Sponsor

banner image

recent posts

রাত দশটা

writer: Md Asad Rahman Kotchandpur,Jhenaidah
বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।কে যেন দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে বারবার।দরজা খুলে দেখি একটা মিষ্টি মেয়ে দাঁড়িয়ে! আমি একটা বড়সড় হোচট খেলাম।এমন ঝড় বৃষ্টির রাতে এত সুন্দর একটা মেয়ে কোথ থেকে এসে হাজির হলো! মেয়েটি আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়লো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছি শুধু।মেয়েটি ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছিল।নিশ্চয় ই অনেক্ষণ ধরে বৃষ্টিতে ভিজছিল।আমি দরজা লাগিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে বললাম, আপনি কে? কোথ থেকে আসলেন? - পরে বলবো। আগে একটা তোয়ালে দিন।আমার ভীষণ ঠাণ্ডা লাগছে।আর আপনার বাসার মেয়ে লোকদের ডাকুন প্লিজ। - বাসায় কোনো মেয়েলোক নেই।ইভেন আমি ছাড়া আর কেউই নেই এ বাড়িতে। একথা শুনে মেয়েটি একটু চমকে উঠল। খানিক টা ভয় ফুটে উঠল চেহারায়।আমি বললাম, ভয়ের কিছু নেই।আপনি দাঁড়ান আমি তোয়ালে এনে দিচ্ছি। এরপর ছুটে গিয়ে একটা তোয়ালে এনে দিলাম। বললাম,বাসার সবাই মিলি আপুর বিয়েতে গেছে।আগামী পরশু আসবে।আমিও কালকে বিয়ে বাড়িতে চলে যাবো।তবে আপনি ভয় পাবেন না।জামা কাপড় বদলে আসুন। আমার ছোট বোন নিঝুমের একটা কামিজ ও পায়জামা এনে দিলাম ওকে।মেয়েটি পাশের রুমে গিয়ে ভেজা জামা কাপড় বদলে আসলো।আমার রুমে এসে চুল মুছতে মুছতে বলল,থ্যাংকস। - ঠিক আছে।এবার তো বলুন কোথা থেকে এত রাতে? - আমি ঢাকা থেকে বগুড়া যাচ্ছিলাম। রাস্তায় হঠাৎ আমাদের বাসটা ব্রেকফেল করেছে।ওটা ঠিক করতে সময় লাগছিল সেই সময়ে এমন ঝড় বৃষ্টি।লোকজন ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক চলে গেছে।আমি ছুটে এসে একটা দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু দু তিনটা লোক সেখানে এসে আমাকে... বলতে বলতে মেয়েটি একবার ঢোক গিলল।তারপর বলল,ওরা আমাকে বিরক্ত করছিল।খারাপ লোক বুঝতে পেরে সবকিছু ফেলে ছুটতে আরম্ভ করি।কিন্তু কোথাও কোনো বাড়ি চোখে পড়ছিল না।একদম ফাকা রাস্তায় আটকে ছিলাম আমরা।তারপর ছুটতে ছুটতে এই বাড়িটাই প্রথম চোখে পড়লো। আমি বললাম, ভালো করেছেন।কিন্তু এ বাড়িতে তো আর কেউ নেই।আমি একা একটা ছেলে।আপনার আমাকে ভয় করছে না? মেয়েটি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল,না।আপনার চোখে ভালোমানুষি ছাপ আছে।আর আপনাকে মোটেও আমার খারাপ লোক মনে হচ্ছে না। মেয়েটির কথা শুনে আমি হাসলাম।খুবই সহজ সরল একটা মেয়ে।কিন্তু দেখতে ভারী মিষ্টি।ওর বৃষ্টিভেজা চেহারা টা এখনো চোখের সামনে ভাসছে।মুখটা অসম্ভব মায়াবী দেখাচ্ছিল,ভেজা চুলে একটা স্নিগ্ধ ভাব এসে গেছিল চেহারায়।আর ঠোট দুটো ভিজে এতটাই মোহময়ী হয়ে উঠেছিল যে,এক মুহুর্তের জন্য হলেও মনে রোমান্টিক ভাবনার উদয় হয়েছিল।ইচ্ছে করছিল হাত দিয়ে একবার ওই ঠোট দুটো ছুঁয়ে দিই। মেয়েটির কথা শুনে চমকে উঠলাম। ও বলল,আপনাকে কি বিরক্ত করলাম? - আরে না।বিপদে মানুষ ই তো মানুষের পাশে দাঁড়াবে,তাইনা? - হুম।আপনি খুবই ভালো মানুষ। কথাটা বলেই মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি আবারো হাসলাম।চোখাচোখি হতেই বুকের ভিতর টা ধুকপুক করে উঠল।অনেক স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে ওকে! ও বলল,আমি দুঃখিত। - আরে এতে দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই।আমি ভাবছি আপনাকে কি খেতে দেই? আমিতো হোটেলে খেয়ে এসেছি। বাসায় কোনো খাবার নেই। - থাক,লাগবে না।আশ্রয় পেয়েছি এটাই অনেক। এরপর মেয়েটা চুপচাপ আমার বিছানায় বসে রইলো। আমি কি করবো বুঝতে পারলাম না।ওকে একা রেখে অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো? কিন্তু আমার তো ইচ্ছে করছে এখানেই সারারাত বসে ওকে দেখি।এমন সুন্দরী একটা মেয়ে নিজের ঘরে এসে দাঁড়ালে কি আর ঘর ছাড়তে ইচ্ছে হয়? ও বলল,আপনি গিয়ে ঘুমাতে পারেন।আপনার কষ্ট হচ্ছে। - একদম না।আমার বেশ ভালো লাগছে। - ভালো লাগছে কেন? - জানিনা। বলেই হাসলাম।হাসির অর্থ মেয়েটি হয়ত বুঝতে পেরেছে।সে ও মাথা নিচু করে হাসল।আমার হঠাৎ মনে পড়লো, পাশের রুমে বিস্কুট আছে হয়ত। ছুটে গিয়ে দেখি কয়েক টা বিস্কুট আছে।বিস্কুট কটা ও এক গ্লাস পানি এনে ওকে খেতে বললাম।ও দ্রুত সেগুলো খেয়ে বলল,থ্যাংকস।অনেক উপকার করলেন। বড্ড খিদে পেয়েছিল। - ইটস ওকে।আপনি কি ঘুমাবেন? - হ্যা।একটু চেষ্টা করি ঘুমানোর।খুব ঠাণ্ডা লেগেছিল তো। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, ওকে।আপনি তাহলে ঘুমান।আমি পাশের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি। . মেয়েটিকে ও রুমে রেখে অন্য রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।বিদ্যুৎ চলে গেছে,সৌরবিদ্যুতের আলো জ্বলছিল।এ ঘরে লাইট জ্বালাই নি।এমন বৃষ্টির রাতে অন্ধকারে শুয়ে থাকতেই বেশ লাগে।কিন্তু পাশের রুমে অমন সুন্দরী একটা মেয়েকে রেখে এ রুমে কিভাবে আরামে ঘুমাই? এমনি তেই ওকে দেখার পর আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে।তারউপর মেয়েটা অনেক ফ্রেন্ডলি।হাজার চাইলেও এ রাতে আর ঘুম আসবে না। চুপচাপ শুয়ে শুয়ে অনেক কিছু ভাবছি।বারবার মেয়েটির ভেজা চুল আর স্নিগ্ধ মুখের দৃশ্য চোখে ভেসে উঠছে! কিছুতেই স্থির থাকতে পারছি না।চরম অস্থিরতা কাজ করছে।এভাবে কতক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকা যায়? এমন সময় মেয়েটির গলা শুনতে পেলাম।ও এ ঘরের দরজায় এসে দাড়িয়েছে।বলল,আপনি কি ঘুমাচ্ছেন? - না।ঘুমাই নি এখনো। আসুন। মেয়েটি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। বলল,আমার না একদম ই ঘুম আসছিল না।তাই আপনাকে বিরক্ত করতে আসলাম। - বারবার বলছেন বিরক্ত করার কথা।আমি মোটেও বিরক্ত হচ্ছিনা।এমন সুন্দর একটা রাতে আপনার মত কাউকে.. কথাটা এ পর্যন্ত বলে থমকে গেলাম।খুব লজ্জা লাগলো আমার।মেয়েটি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।আমি বললাম, ভিতরে আসুন। - অন্ধকার যে.. - এ ঘরের লাইট টা নষ্ট।আমার মোবাইল টাও ওই ঘরে।চলুন ওই ঘরে গিয়ে বসি। - না।এ ঘরেই বসে গল্প করবো। আমার অন্ধকারে বসে গল্প করতে খুব ভালো লাগে। মেয়েটি হাতরে হাতরে রুমে ঢুকল।তারপর বিছানার দিকে এগোতে লাগলো। আমি কথা বলে যাচ্ছি আর ও আইডিয়া করে করে এগোচ্ছে।বিছানার কাছে আসতেই আমি অকস্মাৎ ওর হাত ধরে ফেললাম। হাত ধরে বললাম, এইতো এখানে আমি।আসুন,বিছানা এদিকে। তারপর নিজের খেয়াল হলো।একি! আমি ওর হাত ধরে ফেলেছি অন্ধকারে! মেয়েদের হাত এত নরম হয় এটা আমার জানা ছিল না।এর আগে কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরার সুযোগ পাইনি।আজই প্রথম! কিন্তু এত সফট আর মসৃণ কারো হাত হতে পারে,এটা না ধরলে বুঝতাম না। মেয়েটি আমার একদম কাছে এসে বসলো। তারপর আস্তে করে হাতটা ছাড়িয়ে নিতেই আমি বললাম, সরি। মেয়েটি কিছু বলল না।চুপ করেই বসে রইলো। আমার এই রাত টাকে স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে।আমার বিছানায় পাশে একটি অপূর্ব মেয়ে বসা,পুরো ঘরে অন্ধকার,বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে,মেয়েটি আমার একদম কাছে বসে আছে! ভাবতেই আমার হার্টবিট বেড়ে গেলো! একটি বৃষ্টিভেজা রাত পর্ব ২ আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, বাইরে খুব সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে তাইনা? মেয়েটি মৃদুস্বরে বলল,হ্যা। - রোমাঞ্চকর রাত। কথাটা বলেই লজ্জা পেলাম। আজ যে আমার হয়েছে টা কি! একটু আগেই হুট করেই ওর হাত ধরে ফেলেছি। এখন আবার মুখ ফসকে এমন একটা কথা বলে ফেললাম। কি জানি এরপর আরো ভয়ংকর কিছু করে ফেলি নাকি! মেয়েটি বলল,আপনি বিয়ে করেন নি? - না করিনি।এখনো পড়াশুনাই শেষ করতে পারিনি। - ও আচ্ছা।বাসায় কে কে থাকে? - বাবা মা,ভাইয়া ভাবি আর আমি।আর আপনার? - আমরা দুবোন,আব্বু আম্মু আর দাদা দাদি। এরপর দুজনেই অনেক্ষণ চুপচাপ। আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না।বাইরে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে।থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,বজ্রপাত ও হচ্ছে।মেয়েটি কি বজ্রপাতের শব্দে ভয় পায় না? বললাম, আপনার নামটাই তো জানা হলোনা। - আমি নীলাম্বরী। - বাহ! খুব সুন্দর নাম তো! কিসে পড়েন? - অনার্স ফাস্ট ইয়ারে। এরপর আবারো দুজনেই অনেক্ষণ চুপচাপ।গল্প করার জন্য একটা টপিক খুঁজে বের করা দরকার। এভাবে তো চুপচাপ বসে থাকাও যায় না।কিন্তু কি বিষয়ে গল্প করা যায়? আমার তো এই মুহুর্তে মেয়েটি ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসছে না।শুধু নীলাম্বরীর মুখটা দেখতে ইচ্ছে করছে।ঘরটা একদম গাঢ় অন্ধকার হওয়ায় ও আমার চেয়ে কতটা দূরত্বে বসে আছে তাও দেখতে পাচ্ছিনা।তবে আন্দাজ করতে পারছি।ও আমার পাশেই বিছানায় পা তুলে বসে আছে নিশ্চয় ই।গলার স্বর খুব কাছে মনে হওয়ায় বুঝতে পেরেছি ও আমার একদম কাছেই বসে আছে।ইচ্ছে করছে ওকে একটি বার ছুঁয়ে দেখি। নীলাম্বরী বলল,আপনাকে একটা পারসোনাল প্রশ্ন করি? - অবশ্যই,বলুন। - আপনার গার্ল ফ্রেন্ড নেই? - নাহ নাই। - কেন নাই? - ছিল একজন। গত বছর ব্রেক আপ হয়ে গেছে।তারপর আর নতুন করে রিলেশনে জড়ানো হয়নি।আপনার? - আমি কখনোই রিলেশন করিনি।ছোট থেকেই অনেক প্রপোজাল পেয়েছিলাম কিন্তু ভেবেছিলাম আগে অনার্সে উঠি, তারপর ওসব। - এখন তো উঠেছেন। এখন প্রেম করবেন? আমার প্রশ্ন শুনে মেয়েটি শব্দ করে হেসে উঠল। আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম।তবুও মনে হতে লাগলো মাঝেমাঝে একটু নির্লজ্জ হতেও হয়।সবসময় লজ্জা পেলে কখনো প্রেম করা যায় না।তাই আরেক টু সাহস নিয়ে বললাম, হাসলেন যে? প্রেম করবেন না? - হুম করবো। কিন্তু সেরকম কাউকে পেতে হবে তো।আগে পাই,তারপর ভেবে দেখবো। - এত কাছে এমন হ্যান্ডসাম একটা ছেলে বসে আছে।হাত বাড়ালেই যাকে ছোঁয়া যায়।তবুও আর কাউকে খুঁজতে হবে? কথাটা বলেই আমি মুখ টিপে হাসলাম।জানিনা এরপর মেয়েটার রিয়্যাক্ট কেমন হবে! কিন্তু খুব ভয় হতে লাগলো। যদি ও রেগে যায়? কিন্তু আমার ভয় কাটিয়ে দিয়ে নীলাম্বরী বলল,এত দ্রুত বুঝি কারো প্রেমে পড়া যায়? - আমিতো পড়ে গেছি। - কার? - বারে! একটু আগে যার হাত স্পর্শ করলাম।ওই বৃষ্টিস্নাত চেহারা দেখেই তো আমার মনের ঘন্টা বেজে গেছে। নীলাম্বরী বোধহয় খুব লজ্জা পেয়েছে।লাজুক লাজুক স্বরে বললো,সত্যি! - হুম তিন সত্যি। একথা বলার পর আমার কেমন যেন লাগতে শুরু করলো। বুকের ভিতরে ঢিপঢিপ করছে।লাগামহীন ভাবেই তো ওকে প্রপোজ করে বসলাম। জানিনা কিভাবে নেবে ব্যাপার টা! যদি রাগ করে উঠে চলে যেতে চায়? আমি কি ওকে আটকাতে পারবো? ওর সামনে দাঁড়িয়ে কিভাবে আকুতি করে বলবো, আমাকে ফেলে যেও না।আমি সত্যিই প্রথম দেখাতেই তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। এমন সময় কাছেই কোথাও খুব জোরে শব্দ করে বাজ পড়লো।নীলাম্বরী ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল, ও মাগো! আপনি কোথায়? ওকে ভয় পেতে দেখে আমি নিমেষেই অন্ধকারেই ওকে ধরে ফেললাম। একেবারে বুকের কাছে। ওর নিঃশ্বাস পড়ছে আমার গলায়।মুহুর্তেই আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো।জীবনে কখনোই এত কাছে কোনো মেয়েকে পাইনি।একদম আমার বুকে লুকিয়ে পড়েছে নীলাম্বরী।শক্ত করে জাপটে ধরে আছে।আমার এত ভালো লাগছে যা বলে বুঝানো সম্ভব না।এভাবে এমন আকর্ষণীয় একটা রাত,বুকের মাঝে একটা অপরূপ মেয়ে।কি যে অন্যরকম ফিলিংস হচ্ছে! ইচ্ছে করছে আজীবন এভাবেই ওকে বুকে চেপে রাখি।এই রাতটা যেন কখনো শেষ না হয়।যুগ যুগ ধরে না ফুরালেও আপত্তি নেই তাতে।এমন বৃষ্টির একটা নেশাভরা রাতে এ কোন নেশা হয়ে কাছে এলে নীলাম্বরী? এভাবে কেটে গেলো অনেক্ষণ।নীলাম্বরী নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,সরি। আমি ওকে ছেড়ে দিলাম। ও একটু দূরে সরে বসলো। অন্ধকারেই মনে হচ্ছে ও অনেক বেশি লজ্জা পেয়েছে।ইচ্ছে করছে ওর লাজুক মুখটা দেখি।কিন্তু এমন অন্ধকারে কিভাবে দেখবো? আমি বললাম, জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়েকে জড়িয়ে ধরলাম।এই কাজটায় এতটা ভালো লাগা মিশে থাকে আমার জানা ছিল না।নীলা,তুমি আমার উপর রেগে যাচ্ছো? - না না,রাগ করবো কেন? প্রেমে পড়ে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক তাইনা? তাছাড়া এমন ঝড় বৃষ্টির রাতে একা একটা মেয়েকে কাছে পেলে কি অবস্থা হয় আমি বুঝতে পারছি। নীলাম্বরী'র কথা শুনে আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম।আমার ব্যাপার টা তাহলে ধরে ফেলেছে? কিন্তু কি আর করার? মনকে বুঝানো যে অনেক কষ্টের আর খুবই কঠিন।নীলাম্বরী'র নেশায় মেতে উঠছি ক্রমাগত।জানিনা এরপর কি হবে আমার! নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি ওর ওই বৃষ্টিস্নাত শরীরে! শেষ মুহুর্তে পারবো কি নিজেকে সামলাতে? যদি কোনো ভুল হয়ে যায়? চিন্তাটা মাথায় আসতেই একটু দূরে সরে এসে বসলাম।নীলাম্বরী ও হয়ত বুঝতে পেরেছে ব্যাপার টা।ও একটু চুপ থেকে বলল,আমি বরং ওই ঘরে যাই।আপনি ঘুমান। কথাটা বলেই ও বিছানা থেকে নেমে পড়লো। আমি দেখলাম ও দরজার সামনে চলে গেছে।তারপর বলল,শুভরাত্রি। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে এখন আবার শুভরাত্রি বলা হচ্ছে? কিন্তু কিছুই করার নেই।একটা মেয়েকে তো আর জোর করে বুকে চেপে রাখতে পারিনা।কিন্তু মনটা বড্ড ছটফট করছে। অনেক্ষণ বিছানায় এপাশ ওপাশ করলাম।পুরো বাড়িটা ফাকা,তারউপর প্রবল বর্ষণ হচ্ছে বাইরে।পাশের রুমে নীলাম্বরী'র মত একজন মেয়ে।যাকে দেখে প্রেমেও পড়ে গেলাম,কি করে ঘুমানো সম্ভব? প্রায় পনের মিনিটের মত বিছানায় ছটফট করলাম। অস্থির লাগছে ভীষণ।নীলাম্বরী কে দেখার জন্য মনটা ছটফট করছে।নাহ,এভাবে শুয়ে থাকা যায়না।নীলাম্বরীর মুখটা একবার দেখেতেই হবে।ওকে না দেখা অব্দি আমার ঘুম আসবে না আমার। দ্রুত দরজার কাছে চলে আসলাম।দুই রুমের মাঝখানের দরজাটা ও খোলাই রেখেছে।ওর রুমে সৌর বিদ্যুতের মিটিমিটি আলো জ্বলছে।সেই টিমটিমে আলোয় যা দেখলাম,তাতে আমার হৃদস্পন্দন আরো বেড়ে গেলো। দ্রুত হার্টবিট বাড়তে লাগলো। #চলবে.... #AsadRahman
রাত দশটা রাত দশটা Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.