Sponsor

banner image

recent posts

সতেরো বছর পর

আকাশের ঐ মিটিমিটি তারার সাথে, কইবো কথা। নাইবা তুমি এলে... এখনো আসছেনা রাজু, ওর কি মাথায় নেই? রূপা একা একটি মেয়ে, এই রাতের আধারে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ দেখলেওতো লোকে পাঁচখানা কথা বলবে। এতো অপেক্ষা ভালোলাগেনা। রাজু কি জানেনা? অপেক্ষা অনেক কষ্টের হয়। আর কতো তারাদের সাথে রূপা কথা কইবে? এখন রূপার বড্ড অভিমান হচ্ছে, রাজুর ওপর। কত সখ করে রূপা বকুল ফুল কুড়িয়ে এনেছিল, মালা গেঁথে রাজুর গলায় পরাবে বলে। সে'যে কেন এলো না? কিছু ভাললাগেনা। এবার আসুক তারে আমি, মজা দেখাবো... যদি ফুল গুলি হায়্! অভিমানে ঝড়ে যায়। বল মালা গেঁথে আমি কারে পরাবো? নিশিরাত ভোর হতে আর বেশি দেরী নেই। রূপা আবুল মিয়ার বাড়ির পিছনটায় পুকুরপাড় টাতে বসে মশার কামড় খাচ্ছে। আর রাজুর উপর রেগে দাঁত খিটমিট করছে। রাজুর জানা উচিৎ চারিদিকে ডেঙ্গু মহামারী রুপ নিয়েছে। রূপার যদি ডেঙ্গু হয়। রূপার ডেঙ্গু হলে রাজুর তাতে কি? রাজুতো বেঁচেই যাবে। এই রূপার দায়িত্ব, তাকে আর নিতে হবেনা। মনে মনে বলতে থাকে রূপা। চারিদিকে পাখির গুঞ্জন শোনা যায়। মসজিদে মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি। ভোরের আলো এসে পড়েছে পুকুরপাড়ে, হাসেরা নায়তে নেমেছে। তবুও রাজু আসেনি। অথচ রাজু কথা দিয়েছিল। আজ রাতেই রূপাকে নিয়ে পালাবে। রূপার যে বিয়ে। নাহ্ রাজুর জন্য আর অপেক্ষা নয়। রাজু তার কথা রাখেনি কিন্তু রূপা তার কথা রাখবে। রূপা বলেছিল রাজুকে, "তুমি যদি আজ না আসো নিতে? তবে আমি ঐ বুড়োর গলাতেই মালা দেবো"। "রূপা আমি আসবো পৃথিবীর কোনো শক্তি আমাকে আটকে রাখতে পারবেনা। তুমি আবুল মিয়ার বাড়ির পিছনের পুকুরপাড়টাতে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করিও"। রূপা যদি আগে জানতো তবে সে ঘর ছেড়ে আসতো না। ঐ বুড়োকে বিয়ে করে ভাই-ভাবিদের মুখে হাসি ফুটাতো। এখন নিশ্চয় তার ভাইয়েরা তাকে খুঁজতে বেড় হয়ে গেছে। আগে যদি জানতাম রে বন্ধু তুমি হইবা পর.. ছাড়িতাম কি বাড়ি আমার? ছাড়িতাম না ঘর... উজানে ভাসাইলাম নাও ভাটি কোথাও নাই আমি আমার ছিলামরে .....বন্ধু..... তুমি কোথাও নাই রূপা বাড়িতে ফিরে এলো। তার ভাইয়েরা তাকে কিছুই বলল না। তারা হয়ত জানতো রূপা ফিরে আসবেই। রূপার বড় ভাবি রূপাকে বলল, যা রুমে যেয়ে বেনারসিটা পড়ে নে। তোর শশুর বাড়ি থেকে দিয়ে গেছে। আর কতো ভাই-ভাবিদের ঘাড়ে বসে বসে খাবি? রূপা চুপ করে রইলো। কিইবা বলবে সে তার বলার মতো কিছুই নেই। বাবা-মা মারা যাবার পর থেকেই রূপার ভাষা হারিয়ে গেছে। পৃথিবীর আর কোনো ভাই তার বোনকে একটা বুড়োর সাথে বিয়ে দিতে পারে কিনা রূপা জানেনা। কিন্তু রুপার ভাইয়েরা পারে। এই বুড়োর সাথে বিয়ে দিলে। তারা এক বিঘা জমি পাবে ফসল ফলানোর জন্য। সকল ঋণ মাফ করে দিবে। রূপাও ভাল থাকবে। রাজু ও কথা দিয়ে কথা রাখল না। রূপা ভেবেছিল রাজু হয়ত তাকে এই নরক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু রাজুও শেষ পর্যন্ত এলো না। জন্ম থেকে যার কপালে দুঃখ লেখা সে সুখের মুখ কিভাবে দেখবে? রূপাকে লাল বেনারসিতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। প্রতিটি মেয়েকেই বিয়ের দিন সুন্দর লাগে। কিন্তু রূপাকে একটু বেশী-ই সুন্দর লাগছে। রূপার বুড়ো হাবলা বড়টাও রূপার দিকে হা করে তাকিয়ে রয়েছে... গ্রামের লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো। রূপার ভাগ্যটা খুব ভালো। নয়লে এতো বড় ঘরে বিয়ে হয়? বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রূপাকে শশুর বাড়িতে নিয়ে আসা হল। শশুর বাড়িতে এসেই রুপা দেখল...! চলবে... ভুল মাফ করবেন।
সতেরো বছর পর সতেরো বছর পর Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ১৩, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.