অহংকারী মেয়ে

অনেক গালিগালাজ করছে সবাই, সত্য যাচাই না করে, আর আমি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছি কারন এখানে বড়লোকের কথা চলে আমাদের মতো গরীবের না, আমি এবার মাথা তুলে...... -- আঙ্কেল আপনারা সত্যের যাচাই না করে আমাকে ও আমার পরিবারকে এভাবে অপমান করতে পারেন না। এরপর একজন ছুটে এসে আমার জামার কলার ধরে.... -- অন্যের মেয়েকে কষ্ট দিয়ে এখন নিজে সাধু সাজছো। -- আঙ্কেল আপনারা বিশ্বাস করুন, এরপর আমি সব ঘটনাটা পুরো খুলে বললাম, এটা শুনে তিশার আব্বু রেগে ক্ষেপে গেলো, সোজা তিশার কাছে গিয়ে তিশার হাত ধরে আমার সামনে নিয়ে এসে ঠাস ঠাস করে থাপ্পড় মারতে লাগলো, আমি এখানে থামাতে পারতাম কিন্তু না সে বুঝুক এটা সমাজের কত বড়ো অপমান। এবার তিশার আব্বু...... -- তোকে ছোটো থেকে আদর দিয়ে দিয়ে এমন করে ফেলেছি যে আজ তোর শ্বশুরঘর এর সবার সামনে আমায় অপমান সহ্য করতে হচ্ছে। আমি এবার তিশার আব্বুর দুটো হাত ধরে..... -- কিছু মনে করবেন না, আমি মাত্র সত্যিটাই জানালাম। -- না না বাবা, আমাকে তো আমার মেয়ে এর উলটা কথা বলেছে। এবার তিশার আব্বু হুমকি দিয়ে... -- এই কে আছিস তিশার যা জিনিস পত্র আছে এখানে সব ফেলে দে, আজ থেকে এখানেই থাকবে। তিশা এবার ওর আব্বুর হাত ধরে... -- আব্বু আমি এখানে থাকতে পারবো না।(তিশা) -- তোকে থাকতেইই হবে, তোর পছন্দের ছেলের সাথেই তো তোকে বিয়ে দিয়েছি। -- আব্বু প্লিজ আমি এরকম একটা ভিখারি ছেলের সাথে থাকতে পারবো না প্লিজ। -- অভ্র আমি আসি, যা পারো করো, আর হ্যাঁ তিশা তুই বাসাতে আসলে আগে অভ্রের কাছে পারমিশন নিবি তারপর আসবি। -- আমি একটা ভিখারি ছেলের কাছে থাকবো এটা কিভাবে মনে করলে তোমরা, তার থেকে আমি মরে যাবো। আমি এটা শুনে খুব আতঙ্কিত হলাম.... -- আব্বু নিয়ে যায়েন আপনাদের মেয়েকে, আমি চাইনা আমার মতো গরীব ভিখারি ছেলের জন্য আপনাদের মেয়ের কোনো ক্ষতি হোক। -- এটা হয় না বাবা, কোনো মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে তার একমাত্র বাসা তখন স্বামীর বাসা। -- আব্বু আপনার মেয়ে তো আমাকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে পারেনি আর আমিও আপনার মেয়েকে স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে পারিনি। -- বাবা এসব কি বলছো? -- জ্বি আমি ঠিক বলছি, আমি শুধুমাত্র আমার আম্মুর জন্য এ বিয়েতে রাজি হয়েছি, আম্মু এবার ছুটে এসে.. -- এই অভ্র এসব কি বলছিস? -- জ্বি আম্মু আজ আমাকে বলতে দাও। এবার তিশার আব্বু কিছুক্ষন চিন্তা করে..... -- এখন তোমরা কি চাও? হঠাৎ তিশা বলে উঠলো...... -- আমরা ভির্ভোস চাই। এবার আমিও রেগে... -- আমিও ডির্ভোস চাই। -- কি বলছিস তিশা তোর মাথায় কিছু আছে, ডির্ভোস মানে কি জানিসস। -- আমার ওতোসব জানা লাগবে না, আমি ডির্ভোস চাই ব্যাস। -- বাবা তুমি কি চাও। -- জ্বি আঙ্কেল আমিও ডির্ভোস চাই, আপনার মেয়েও আমাকে স্বামী হিসাবে মেনে নিতে পারছেনা আর আমিও।(আমি) -- ঠিক আছে তোমরা দুজনে ভেবে দেখো কি করবে। তিশা তাড়াতাড়ি করে.... -- একটা ভিখারি গরীব ছেলেকে ডির্ভোস দেবো এতে ভাবার কি আছে। -- হ্যাঁ আমি ভিখারি হতে পারি তবে আপনার মতো এতো অহংকারী না। -- জ্বি আমি অহংকারী, আমার আব্বুর অনেক টাকা, সব আমার। -- বাপের নিয়ে সবাই ফুটানি করতে পারে, আপনার কি আছে বলুন শুনি, এই দেখুন আমার এই বাসাটা আছে নিজের আপনার কি আছে। -- আমার তো সব, আমার আব্বুর যা টাকাপয়সা সব, বাড়ি দালান সবব। তিশার আব্বু একভাবে তাকিয়ে ছিলো তিশার দিকে এতক্ষন, এরপর রেগে সোজা তিশার মুখের উপর চাপড় মেরে.... -- তোকে এর জন্য আমরা তোকে ছোটো থেকে বড়ো করে তুললাম, তুই শুধু ভালোবাসিস আমার ধন সম্পত্তিকে, আমি তোর মতো মেয়েকে দেওয়ার থেকে অনাথ আশ্রমে সব দান করে দেবো। তিশার চোখে মুখে এবার হাল্কা কান্নার আভাস পাওয়া গেলো, -- সরি আব্বু। -- ছি ছি ছি, তোকে আমার মেয়ে বলতে এবার ঘৃনা করছে। ছি।😖 -- তোর ডির্ভোস চাই না -- জ্বি আব্বু। মেয়েটা কত সহজে ডির্ভোস চাই বলে, আমি কিন্তু মুখেই বললাম যে আমার ডির্ভোস চাই কিন্তু আমার ইচ্ছা নেই, কারন সে আমার বৌ, যতই হোক বৌ তো বৌ হয়। এবার দেখি তিশার আব্বু কোটের উকিলকে ফোন দিলো, কিছুক্ষন কথা বলার পর......... -- ছয়মাস পর ডির্ভোস, তাই আমি বলছি তোরা দুজন দুজনকে খুব ভালো করে বোঝার চেষ্টা কর কাছ থেকে। -- আমি এখানে থাকতে চাই না, আমি বাসায় যেতে চাই, এখানে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। এবার তিশার আব্বু আমার কাছে এসে..... -- বাবা কিছু না মনে করলে একটা কথা বলি। -- জ্বি আঙ্কেল নিশ্চয়। -- বলছি কি এই ছয়মাস যদি আমার বাসায় থেকে আমার মেয়েটাকে একটু বোঝার চেষ্টা করো তাহলে.... আমি পুরো কথাটা না বলতে দিয়ে... -- ইম্পসিবল, আমি পারবো না। -- বাবা, এরকম করো না আমি জানি আমার মেয়েটা রাগের মাথায় বলছে এসব। -- না আঙ্কেল আপনার মেয়ে রাগে বলছে না বলছে অহংকারে। -- বাবা বোঝার চেষ্টা করো। -- না আঙ্কেল আমি আপনার বাসায় যেতে পারবো না। এবার আমার আম্মুর কাছে গিয়ে.... -- প্লিজ আপনার ছেলেকে একটু বুঝিয়ে বলুন। এবার আম্মু আমার কাছে এসে অনেক করে বুঝালো, আর মানতে চাইছিলাম না কিন্তু ভাবলাম আমি না মানলে হয় তো আম্মু কষ্ট পাবে। কিছুক্ষন পর আমি গাড়িতে চাপলাম, আমার সামনে তিশা বসে আছে আমার দিকে তাকিয়ে মুখ বেকিয়ে..... -- ঠিক চলে এলো, বুঝিনা নাকি! ভিখারি একটা। আমি কিছুই বললাম না, মেয়েটা অনেক সুন্দর তবে মনটা না, মনটা যদি সুন্দর হতো তাহলে একটা খুব ভালো একটা মেয়ে হতো,, দেখতে তো পরীর মতো পুরাই মায়াবী একটা মুখ, চোখ গুলা টানাটানা, আল্লাহ কতোই ভালোভাবে বানিয়ে এখানে পাঠিয়েছে..... এবার তিশার বাসায় গেটে ঢুকলাম, পুরাই একটা প্যালেস। আমি এবার রুমে ঢুকতেই তিশার আব্বু তিশাকে.... -- অভ্রের যদি কোনোরকম কোনো খাতিরে এতটূকু অভাব হয়েছে এই জায়গা ধন সম্পত্তি সব দান করে দেবো। মনে রাখিস। আর অভ্র কিছু খারাপ কিছু দেখলে আমায় বলার দরকার নেই তুমি নিজের মতো শাসন করবে। -- আচ্ছা আব্বু। এবার আমিও তিশাকে বুঝিয়ে দেবো আমি কি জিনিস, এতো দিন ভদ্রের মুখোশ পড়ে ঘুরতাম আজ থেকে নিজের আসল চেহারা দেখাবো,আর এদিকে দেখি তিশার ওর আব্বুর দিকে মুখ বাঁকিয়ে.... -- উঁহু যা খু্শি করবে, ভিখারি একটা😒😒😒 আমি এবার টেস্ট করার জন্য....... -- এই যান আমার জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানী নিয়ে আসুন। -- আমি কোনো ভিখারিকে পানী দিতে পারবো না। -- আব্বুউউউউ -- এই ভিখারির বাচ্ছা স্টপ, আনছি। -- এই তো বাছাধন পথে এসেছে.... এবার পানী খেয়ে চুপচাপ শুয়ে আছি, আমার সুইচওয়ালা ফোন তাই ওতে সাপ গেমটা খেলছি, একটা কোনে বসে, হঠাৎ আমি বুকের ভিতরটা নেচে উঠলো, আমি সামনে তাকাতেই দেখি শালা তিশা ফুব সাউন্ডে মিউজিক লাগিয়ে বিছানার উপর লাফাচ্ছে, আমি কিছু না বলে ওর দিকে তাকাতে লাগলাম, আর ভাবতে লাগলাম বড়ো লোকেরা সবই করতে পারে। শালা কানের পর্দা ফাটিয়ে দিলো। আমি চুপচাপ বাইরে চলে এলাম, দেখি তিশার আম্মু চিকেনে আছে, আমাকে দেখতে পেয়ে ডাক দিলো...... -- এসো বাবা এসো। (তিশার আম্মু) -- জ্বি আন্টি। (আমি) -- আন্টি কি? আম্মু বলবে ঠিক আছে। -- আচ্ছা। -- অভ্র বাবা আমার মেয়েটাকে তুমিই ঠিক করতে পারবে, ডির্ভোস জিনিসটা ছেলেখেলা না, এই একটা শব্দ দুটো মানুষকে সারাজীবনের জন্য আলাদা করে দেয়, আমি তো বুঝেই উঠতে পারছিনা তিশা তোমাকে এতো বিয়ে করার জন্য নাটক করলো কেন? -- আম্মু হয়তো প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য। -- প্রতিশোধ, কিসের প্রতিশোধ? -- জানিনা আম্মু। -- আমার হাতে হাত রেখে কথা দাও আমার মেয়েকে তুমি ডির্ভোস দেবে না। আমি এবার চিন্তায় পড়ে গেলাম.... কিছুক্ষন পর আমি.... -- আচ্ছা আম্মু। এবার রাতে ডিনার করে রুমে বসে বসে পড়ছি বেশ ইলেক্টিকের আলোতে পড়তে ভালো লাগছে, দেখলাম তিশা আমার রুমের পাশে ঘুরঘুর করছে, আমি কোনো দিকে মন না লাগিয়ে নিজে একমনে পড়তে লাগলাম... কিছুক্ষন পড়ার পর আমি শুয়ে পড়লাম, আমার আর তিশার রুম এখন ভিন্ন। কিছুক্ষন পর আমি বুঝতে পারলাম আমার চোখে মুখে কিস করছে বুঝলাম তিশা, আমার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। আমি এবার তাড়াতাড়ি উঠে..... -- এসব কি হচ্ছে শুনি? এবার তিশা ভয়ে থ হয়ে.... -- না না মানে? -- কি মানে? -- না না মানে এটা করলে তো তোমারো চাহিদা মিটবে আর আমারো। -- না আমার লাগবে না, আপনি আমায় ব্যবহার করছেন শুধু এটার জন্য ছি। আমার ভাবতেই ঘৃনা লাগছে। -- ওই ভিখারির বাচ্ছা তুই এখন আমার বিয়ে করা বর তাই আমার চাহিদা মেটানো তোর কাজ। -- না আমি চাই না এসব, আমাকে স্বামী হিসাবে মানেন কি যে এসব কাজে আবার লিপ্ত হবো। -- আমার এসব লাগবে। -- এসব ভুলভাল ধারনা মাথা থেকে নামানন আর নিজেত রুমে যান। -- আমার চাহিদা আমাকে মিটাতে দে তারপর আমি আমার রুমে যাবো। আমি এবার রেগে আর না থাকতে পেরে.... -- ছি ছি ছি, আপনি এতোটা খারাপ, আপনি শুধু আমাকে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য ব্যবহার করছেন। -- জ্বি তাতে কি হয়েছে, এতে তো তুইও সুখ পাস আর আমিও। -- এখান থেকে বেরিয়ে যান। -- আমি যাবো না যতক্ষন না আমার চাহিদা পূরন করছিস। -- হ্যাট, এবার তিশাকে ধরে বাইরে টেনে ফেলে দিয়ে রুমে লক লাগিয়ে দিলাম..... পরেরদিন কলেজে আমরা দুজন একসাথে যাচ্ছি কারন আমাকে তিশার পাশে থাকতে হচ্ছে সবসময়, দেখি দেওয়ালে আমাকে নিয়ে পোস্টার চিটিয়ে দিয়েছি, লেখা আছে তিশা একটা ভিখারিকে বিয়ে করে তাকে পুষছে, ভিখারিকে কিছু দিয়ে সাহায্য করুন, আমার দিকে সবাই তাকাচ্ছে আর হাসছে, নিজেকে খুব লজ্জিত মনে হতে লাগলো। তিশা এবার ওর ফ্রেন্ডের কাছে গিয়ে আমার দিকে আঙুল তুলে অনেক হাসাহাসি করতে লাগলো, আমি এবার রুমে যাচ্ছি পাশের কতো ছেলেমেয়ে আমার দিকে কয়েন ছুড়ে মারছে, আমার চোখে কপালে গায়ে সব জায়গাতেই লাগছে কিন্তু কষ্ট তো বেশি হচ্ছে এই মনটাতে, ছি একটা মেয়ে এতোটা অহংকারী হতে পারে বলে ভাবতে পারছিনা। আমি ক্লাসরুমে না গিয়ে ক্যাম্পাসে কোনোএক নির্জন জায়গায় বসে অনেক কান্না করতে লাগলাম, আমি গরীব বলে এতোটা অপমান, কিভাবে সহ্য করবো বলুন তো আপ্নারা। আমি এখানে কান্না করছি সেখানেও দেখি অনেকগুলো ছেলে মেয়ে আমাকে দেখে অনেক খিল্লি করছে আর আমার দিকে দুটাকা পাঁচটাকার কয়েন ছুঁড়ে দিতে লাগলো। চলবে নাকি........! সাড়া পেলে আগামী পর্ব লিখতে আগ্রহী হবো। like, cmnt nd shre mst.......

কোনো মন্তব্য নেই for "অহংকারী মেয়ে"

Berlangganan via Email