিয়া আপুঃ এই হচ্ছে রিয়াদের রুম আর এখন থেকে তোমার ও।তোমার যা কিছু ধরকার পরবে আমাকে বলবে কেমন। আর রিয়াদ যদি কিছু বলে তাহলে ও বলবে। রিয়াঃ আমি মাথা নারিয়ে হে বললাম। তানিয়া আপুঃ আচ্ছা ঠিক আছে এখন তাহলে আমি যাই তুমি একটু রেস্ট নেও।একটু পর আমি রিয়াদ কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।এই বলে তানিয়া আপু বেরিয়ে গেলো রিয়াঃ তাকে পাঠানো কথা শুনে তো আমার পুরো শরীর কাপতে লাগলো।তার সাথে একি রুমে একি বিছানায় ঘুমাতে হবে।তিনি যদি আমার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করে।না করারি বা কি আছে উনি আমাকে বিয়ে করেছেন এই জন্যই তো।ভাবতেই কান্না এসে পরবে পরবে অবস্থা। উনি কি যানে আকাশ স্যার এরকম।যানে না হয়তো।যদি জানতো তাহলে কখনো আমাকে বিয়ে করে এই বাড়িতে নিয়ে আসতো না।আচ্ছা বাবা মা আমাকে এখনো ফোন দিলো না কেনো।অন্য সময় তো রাত হওয়ার আগেই আমাকে ফোন দেয়।তাহলে কি রিমন এখনো বাসায় যায় নি।তাই হয়তো রিমনের টেনশনে আমাকে ফোন দেওয়ার কথা ভুলে গেছেন।উনি আমার ভাইয়ের কি কিছু করে ফেলল নাকি।এখনি বাবা কে ফোন করতে হবে। ফোন টা হাতে নিয়ে বাবা কে কল করবো তখনি দেখি বাবা কল করলো।আমি খুশি হয়ে যেই ফোন টা ধরবো কে যেনো ফোন টা কেরে নিলো, তাকিয়ে দেখি জলহস্তী' টা। রিয়াঃ আমার ফোন টা নিলেন কেনো?😠😠😠 রিয়াদ"ঃ কে ফোন দিয়েছে।? রিয়াঃ কেনো মোবাইলে দেখেন না বাবা ফোন করছে। আমার ফোন দিন। রিয়াদঃ ও শ্বশুর ফোন দিয়েছে।তাহলে তো কথা বলতেই হয়।যতই হক আমার বউ কে এতো দিন যত্ন করে রেখেছে। ফোন টা রিসব করলাম। রিয়াদঃ আসসালামুয়ালাইকুম। বাবাঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম।কে বাবা তুমি আর রিয়া কোথায়? রিয়াদঃআমার নাম মোঃ রিয়াদ চৌধুরী। রিয়া আমার অফিসেই চাকরি করতো । আর রিয়া আমার সাথে আমার বাড়িতেই আছে। বাবাঃ তুমি কেমন আছো। আর রিয়া এতো রাতে তোমার বাড়িতে কি করছে। রিয়াদঃ আমি খুব ভালো আছি। আর আমার বাড়িতেই আজ থেকে থাকবে।কারন আজই আমিই আর রিয়া বিয়ে করেছি। বাবাঃএসবের মানে কি।😠😠তুমি আর রিয়া। রিয়াদঃ হে আমি আর রিয়া একে অপর কে ভালোবাসি তাই বিয়ে করেছি আজই। বাবাঃ আমি তোমার কথা বিশ্বাস করি না।আমার মেয়ে কখনো এরকম টা করতে পারে না। রিয়াদঃ তাহলে আপনি নিজেই রিয়ার কাছ থেকে জিগ্ঙাস করুন। রিয়াঃ স্যারের কাজ কর্ম আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আজ সারা দিনের কাজ গুলো কি কম ছিলো যে এখন এই কাজ টা করলো।এখন আমি বাবা কে কি বলবো। রিয়াদ ঃ হাতে ফোন টা নিয়ে।কথা বলো রিয়া।আর শোনো কোনো রকম উলটা পালটা কথা বলবে না।যদি বলো তাহলে আমি তোমার কিছুই করবো না।কিন্তু তোমার পরিবার,বুঝতে পারছো তো আমার কথা টা।( একটা হাসি দিয়ে) রিয়াঃ স্যারের কাজ কর্ম আর কথা শুনে আজ আমি এমনেই খুব অবাক হয়েছি।আর এই কথা শুনে তো আরো অবাক হলাম।নিজে কে সামলে নিলাম।ঠিক আছে স্যার দিন। বাবাঃ হ্যালো রিয়া আমি এসব কি শুনছি।এসব কি সত্যি। আমি জানি আমার মেয়ে কোনো দিন এরকম কিছু করবে না।তাই না রিয়া। রিয়াঃ ( অনেক কষ্ট হচ্ছে কথা টা বলতে। কিন্তু কি করবো আমার পরিবারের জন্য হলে ও এই কথা টা বলতে হবে।জানি বাবা কথা টা শুমলে অনেক কষ্ট পাবে।তবু ও বলতে হবে) হে বাবা উনি যা বলেছেন তা সত্যি। বাবাঃ তুই এসব কি বলছিস মা।আমি বিশ্বাস করি না।তোর আর ওর মাঝে কিছু থাকলে তুই আমাকে নিশ্চয়ই আগেই যানাতি। রিয়াঃ বিশ্বাস করো আর নায়ই করো এটাই সত্যি। আমার আর ওনার মাঝে অনেক আগেই সম্পর্ক ছিলো।আমি তোমাকে বলতে পারি নি ভয়ে। বাবাঃ তুই একটা বার আমাকে বলতে পারতি।তুই আমার বিশ্বাস টাই নষ্ট করে দিলি।আমি কখনো তোকে মাপ করতে পারবো না।( কেদে কেদে বলল) বলেই ফোনটা রেখে দিলো। রিয়াঃ হ্যালো বাবা হ্যালো।ফোনটা রেখে দিলো আমি ও ফোনটা রেখে খুব কান্না করছি। রিয়াদঃ এই সব নেকা কান্না বন্ধ করো।আমার এসব একদম ভালো লাগে না। রিয়াঃ আমি কোনো নেকা কান্না করছি না।আপনার জন্য আমার এরকম টা হলো।আপনি কেনো আমার জীবন টা নষ্ট করে দিলেন।যে বাবা আমাকে তার নিজের থেকে ও বেশি ভালো বাসতো তার কাছে আপনি আমাকে দোষি বানিয়ে দিলেন।আমার ছোট ভাই কে আটকে রেখে জোর করে আমায় বিয়ে করছেন।আমার ভাই টা এখন কেমন আছে সেটা পর্যন্ত আমি যানি না। রিয়াদঃ তোমার কোনো কথার জবাব দিতে আমি বাধ্য না।সুধু এই টুকু বলবো তোমার ভাই এখন ভালো আছে আর তোমার বাবা মার সাথেই আছে। বলে ওয়াস রুমে চলে গেলো। আমি বসে বসে সুধু কাদছি।আর ভাবছি আমার জীবন টা কি ছিলো আর একটা দিনে কি হয়ে গেলো।আমার একটাই ভুল ছিলো এই অফিসে চাকরি করাটা।তার থেকে ও বড় ভুল ভুল ছিলো রিয়াদ স্যার কে বিশ্বাস করা। তিনি ওয়াস রুম থেকে বের হলেন। রিয়াদঃ ফ্রেস হয়ে বের হলাম।দেখি রিয়া এখনো কান্না করেই যাচ্ছে।করাই কথা আজ যা যা হলো।আজ আর ওকে কোনো কষ্ট দেওয়া ঠিক হবে না। রিয়াদঃ রিয়া তুমি খাটে শুয়ে পরো আমি ছোফায় ঘুমাচ্ছি।তুমি আবার এটা ভেবো না আমি সব সময় ছোফায় শুবো।সুধু মাএ আজকের জন্য।আর হে আমি কিন্তু অন্য সব স্বামী দের ৃতো এতো মিথ্যা বলতে পারি যে তোমার অনুমতি ছাড়া আমি তোমাকে টাচ করবো না।আমার যখন ইচ্ছা হবে আমি তোমাকে টাচ করবো সব কিছুই করবো।বলেই শোফায় চলে গেলাম।। রিয়াঃ ওনার কথা শুনে প্রথমে আমি খুশি হয়েছিলাম।কিন্তু পরের কথা গুলো শুনেই আমার ভয় লাগছে। তার থেকে ও বেশি খারাপ লাগছে আমার বাবার কথা ভেবে।আমার যা হওয়ার হবে কিন্তু আমার পরিবারের কিছু আমি হতে দিবো না।হে উনি যা করার করুক আমি এখানেই থেকে তার দেওয়া কষ্ট গুলো সহ্য করবো।বাবা - মা আর রিমনের কথা গুলো মনে পরছে।তাদের কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে। অন্যদিকে আকাশ ঃ রিয়া আমার সাথে এমন টা কি করে করলো।আমি তো অকে অনেক ভালোবেসেছিলাম।ওকে বিয়ে ও করতে চেয়েছিলাম।এমনকি তানিয়া কে ও ডিভর্স দিতে চেয়েছিলাম। তবু কেনো করলো ও এমন। তানিয়াঃ তুমি দেখি এখনো জেগে আছো।কি হয়েছে ঘুম আসছে না।দাড়াও তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দি। আকাশ ঃ থাক লাগবে না আমি এমনি ঘুমাতে পারবো।তুমি ঘুমাও।ঘুমিয়ে গেলাম। সকাল বেলা রিয়াঃ ঘুমটা হঠাৎ ভেঙে গেলো কিছুর শব্দে।ঘুম ঘুম চোখ তাকিয়ে দেখি।রিয়াদ স্যার টাওয়েল পরে ওয়াস রুম থেকে বের হচ্ছে।(আমি অবাক হয়ে।😱😱😱) আপনি,,,, আপনি আমার রুমে কি করছেন তাও এমন অবস্থায়।আমার রুমে কি করে ঢুকলেন😱😱😱 রিয়াদঃ কি যা তা বলছো এটা তোমার রুম হতে যাবে কেনো।এটা তো আমার রুম।আমার রুমে আমি থাকবো না তো কে থাকবে।আজব।কাল আমাদের বিয়ে হয়েছে আর তুমি আজই ভুলে গেলে। রিয়াঃ তার কথা গুলো শুনে আমার মনে পরলো হে কাল তো আমার বিয়ে হয়ে গেছে।আর আমি তারি বাসায়, আমার বাসায় না😞😞😞 মন টা আবার খারাপ হয়ে গেলো। রিয়াদঃ তোমার আর অফিসে যেতে হবে না।তুমি আপুর সাথে বাড়িতেই আপুর কাজে সাহায্য করবে।( অফিসে গেলেই তো আবার আকাশ ভাইয়ার সাথে প্রেম শুরু হয়ে যাবে) আমি একটু পরেই বের হচ্ছি। রিয়াঃ ঠিক আছে।আমি ফ্রেস হতে চলে গেলাম।ফ্রেস হয়ে বাইরে আসলাম।জলহস্তী' টা নেই।যাক বাবা বাচা গেলো।আচ্ছা বাবা এখন কি করছে।আমায় কি সে কখনো মাফ করবে না।হয়তো বা না।করবেই বা কেনো সে তো আমাকে খুব বিশ্বাস করেছিলো।কিন্তু আমি। আমি না সব ঐ বেটা জলহস্তী' টা করেছে।বাবার কথা টা মনে পরতেই আবার চোখের কোনে পানি চলে আসলো।বসে পরলাম বেডে।রিমনের কথা টা ও খুব মনে পরছে।ওর দুষ্টুমি গুলো খুব মিস করছি।বাড়িতে থাকা কালিন ওকে তো আমার সহ্যই হতো না।কিন্তু এখন খুব মিস করছি।ভাই বোনের সম্পর্ক হয়তো এরকমি হয়।( চোখ বেয়ে দুই ফোটা পানি গরিয়ে পরলো।)কে যেনো দরজায় টোকা দিলো। তানিয়া আপুঃ আসতে পারি?( একটা হাসি দিয়ে 😊) রিয়াঃ তারা তারি চোখের পানি টা মুছে হে আপু আসুন( একটা কৃত্রিম হাসি দিয়ে) তানিয়াঃ একি তুমি কান্না করছো( ভেতরে ধুকতে ধুকতে,) রিয়াঃ না আপু বাবা মার কথা একটু মনে পরছিলো তাই। তানিয়া আপু ঃ বাবা মা খুব ভালোবাসে না? রিয়াঃ হুম অনেক( দৃর্ঘ নিশ্বাস ফেলে) তানিয়া আপুঃ মা বাবা যে কি তা মানুষ বেচে থাকতে বুঝে না। যাদের মা বাবা নেই তারা বুঝে। তোমার মা বাবা কি এই বিয়ের সম্পর্কে যানে।? রিয়াঃ হুম কাল রিয়াদ স্যার জানিয়েছে।কিন্তু তারা মেনে নেয় নি। তানিয়া আপুঃ কিছু দিন যাক দেখবে সব কিছি ঠিক হয়ে যাবে। আর তুমি রিয়াদ কে স্যার স্যার বলছো কেনো।ও এখন তোমার স্বামী বুঝতে পারছো। রিয়াঃ হুম তানিয়া আপুঃ তুমি যানো রিয়াদ এর বিয়ে নিয়ে আমার কত সপ্ন ছিলো।কিন্তু রিয়াদ টা একা একাই কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া বিয়ে করে ফেলল। রিয়াঃ সরি আপু সব আমার জন্য হলো।😞😞😞 তানিয়া আপুঃ আরে আরে তুমি সরি বলছো কেনো।আমি তো অনেক খুশি হয়েছি ও তোমাকে বিয়ে করছে তাই।অন্য কাওকে করলে হয়তো রিয়াদ কে ও বাড়ি থেকে বের করে দিতাম। রিয়াঃ স্যার কি আপনাকে ভয় পায়। তানিয়া আপুঃ ঠিক ভয় না আমাকে খুব ভালোবাসে তাই আমি যা বলি তাই করে।আচ্ছা এসব বাদ দেও আর এই নেও কিছু জুয়েলারি এগিয়ে দিয়ে রিয়াঃ এগুলো কার? তানিয়া আপুঃ কেনো সব তোমার। রিয়াঃ কিন্তু আপু এগুলো,,,,,,,, তানিয়া আপুঃ কোনো কিন্তু না এগুলো সব তোমার আরও আছে।এখন আপাতত এই গুলো রাখো। আগামি সপ্তাহে আমি তোমাদের বিয়ে উপলক্ষে একটা অনুষ্ঠান করবো ভাবছি।তখন এই গুলো পরবে। এগুলো আলমারিতে রেখে তারা তারি নিচে আসো নাস্তা করতে।ওরা তো অফিসে চলে গেছে।এখন আমরা নাস্তা টা করে ফেলি। বলে চলে গেলো। রিয়াঃ তানিয়া আপু খুব ভালো কিন্তু তার ভাই টা এমন কেনো।এই পরিবারের মধ্যে সুধু ইনিই ভালো আর সবাই খারাপ। নিচে চলে গেলাম নাস্তা করতে। এদিকে, রিয়াদ ঃ যাক বাবা আপুর জীবন থেকে অনেক বড় বিপদ টা কেটে গেলো। এখনো পুরো পুরি ভাবে কাটে নি।কিছু একটা করতে হবে।( নিজের কেবিনে বসে বসে). আকাশ ঃ রিয়া কিভাবে আমাকে ঠকালো।আমায় বিয়ে না করে ও রিয়াদ কে বিয়ে করলো।ওদের মধ্যে তো অনেক দিন ধরেই রিলেশন চলছে। কিন্তু আমি তো একদিন ও এমন কিছু দেখলাম না।ও কি আমার থেকে বাচার জন্য রিয়াদ কে বিয়ে করলো।আমার সব কিছু যানতেই হবে। তানিয়া ঃ আমার পাসে বসো রিয়া। রিয়াঃ হুম। তানিয়া আপুঃ জানো রিয়াদ কিন্তু আমার সুধু ভাই না।ও আমার বাবা মা সব কিছু।আমার বাবা মা মারা গেছে অনেক আগেই তা তো তোমাকে বলেছি।তারা হঠাৎ একদিন বাসায় আসার পথে একসিডেন্ট করে মারা যায়। তারপর আমি আর রিয়াদ খুব একা হয়ে পরি।ও তো সেদিন খুব কান্না করেছিলো।কিন্তু আমার কান্না দেখে সে আর কখনো কান্না করে নি আমাকে বরন সামলেছে।আমি ওর থেকে বড় ছিলাম তাই আমাকেই সব সামলাতে হতো।কিন্তু অফিসের কাজ গুলো তো আমার প ক্ষ্যে করা সম্ভব ছিলো না।তাই অফিসের সব দায়িত্ব ও ওর কাদে তুলে নিয়েছে।ও আমার আর আকাশের বিয়ে টা ও করিয়েছে।আকাশ কে বাবা ই পছন্দ করেছিলো।বাবা মারা যাওয়ার পর আকাশ বাবার ইচ্ছা টাই পুরন করেছে।আকাশ খুব ভালো একটা মানুষ। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে একটু কঠর প্রকৃতির হয়ে গেছে।তবে ওর মন টা খুব নরম। রিয়াঃ আমি সুধু তানিয়া আপুর কথা গুলো মন দিয়ে শুনছি।সত্যি মানুষ টাকে চেনা খুব কঠিন। কয়েক দিন আগে ও আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলতো না।আর কালই আমাকে বিয়ে করলো জোর করে।সত্যি আজব প্রকৃতির। তানিয়া আপুঃ রিয়া তুমি আমাকে কথা দেও ওকে সুখে রাখবে। রিয়াঃ সুখে রাখতে পারবো কিনা যানি না তবে সুখে রাখার চেষ্টা করবো। তানিয়া আপুঃ আমি জানি তুমে ওকে সুখে রাখবে(😊😊😊)তুমি তাহলে ঘরে যেয়ে রেস্ট বেও আমি দুপুরের জন্য রান্না করতে যাই। রিয়াঃ আমি ও আপনার সাথে রান্না করবো। তানিয়া আপুঃ আরে না না তোমার রান্না করতে হবে না।তুমি নতুন বউ এখনি রান্না করার ধরকার নেই আমি একাই পারবো। রিয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে আপনিই রান্না কইরেন। তবে আমি আপনাকে রান্না তে সাহায্য তো করতে পারি। তানিয়া আপুঃ আচ্ছা আসো(😊😊) রান্না করতে করতেই ২ টা বেজে গেলো। এরপর আমি আর তানিয়া আপু লান্চ করে নিলাম।লান্চের সময় তানিয়া আপু আকাশ ভাইয়াকে ফোন করে লান্চ করেছি কিনা জিগ্যেস করলো।কিন্তু আমি করিনি।তানিয়া আপু লান্চ করে তার ঘরে চলে গেলো।আর আমাকে ও বলল ঘরে গিয়ে বিশ্রাম করতে।আমি ঘরে চলে আসলাম।বাবা মার কথা খুব মনে পরছে।খুব খারাপ ও লাগছে।আমার জীবন টা একটা রাতেই কি রকম উলট পালট হয়ে গেলো।রিমনের কথা টা ও খুব মনে পরছে।এমন সময় কে যেনো ফোন করলো।তাকিয়ে দেখি তমা। রিয়াঃ হ্যালো। তমাঃ হ্যালো কি ব্যাপার আজ অফিসে আসলে না যে। রিয়াঃ আমি আর আসবো না। তমাঃ কেনো। রিয়াঃ না এমনি। তমাঃ ও আচ্ছা তোমাকে অনেক মিস করবো। রিয়াঃ আমি ও করবো।ওকে বায়।( কথা বলতে ভালো লাগছে না তাই) তমাঃ বায়। রেখে দিলো আমি বেলকনিতে চলে গেলাম।বাবা কে কল করতেছি কিন্তু বাবা ফোন টা বার বার কেটে দিচ্ছে।হয়তো অনেক রেগে আছে তাই। আমি তবু ও ফোন দিয়ে যাচ্ছি। আকাশ ঃ রিয়াদ তো আজ সন্ধাহ হওয়ার আগে বাড়ি তে যাবে না। আর তানিয়া তো এখন নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছে। তাহলে এখন যদি আমি বাড়িতে যাই তাহলে রিয়া কে একা পাবো।যেই ভাবা সেই কাজ রিমি কে বলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। রিয়াদঃ বসে বসে ভাবতেছি।রিয়া কে নিয়ে আকাশ ভাইয়ার সাথে একি বাসায় থাকা যাবে না।তাহলে কি রিয়া কে নিয়ে আমি আলাদা বাসায় চলে যাবো।না তা করা যাবে না আপুকে কি বলবো যদি জিগ্যেস করে আমি কেনো আলাদা থাকছি।না অন্য কিছু ভাবতে হবে। রিমিঃ স্যার আসবো? রিয়াদঃ হে আসো।ফাইলটা সই করিয়েছো। রিমিঃ না স্যার আকাশ স্যার তো একটু আগেই বেরিয়ে গেছে।আমাকে বলল বাসায় যাবে। রিয়াদ ঃ কি আকাশ ভাইয়া এই সময় বাড়ি চলে গেছে। রিমিঃ জি স্যার। রিয়াদ ঃ ঠিক আছে তুমি ফাইল টা রেখে যাও।রিমি চলে গেলো।আমি ভাবছি আকাশ ভাইয়া এতো তারা তারি বাসায় কেনো গেলো।আপু তো এই সময় ঘুমায়।তাহলে কি রিয়ার সাথে।কেবিনে আর এক মূহুর্ত দারালাম না গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলাম বাড়ির উদ্যেশ্যে। আকাশ ঃ গাড়িটা পার্ক করে উপরে চলে গেলাম। তানিয়ার রুমে।দেখলাম ও ঘমাচ্ছে।খুব খুশি হলাম।রিয়ার ঘরের দিকে হাটা শুরু করলাম। রিয়াঃ বাবা কে না হলে ও ১০০ বার কল করলাম।কিন্তু বাবা ধরল না।মন টা খুব খারাপ হয়ে গেলো।মনে হচ্ছে এখনি কান্না চলে আসবে।বেলকনিতে দাড়িয়ে বাহিরের দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছি।হঠাৎ কে যেনো আমায় জরিয়ে ধরলো।আমি ভাবলাম রিয়াদ স্যার হয়তো।কিন্তু উনি তো এতো তারা তারি বাড়িতে আসে না।পিছনে ঘুরলাম।ঘুরে তো আমি পুরো অবাক।আকাশ স্যার রিয়াঃ আপনি এখন এই সময়ে আর আমাকে জরিয়ে ধরেছেন।আপনার এতো বড় সাহস কি ভাবে হয়। আকাশ ঃ কেনো রিয়াদ জরিয়ে ধরেছে এটা মনে করেছিলে নাকি।আর সাহসের কথা বলছো।আমার সাহস তো তুমি।তোমাকে দেখেই আমার এতো সাহস।আমি তোমার কাছ থেকে কিছু জানতে চাই। রিয়াঃ আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। তার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম। আকাশঃ প্লিজ রিয়া আমার কথা টা তো শুনো। তুমি কেনো এমন টা করলে।আমি তে তোমাকে ভালোবেসে ছিলাম তাই না। রিয়াঃ আমি আপনাকপ কখনো ভালোবাসি নি।আর শুনুন আমার এখন বিয়ে হয়ে গেছে সো আমাকে আর বিরক্ত করবেন না বলে বেরিয়ে আসতে নিলাম।তখনি সে আমার হাত টা ধরে ফেললেন। আকাশ ঃ তুমি বুঝার চেষ্টা করো আমি তোমাকে অনেক ভালো বাসি। রিয়াঃ আমি হাত ছুটানোর অনেক চেষ্টা করছি।কিন্তু উনি খুব শক্ত করে আমার হাত টা ধরে রেখেছেন।। রিয়াদ ঃ বাড়িতে চলে আসলাম।গাড়ি টা পার্ক করে সোজা আপুর রুমে চলে গেলাম।আপুর রুমে আকাশ ভাইয়া নেই।তারমানে আমার সন্দেহ টাই ঠিক।আমি এক প্রকার দৌড়ে আমার রুমের দিকে গেলাম। রিয়াঃ আপনার লজ্জা করে না ঘরে বউ রেখে আমাকে বিয়ে করতে চাইছেন। রিয়াদঃ আমি যা সন্দেহ করেছিলাম তাই হলো।আমার রুম থেকে আকাশ ভাইয়া আর রিয়ার কথা শুনা যাচ্ছে।কথা গুলো এমন ছিলো আকাশ ঃ তুমি চাইলে আমি তানিয়া কে তালাক দিয়ে দিবো আগে ও বলেছি এখনো বলছি।আমি সুধু তোমাকে চাই।আমি জানি তুমি রিয়াদ কে ভালোবাসো না।আর আমি এটা ও জানি তোমাদের মধ্যে এরকম কোনো সম্পর্ক ও হয়নি স্বামী স্ত্রীর।তাই এখনো সময় আছে চলো আমরা পালিয়ে যাই আর নতুন ভাবে জীবন শুরু করি।তারপর না হয় আমি তানিয়াকে আর তুমি রিয়াদ কে তালাক দিয়ে দিয়ো। রিয়াদ 'ঃ কথা গুলো শুনে আমার শরীর টা পুরো জ্বলছে। আর দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না।নিজেকে সামলে রুমে ঢুকলা। রিয়াঃ আমি কিছু বলতে যাবো। তার আগেই দেখি রিয়াদ স্যার ঘরে ঢুকছে।আকাশ স্যার ও দেখলো।আমি আর কিছু বলতে পারলাম না।আমার তো খুব ভয় করছে।দেখলাম আকাশ স্যার আমার হাত টা ছেড়ে দিলো। আকাশ ঃ রিয়াদ কে এই সময় দেখে অনেক টা ভয় পেয়ে গেলাম।কিছু কি দেখে ফেলল নাকি।( ভয়ে ভয়ে) তুমি এতো তারা তারি। রিয়াদ ঃ ঘরে ঢুকেই দেখি আকাশ ভাই আর রিয়া বেলকনিতে দাড়িয়ে আছে।আর আকাশ ভাইয়া ওর হাত টা ধরে আছে।আমাকে দেখে হাত টা ছেরে দিলো।আমার তো গা টা পুরো জ্বলে জাচ্ছে তাদের এই অবস্থায় দেখে।তবু ও নিজেকে সামলে নিয়ে। হে আমি। আসলে রিয়া কে ছাড়া আমার অফিসে মন বসছিলো না।তাই চলে আসলাম।আর এই প্রশ্ন টা তো আমার করার কথা আপনি এতো তারা তারি বাড়িতে। আকাশ ঃ আমি মি মি আসলে তানিয়ার বলল ওর শরীর টা বেশি ভালো না তাই দেখতে আসলাম। রিয়াদ ঃ তো এই রুমে কি করছেন।আপু তো ঐ রুমে ঘুমিয়ে আছে। আকাশ ঃ আসলে আমি বাড়িতে এসে দেখি তানিয়া ঘুমাচ্ছে। তাই আর ডাক দেই নি।রিয়ার সাথে গল্প করতে চলে এলাম আরকি। তাই না রিয়া। রিয়াঃ আমার তো তাকে দেখলেই ঘৃনা লাগে।তার মুখে আমার কথা টা শুনে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করছে।আমি কোনো কথা বললাম না। রিয়াদঃ বুঝতে পেরেছি। আকাশ ভাই আপনি আমার সাথে আসুন।বলে তাকে আপুর রুমে নিয়ে গেলাম। আর আমি অফিসে চলে আসলাম।আসার সময় আপু কে দেকে ভাইয়ার কথা টা বলে আসলাম যে উনি এসেছে। যদি না ডেকে আসতাম তাহলে তো রিয়া আর ভাইয়া আবার পালানোর প্লাব করতো। অফিসে এসে সুধু ভাবতে লাগলা।কি করলে রিয়া আর পালাতে চাইলে ও পারবে না।ভাবতে ভাবতেই মাথায় একটা বুদ্ধি এসে পরলো।কখনো ভাবি নি এরকম একটা কাজ করতে হবে।কিন্তু এটা ছারা তো কোনো উপায় ও নেই।এবার দেখবো রিয়া কিভাবা আমাকে ছেড়ে আকাশ ভাইয়ার সাথে পালায়।।।। চলবে।।।।।।। ( রিয়ার সাথে কি ঘটতে চলেছে কেউ বুঝতে পারলে জানাবেন।) (ধন্যবাদ)

COMMENTS

নাম

৭ টি বিভাগের ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে,1,এডমিন নোটিশ,2,কবিতা,13,কষ্ট ও ভালবাসা,26,জীবনধারা,8,ঝিনাইদহ জেলা,28,ফটো গ্যালারী,1,বাস্তব কাহিনী,32,ভালোবাসা গল্প,132,মাইন্ড হ্যাকিং,24,লাভ মেসেজ,9,শিক্ষণীয় গল্প,17,হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে,6,Entertaiment,92,Islam,5,
ltr
item
MD ASAD RAHMAN : রোমান্টিক অত্যাচার
রোমান্টিক অত্যাচার
MD ASAD RAHMAN
https://www.asadrahman.xyz/2019/09/blog-post_35.html
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/2019/09/blog-post_35.html
true
3383293187171369634
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy