তুমিই

তুমিই——- —– OMG মিস তুলি তাহলে আপনি ওকে চিনতে পারছেন? তুলির সামনে যে লোকটা দাড়ানো তুলি তাকে চিনতে পেরেছে। কিছু দিন আগে রাতে রাস্তায় যারা তুলিকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। তাদের মধ্যেই একজন। কিন্তু এই লোকটা কোন কথা বলছে না। যে কথা বলছে তার কথার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু তাকে দেখা যাচ্ছে না। ‌কে বলছে? তুলি মনে মনে ভাবছে। কে? ——- আমাকে দেখার জন্য মনটা আনচান করছে তাই না তুলি? তুলিঃ কে আপনি? যা বলার সামনে এসে বলেন? ——স্যরি ডিয়ার। তোমার এ ইচ্ছাটা আমিতো পুরোন করতে পারবো না। কিন্তু হ্যা তোমাকে আমার পরিচয়টা দিচ্ছি। আমার নাম—- থাক। নামটা থাক। নামটা বললেও চিনবা না। কিন্তু হ্যা আমি কিন্তু তোমাকে চিনি। তবে হ্যা আমার আরেকটা পরিচয় আছে। তা হলো তিসাকে আমিই মেরেছি। তুলিঃ কি? ——–আরে আরে অবাক হয়েও না। আমি ওকে ছাদ থেকে ফেলে মারতে চাইনি। আমিতো ওকে শান্তির মৃত্যু দিতে চেয়েছিলাম। যেমনটা তোমাকে এখন দিবো। প্রথমে ওকে আমি অনেকবার ড্রাগস দিয়েছিলাম। তারপর ধিরে ধিরে ওর সুন্দর শরীর থেকে রোজ রোজ অল্প অল্প করে রক্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু শালী পালিয়ে গেলো। তাই বাধ্য হয়ে ওকে ছাদ থেকে ফেলে দিতে হয়েছে। ‌কিভাবে ফেলেছি সেটা পরে বলি। আগে তোমাকে ড্রাগস দিয়ে নি। এই তুলি আপুর চোখটা বেঁধে ‌দে তো। রুমের লোকটা তুলির চোখটা বেঁধে দেয়। তারপর তুলির হাতে ইনজেকসন দিয়ে ড্রাগ দেয়। —–এই আমি বাইরে যাচ্ছি। কিছুক্ষন পর ম্যাডামের শরীর থেকে প্রায় এক ব্যাগ রক্ত নিবি। ——জ্বী স্যার। তুলির ড্রাগস এর কারনে চোখদুটো ঝাপসা হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে। তার কিছুক্ষন পরে তুলির শরীর থেকে রক্ত নেয়ার জন্য যেই তুলির কাছে যাচ্ছিল। অমনি দড়জা ভেঙে পুলিশ সহ হিমেল প্রবেশ করলো। লোকটা পালানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পুলিশ ধরে ফেললো। তুলি তখন ড্রাগের নেশায় পুরো মাতাল। হিমেলঃ আরে এটাতো সেই লোকটা কিছুদিন আগে যারা তুলিকে মারার চেষ্টা করেছিলো। পুলিশঃ ব্যাটাকে নিয়ে রাম ধোলাই দিলেই সব পেয়ে যাবো। পুলিশ ঘরে সার্চ করে কিছু ক্যামেরা ও মনিটর পায়। সেখানে বিভিন্ন মেয়েকে টর্চার করে মারার ভিডিও আছে। কিন্তু কে এগুলো করেছে তার কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। পুলিশঃ মিঃ হিমেল ধন্যবাদ। আপনার জন্যই আমরা মিস তুলিকে বাঁচাতে পারলাম আর এই সিরিয়াল কিলারকেও খুব তাড়তাড়ি ধরে ফেলবো। হিমেলঃ ধন্যবাদ দেয়ার ধরকার নাই আপনারা ঐ ছ্যাছড়াটার কাছ থেকে জানুন এসবের পিছনে কে? ততক্ষনে আমি তুলিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পুলিশঃ জ্বী। ধন্যবাদ। হিমেল তুলিকে কোলে নিয়ে গাড়িতে বসায়। তুলি তখন পুরো মাতাল। কারন এর আগে তুলি নেশার জাতীয় দ্রব্য দেখেনি পর্যন্ত। আজ তাই নেশাটা একটু বেশিই হয়েছে। আর নেশার ঘোড়ে তুলি কি বলছে দেখুন মানে শুনুন—— তুলিঃ ঐ হিম হিম হিম হিমেল। ‌হিমেলের বাচ্চা হিমেল। হিমেলঃ আমার নাম শুধু হিমেল তুলি। আর আমার কোন বাচ্চা নাই। তুলিঃ আচ্ছা শুধু হিমেল তুলি। তা আপনার নাম ঠান্ডা কেন? হিমেলঃ আমার নাম ঠান্ডা না হিমেল। তুলিঃ ওকে ঠান্ডা না হিমেল। হিমেলঃ প্লিজ তুলি চুপ করে একটু বসে থাকোতো। তুলিঃ নাহ । তার আগে বলো। হিমেলঃ কি বলবো? তুলিঃ বলো বলো বলো বলোওওও হিমেলঃ আরে ভাই কি বলবো সেটাতো বলবা? তুলিঃ হিমেল কে একটা চড় দিয়ে বললো ঐ আমি তোর কোন জন্মের ভাই লাগি? আমাকে জানু বলবি। হিমেলঃ চড় খেয়ে গালে হাত দিয়ে বললো। ওকে ঠিক আছে জানু। তুলিঃ ঐ আমি কি তোর বিয়ে করা বৌ যে আমাকে জানু ডাকোস? হিমেলঃ তুলি প্লিজ একটু চুপ করো। আমি ড্রাইভ করছি। তুলিঃ ঠিক আছে আগে বলো? হিমেলঃ কি বলবো? তুলিঃ তুমি আমাকে কোল থেকে নামালা কেন? হিমেলঃ তোমাকে নিয়ে গাড়ি কিভাবে চালাবো? তুলিঃ তা আমি কি করে জানবো? তুই এখন আমাকে কোলে নিয়ে ড্রাইভ করবি। হিমেলঃ O GOD. Please save me. যেই বেটা তোমাকে ড্রাগস দিছে ওরে পাইলে ড্রাগ ওর টুট ———-টুট। তুলিঃ জানো হিমেল তুমি না একটা চকলেট বয়। আর আমি চকলেট খুব ভালোবাসি। হিমেলঃ তো? তুলিঃ তো আমি এখন তোমাকে খাবো। হিমেলঃ প্লিজ তুুলি এরকম করে না। তুলিঃ করবো। ১০০ বার করবো। হিমেলঃ ঠিক আছে করো আগে সুস্থ হয়ে নাও। তুলিঃ ঠিক আছে। তোমাকে একটা কথা বলবো কাউকে বলবে নাতো? হিমেলঃ ঠিক আছে বলবো না। বলো? তুলিঃ আমি না একজনকে খুব ভালোবাসি। হিমেলের মাথায় একটু ‌দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। ভাবলো এই সুযোগে তুলির মনের কথাটা জেনে নেয়া যাক। সুযোগের সৎ ব্যবহার যাকে বলে আরকি। তাই বললো কাকে? তুলি নিজের মুখটা হিমেলর কানের কাছে নিয়ে জোড়ে চিৎকার দিয়ে বললো তোমাকে—— এত জোড়ে চিৎকার করায় হিমেল তাড়াতাড়ি গাড়ি থামিয়ে ফেললো। হিমেলঃ তুলি তুমি নেশার ঘোরে আছো তাই বাজে বকছো তুলিঃ নাহ? হিমেলঃ কি নাহ? তুলিঃ আগে তুমি আমাকে আই লাভ ইউ বলো। হিমেলঃ পরে বলবো। তুলিঃ এখন বলবা। নয়তো গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নেমে যাবো। হিমেল কোন উপায় না দেখে তুলিকে বললো। দেখো তুলি তোমাকে আমি খুব ভালোবাসি কিন্তু এ কথা গুলো আমি তোমাকে তখন বলবো যখন তুমি নিজের চেতনায় থাকবে। যখন তুমি আমার কথার মানেটা বুঝতে পারবে। ঠিক তখন বলবো। বুঝলা মিস তুলি। তুলি তুলি। এই তুলি! হিমেল তুলির দিকে তাকিয়ে দেখে তুলি বাচ্চা মেয়ের মত হিমেলের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। হিমেল তুলির মুখের উপরের চুল গুলো আস্তে করে সরিয়ে দিলো। তারপর বললো পাগলি একটা। তুলির এরকম পাগলামি কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হিমেল হসপিটালে পৌছে গেলো। তুলিকে ডাক্টার চেক করে বললো। ভয় পাবার কিছু নাই। ড্রাগের কারনে এরকম হয়েছে। একদিন বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। পরের দিন তুলির জ্ঞান ফিরলো। হিমেল কাল থেকে সারাক্ষনই তুলির কাছে ছিলো। তুলির মামা মামিও তুলির কথা শুনে হসপিটালে আসছে। তুলির বাবা বিদেশে থাকায় আসতে পারেনি। তুলির জ্ঞান ফেরার পর দেখলো হিমেল ওর পাশে বসা। তুলি হিমেলের দিকে তাকিয়ে আছে। হিমেল তুলির দিকে তাকিয়ে বললো—–। হিমেলঃ এখন কেমন লাগছে তুলি? তুলিঃ মাথাটা খুব ভারি লাগতেছে। হিমেলঃ একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। প্রথমবার নেশার জিনিস নিয়েছো তো। না মানে জোড় করে দিয়েছে তো তাই এমন হচ্ছে। তুলিঃ কি ? নেশার জিনিস? হিমেলঃ হ্যা ম্যাডাম। আপনাকে কালকে ড্রাগস দেয়া হয়েছিলো। প্লিজ তুলি ভুল করেও কখনো তুমি নেশা টেশা করো না? তুলিঃ কেন? হিমেলঃ কালকে তুমি আমার অবস্থা বারোটা বাজাইছো। তুলিঃ কি করছি? হিমেলঃ কি করো নাই তাই বলো? তুলিঃ কি? আচ্ছা বাদ দেও তো ওসব। আগে বলো কাল থেকে আমার সাথে ঠিক কি কি হয়েছে? হিমেলঃ তোমার কি কিছু মনে নাই নাকি? তুলিঃ হ্যা কিছু কিছু মনে আছে। কিছু লোক আমাকে কিডনাপ করছিলো। তারপর একটা অন্ধকার ঘরে আমাকে রাখা হলো। কারো আওয়াজ পাচ্ছিলাম কিন্তু দেখতে পাইনি। আমাকে কিসের যেনো ইনজেকসন দেয়া হলো। তারপর থেকে আমার আর কিছু মনে নাই। হিমেলঃ যাক ভালো। বেঁচে গেলাম। তুলিঃ মানে? হিমেলঃ ও কিছু না। কালকে আমিই পুলিশ নিয়ে গিয়ে তোমাকে বাঁচিয়েছিলাম। তুলিঃ কিন্তু তুমি কি করে জানলে আমি কোথায়? হিমেলঃ তুমি ভুলে যাচ্ছ যে আমার ফোনটা তোমার কাছে ছিলো। আর আমার ফোনে জিপিএস লোকেসন অন ছিলো। তা দিয়েই সহজে তোমাকে খুজে বের করেছি। তুলিঃ ও হ্যা মনে পড়েছে। তোমার ফোন দিয়ে কথা বলার সময় লোকগুলো যখন আমাকে গাড়িতে তোলে তখন ফোনটা গাড়ির সিটের নিচে পরে যায়। হিমেলঃ যাক ভালো। তুমি সুস্থ আছো সেটাই আমার কাছে অনেক। তুলিঃ আচ্ছা হিমেল পুলিশ কি ওখানে কাউকে পেয়েছে? হিমেলঃ হ্যা । তোমাকে সেদিন যে লোকগুলো মারতে চেয়েছিলো তাদের লিডারকে ধরেছে ওর নাম সুমন। মানুষকে মাডার কারার কন্টাক্ট নেয়। কিন্তু এখনো আসল খুনির নাম জানতে পারেনি পুলিশ। তুলিঃ তার দরকার নাই। আমি জানি কে আসল খুনি? হিমেলঃ কি? কে? তুলিঃ সব বলছি তার আগে পুলিশ খবর দাও। আর আমাকে নিয়ে কলেজে চলো। হিমেলঃ ঠিক আছে কিন্তু—– তুলিঃ কোন কিন্তু নাই যা বলছি তাই করো। হিমেল তুলিকে নিয়ে সোজা কলেজে গেলো। পুলিশও এসে পরলো। সেখানে তুলি যাদের যাদের উপস্তিত থাকতে বলেছিলো সবাই আছে। তুলিঃ আপনাদের সবাইকে এখানে ডাকার কারন হচ্ছে। তিসার খুনি কে তা আমি জানি। জান্নাতিঃ কি বললা তিসার খুন হয়েছে? তুলিঃ হ্যা। তিসা আত্নহত্যা করেনি। বা তিসার একসিডেন্ট মৃত্যুও হয়নি। তিসাকে খুব নির্মম ভাবে খুন করা হয়েছে। আর সে শুধু তিসাকেই না আরো ছয়টা মেয়েকে খুন করেছে। রে মধ্যে তিনটা মেয়ে আমাদের কলেজের। বাকিরা অন্যান্য জায়গার। He is a serial killar. রিয়াঃ কে সে? তুলিঃ তার নাম হচ্ছে———— চলবে———

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.