ছায়া

আমি ছায়া হয়ে আছি মানে কেয়ার আত্মা (কেয়া) -দেখুন আমার কাছে কি ভয়ে ভয়ে (মামুন) -আমিই ডাঃআরিয়ানকে খুন করছি। -কি বলেন? কিভাবে? (মামুনের শরীরের ঘাম বের হয়ে যাচ্ছে ভয়ে) -ছায়া'রা সব পারে বাহিরে দেখে মনে হবে কিছুই হয়নি ভিতরে সব নষ্ট হয়ে যায়। -আপনাকে কে খুন করছে বলেন? -আমাকে কার কথায় করছে জানি না । তবে আমার বসকে ছাড়বো না। মামুন আরো কিছু জানতে চাওয়ার আগেই উদাও হয়ে গেছে কেয়া। মামুন পুরো অবাক আবার ভয়েও শেষ। মোবাইলটা বের করে কল দিলো রানাকে। -স্যার, -কি বলেন (রানা) -স্যার,ওই মেয়েকে দেখছি। (মামুন) -কোন মেয়ে? -স্যার একটু আগে যার লাশ রেখে আসছি হাসপাতালে। -কিছু জানতে পারছেন? -ও নাকি ডাঃ আরিয়ানকে মারছে। এরপর নাকি তার বসকে মারবে। -বসকে আবার তার? -জানি না। তবে তার বসকে মারার আগে বের করে খুনের রহস্য বের করতে হবে। -এখন কি করবো আমরা? - ওই মেয়ের ছায়া কাউকে মারার আগে সব করতে হবে। -এখন মেয়েটার লাশ কবর দিয়ে দিলে ছায়াও শেষ হয়ে যাবে। -স্যার এখনই মেয়েটার লাশ কবর দিয়ে দিতে হবে তাহলে। -তাহলে চলে আসেন। -আচ্ছা স্যার আসছি। কিছুক্ষণ পর মামুন রানার কাছে চলে আসলো। তারা দুজন চলে গেলো ডাঃ আসিকের কাছে। ডাঃ আসিক- এতো রাতে! আমারও এখনো রিপোর্ট করা হয়নি। তবে বুঝতে পারছি আগের মেয়ের মতো এরও কিডনি নাই। রানা- আর কষ্ট করতে হবে না। মেয়ের লাশটা দিয়ে দেন। ডাঃ আসিক - কেনো? রানা - আপনি এমনিই দু-তিন কষ্ট বেশিই করেন। মেয়েটার লাশ কবর দিয়ে মনে হচ্ছে মৃত্যুর রহস্য বের করতে পারবো। ডাঃ- আচ্ছা একটু অপেক্ষা করেন লাশ দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। কিছুক্ষণ পরই ডাঃ আসিক কেয়ার লাশ কবর দেওয়ার জন্য নিতে দিলেন। রানা আর মামুন লাশ নিয়ে চলে আসলো থানায়। মামুন আর রানা এসে থানার কিছু কর্মকর্তা নিয়ে কেয়ার লাশ কবর দিয়ে দিলো। যার যার মতো সবাবাই চলে গেলো। আর কেয়ার লাশ কবর দেওয়ায় তার ছায়াও চলে গেছে দুনিয়া থেকে। পরেরদিন সকালে রানা থানায় এসে মামুনকে বলে কেয়ার ছবি দিয়ে শহরে বিভিন্ন যেনো দিয়ে তার ঠিকানা বের করে। মামুন স্হানীয় পত্রিকায় পরিচয় চেয়ে কেয়ার ছবি দিলো আর মামুনের মোবাইল নাম্বারও। সারাদিন কেটে গেলো কেউ আর কেয়ার খুজ নিয়ে কল দিলো না। রাতও চলে গেলো রানা আর মামুন চিন্তায় আছে আবার নতুন কাউকে খুন করে নাতো খুনীরা। সকাল হতেই একজন কল দেয় মানুকে,, - হ্যালো কে বলছেন ( মামুন) -- আমি সোনাপুর বস্তি থেকে বলছি। - বলেন কি বলবেন। - স্যার,পত্রিকার দেওয়া মেয়েটাকে আমি চিনি নাম কেয়া। - তুমি কোথায় এখন আমরা আসতেছি। - বস্তিতে আসলেই পাবেন। মামুন কলটা কেটে রানাকে নিয়ে চলে আসলো বস্তিতে। মামুন আর রানাকে দেখে কল করা লোকটা এগিয়ে আসলো। - স্যার, ওই ঘরটায় কেয়া থাকতো।( লোক) - আচ্ছা আমরা দেখছি। ( মামুন ) মামুন আররা রানা ঘরের সামনে গিয়ে দেখে দরজায় তালা দেওয়া। - দরজা ভেঙে ফেলো ( রানা) - ঠিক আছে স্যার ( মামুন) তারপর মামুন দরজাটা ভেঙে ফেললো। ঘরের ভিতর তারা গিয়ে খুঁজছে কেয়া কোথায় চাকুরী করতো সেই ঠিকানা। অনেক খুঁজার পর একটা কাগজ ফেলো মামুন যেখানে চাকুরী করতো কেয়া ওখানের। - স্যার, দেখেন হোটেল তাজ'য়ে চাকুরী করতো ও ( মামুন) - আচ্ছা এবার তাহলে হোটেল গেলে পুরো রহস্য বের হবে।(রানা) - আচ্ছা যাই তাহলে রানা আর মামুন হোটেল তাজ'য়ে গিয়ে কেয়ার খুজ করলে কেউ বলেনি সে এখানে কাজ করতো। তারপর রানা হোটেলের মালিকের সাথে দেখা করতে চাইলে একজন কল দিয়ে মালিক সুজনকে আনে হোটেলে। - আপনারা আমার হোটেলে ( সুজন) - আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে। ( রানা) - কেনো? ( সুজন) - মামুন সাহেব ওনাকে নিয়ে চলেন কোন কথা বললে গুলি করে দিবেন ( রানা) মামুন সুজনকে নিয়ে চললো আর সুজন ভয়ে চুপ করে আছে।।। রানা আর মামুন সুজনকে গাড়ি করে থানায় নিয়ে গেলো। একটা অন্ধকার ঘরে তাকে আটকে রেখে,, -বল কেয়াকে কে খুন করছে? (রানা) -আমি জানি না (সুজন) -সত্যি না বললে তোকে মেরে ফেলবো (রানা) তখনই মামুন একটা ঘুষি দিলো সুজনকে। -বলবি নাকি মেরে ফেলবো (মামুন) -আমি জানি না ( সুজন) তারপরই মারতে শুরু করলো রানা আর মামুন সুজনকে। কিছুক্ষণ মারার পর সুজন বলে,,,, সে কেয়াকে ডাঃ আরিয়ানের কাছে দিয়ে আসছে আর কেয়া ছিলো একটা ভালো মেয়ে চাজুরীর জন্য আসলে তার সাথে রাত কাটায় সে তারপর ডাঃ আরিয়ানের কাছে বিক্রি করে দেয়। --আর রিপা নামের মেয়েটা। (রানা) সুজন--রিপাকে আমি কিনে নিছিলাম একজন থেকে তারপর হোটেলে ভাড়া দিয়ে টাকা আয় করতাম কিছুদিন পরও তাকেও ডাঃ আরিয়ানের কাছে দেই। -আর কতজনকে দিছিস (মামুন) - অনেক শিশু আর মহিলা যাদের কিডনি নিয়ে মেরে ফেলতো ডাঃ আরিয়ান।(সুজন) --কিডনি নিয়ে কি করতো সে (রানা) -শহরের পাশেরর যে পুরাতন রাজবাড়ি আছে ওখানে একজনকে দেয়। ওই লোকটা ওখানের একটা অন্ধকার ঘরে থাকে। আজও আছে ও সকালে কথা হইছে। (সুজন) নিজের পিস্তলটা বের করে গুলি করে দিলো সুজনকে রানা। মামুনও গুলি করলো। সুজন সাথে সাথে মারা গেলো। - স্যার, আসল খুনীকে ফেলে সব খুন শেষ হবে (মামুন) - চলো এখন গিয়ে ওকে ধরি (রানা) তারা চললো পুরাতন রাজবাড়ি। প্রায় ২ঘন্টা পর জঙ্গলের মাঝের রাজবাড়ি চলে আসলো। তারা আস্তে আস্তে বাড়ির একটা রুম দেখে সেটা ঢুকছে তখনই -এখন বুঝি আমার কিডনি নিয়ে আসার সময় হলো ডাঃ আরিয়ান। আমার থেকে এতো টাকা নাও তাও দেরি কেনো। তুমি জানো মানুষের কিডনি আমি খাই কত মজা করে।(একটা পুরুষ কন্ঠে) -কেনো কিডনি খান (রানা) ঘরে অন্ধকার তাই কেউ কাউকে দেখছে না। -আমার মাকে বাঁচাতে পারিনি কেউ কিডনি দেয় নি সেই দিন। আমারটা দিতাম রক্তের মিল না থাকায় তাও পারিনি। তারপর আমি টাকায় আয় করে ভাবলাম মানুষের কিডনি খাবো। মামুন আর রানা তাদের হাতের লাইট জ্বালিয়ে দিলো। মাঝ বয়সী একটা লোক। সে তাদের দেখে অবাক। রানা ও মামুনন তাদের পিস্তল দিয়ে লোকটাকেও মেয়ে দিলো। -স্যার, লাশের কিডনি আর হত্যা সব রহস্য শেষ এবার। (মামুন) - হয়তো তার ছায়া এসে আমাদের মারবে চলো একেও মাটি দিয়ে দেই (রানা) তারপর মামুন আর রানা একে মাটি দিয়েয়ে চলো আসলো। ছায়ারাও আর ফিরে আসেনি তারপর থেকে। --সমাপ্ত ---

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.