সতেরো বছর পর

😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍 রূপা দেখলো ফুটফুটে সুন্দর দুটি বাচ্চা কি মায়াবী তাদের চেহারা। রূপা জেনো এক নিমিষেই সব কষ্ট ভুলে গেল, বাচ্চা দুটিকে পেয়ে। অপরদিকে রাজুকে ছেড়ে দেওয়া হল। রাজু ফিরে এসে দেখল রূপা আর নেই। রূপার বড় ভাবি বলল, টাকাওয়ালা স্বামী পেয়েছে। স্বামীর বয়সটা যদিও একটু বেশী কিন্তু টাকা-পয়সা আছে ঢের। তাই রূপা তোমার জন্য আর অপেক্ষা করেনি। -- আমি আমার রূপাকে চিনি ভাবি। যেই টাকার লোভে ঐ বুড়োর সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিলেন। আমাকে আটকে রাখলেন। তার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আমি কামাই করে আনবো। তখন আমার রূপাকে আমার কাছে থেকে কেউ কেড়ে নিতে পাড়বে না। -ফকিন্নির ছেলের বড় বড় কথা। মুখে না বলে কাজে করিয়ে দেখাস। এই বলে মুখ ঝামটা দিয়ে ঘরে চলে গেল রূপার বড় ভাবি। রাজু ছিল অত্যন্ত মেধাবী। সে তার লেখাপড়াতে আরো মননিবেশ করল। একদিন সে স্কলারশিপ পেয়ে বাহিরে চলে গেল। রূপার খুব ভয় করে এখন প্রতি রাতেই বুড়ো রূপার ঘরের কাছে এসে উঁকিঝুঁকি মারে। বুড়োর কি এই বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে? রূপার বুঝে আসেনা। এতো কিছুর পরেও রূপা এই বাড়িতে পড়ে আছে শুধু মাত্র ও ফুটফুটে বাচ্চা দুটির পানে চেয়ে। বাচ্চা দুটো প্রথমে রূপাকে মা, মা বলেই ডাকতো। কিন্তু রূপা বারণ করায় তারা রূপা আন্টিকে রূপা আন্টি, রূপা আন্টি বলেই ডাকে। আজ রূপার ভিষন ভয় করছে বুড়োটা কি সব ছাইপাঁশ গিলে এসেছে। জোরে, জোরে দড়জা ধাক্কাচ্ছে। বাচ্চা দুটোই নেই আজ। তারা তাদের মামার বাসায় গিয়েছে। বাচ্চা দুটোর নাম ছিল নন্টে ফন্টে, রূপা তাদের নাম পালটিয়ে নতুন নাম দিয়েছে, বিশাল, আকাশ। বড়টার নাম বিশাল আর ছোটটার নাম আকাশ। নন্টে ফন্টে বজ্জাতের হাড্ডি রূপার ধারণা এই সব নাম থাকলে ওরা ওদের মতো বজ্জাত হবে। তাই রূপা নাম দুজনের নাম পালটিয়ে রেখেছে। রূপার নাম পাল্টানোতে বুড়োটা খুশি না হলেও নন্টে, ফন্টের মামা মানে বিশাল, আকাশের মামা বেশ খুশি হয়েছেন ওনারো ধারনা এসব আজেবাজে নাম বাচ্চাকাচ্চার রাখলে তারা নামের মতো বজ্জাতই হয়। বিশাল, আকাশের মামা রহমান সাহেব বেশ ভালো মনের লোক। তিনি বাচ্চা দুটোকে বেশ ভালোবাসেন সেটা দেখে রূপারো খুব ভালোলাগে। এতোদিন রূপার কারনে রহমান সাহেব তার ভাগ্নেদের নিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু আজ রূপা অনুমতি দেবার কারনে পেরেছেন। বুড়োটা এবার দরজাটা ভেঙেই ফেলেছে। বুরোটার চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। দরজা ভাঙবার আনন্দতে বুড়োটা একপাটি দাঁত বের করে হাসতে লাগল। আস্তে আস্তে রূপার দিকে এগুতেই রূপা দৌড়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। বুরোটাও রূপার পিছন, পিছন গেল। রূপার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল রূপা নিজেকে বাঁচাতে রান্নাঘরের আশ বটি নিয়ে বুড়োর গলায় দিলো এক কোপ। বুড়ো জাগায় শেষ। রূপা বুঝতে পাড়ল না সে কি করবে এখন। ঝোঁকের মাথায় মেরে ফেলেছে, কিছুক্ষনের ভিতরেই আশেপাশের লোকজন এসে হাজির হল। এরপর পুলিশ এসে রূপাকে জেল হাজতে নিয়ে গেল। রূপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো। এভাবেই কেটে গেল রূপার ১৪টি বছর। রূপা এখন আর সে রূপা নেই। চেহারাতে বয়সের ছাপ ফুটে উঠেছে। রূপার বাসা থেকে কেউ আসেনি। বিশাল, আকাশ ও তার রূপা আন্টিকে দেখতে আসেনি। আজ রূপার ছাড়া পাবার খবর শুনেও আসেনি। ওরা চায়না ওদের বাবার খুনির সাথে যোগাযোগ রাখতে। কিন্তু রূপার খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। ছেলে দুটিকে । কেমন হয়েছে ওরা? সেই ভাবনায় রূপা তার শশুর বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু গ্রামের লোকজন রূপাকে গ্রামে ঢুকতে দিলোনা বের করে দিল। একজন খুনির গ্রামে থাকার অধিকার নেই। কোথায় যাবে রূপা পথে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে গেল। গ্রাম ছেড়ে খুব দূরে শহরের এক বিড়াট বাড়িতে রূপা রাতটা কাটানোর জন্য আশ্রয় নিল। রূপা যেই বাড়িতে আশ্রয় নিল সেই বাড়িতে আজ অনুষ্ঠান ছিল। হাজারো দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানো হল আজ। বাড়ির মালিকের ১৭ বছর পরদেশে ফেরা উপলক্ষে। রূপার ভিষন খুধা লেগেছে খুধার চোটে রূপা মাথা ঘুরে পরে গেল। বাড়ির মালিক খবর পেয়েই নিচে নেমে এলো এসে দেখল এই মেয়েটি তার সেই চিরচেনা রূপা। বাড়ির মালিক রাজু শহরের সব চেয়ে বড় ড. ডেকে নিয়ে এলো। রাজুর ভাবনায় একটাই প্রশ্ন রূপারতো খুব বড় ঘরে বিয়ে হয়েছিল শুনেছিলাম। তাহলে রূপার আজ এই পরিণতি কেন? হিসেব টা জেন মিলছিল না। রূপা চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলে তার পাশের লোকটিকে খুব চেনা চেনা লাগছে। আগেও তাকে কোথাও জেন দেখেছে সে। তখন রাজু রূপাকে বলল, তোমার এই অবস্থা কেন? -কে আপনি? - আমি তোমার রাজু। - সেই রাজু যে রূপার দায়িত্ব নেওয়ার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল? কথা দিয়ে আসেনি আর। তখন রাজু সবটা খুলে বলল, যে রূপার ভাই ভাবি তাকে ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। রূপা সবটা শোনারপর রাজুকে জড়িয়ে ধরল। কিন্ত যখন রূপা বুঝল এটা অন্যায় তখন রাজুকে ছেড়ে দিয়ে বলল, আপ্নিতো এখন অন্য কারো। রাজু রূপাকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, রূপা ছাড়া রাজু অন্য কারো হতে পারেনা। তখন রূপা তার সব কথা রাজুকে খুলে বলল। রাজু সবটা শুনে রূপাকে আরো কাছে জড়িয়ে নিলো। এপর দুজনে বিয়ে করে সিখে সংসার কাটাতে লাগলো সতেরো বছর পর রাজু তার রূপাকে নিজের করে পেল। ভুল ক্ষমা করে দেবেন সমাপ্ত ব্যাস্ততার জন্য গল্পটি অগোছালো ভাবেই সমাপ্ত করে দিলাম

কোনো মন্তব্য নেই for " সতেরো বছর পর"

Berlangganan via Email