Recents in Beach

বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

< 😍Session 2 😍> ** ৪র্থ পর্ব ** লেখাঃ(Asad Rahman ) - আপনি (নীলা) - হুম আমি তো (হৃদয়) - নাহ এতো তারাতারি চলে এলেন , তাই আর কি (নীলা) - ভালো লাগছে না তাই (হৃদয়) - আচ্ছা ফ্রেশ হোন , আমি কফি দিচ্ছি (নীলা) - নাহ কফি খাব না , (হৃদয়) - ওহ (নীলা) - এইসব নাটক আমার পছন্দ নয় (হৃদয়) - নাটক , কি সব নাটক (নীলা) - তোমার ভাই কেনো কল দেয় , আমি যাবো না (হৃদয়) -মানে , (নীলা) - এমন ভাব নিচ্ছো যে ভাজা মাছ উলটে খেতেও তোমার কষ্ট হয় (হৃদয়) - কি বলছেন আমি সত্যি কিছুই বুঝতেছি না (নীলা) - বুঝার দরকার নেই তো , বুঝাবুঝি শেষ , আমি যাবো না মিলাদে , ওকে (হৃদয়) - আচ্ছা (নীলা) - এইভাবে কথা শুনিয়ে রুমে চলে গেলো , আমি কি কিছুই বলতে পারবো না , আর ভাইয়ারই কি দরকার ছিলো একে কল দেয়ার । বুক টা আমার ফেটে যায় । তবুও চুপ থাকাই শ্রেয় । - ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে বের হয়ে গেলেন , কোন কথাই বললেন না । আমিও চুপচাপ । - পরদিন , - ও রেডি হয়ে অফিস চলে যায় । আর আমিও এই ফাকে রেডি হয়ে বাবার বাসায় যাই । অনেক সুন্দর হয়েছে নিউ ফ্ল্যাট টা । অবশেষে আমার বাবা মা এখন যদি একটু ভালো থাকে । খুব খুশি লাগছে । বাবা মায়ের হাসিমাখা মুখ টা দেখে । - এই বাবুই পাখি (নিলয়) - হুম (নীলা) - হৃদয় আসলো না যে (নিলয়) - রেডি হয়ে গাড়ি তে উঠেছি আমরা , ওমনি ফোন , প্রায় ৫০ লাখ টাকার প্রজেক্ট , তারপরও বলে আমি টাকার পরোয়া করিনা , আমার শ্বশুরবাড়িতে অনুষ্ঠান আমি সেইখানে যাচ্ছি , ভালো লাগে বল ভাইয়া । এইভাবে লস করতে , তাই আমিই বলছি তুমি যাও আমি এইদিক টায় যাই (নীলা) - বাহ কি সুন্দর করে গুছিয়ে মিথ্যা বলতেও শিখে গেছি । হঠাৎ মুক্তার কথা মনে পরে গেলো । মুক্তা মানে আমার বান্ধবী । একদিন মিথ্যা বলেছিলো আর আমি বলেছিলাম মিথ্যা বলিস কেনো , তখন সে আমায় বলেছিলো আগে বিয়ে কর তখন দেখবি মিথ্যা আপনা আপনি মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবে , আমারো তাই হয়েছে । - তা অবশ্য ঠিক (নিলয়) - হুম ভাইয়া , ফ্ল্যাট টা দারুন হয়েছে (নীলা) - তাই , পছন্দ হয়েছে৷? (নিলয়) - অনেক , কত দিয়ে নিলি (নীলা) - ধুর বাদ দে , চল (নিলয়) - এখন ভাবি নিয়ে আয় (নীলা) - বিয়ে করবো না (নিলয়) - পছন্দ থাকলে বলে দে , তাকেই ভাবি বানাবো (নীলা) - সময় আসুক , সব বলবো (নিলয়) - ওকে (নীলা) - সব অনুষ্ঠান শেষ করে , ভাইয়ার সাথে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরি । বাসায় এসে দেখলাম সে নাই । কি আর করার একা সময় পার করতেছিলাম । সে খাবে কি খাবে না কিছুই বুঝতেছি না । শুনে বেশ অবাকই হবেন যে বিয়ের তিন মাসের মধ্যে কেউ কারো নাম্বারই জানি না । - রাত প্রায় ১ টা , হটাৎ কলিংবেল বাজে । এতো রাতে কে কলিংবেল দেয়৷। খুব ভয় লাগছে৷। তারপরও গিয়ে চেক করি দেখি না অন্য কেউ না , হৃদয় আসছে । ভালো হয়েছে বুঝতেও পারবে না যে আমি আজকে বাসায় গিয়েছিলাম । দরজা খুলে দিলাম । - এতক্ষন লাগে (হৃদয়) - আসতেও তো সময় লাগে (নীলা) - মুখে মুখে তর্ক তাই না (হৃদয়) - তর্ক কোথায় করতেছি (নীলা) - আলবাত করতেছো (হৃদয়) - আচ্ছা তর্কই যদি করি তাহলে সরি আর করবো না (নীলা) - যত্তসব (হৃদয়) - ইদানীং হৃদয় কথায় কথায় চিল্লা পাল্লা করে । আমায় তো দেখতেই পারে না । আমি বুঝতেই পারি না হৃদয় কি । সে কেমন ? এক এক সময় একেক রকম । বুঝতেই পারে না , কি চায় । ক্লিয়ার করে বলছেও না । - এই প্রথম কোন পুরুষ কে দেখলাম যে তার নিজের বউকে আলাদা ঘুমাতে বলে । হৃদয় আসলেই খুব ভালো । কোন খারাপ উদ্দেশ্য নাই তার । এমন কি এতো বড় ফ্ল্যাটে আমি একা ও চাইলেই আমার সাথে......... । কিন্তু না , ও তার কিছুই করছে না । হয়তো ওর সব ভালোবাসা একমাত্র ইমতির জন্যেই রাখা আছে ওর মনের গহীনে । সেইখানে হয়তো আমার জায়গা হবে না । - মানুষ টা কে খুব ভালো লাগে আমার । এতো ভালো লাগে যে মাঝে মাঝে হিংসা হয় ইমতির সাথে যে কেনো আমি তাকে আগে পাইলাম না । তাহলে তো আর হৃদয় ইমতির হতো না , আর আমার স্বামীর ভাগ ও কাউকে দিতে হতো না । - ২ দিন পর , - হৃদয় বাসাতেই ছিল , আমি কিচেনে কাজ করতেছি , হঠাৎ , - একি তুমি (হৃদয়) - হুম আমি , কেন কোন সমস্যা (ইমতি) - নাহ (হৃদয়) - তোমার সো কল্ড বউকে ডাকো (ইমতি) - কেনো , আর ইমতি তুমি এইখানে আসবা আমায় কল দিয়ে আসবা না (হৃদয়) - কেনো , না জানিয়ে এসেছি কি বড় ভুল করে ফেলছি (ইমতি) - তুমি যাও আমি পরে কথা বলবো (হৃদয়) - কেনো , কই তোমার বউ , ডাকো তাকে , নাকি কাজ সেরে শাওয়ারে পাঠাইছো (ইমতি) - সাট আপ, যাষ্ট সাট আপ , আর যাই কিছু বলো , এই মুখে নোংরা কিছু এনো না , নোংরা ভাষা তোমার মুখে মানায় না (হৃদয়) - সত্যি কথা বললে সবার জ্বালা করে , তোমার বউকে ডাকো (ইমতি) - নীলা , এই নীলা (হৃদয়) - ওর ডাক শুনে মসলা মাখা হাত টা ধুয়ে ড্রইং রুমে গিয়ে দেখি এক মেয়ে বসা । - আমায় ডেকেছেন (নীলা) - হুম , ও হচ্ছে ইমতি , যার কথা তোমায় বলেছিলাম (হৃদয়) - ইমতি শব্দ টা শুনে কলিজায় মোচড় দিয়ে উঠে । যার লিখা আমার এতো এতো এতো পছন্দ আজ সেই ইমতি আমার সামনে । তাকাই তার দিকে , - আসসালামু আলাইকুম আপু (নীলা) - আপু , আপু মাই ফুট , দুই টাকার মেয়ে আমায় বলে আপু , কবে ছাড়ছো ওকে , আমি এইখানে সোজাসুজি কথা বলতে আসছি (ইমতি) - আহ ইমতি , আস্তে কথা বলো (হৃদয়) - কিসের আস্তে , এই মেয়ে ইউ , হ্যা তোমাকেই বলছি , যত তারাতারি পারো ওকে ছাড়ো আর না হয় আমি অন্য ব্যবস্থা নিবো ওকে , বাই (ইমতি) - বিবেকহীন মানুষের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম কিছুক্ষন । একজন লেখিকা , তাও আবার ভার্চুয়াল জগতে লিখালিখি করে নাম কামিয়েছে তার ব্যবহার এতো খারাপ । আমি তার কাছে দুই টাকার মেয়ে । ছি ছি , একটা মেয়ে অন্য আরেকটা মেয়েকে বলে দুই টাকার মেয়ে । এই সেই লেখিকা সে । - হৃদয় কিছু না বলেই রুমে চলে গেছে । - কিছুই বললাম না আমি। মনে হচ্ছে ভেতরের অনুভূতি গুলো মরে গেছে হয়তো।বুঝতে পারলাম না কি হয়ে গেলো। - আজকে এই অবদি থাক আবার কাল আসবো।ভালো থাকবেন সবাই।আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন। ** চলবে **

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ