Recents in Beach

ভাল থাকুক

গল্পঃ ভাল থাকুক💟💟💟 লেখক: অথৈ বিশ্বাস গল্পটির মধ্যে রোমান্টিক বিষয় নেই। এটি খুবই সাদামাটা একটি গন্প। পড়াশোনা শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছি বেশিদিন হয়নি। নড়াইলে চাকরি করি। একটা বাসা নিয়ে থাকি। বাবা মা গ্রামে থাকেন। আবাব মাঝেমাঝে আমার সাথেও থাকেন। বাসাটা মোট চারতলা। দুইতলায় আমি থাকি আর বাড়িওয়ালা থাকে। বড় ফ্লাট নিয়ে বাড়ির মালিক থাকে আর দুই রুমের ছোট একটা ফ্লাটে আমি থাকি। আমি রিয়া। অনার্স কিছুদিন আগেই শেষ করে চাকরিতে ঢুকেছি। বিয়ে এখনও করা হয়নি। মেয়ে বলেই হয়ত বাসাটা পেয়েছি। বাড়ির মালিকের বয়স কম। একটা ছোট মেয়ে আছে। নাম সামিয়া। বয়স তিন বছরের কিছু বেশি। আর থাকে তার ওয়াইফ । বাড়িওয়ালা আবেদিন ভাইয়ের ব্যবসা আছে। আবেদিন ভায়ের মা তার বড় ভায়ের সাথে আরেক বাড়িতে থাকেন। বাবা বেঁচে নেই। বেশ সাজানো গোছানো সংসার। আমি একা। থাকি নিরিবিলি। আমার ভালই চলে যায়। বাড়িওলাব় মেয়ে সামিয়ার সাথে আমার বেশ ভাব জমে গেছে। আমার এমনিতেই পিচ্চি খুব পছন্দ। একদিন ওকে চকলেট কিনে দিয়েছিলাম। তারপর থেকে আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরে যখনই রুমে ঢুকতে যাই। দরজা খোলার শব্দ পেয়েই বাসা থেকে বেড়িয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে "আমার চকলেট কই" 😋😋 তাই চকলেট আমার ব্যাগে সবসময় থাকে। আর শুক্রবার সে আমার রুমে আসবে সকাল দশটার দিকে। দরজা গুতিয়ে আমার ঘুম ভাঙাবে। আমার সাথে কিছুক্ষণ গল্প করবে। তারপর চলে যাবে। আমারও অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। একবার রোজার ঈদের সময় আমার ছুটি হল 28 রমজান অফিস টাইম শেষে সন্ধ্যার পর। বাসায় যাব। টিকিট কাঁটায় আছে। তবে আগে আমার কিছু কেনাকাটা করা দরকার। তো অফিস থেকে ফিরলাম সন্ধ্যা সাতটায়। বাসায় ফিরেই দেখি পিচ্চি আর পিচ্চির মা বাসার বাইরেই দাড়িয়ে আছে। আমি সালাম দিলে তিনি উত্তর নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, - বাড়িতে যাবেন কবে আপা ? -আজই ভাবী। রাত সাড়ে এগারটায় গাড়ি। তবে তার আগে কিছু শপিং করব। বাসার জন্য। -কখন করবেন? -এখনই। ফ্রেস হয়েই বের হব। সামিয়া এতক্ষন ধরে চুপ ছিল।এবাব বলল, -আন্টি আমিও যাব😊😊 আমি বললাম -অবশ্যই আম্মু। আপনি ছাড়া আমায় পছন্দ করে দেবে কে। কিন্তু সোমা আপা (পিচ্চির মা) নিষেধ করলেন।বললেন, - না মা তোমার যেতে হবেনা। আন্টির এখন অনেক কাজ। তুমি তাকে বিরক্ত করনা।😤😤 সামিয়া তারপরও জোর করল। কিন্তু সোমা আপা একবারে মানা করে দিলেন। আমি বললাম, -ওকে যেতে দিবেন কিনা সেটা আপনার বিষয়। তবে ও যদি যাই তবে আমার কোন সমস্যা হবেনা।বরং ভালই হবে। আমি একটু সঙ্গ পাব। এই বলে আমি রুমে গেলাম। একটুপর ফ্রেস হয়ে বের হয়ে দেখি, আপা তার মেয়েকে এগিয়ে দিয়ে বলছে, - আপা কষ্ট হবেনা তো। ও তো খুব জোরাজুরি করছে। আমি বললাম, - কি যে বলেন না ও তো খুব ভাল মেয়ে। কিছুই হবেনা। শপিং এ গিয়ে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে সামিয়াকে সুন্দর একটা লাল ফ্রক কিনে দিলাম। আর তার সাথে দিলাম ছোটদের একটা হিজাব। খুব সুন্দর মানিয়েছে ওকে। বাসায় ফিরতে প্রায় রাত দশটা। সামিয়াকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি রুমে ঢুকলাম। আমি গুছিয়ে বাসার উদ্দেশ্য বের হয়েছি, এমন সময় বাড়িওয়ালা ডাক দিল। মুখ গম্ভীর। বলল, - আপা একটু ভিতরে এসে বসুন। - কি ভাই কোন সমস্যা। আমার বাসের প্রায় সময় হয়ে গেছে। বেশিক্ষণ বসতে পারবনা। - একটু বসুন । আমি আসছি। আমি বাড়িওয়ালার ঘরের ড্রয়য়িং রুমে বসে আছি। একটুপর আবেদিন ভাই তিনটে এক হাজার টাকার নোট আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, - এই নিন। - কিসের টাকা ভাই। আমার জানা মতে আমি তো কোন টাকা আপনার কাছ থেকে পাইনা। - নিন তো আমি টাকাটা নিলাম। বললাম, - এবার বলুন ভাই এটা কিসের টাকা - আপনি সামিয়াকে যে ফ্রগটা কিনে দিয়েছিলেন সেজন্য দিলাম। আমি হাসলাম। একটু পরে বললাম, ভাই আপনি হয়ত জানেন না আমরা দুই বোন।আমার বোন আমার থেকে চার বছরের বড়।আমি যখন বিবিএর ছাত্র তখন আমার বোনের বিয়ে হয়ে যায়। পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু সংসার করতে পারে নি। দুলাভায়ের ও তার পরিবারের সাথে বনিবনা হতনা। আসলে দোষটা আমার বোনেরই ছিল। আসলে বাবা মায়ের বড় সন্তান। আদরে আল্লাদে বড় হয়েছে। যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। এছাড়া আমার বোনের ছিল প্রচন্ড রাগ আর জেদ। সামান্য বিষয় নিয়ে চিল্লাচিল্লি করা, রাগ হলে ভাংচুর করার অভ্যাস ছিল। আড়াই বছরের সংসারে বড়জোর কয়েকমাস শশুরবাড়িতে ছিল। আজ যদি আমার বোনের সংসার টিকে থাকত তবে এতদিন সামিয়ার মত একটা ভাগ্নে বা ভাগ্নি আমার থাকত। তো যখন তাদের সাথে আমার দেখা হত বা ঈদ আসলে তাদের কি আমি কিছুই কিনে দিতাম না ? তো আজ যখন আমি সামিয়াকে কিছু দিচ্ছি তো আপনি আমাকে টাকা কেন দিচ্ছেন ভাই ? I am really sorry but আমি টাকাটা নিতে পারছি না। sorry এতটুকু বলে আমি টাকাটা টেবিলের উপর রাখলাম। বললাম, - ভাই আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি উঠব। দয়া করে সামিয়াকে একবার ডাকুন। একটু কথা বলে যায়। আবেদিন ভাই এতক্ষণ কোন কথা বলেনি। এবার সে সামিয়াকে ডাকল। সামিয়া আসল। আমি আমার ব্যাগ থেকে পাঁচশ টাকার একটা নোট বের করে সামিয়ার হাতে দিয়ে বললাম, - আম্মু আমি বাড়িতে যাচ্ছি। আপনি ঈদের দিন এই টাকা দিয়ে অনেক চকলেট কিনে খাবেন। - কেন তুমি যাচ্ছ? আমার সাথেই ঈদ কর। 😟😟 - আপনি আপনার আম্মুর সাথে আছেন না! আমি আমার আম্মুর কাছে যাচ্ছি। - তোমার আম্মুকে এখানে নিয়ে আস। তুমি যেওনা।😞😞 - পরের ঈদে নিয়ে আসব আম্মু। আজ আমি যাই - প্রমিস তো । পরের ঈদে তোমার আম্মুকে নিয়ে এসে আমার সাথে ঈদ করবে তো।😕😕 - প্রমিস। আজ আমি আসি। হ্যা আম্মু। এই বলে উঠে পড়লাম। আবেদিন ভাইকে বললাম, - আসি ভাই। আসসালামু অালায়কুম। দোয়া করেন। ভাবীকে আমার সালাম দিয়েন। দরজা দিয়ে বের হব এমন সময় আবেদিন ভাই কাছে এসে বলল, - কিছু মনে করেন না আপা। আমি বললাম , - না ভাই আমি কিছু মনে করি নি। - আপনার বোন এখন কোথায়, কেমন আছে ? আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম, - মারা গেছে। তার মুখ থেকে শুধু একটা শব্দ বেরিয়ে এল, " কি !! " । আমি আগের মত তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম , - আমার বোনের একটা বদ অভ্যাস ছিল রাগ করে না খেয়ে থাকা। একবার তিনদিন পুরো রাগ করে না খেয়ে ছিল। পেদের ভিতর না খাওয়ার কারনে খাদ্য হজম হওয়া এসিডের প্রভাবে খাদ্যনালী ছিঁড়ে যায়। হাসপাতালে নিতে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। বাঁচান যায়নি। আবেদিন ভাই তার বাড়ির দরজার কাছে বিশ্বয় ভরা চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি বললাম, ঈদ মোবারক ভাই। আসি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ