মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৯

হুম ভালোবাসি

চতুর্থ পর্ব লেখকঃAsad Rahman অবন্তী বলল, নির্বংশ হবে মানে? -- মানে তুমি যদি ওর বউ হয়ে থাকো তবে ও কোনোদিন বাবা ডাক শুনতে পাবেনা। --মানে কি? আম্মা কি বলছেন এসব? -- মানে তুমি আর কখনো মা হতে পারবেনা। তুমি নিজে মা হতে পারবেনা বলে কি আমার ছেলেটিকে বাবা হতে দিবেনা? --না। আমি মা ডাক না শুনলে আপনার ছেলে ও বাবা ডাক শুনবেনা। এখন আমি বুঝিতেছি আমার বাচ্চাটা নষ্ট করার পিছনে আপনাদের মা ছেলের হাত রয়েছে। -- কি বললে বউ মা তুমি? -- কেন সত্যিটা শুনতে কি তিতা লাগছে? -- কিসের সত্যি? -- আমার বাচ্চা নষ্ট করার পিছনে আপনাদের অবদান আছে। নীল অবন্তীকে ধমক দিয়ে বলল, কি বলছ এসব অবন্তী? -- যেটা শুনেছো। আর সেই জন্যই মা-ছেলেতে মিলে আমাকে এতো সোহাগ করে বাসায় নিয়ে এসেছো। আর আমি কি বোকা সরল মনে বিশ্বাস করেছি তোমাদের। কেন করলে আমার সাথে এটা? -- অবন্তী শান্ত হও। আমি বুঝতে পারছি তোমার মনের অবস্থা। তুমি যদি না চাও আমি ও বাবা ডাক শুনতে চাইনা। অবন্তী দেখল নীলের চোখে পানি টপটপ করছে। অবন্তী অংক্টা মেলাতে পাড়ছেনা। ওর বাচ্চাটা মারার পিছনে কি সত্যিই নীলের কোনো হাত ছিল না? যদি হাত না-ই থাকে। তবে কেন নীল সেদিন রাতের বেলা বাহিরে ছিল? আর নীল যদি বাচ্চাটাকে মেরেই ফেলবে তাহলে কেন তার চোখে জল। নাহ্ অংক্টা মিলছে না। সব কি অবন্তীর কপালের দোষ? নাকি এর পিছনে অন্যকোন রহস্য লুকিয়ে আছে। সকাল বেলা অবন্তী দেখল নীল তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে আর ঘুমের ঘোরে বলছে অবন্তি আমাকে ছেড়ে যেওনা। আমাকে ছেড়ে কখনো যেয়ো না। অবন্তী নীলের মুখে পানিরছিটা দিতেই নীল চমকে উঠলো। নীল বলল, কি হয়ছে অবন্তী আমাকে আরেকটু ঘুমাতে দাও। -- অফিস যাবেনা? -- না আজ সারাদিন তোমার সাথে থাকবো। -- পাগলামি করো না যাও নইলে আম্মা আবার আমাকে কথা শোনাবে। --শোনাক। -- এই একটা কথা শুনবে আমার? --কি? বল। -- তুমি আরেকটা বিয়ে করে নাও। বাবা হও তুমি বাবা হলেইতো আমি মা হব। তোমার বাচ্চার। মা, শুধু তোমার ঐ বউকে একটু বইল বাচ্চাটাকে জেনো আমাকে একটু আদর করতে দেই। -- কি বলছো এসব? তুমি আমার ভাগ অন্য কাওকে দিয়ে দিবে। --তোমার আম্মার জন্য, তোমার জন্য আমি পাড়ব। নীল বেশ খুশি হল এইভেবে যে, সে বাবা ডাকটা এবার শুনতে পাবে। সে যা চেয়েছিল তাই হতে চলেছে। নীল ও চাই বিয়েটাহোক খুব দ্রুত সম্ভব হলে আজকেই। কিন্তু এত জলদী মেয়ে কই পাবে? অবন্তী নিজে তার স্বামী নীল এর জন্য মেয়ে ঠিক করল। মেয়েটি আর কেউ নয় নীল এর বড় খালার মেয়ে নিধির সাথেই। খুব ভোরবেলা নিধিরা সকলেই হাজির হয়ে গেল। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে। আগামীকাল বিয়ে। তবে নিপাখালার একটা শর্ত আছে বিয়ের আগেই অবন্তীকে তার শশুর বাড়ি থেকে চলে যেতে হবে। অবন্তী তাতেই রাজি। অবন্তীর খুব কষ্ট হচ্ছে কোথায় যাবে সে? নীল ও দেখতে চায় অবন্তী কিভাবে তাকে নিধির হাতে তুলে দেয়? তাই নীলও নিপা খালামনি কে বলল, বিয়ে করব তবে অবন্তী এই বাসাতেই থাকবে। নয়লে এই বিয়ে আমি করব না। অত:পর সবার মতামত অনুযায়ী অবন্তী এই বাড়িতেই রয়ে গেল। অবন্তীর খুব কষ্ট হচ্ছে। এত কষ্ট আগে কখনো হয়নি। নীলকে না হয় বিয়ের কথা বলছে অভিমান করে। তাই বলে নীল কেন রাজি হলো। নীল অবন্তীকে বলতে পারত ওসব বিয়ে টিয়ে আমি করব না। কিন্তু না নীল বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল হাসিমুখে। তার অর্থটা কি দাঁড়াল? ওর কাছে বাবা ডাকটাই সব অবন্তীর ভালোবাসাটা কিছু না। নীল অবন্তীর কাছে নিধিকে নিয়ে এসে বলল,... চলবে... ভুল মাফ করবেন।

কোন মন্তব্য নেই: