শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯

আমি তুমি ও সে

লেখাঃমো আসাদ রহমান "কোটচাঁদপুর"ঝিনাইদহ" দেখতে দেখতে টিপের ডেলিভারি সময় হয়ে এসেছে, কিন্তু হিমান্ত আর টিপের মনের যে দূরত্বটা সেটা কমেনি। , টিপকে তার শাশুড়ি আর ননদ খুব আগলে রেখেছে। তবুও যেন টিপের শারীরিক অবস্হা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। , সৌমিক নামের ছেলেটা আরো একবার ফোন দিয়েছিলো হিমান্তকে, টিপকে যে বহূদিন দেখা হয়না, বড্ড ভালোবাসে যে। , ভালোবাসা এমনই হয়, পৃথিবী উল্টে গেলেও তার প্রতি ভালোবাসা একটুও কমে না। , প্রত্যেকটা মানুষ তার জায়গা থেকে সঠিক। ভালোবাসার জন্য কোন স্হান কাল পাত্র ভেদে দিন ক্ষণ ঠিক করতে হয় না। , একজন চোর, ডাকাত, খুনির মনেও কারো না কারো জন্য ভালোবাসা থাকে। সে হয়তো তোমাকে খুন করার জন্য সুপারি নিবে, কিন্তু সে তার সন্তান, স্ত্রী, মা বাবাকে খুব ভালোবাসে। তুমি তার কোন সম্পর্কের কেউ হওনা, তাই তোমাকে মারতে তার মায়া না ই হতে পারে। , কিন্তু সে ও ভালোবাসতে জানে। , রিয়েলিটি বড্ড বিচিত্র, আমার ইংলিস টিচার বলতেন.." Experience Is The Best Teacher" , সারাজীবন শিখেও যা অর্জিত হয় না, তা কখনও নিজের সাথে ঘটলে মনে গেথে থাকে। আর সেই এক্সপেরিয়েন্স সে কোনদিন ভোলে না। , টিপ তার জীবন থেকে অনেক কিছু শিক্ষা পেয়েছে, জীবনে যদি আর একবার জন্ম নেয়ার সুযোগ পেতো, তাহলে প্রথমেই বাবা-মায়ের বাধ্য সন্তান হতো। , টিপ চুপটি করে শুয়ে আছে, রাত অনেক হলো, ঝুম আর মামনি তাদের ঘরে রেস্ট নিচ্ছে। , কিন্তু সেই যে বিকেলে হিমান্ত বেরিয়েছে, আর কোন খোঁজ নেই, চিন্তায় পরেছে টিপ, মাকে বলবে কিনা ভাবছে। , কিন্তু সাহস করতে পারছে না, মা হার্টের রোগী, চিন্তা করবেন। , কখন থেকে ফোন করে যাচ্ছে কিন্তু সুইচড অফ বলছে। , অফিসে ফোন দিয়েছিলো, তৃণা নামে মেয়েটির নাম্বারে, কিন্তু মেয়েটি ধরেনি, আবার দিবে কিনা ভাবছে। , ভাবতে ভাবতে কল দিয়েই ফেললো, দুইবার রিং হওয়ার পরে রিসিভ করলো। , __হ্যালো আসসালামু আলাইকুম। __ওয়াআলাইকুমুসসালাম। __কে বলছেন.? __আপনি চিনবেন না, আমি একটু তৃণা আপুর সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম, তিনি কি আছেন.? __আছে একটু হোল্ড করুন দিচ্ছি ডেকে। __হ্যালো, আপনাকে একটা কথা জিগ্যেস করতাম। __জ্বী বলুন.. __আপনি কে হন তৃণা আপুর.? __কেন তৃণা আপনাকে বলেনি.? __আসলে, না, মানে। __আমি তৃণার হাজবেন্ড। __টিপ অবাক হয়ে গেলো ওনার কথা শুনে, হাজবেন্ড মানে তৃণা বিয়ে করেছে। এটা কি করে সম্ভব। __আপনাকে তো চিনলাম না। __আমি মিসেস হিমান্ত, তৃণা আপুর অফিসের কলিগ হিমান্ত চিনেন তো তাকে.? __হ্যাঁ চিনি খুব ভালো মানুষ সে, আর অনেক মিশুক প্রকৃতির। , __আচ্ছা আজ রাখছি পরে আপুকে নক করে নেবো, আপনাকে এত রাতে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। __না কি যে বলেন, আমি তৃণাকে ডেকে দিচ্ছি। __থাক, আরেকদিন বলবো এমনিতেই ফোন দিয়েছিলাম, বেচারি কাজ করছে করুক। আসবেন একদিন আমাদের বাসায় বেড়াতে। __আচ্ছা ঠিক আছে। রাখছি তাহলে। , টিপ কল কেটে ভাবছে তাহলে হিমান্ত কোথায় গেলো, আর এসব কি শুনছি, তৃণা বিবাহিত, কিন্তু ও যে বললো তৃণাকে ভালোবাসে। তাহলে কি হিমান্ত আমাকে মিথ্যে কথা বলেছে। সব হিসেব গুলিয়ে যাচ্ছে, কিসের জন্য হিমান্ত ডিভোর্স চাচ্ছে। আর আমি বুঝতে পারছিনা ওই মেয়েটার কথাই বা কেন আমাকে বললো। , টিপ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। , রাত প্রায় তিনটা বাজে, এখনও হিমান্তের ফোন বন্ধ বলছে, চিন্তায় অস্থির হয়ে যাচ্ছে টিপ। কি হতে পারে ছেলেটার, কোন বিপদ হলো না তো আবার। , ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে গেলো। , টিপ ঘুমিয়ে আছে এলোমেলো হয়ে, সারারাত ঘুমোতে পারেনি মেয়েটা। , অন্যদিকে হিমান্ত, সে কোথায় আছে কেউ জানে না। , সকালে ঝুমের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে টিপের। , __হাই সুইটু, শুভ সকাল। __শুভ সকাল। __কেমন আছে আমার ভাবিটা.? __যার ঘরে এমন একটা কালনাগিনী থাকে সে কিভাবে ভালো থাকে বলুন মহারাণী। __উমমমম তাহলে কালনাগিনীকে বকে দেবো, আমার ভাবিটাকে যেন না জ্বালায়(মুচকি হেসে)। __নাহ, কালনাগিনীর এই দুষ্টু মিস্টি ভালোবাসায়ই তো ভাবিটার মন ভালো হয়ে যায়, সে তো কালনাগিনীকে ভালোবাসে তা কি কালনাগিনী জানে না.? __উমম হুম জানে, তবে একটা গুড নিউজ আছে, (গলা জরিয়ে ধরে বলছে ঝুম)। , __কি গুড নিউজ শুনি তো.? __বলবো.? __হুম না বললে জানবো কিভাবে.? __আমার.. __হুম হুম আমার তারপর.? __না মানে আমার "ও" আছে না (লজ্জা পেয়ে)। __হেসে দিয়ে.. হুম তোমার "ও" আছে বুঝলাম তারপর.. __হাসলে বলবোনা(মুখল হাত দিয়ে)। __ওকে ওকে বাবা বলো। __আমার ও আমায় বলেছে.. হাত দিয়ে চোখ ঢেকে ফেললো ঝুম। __নাহ কিছু বলেনি হে হে। __ঝুমম ইয়ারকি হচ্ছে, বলো বলছি। __ওই আর কি বেবি আছেনা, তার নাকি অনেক পছন্দ মানে। __হুম আর একম তোতলিয়ে কথা বলতে হবে না, বুঝেছি সে কি বলতে চেয়েছে। , তা কবে সুসংবাদটা পাবো.?। __ইইই ভাবি এখন না বলেছে পরে সময় হোক তারপর। __ভালো কথাই তো বলেছে। , আচ্ছা ভাবি তোমার সাথে বকবক করেই যাচ্ছি, তা ভাইয়া কোথায়.? কালকে কখন আসছে দেখিনি, নিশ্চয় লেট করছে। এখন কই নবাবজাদা। , __ঝুম একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম তোমায়। __বলে ফেলো এত ভাবতে হয় নাকি হুম.? __বলবো কিন্তু প্রমিস করো মাকে বলবে না.? __ডাল মে কুছ কালা হে. কি করছো বলতো দেখি। __ঝুম তোমার ভাইয়া কাল রাতে বাড়িতে আসেনি। , __কি বলছো তুমি, তুমি একা আছো আর সে বাড়িতে আসেনি।(অবাক হয়ে) __হুমম আমি অনেক বার ফোন দিয়েছি। কিন্তু দেখো কালকে রাত থেকেই বন্ধ বলছে ফোন, ঝুম আমি এখন কি করবো কোথায় খুঁজবো ওকে..(কেঁদে দেয় টিপ) , আরে ভাবি তুমি কাঁদছো কেনো, ভাইয়া কোন কাজেও তো যেতে পারে, হতে পারে মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। তাই বলতে পারেনি। চিন্তা করোনা, ভাইয়া বিয়ের আগেও মাঝে মাঝে এমন করতো। আম্মু তো খুব বকতো এজন্য। , টিপ এবার চুপ হয়ে যায়। , মাথায় অনেক চিন্তা, তৃণা নায় হিমান্ত অন্যকাউকে লাভ করে, আর না হয় আমাকে মিথ্যা বলেছে, কিন্তু কি লাভ মিথ্যা বলে.? , ও কি চায়, ছ-মাসের আরো দুইমাস বাকি আছে। কি হবে সামনে, ভাবতেই ভয়ে কেঁপে ওঠে টিপ। ওর পেটে হিমান্তের সন্তান, কি আছে সন্তানের ভাগ্যে আল্লাহ তুমি সহায়। , মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ বিপদ দিয়ে থাকেন। এজন্য বিপদে ভেঙ্গে পরতে হয় না, বিপদে ধৈর্য ধারন করতে হয়। কেননা ভেঙ্গে পরলে সময় কালে মানুষ সঠিক নিশানা থেকে সরে যায়। এমনকি সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে, ভুল কাজ করে ফেলে। , তাই বিপদে আল্লাহর ইবাদত করতে হয়, আর আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। নিশ্চয় তিনি যা করেন ভালোর জন্যই করেন। টিপ নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে তবুও চোখ বেয়ে পানি পরছে। , আল্লাহ একদিন ঠিকই তার আকাশের মেঘ কাটিয়ে সোনালি আলো নিয়ে আসবে। সেদিন আর কোন দুঃখ কষ্ট থাকবে না। টিপ উঠে ফ্রেশ হতে চলে যায়। চিন্তায় মাথাটা ধরেছে, কি করবে কার কাছে ফোন দিবে কিচ্ছু মাথায় আসছে না। , ঝুম চলে যায় নিচে.. ও নিজেও টিপকে শান্তনা দিলেও নিজেরই এখন চিন্তা হচ্ছে ভাইয়া অসুস্থ ভাবিকে রেখে বাইরে থাকবে এটা তো কোনদিনও সম্ভব না। , কি হতে পারে ঝুম নিজেও জানেনা কি করবে এখন। , টিপ উঠে রুমের মধ্যে আস্তে আস্তে হাটছে, খুব কষ্ট হচ্ছে তবুও হাটছে, টেনশনে মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কি ভেবে টিপ আলমারি খুলে কিছু খুঁজছে, কিন্তু কি খুঁজছে নিজেও জানে না। , যদি কোথাও কিছু পাওয়া যায় তাই ভেবেই টিপ আলমারির সব জিনিসপত্র খুঁজে দেখছে। , হিমান্তের কিছু জামাকাপড় ও এখানে নেই, তার মানে হিমান্ত আগেই জানতো সে আসবেনা। সে প্লান করেই গেছে, কিন্তু কাউকে ন। জানিয়ে। , চার্জার পাওয়ার ব্যাংক এমনকি ল্যাপটপ সবকিছুই নিয়ে গেছে। , হিমান্ত তাহলে কি আমার থেকে পালানোর জন্য না বলে গেলো.? , কিন্তু কেন, আমি তো ওকে বলিনি কিংবা জোর ও করিনি কোন কিছু নিয়ে। কিচ্ছু মাথায় আসছে না, টিপ এবার ভেঙ্গে পরেছে, কি করবে এখন। , হঠাৎ টেবিলের উপর একটা ছোট খাম দেখতে পায় টিপ। কি আছে খামের ভেতরে.? , টিপের বড্ড ভয় লাগছে, পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে টিপ অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। , খামটা হাতে নিলো টিপ, শরীর ঘেমে একাকার, হাত কাঁপছে টিপের। কি অপেক্ষা করছে ওর জন্য ও নিজেও জানেনা। , খামটা খুলতে গেলেই ওর ফোনটা বেজে ওঠে.. , ঠোটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে, ছুটে যায় ফোনের কাছে.. , এমন সময়.. , , , চলবে...... , (আমার এক্সাম চলছে ৪-৭ তারিখ অব্দি এক্সাম থাকবে, ফাঁকে সময় পেলে গল্প লিখবো, মাথায় টেনশন নিয়ে গল্প লিখলে নিজেও জানিনা কি লিখি, সবাই একটু অপেক্ষা করতে পারবে না.? আমি একটু সময় বের করেই অল্প অল্প করে লিখি, তবুও চেষ্টা করবো যতদূর পারি লিখবো। ততক্ষণ সবাই ভালো থাকো সুস্হ থাকো, আর বাবা মাকে বেশি বেশি ভালোবাসো সাথে আমাকেও, 💘একটু দোয়া কইরো😊 হ্যাপি রিডিং)

কোন মন্তব্য নেই: