Recents in Beach

হুম ভালোবাসি

দ্বিতীয় পর্ব লেখকঃAsad Rahman অবন্তী কার্ডের দিকে তাকিয়ে চমকে গেল। কার্ডের ভিতরে বিয়ের কনে হিসেবে তার নামটাই লেখা আছে। অবন্তীর দুচোখ দিয়ে টপাটপ অশ্রু গড়িয়ে গালে এসে পড়েছে। এই অশ্রু দুঃখের নয়, সুখের। আজ অবন্তীর গোটা পৃথিবীকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে। নীল তোমাকে খুব ভালোবাসি। হুম, ভালোবাসি তোমায়। আজ নীল তার আম্মাকে নিয়ে এসেছে অবন্তীর বাসায়। মানে নীল যেই বাসাটা অবন্তীর জন্য ভাড়া করেছিল। নীল এর আম্মা অবন্তীকে দেখা মাত্রই নীলকে বলল, এতোদিন বলিসনি কেন? পরীর মতো সুন্দর একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিস। তাহলে ধুমধাম করেই বিয়েটা দিতাম। এখনতো লুকুচুরি করে বিয়ে দিতে হবে। নীল কি বলবে বুঝতে পাড়ল না। সুধু বলল, আম্মা আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তোমরা যদি অবন্তীককে না মেনে নিতে? - এতো লক্ষি একটা মেয়েকে না মেনে কি থাকা যায়?আমি আজই তোর বউকে বাসায় নিয়ে যেতে চাই। অবন্তী প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়। আজ অবন্তীর খব খুশি খুশি লাগছে, মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে সুখি ব্যাক্তিটি অবন্তি। আবার ভয় ও করছে। এতো সুখ কপালে সইবে তো? বাবা মায়ের অবাধ্যে বিয়ে করেছে বলে। অবন্তীর বাবা-মা একটা বার খোজ পর্যন্ত নেয়নি। তাদের মেয়ে কেমন আছে? কোথায় আছে? কিভাবে দিন কাটাচ্ছে। অবন্তীর বাবা মায়ের কাছে অবন্তী মৃত। আজ অবন্তী আর নীলের নতুন করে বিয়ে। যদিও পাড়া প্রতিবেশী কাওকেই নিমন্ত্রণ করা হয়নি। তবে কাছের কিছু আত্নীয় স্বজন কে এই বিয়েতে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। কাছের আত্নীয় বলতে নীলের এক ফুঁপি এবং দুই খালাকে। নীলের দুই খালার মধ্যে একজন এসেছিল নিশি খালামনি। নিপা খালামনি আসেনি। কেননা তার নিপা খালামনি চেয়েছিল তাদের একমাত্র মেয়ে নিধির সাথে নীলের বিয়েটাহোক। আর নীলের ফুঁপিতো নীলদের সাথেই থাকে। তার একবার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তিনি ঘর সংসার করতে পারেননি। বিয়ের দু মাসের মাথায় স্বামিকে ছেড়ে চলে এসেছিল। ভেবেছিল তার ভালোবাসার মানুষের সাথে আবার নতুন করে ঘর বাধবে। কিন্তু তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে আর বিয়ে করেন নি। এরপর তিনি তার স্বামির কাছেও আর ফিরে যায়নি। সন্ধ্যা বেলাতেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হল। আজ নীলের খুব ভালোলাগা কাজ করছে। মনে হচ্ছে এতোদিন পর তার মাথায় থেকে একটা বড় চিন্তা নেমে গেল। নীল অবন্তীর হাতটা ধরে বলল, সব কিছুর জন্য সরি! অবন্তী। অবন্তী নীলের হাত থেকে তার হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে নীলকে জড়িয়ে ধরল। আজ অবন্তীর নীলকে খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করছে। ইচ্ছে করছে বুকের মাঝে এমনি ভাবে জড়িয়ে রেখে সারারাত গল্প করে কাটাতে। মাঝরাতে অবন্তী ঘুম থেকে উঠে দেখল। নীল তার পাশে নেই। তাহলে এতো রাতে সে কোথায় গেল?অবন্তীর কেমন যেনো লাগছে। বমিভাব। আর খুব খারাপ লাগছে। অবন্তী বমিকরে পুরাঘর পাকিয়ে ফেলল, নীল ও নেই যে তাকে একটু ধরবে। অবন্তী দু কদম হেটে যে, দেখবে নীল কোথায় গেছে। সে শক্তিটুকু পর্যন্ত নেই। পেটের ভেতর থেকে কেমন জেনো এক মরণ যন্ত্রণা উঠতে শুরু করেছে। ঘরির দিকে চোখ যেতেই অবন্তী দেখল। তখন রাত ১.১০টা অবন্তীর ব্যাথা শুরু হলো। এতো ব্যাথা যা অবন্তীর বয়বার ক্ষমতা নেই। এই ব্যাথার মাঝেও অবন্তী বারবার নীলকে খুঁজছে। কিন্তু নীল আশেপাশে কোথাও নেই। খুব ভয় করছে অবন্তীর, অবন্তীর মনে হচ্ছে সে আর বাঁচবেনা। আজই হয়ত তার জীবনের শেষরাত। তার এটা মনে হবার কারন। তার বাচ্চা হবার ডেট এখনো হয়নি। তা সত্বেও এতো ব্যাথা। অবন্তী মেঝেতে পড়ে সেন্স হারিয়ে ফেলল, নীল ঘরে এসে দেখল অবন্তী মেঝেতে পরে আছে। অবন্তীকে কয়েকবার ডেকেও নীল কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে সেই রাতেই হাসপাতালে নিয়ে গেল। অবন্তী কে চেকাপ করার পর ডক্টর বিষণ্ণ মনে বললেন। আপনার বউ...... চলবে ভুল মাফ করবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ