হুম ভালোবাসি

তৃতীয় পর্ব writer:Asad Rahman Kotchandpur"Jhenaidah ডক্টর চেকাপ করে বললেন, আর কিছুক্ষণ আগে নিয়ে আসলে হয়ত বাচ্চাটাকে বাচানো যেতো। আমরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আপনার বউ এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও সে আর কখনো মা হতে পারবেনা। অবন্তীর তখনো জ্ঞান ফেরেনি। নীল কান্নায় ভেঙে পড়লো। নীল হয়ত অবন্তীর বাচ্চাটাকে নষ্ট করে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু চিরদিনের জন্য অবন্তীর বাচ্চা হওয়া বন্ধ হয়ে যাক এটা সে চায়নি। নীলের চোখের জল অবন্তীর কপালে এসে পড়ল। অবন্তী আধো চোখ খোলা অবস্থায় তাকিয়ে দেখল নীল কাঁদছে। তখন অবন্তীর বুকটা কেমন জেনো করে উঠলো। তার মনে হল কিছু একটা ঘটেছে। অবন্তী নীলকে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে? -- কিছুনা অবন্তী। --তাহলে তুমি কাঁদছো কেন? -- এমনি, তুমি চোখ খুলিতেছিলে না সেই জন্য। -- তুমি মিথ্যে বলছ নীল। আমি জানি তুমি মিথ্যে বলতে পারোনা। সত্যিটা কি? নীল আরো কান্নায় ভেঙে পড়ল। অবন্তীর চোখের দিকে তাকিয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় নীল বলল, আমাদের বাচ্চাটা আর নেই অবন্তী। কথাটি শোনার পর অবন্তীর মাথার উপর জেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। অবন্তী তার বাচ্চাটাকে আদর করতে পাড়লো না। তাকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারলো না। অবন্তীর সব স্বপ্ন এক নিমিষেই ভেঙে গেল। অবন্তীকে বাসায় আনার পর তার শাশুড়ি আম্মার অন্য রুপ বেড়িয়ে এলো। তিনি অবন্তীকে আর ভালোবাসার চোখে দেখছেন না। এমনকি নীলের সাথে এক ঘরে অবন্তীর শোয়া বারণ করে দিয়েছেন। অবন্তীর স্থান হলো চিলিকোঠার ছোট্ট একটা রুমে। আজ সবাই যখন খাবার টেবিলে বসে খাচ্ছিল অবন্তী তখন চিলে কোঠার ঘরে কাঁদছিল। কেউ তাকে খাবার জন্য ডাকেনি। নীল অবশ্য ডাকতে চেয়েছিল। কিন্তু তার আম্মার কারনে আর ডাকা হয়ে ওঠেনি। রাতের বেলা ফেরার পথে নীল অবন্তীর জন্য তার প্রিয় বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল। কারণ নীল জানে সকাল থেকে মেয়েটি কিছুই খায়নি। নীল চুপিচুপি চিলেকোঠার রুমে গেল দেখল অবন্তী শুয়ে আছে। অবন্তীকে কয়েকবার ডাকার পর অবন্তী নীলের ডাকে সাড়া দিয়ে বলল, তুমি? এতো রাতে আমার ঘরে। --দেখো তোমার প্রিয় বিরিয়ানি এনেছি। আমি জানি তুমি সকাল থেকে কিছুই খাওনি। -- আমার এখন আর বিরিয়ানি ভালোলাগেনা। তুমি চলে যাও আম্মা দেখলে অনেক কথা শোনাবেন। তুমিতো ওনার মুখের উপর কিছুই বলতে পারোনা। -- আগে বিরিয়ানি তোমাকে নিজের হাতে খাওয়াবো, তারপর যাবো। আম্মা যা বলার বলুক। -- আমার ভালোলাগছেনা তুমি চলে যাও। -- তুমি না খেলে আমারো কিছুই খাওয়া হবেনা। ভেবেছিলাম দুজনে ভাগাভাগি করে খাবো। --তুমি খাওনি? --তুমি সারাদিন কিছুই খাওনি আমি কিভাবে খাই বল? আজ হটাৎ নীল এতো দরদ দেখাচ্ছে কেন? অবন্তীর মনে হচ্ছে নীলই তার সন্তান কে মেরে ফেলেছে। কেননা নীল প্রথম থেকেই চায়নি তার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখুক। নীলের আশা আজ পুরুন হয়েছে সে জন্যই আজ বিরিয়ানি নিয়ে এসেছে আয়েশ করে খাবে বলে। নীল অবন্তীর সাথে কেন এমনটা করল? অবন্তীতো বলেইছিল সে তার সন্তান নিজেই লালনপালন করতে পারবে। আর কাওকে প্রয়োজন নেই। অবন্তীর সবকিছু কেমন যেনো এলোমেলো লাগছে। সে বুঝতে পারছেনা নীল কি চায়। নীল যখন অবন্তীর মুখের কাছে বিরয়ানী নিয়ে ধরল। অবন্তীর একটি বারের জন্যও মনে হলোনা নীল এমন একটা জঘন্য কাজ করতে পারে। নীলের মুখের দিকে চায়লেই অবন্তী সব কষ্ট ভুলে যায়। অবন্তী কে নীল খাইয়ে দিচ্ছে অবন্তী যখনি নীলকে খাইয়ে দিতে গেল তখনি নীলের আম্মু বিরিয়ানির প্যাকেট টা মেঝেতে ফেলে দিয়ে বলল, এখন থেকে বউকে এসব জেনো না খাওয়াতে দেখি। আর অবন্তী তোমার কি লাজ শরম নাই? পেটের সন্তানকে খেয়ে সাধ মিটেনি? যে বিরিয়ানি খাচ্ছ। ছিঃ নীল যখন কিছু বলতে যাবে আর তখনি নীলের আম্মু তাকে বলল, তুই চিন্তা করিসনা বাবা এই অলুক্ষনে মেয়েটার হাত থেকে বাঁচাতে তোকে আবার বিয়ে দেবো। এই বংশ আমি নির্বংশ হতে দেবোনা। অবন্তী তখন বলল..... ........... চলবে ভুল মাফ করবেন।

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.