Sponsor

banner image

recent posts

** বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে **

😘 Session 2 😘 ** লেখাঃ(Asad Rahman) - আজ বিয়ের তিন মাস পূর্ণ হলো । দেখতে দেখতে তিন মাস পেরিয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না । - হুম আমি নীলা । বাবার টাইটেল অনুযায়ী নীলা রহমান আর এখন বরের টাইটেল অনুযায়ী এখন নীলা চৌধুরী হলাম । অবশ্য টাইটেল টা ম্যাটার না ইচ্ছে করে কেউ চাপিয়েও দেয় নি । শুধু একবার বলেছিলেন শ্বাশুড়ি মাকে তখন দিক বিক না ভেবেই বলেছিলাম ঠিক আছে মা আমার আপত্তি নেই । ব্যাস তখন থেকেই নীলা চৌধুরী হয়ে গেলাম । - মোহাম্মদপুর এলাকায় ছোট একটা বাসায় কেটেছে ছোট বেলা সেইখানের একটা স্কুলের পড়াশোনা শেষ করলাম , ইডেন থেকে এইচ,এস,সি পাশ করলাম । অনেক কষ্ট করে রাত দিন খেটে ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে ম্যাথমেটিকস এ চাঞ্চ পেয়েছিলাম । কষ্ট করে বলতে গেলে তখন বাবার টাকা ছিলো না অভাবের সংসার ছিলো । বাবার স্বল্প আয়ের বেতনের ইউ,সি,সি তে কোচিং করার কল্পনা করা টা ছিলো নেহাতই কল্পনা।তাই আর ব্যর্থ চেষ্টা করে নি । - বিয়ের জন্য শ্বশুর চাপ দিয়েছিলেন । বুঝতে পারেন নি তো , আচ্ছা বুঝিয়ে বলছি , শ্বশুর মশাই আর আমার বাবা বন্ধু ছিলেন । এখনো আছেন । সেই সূত্রেই আমাকে বাধনে বেধে ফেললেন । - নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে আজ ঢাকার সব থেকে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়ালিষ্ট এর পূত্রবধূ । কপালের কি সুন্দর লিখা । - বারান্দার ইজি চেয়ারে বসে ভাবছি , চলে যাচ্ছি কিছু আগের দিনের ঘটনার দিকে । প্রায় এক বছর আগের কাহিনী । - মা আমাকে কিছু টাকা দাও তো (নিলয়) - কিসের টাকা (মা) - কাল বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাবো (নিলয়) - লজ্জা করেনা তোর , সংসার এর বড় ছেলে হয়েও পড়া লেখা শেষ করে ও এইভাবে রাস্তায় রাস্তায় টই টই করিস আর বাজে ছেলের দের সাথে মিশিস (মা) - সমস্যা কি তোমার (নিলয়) - বোন টা তোর বড় হচ্ছে তার খেয়াল আছে , কোথায় বিয়ে দিবি বোন কে , তোর বাপের কি এতো টাকা আছে যে তোর বোন কে ধুমধাম করে বিদায় করবে , তোর কি কোন দ্বায়িত্ব নেই (মা) - টাকা চাইছি বলেই এতো কিছু মা (নিলয়) - পাশের রুম থেকে মা আর ভাইয়ার তর্কাতর্কি তে সামনে এগিয়ে দেখি এই সব ব্যাপারে কথা হচ্ছে । - ভাইয়া একটু রুমে আয় (নীলা) - কি হইছে (নিলয়) - আয় (নীলা) - হুম বল (নিলয়) - কি হইছে এতো চিল্লা পাল্লা করছিস কেন (নীলা) - শুনলি না মা কি বললো , আমি কি চাকরির জন্য কম চেষ্টা করতেছি (নিলয়) - আচ্ছা বাদ দে কই যাবি কাল (নীলা) - থাক যাবো না বাদ দে (নিলয়) - আরে বল না কই যাবি (নীলা) - সবাই ভাবছিলাম একটু কক্সবাজার যাবো (নিলয়) - কত টাকা লাগবে (নীলা) - এই তিন হাজার দিলেই হতো (নিলয়) - আচ্ছা দাড়া (নীলা) - টুকটাক টিউশনি করে জমিয়েছিলাম । ভাইয়ের ইচ্ছা টাকে প্রাধান্য দিলাম , তিন টা হাজার টাকার নোট তুলে দিলাম ভাইয়ের হাতে । ভাইয়া তো খুব খুশি হয়েছিল । পরে বলেছিলো , একদিন আমি অনেক টাকা ইনকাম করবো দেখিস, ভালো চাকরি করবো , আমাদের অভাব টা আর থাকবে না । সেইদিন ভাইয়ার কথায় কেদে দিয়েছিলাম । - বর্তমান,, - হঠাৎ মোবাইলের রিং বেজে উঠলো , মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ভাইয়ার কল । - আসসালামু আলাইকুম (নীলা) - ওয়ালাইকুম আসসালাম , আমার বাবুই পাখি টা কি করে (নিলয়) - বসে আছি ভাইয়া , তুমি (নীলা) - কিছুক্ষণ আগেই বাসায় আসলাম , এতো চাপ নিতে পারছি না (নিলয়) - হুম অফিসে কি অনেক খাটায় (নীলা) - তোর ভাই ব্যাংকার বাবুই পাখি , কে খাটাবে তোর ভাইকে (নিলয়) - ওহ , সরি রে ভাইয়া (নীলা) - বর কই (নিলয়) - হয়তো অফিসে (নীলা) - আচ্ছা , কাল আসছিস তো (নিলয়) - দেখি ভাইয়া (নীলা) - কি দেখবি , বরকে নিয়ে আসবি , আর হ্যা নতুন বাসায় তোরা না আসলে কেউই ঢুকবে না বাসায় বুঝিস না কেন (নিলয়) - আচ্ছা ভাইয়া ট্রাই করবো আসতে (নীলা) - আল্লাহর রহমতে ভাইয়ার একটা ব্যাংকে জব হয় । ছয়মাসের মাথায় প্রমোশনও হয়ে যায় । গত এক সপ্তাহ আগে একটা ফ্ল্যাট কিনেছে মিরপুরে । শুনেছি ভালোই নাকি অনেক কিন্তু যেতে পারি নি । তাই কাল দাওয়াত করলো । - কিন্তু যার সাথে যাবো সেই তো................. - ছোট বেলা থেকে গল্পের প্রতি ভিষণ রকম টান ছিলো । খুব ভালো লাগতো পড়তে এবং লিখতে । যদিও ম্যাথমেটিকস এর স্টুডেন্ট , সাহিত্য নিয়েও ভালো চর্চা করতাম । তারপর যুক্ত হলাম ফেসবুক নামক পোকার সাথে । হঠাৎ করেই তখন নজর কারতো গল্পের দিকে । খুব ভালো লাগতো গল্প পড়তে । পার্ট বাই পার্ট এর গল্প পড়তে বেশ মজাও পেতাম । যাই হোক , ফেসবুকে একজনের গল্প খুব আকৃষ্ট করেছে আমায় । ইমতি চৌধুরী নামের লেখিকার অনবদ্য লৈখ্য শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তুলতো তার নিপুন হাতের সৌন্দর্য । খুব আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতাম তার গল্প পড়ার জন্য । কিন্তু কখনো ভাবিই নি সেই ইমতি চৌধুরীই আমার জীবনের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে যাবে । এখন তো নাম টা শুনলেই না শুনলে কেনো বলছি মনে পরলেই ভয় লাগে । এক সময় যার লিখার ফ্যান ছিলাম আর আজ সেই ইমতি চৌধুরী কেই ভয় লাগে । অবাক করার কথা , তাই না । - আরেকজনের লিখাও অনেক ভালো লাগতো । নাম জানি না , তবে আইডি নেম হঠাৎ বৃষ্টি । খুব ভালো লাগে গল্প । লেখিকা তার মনের ভাবনা পুরোটাই ঢেলে দিতেন তার লেখার মাঝে । ভালোই ফলোয়ার আছে ফেসবুকে তার । - সব কিছুই তো বলে ফেললাম । বরের নাম,,,,, একটু পরেই বলি । আগে তার ইন্ট্রোডাকশন দেই । খুব সুখের সংসার আমার । বিয়ের এক মাস ছিলাম উত্তরায় সেইখানে শ্বশুরবাড়ি । আর এখন থাকছি বনশ্রী তে স্বামীর বাড়ি । আসলে বর এর আলাদা বাসা আছে , আমার বরের নাকি বেশি হৈ হুল্লোড় পছন্দ না তাই শ্বশুর আলাদা বাড়ি করে দিয়েছে তাকে বুঝ হওয়ার পর থেকে মানে ভার্সিটিতে পড়ার সময় থেকেই এইখানেই থাকে ওইখানে কমি থাকে । হাহ , স্বামীর বাড়ি । খুব সুখেই আছি আমি এইখানে । আসলেই সুখে আছি । বাহিরে খুব সুখ কিন্তু ভেতর টা ক্ষত বিক্ষত । সুখেই আছি আমি । এতো বড় লোক বাড়ির ছেলের বউ আমি । আমি কত টা সুখে আছি শুনবেন আপনারা , শুনুন তাহলে , - শ্বশুর মশাইয়ের পিড়াপীড়ি তে বিয়ে তো হলো , বড় রকমের সারপ্রাইজ তো তখন পেয়েছিলাম যখন বাসর ঘরে বধূ বেশে বসে আমার স্বামীর জন্য আমি অপেক্ষা করছিলাম তখন হঠাৎ করেই একজন রুমে ঢোকে , ভেবেছিলাম ইনিই হয়তো আমার স্বামী , হুম ইনিই আমার বর । যার হাতে আমার বাবা ভাই আমাকে সম্প্রদান করেছে আজ । সবার কাছে শুনেছিলাম আমার বর দেখতে নাকি একদম প্রিন্স এর মতো , যেমন লম্বা তেমন সুন্দর । ঘোমটার আড়ালে একটু দেখলাম , হ্যা আসলেই তো আমার বর সত্যি তো আমার বর টা খুব হ্যান্ডসাম । আস্তে করে খাট থেকে নেমে সালাম দিতে সামনে গিয়ে দাড়াই । সালাম করতে গিয়েও সালাম নেয় নি । বলল , আপনি খুব টায়ার্ড , ঘুমিয়ে যান , এইটা বলে খাটের এক পাশ টায় শুয়ে গেলো , হা হা হা , একটু অবাকই হয়েছিলাম । এক বান্ধবির কাছে শুনেছিলাম তার বাসর ঘরে নাকি তার বর তাকে ছাড়েই নাই । আর আমার বর তো আমাকে পুরাটাই ছেড়ে দিয়েছে । সেই রাতে নিজেও ঘুমিয়ে যাই । সব ঠিকঠাক ভাবেই হয়ে যায় , বৌভাত , সহ সব কিছুই নিয়ম কানুন মেনে করা হয়েছিলো , আমার বর টাও সব মেনে চলেছে । বিয়ের যখন ১৫ দিন চলে তখনো বর আমার কাছে তো দূরে থাক ঠিক মতো কথাই বলে না । একদিন রাতে জিজ্ঞাসা করলাম । তখন আসল কাহিনী বের হয় । যা আমায় অনেক ,,,,,,,,,, কিছু দিয়েছে বুঝতে পারছিলাম না , এখনো বুঝতেছিনা।ব্যস , এখনো খুজে বের করি । ওহ হো সরি গো , এতো কথা বলে নিলাম , বরের নাম টাই তো বলা হলো না , হৃদয় , হৃদয় চৌধুরী।চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র উত্তরসরী । আমার বর টা খুব ভালো জানেন । খুব খুব ভালো । ওহ রাতের কথা টা শুনবেন না , - ঘুমিয়ে গেছেন (নীলা) - কেনো (হৃদয়) - একটা কথা ছিলো (নীলা) - হুম বলেন (হৃদয়) - আপনি আমায় আপনি আজ্ঞে করেন কেনো (নীলা) - আমি অপরিচিত কাউকে তুমি বলতে পারি না (হৃদয়) - আমি অপরিচিত ? (নীলা) - হুম (হৃদয়) - কিভাবে অপরিচিত হলাম আমি , আমি না আপনার বিবাহিতা স্ত্রী (নীলা) - সেইটা সবার কাছে আমার কাছে না (হৃদয়) - মানে (নীলা) - আপনাকে বিয়ে করা সম্ভব হয়েছিলো বাবার জন্য , কিন্ত আপনাকে স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবো না (হৃদয়) - ওহ , তাহলে বিয়ে টা কেন করলেন (নীলা) - করি নি জোড় করে করানো হয়েছে (হৃদয়) - আপনি কি মেয়ে নাকি ছোট বাচ্চা যে জোড় করে করিয়ে দিয়েছে , (নীলা) - না আমি মেয়ে না আমি ছোট বাচ্চা , শুধু বাবা মায়ের জন্য বিয়ে করেছি , আর এখন থেকে আপনি আপনার মতো আমি আমার মতো , ব্যাস , (হৃদয়) _বলা সহজ , কিন্তু করা (নীলা) _আমার কাছে দুইটাই সহজ, ঘুমিয়ে যান (হৃদয়) _কার জন্য এমন করছেন , জানতে পারি (নীলা) - বাহ ভালোই তো বুঝেন , বলবো আরেকদিন , এখন ঘুমান (হৃদয়) - অবাক করা কথা কি জানেন , এইসব কনভারসেশন গুলো সে ওইদিক ফিরেই বলেছেন , একবারের জন্যেও এ পাশ ফিরে আমার দিকে তাকায় নি , হলো না আমার বর টা ভালো , খুব ভালো । সেইদিনের কথা গুলোতে চোখের পানি পরেছে ঠিকই , কিন্তু বুঝতে দেই নি , চার দেয়ালের মাঝে আমরা এক রকমের বাহিরে এক রকম দুইটা মানুষের ভিন্ন রূপ । এখন আর চোখে পানি আসতে দেই না । এখন যা হয় বা হবে মেনে নিবো , কেদে আর কি হবে , কপাল তো বদলাবে না তাই না । - একা ঘরে এখন আমি আর নিঃসঙ্গতা । বর অফিসে চলে যায় , মিটিং সিটিং নিয়ে ব্যস্ত , তার উপর জি এফ এর কথাও মানতে হয় বেচারার । আর আমি বাসায় থাকি , সাথে কাজের মেয়েটা থাকে আর সাথে থাকে কিছু নজরুল আর রবীন্দ্র সংগীত । ফেসবুক আর ফেসবুকের গল্প । আমার দিন ভালোই কাটে । রাতে সে আসে , ফ্রেশ হয় কখনো খায় কখনো খায় না । যখন জি এফ থাকে তখন খেয়ে আসে । - ওহ হ্যা আমার বরের জি এফ ও আছে । জি এফ না , তারা দুইজন দুইজন কে খুব ভালোবাসে । খুব ভালোবাসে , বরং আমিই তাদের দুইজনের মাঝে চলে এলাম তীর্থের কাকের মতো । - বরের সেই কাহিনী টা না হয় কাল বলি । এখন যাই । ভালো থাকবেন সবাই । আর সবাইকে ভালো রাখবেন । ** চলবে ** বিঃদ্রঃ ২য় পর্ব পেতে সাথেই থাকুন।
** বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে ** <mark> ** বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে **</mark> Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ১২, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.