বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

<😍 Session 2 😍> ** শেষ পর্ব ** লেখাঃ(Asad Rahman ) - হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা) - হুম (অচেনা) - কেঁ বলছেন (নীলা) - আমি মুরাদ বলছি হৃদয়ের ফ্রেন্ড (মুরাদ) - জ্বি বলেন (নীলা) - একটা কথা বলার ছিল (মুরাদ) - জ্বি বলেন , হৃদয় তো বাসায় নেই (নীলা) - জ্বি জানি , আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো (মুরাদ) - আচ্ছা বলেন (নীলা) - আসলে,,,,,,, আসলে,,,,,,,,,আসলে,,,,,, (মুরাদ) - এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠে।নীলা ভাবে এই বুঝি হৃদয় এলো । - একটু পরে কল দেন হৃদয় চলে আসছে (নীলা) - আরে শুনুন (মুরাদ) - টুট.........টুট.........টুট............ - এক রকম দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায় নীলা। কিন্তু দরজা খুলে অবাক হয়ে যায় নীলা। দরজায় মাহি দাঁড়ানো । মাহিকে দেখে দেয়ালের ঘড়িতে তাকায় নীলা। ঘড়িতে ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট বাজে । এতো রাতে মাহি তাও এমন অবস্থায় । মাহিকে দেখে নীলার কলিজার পানি শুকিয়ে যায় । - মাহি কি হইছে (নীলা) - ভা,,,,ভা,,,,ভাইয়া (মাহি) - হৃদয় তো বাসায় নেই , কি হইছে বলো (নীলা) - ভাবি,,,,, ভাবি,,,,ভাইয়ায়ায়ায়া (মাহি) - এই বলে ঝাপিয়ে পরে নীলার বুকে , মাহির আর্তনাদ দেখে নীলাও কেঁদে দেয় । - এই মাহি এই কি হইছে , এতো রাতে আসলা , মা ঠিক আছে তো , আর বাবা ,,,,,, বাবার শরীর ভালো আছে তো ? (নীলা) - ভাবিইইইইইইই,,,,,,,ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া (মাহি) - কি হইছে ভাইয়ার , হৃদয় তো সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে গেলো (নীলা) - কিচ্ছু হবে না ভাবি , কিচ্ছু হবে না , তুমি শক্ত থাকো (মাহি) - উফফফফফফ মাহি কি বলো আবল তাবল বলতেছো , কি হইছে বলবা তো নাকি (নীলা) - ভাবিইইইইইইইইই (মাহি) - মাহি প্লিজ কান্না থামাও আর বলো কি হইছে , আমার কিন্তু খুব ভয় করছে মাহি (নীলা) - ভাবি , ভাইয়ার , ভাইয়ার (মাহি) - হু ভাইয়ার , ভাইয়ার কি মাহি,, বলো (নীলা) - ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে ভাবি (মাহি) - কিহহহহহ , কি বলো আবল তাবল , মাথা ঠিক আছে তোমার (নীলা) - ভাবি ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে , হাইওয়েতে গাড়িটা দুমরে মুচরে গেছে ভাবি , আব্বুকে কল করে খবর দেয় পুলিশ রা , আব্বু আর আম্মু হাসপাতালে আমি এইখানে আসছি ভাবি (মাহি) - মা,,,,,,মা,,,,,মাহি , (নীলা) - ভাবি একটু কান্না করো , কান্না করো ভাবি , বুকটা হালকা হবে , কান্না করো না প্লিজ , (মাহি) - হৃ,,,,হৃ,,,,হৃদ,,,,,,,হৃদয় , আর এক্সিডেন্ট ,,,,,, (নীলা) - ভাবি এই ভাবি কান্না করো না প্লিজ , কান্না করো (মাহি) - হৃদয়ের কাছে যাবো মাহি , আমি হৃদয়ের কাছে যাবো (নীলা) - কাল যাবো ভাবি , আমরা কাল যাবো , (মাহি) - নাহ , এখন যাবো , এক্ষুনি যাবো , মাহি আমি তার কাছে যাবো , তার কাছে যাবো (নীলা) - কিন্তু ভাবি এতো রাতে (মাহি) - কোন রাত না আমি এখনি যাবো আমি এখনি যাবো তার কাছে (নীলা) - কিন্তু ভাবি (মাহি) - কোন কিন্তু না , চলো (নীলা) - মাহিকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলো হাসপাতালের উদ্দেশ্য । মনের মধ্যে একটুও জোর নেই যে চিৎকার দিয়ে কান্না করবে । পুরা জমে আছে সে । সন্ধ্যায় যেই মানুষ টা বাসায় এতো চিৎকার চেচামেচি করে গেলো , সে নাকি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে । তিন/চার ঘন্টার ব্যবধানে কি থেকে কি হয়ে গেলো । মানুষ টা কেমন আছে কি অবস্থায় আছে এই ভেবে ভেবে নীলার বুক কেপে উঠে বার বার । - হাসপাতালে গিয়ে আরো বড় সড় ধাক্কা খায় নীলা । শুধু শ্বশুর শ্বাশুড়ি না তার নিজের বাড়ির লোক ও আছে । নীলার বাবা ভাই মা ও এসছে হাসপাতালে । নীলাকে দেখে তার মা এসে জড়িয়ে ধরে , - কিচ্ছু হবে না মা , জামাইয়ের কিছুই হবে না, আল্লাহ কে ডাক মা আল্লাহ কে ডাক । আল্লাহ বিপদ দিয়েছে আল্লাহই রক্ষা করবে মা (মা) - বাবুই পাখি , হৃদয়ের কিছুই হবে না অপারেশন চলছে , ভালো হয়ে যাবে (নিলয়) - আম্মু শুনো তো (মাহি) - হ্যা বল (মাহির মা) - ভাবি একটুও কাদে নি (মাহি) - কিহহহহহহ (মাহির মা) - হুম আম্মু , ভাবি একদম বরফ হয়ে গেছে (মাহি) - এইভাবে তো অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা) - হুম আম্মু তুমি কিছু করো (মাহি) - বেয়ান শুনেন তো একটু (মাহির মা) - জ্বি বেয়ান বলেন , আর এতো কান্না কইরেন না বোন (নীলার মা) - বেয়ান কি অন্যায় করলাম গো বোন , আমার ছেলের এই অবস্থা , এইদিকে আমার বউ ও বরফ হয়ে গেছে (মাহির মা) - হ্যা বেয়ান মেয়ে আমার কাদে না কেন , (নীলার মা) - ওকে কান্না করান বেয়ান না হয় অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা) - দেখতেছি (নীলার মা) - প্রায় ২০ মিনিট ধরে চেষ্টার পরেও নীলা না বলছে কথা না করছে কান্না । সবাই অনেক চিন্তায় পরে যায় তার জন্যে । এই সময়েই ডক্টর বের হয় O.T থেকে । - শফিক , কেমন দেখলি দোস্ত , আমার ছেলেটা বেচে যাবে তো (মাহির বাবা) - শান্ত হো , কথা শুন আগে (শফিক সাহেব) - বল (মাহির বাবা) - এতো অন্যমনস্ক হয়ে কেউ গাড়ি চালায় নাকি , কি হয়ে গেলো (শফিক সাহেব) - আংকেল ও কেমন আছে , শুধু এইটুকু বলেন (নীলা) - এক্সিডেন্ট খুব মারাত্মক ভাবে হয়েছে । বাম পায়ে অনেক চোট পেয়েছে , ঘাড়ের একটা রগ কেটে গেছে , শিড়দারায় অনেক ফ্যাকচার এসে গেছে । মাথায় অনেক আঘাত লেগেছে , ডান হাত টার সব গুলো আঙুল থেতলে গেছে । এক কথায় দোস্ত আল্লাহ কে ডাক , এই মুহূর্তে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তোর ছেলেকে বাচাতে পারবে না (শফিক সাহেব) - আল্লাহ এইগুলা কি শুনাইলেন ভাই , আমার ছেলেটার কি হয়ে গেলো (মাহির মা) - আল্লাহ কে ডাকেন ভাবি (শফিক সাহেব) - দোস্ত এখন কি অবস্থা বুঝতেছিস তুই (মাহির বাবা) - যদিও বেচে যায় প্যারালাইসিস হয়ে থাকবে , সেড়ে উঠতে সময় লাগবে (শফিক সাহেব) - আল্লাহ ভাই কি শুনাইলেন (মাহির মা) - আংকেল আমি ওকে দেখতে চাই প্লিজ আংকেল , (নীলা) - আরেকটু পরে আই.সি.ইউ তে দিবো তখন দেখতে পারবা মা (শফিক সাহেব) - হৃদয়কে নিয়ে এক প্রকার জমে মানুষে টানাটানি করেছে সেই রাতে । কারো চোখেই ঘুম নেই । - রাত প্রায় ৩ টা বেজে ২৫ মিনিট , - এক্সকিউজ মি , শুনছেন (মাহি) - জ্বি (নিলয়) - ধরুন (মাহি) - কফি ? এতো রাতে (নিলয়) - কি আর করার , রাত টা বড্ড কালো , কখন শেষ হবে কে জানে , চিন্তিত দেখাচ্ছে আপনাকে , তাই ভাবলাম কফি হলে কেমন হয় (মাহি) - ধন্যবাদ (নিলয়) - হুম , ধন্যবাদ কি পকেটে রাখেন নাকি সব সময় (মাহি) - মানে (নিলয়) - এতো ধন্যবাদ ধন্যবাদ করেন কেন (মাহি) - তোমার চোখ মুখ ও তো ফুলে একাকার , ঘুমিয়ে নাও একটু , (নিলয়) - ঘুম আর আসবে না , এতো বিপদে ঘুম আসেও না (মাহি) - চিন্তা করো না , হৃদয় ভালো হয়ে যাবে (নিলয়) - হুম সেই আশাতেই আছি , কিন্তু আংকেলের কথায় ভরসা পাচ্ছি না (মাহি) - ভয় পেও না , সব ঠিক হয়ে যাবে , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো , বাবুইপাখি কোথায় (নিলয়) - আই.সি.ইউর সামনে দাঁড়িয়ে আছে , কিছুই খেলো না (মাহি) - থাক জোড় করো না , ও এমনি , মন খারাপ থাকলে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেয় , আর এখন তো তার স্বামী অসুস্থ , এখন তো মেরে ফেলে দিলেও খাবে না (নিলয়) - হুম (মাহি) - তুমি খাবে না কফি (নিলয়) - নাহ আমি লিকার খাই , কফি না (মাহি) - তাহলে কফি আনলে আমার জন্যে ? আই মিন জানো কিভাবে যে আমি কফি খাই তাও স্ট্রং ব্ল্যাক কফি (নিলয়) - ভাবির কাছে শুনেছিলাম একদিন (মাহি) - ওহ , তা বসো না , (নিলয়) - নাহ , একটু ওইদিক টায় যাবো , আপনি কফি খান (মাহি) - হুম (নিলয়) - একি আপনি এইখানে (মাহি) - কেন , সমস্যা করলাম নাকি (নিলয়) - নাহ , সমস্যা কেন হবে (মাহি) - তাহলে দাড়াই একটু (নিলয়) - হুম (মাহি) - কি ব্যাপার কাদছো কেন (নিলয়) - কই না তো (মাহি) - কই আবার কি , কাদলে তো , চোখের পানি গুলো আমায় দেখে মুছে নিলে (নিলয়) - ভালো লাগছে না , ভাইয়া টা ভালো হবে তো (মাহি) - ইনশাআল্লাহ , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো (নিলয়) - চলুন যাওয়া যাক (মাহি) - আরে আরে কি হলো (নিলয়) - একটু দাড়ান , মাথা টা কেমন যেনো করে উঠলো (মাহি) - খুব খারাপ লাগছে কি (নিলয়) - না , মাথা টা ঘুরে গেলো হঠাৎ করে (মাহি) - এতো কান্না করলে এমনিতেই তো অসুস্থ হয়ে যাবে তাই না , তার উপরে নির্ঘুম রাত পার করছো (নিলয়) - উফফফফফফফ (মাহি) - আরে আরে পরে যাবে তো , দেখি এইখানে বসো , সবাই এক সাথে অসুস্থ হলে আন্টি আংকেল কে দেখবে কে বলো তো , বসো এইখানে (নিলয়) - এখন কেমন লাগছে ? (নিলয়) - ভালো , চলুন (মাহি) - আরে করো কি , বসে থাকো এখানে , একটু রেষ্ট করো (নিলয়) - হুম (মাহি) - ঘুমানোর চেষ্টা করো একটু (নিলয়) - কিছুক্ষণ পর , - একটা মানুষ এতো টা সুন্দর হয় কিভাবে , জানা ছিলো না , স্নিগ্ধ চেহারায় কি অমোলোনিয় সৌন্দর্য বিরাজ করছে মেয়েটার মুখে । কত টুকু অপূর্ব লাগছ তাকে সে নিজেও জানে না (নিলয়) - মাহির গায়ের ওড়না টা দিয়ে মাহির শরীর টাকে সুন্দর করে ঢেকে দেয় নিলয়। যেনো ঠান্ডা বাতাস টা গায়ে না লাগে । - এইদিকে হৃদয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয় । আর নীলা ঠায় দাঁড়িয়ে আই.সি.ইউর সামনে । কালকের ভোর টা তাদের জন্যে কি অপেক্ষা করে আছে তা আল্লাহ ভালো বলতে পারবে । - আজ আসি আবার কাল আসবো সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন। ** চলবে ** বিঃদ্রঃ ১১তম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

কোনো মন্তব্য নেই for " বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে "

Berlangganan via Email