Sponsor

banner image

recent posts

পরিণতি

লেখাঃ আসাদ রহমান মামুনের লাশ আনা হলো বাড়িতে প্রায় ২ঘন্টা পর। কেয়ার জ্ঞান ফিরছে। কেয়া ভেবেই চলছে তার জীবনে সুখ বেশী সহ্য হয় না। কেয়া এবার নিজেকে পৃথিবীতে বেঁঁচে থাকাই যেনো অর্থহীন মনে করছে। মামুনের ছোট ভাই আর মা চলে আসলো অন্য শহর থেকে। কেয়া জানে না, মামুনের মা, ভাই আছে। মামুনকে মাটি দেওয়া হয়ে গেলো পারিবারিক করবস্থানে। পরের দিন সকালে কেয়া মেয়েটাকে নিয়ে বসে নাস্তা খাওয়াচ্ছে তখনই। মামুনের মা এসে বলে এই বাড়িতে কি বসে খাওয়ার জায়গা। কেয়া যেনো আকাশ থেকে পরলো, নিজের বাড়িতে নিজেকেই জবাব। কেয়া কোন উওর না দিয়ে মেয়েটাকে রুমে রেখে তাদের সামনে আসলো। মা বলে, এই বাড়িতে তোমরা থাকার কে? এখনই বাড়ি ছেড়ে চলে যাও। কেয়া বলে,আমাদের বাড়িতে আপনারা কে?আমরাই থাকতে পারবো আপনারা চলে যান। কেয়া কথা শুনা মাত্রই মামুনের ভাই কেয়াকে মারতে থাকলো। কেয়ার চিৎকার শুনে মেয়ে সুমি তাড়াতাড়ি এসে কেয়াকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়ের চোখে পানি দেখে কেয়া আর কিছু বললো না। কেয়া রুমে বসে ভাবছে এখন কি করবে। কিছুক্ষণ পরই মামুনের ভাই এসে বলে এখনই মেয়ে নিয়ে বের হয়ে যা। কেয়া চুল ধরে মেঝেতে ফেলে দেয়। কেয়া কিছু না ভেবে মেয়েটাকে নিয়ে থানায় চলে আসলো আর মামলা করলো মামুনের মা,ভাইয়ের নামে। কেয়াকে বসিয়ে রেখে মামুনের ভাইকে খবর দিলো। মামুনের ভাই এসে জায়গা জমিনের কাগজ নিয়ে আসে আর থানায় দেখায়। থানার পুলিশ দলিল দেখে বলে এই সব কিছু মামুন ভাইয়ের নামে করে দিছে অনেক আগেই। কেয়া কি করবে সব পথ বন্ধ। কেয়া থানা থেকে বের হতেই মামুনের ভাই এসে বলে,,ভাবি ভাই যখন মাতাল ছিলো তখনই একটা প্রয়োজনীয় কাগজ বলে সব সম্পদের দলিলে সাক্ষর করিয়ে নেই। তাই তোমরা এখন রাস্তায় থাকবে। কেয়া আবার গেলো বাড়িতে মেয়ের সব কিছু নিয়ে আসলো আর আসার সময় কেয়ার নামে যে ব্যাংক একাউন্ট করা ওটার কাগজ নিয়ে আসে। কেয়া মেয়েকে নিয়ে সোজা চলে গেলো ব্যাংকে। কেয়া কিছু না জেনেই একাউন্ট থেকে ৫হাজার টাকা নিলো। তা নিয়ে চলে আসলো একটা বস্তিতে। ছোট একটা রুম ভাড়া নিলো। প্রয়োজনীয় সব কিনে আনতে টাকা শেষ। কেয়ার মনে পরলো একাউন্টে কত টাকা আছে তা জানা হলো না। পরের দিন মেয়েকে নিয়ে একটা চেক লিখে নিলো ১০হাজার টাকার। টাকাও পেয়ে গেলো। এবার ম্যানেজারকে বলে এই একাউন্টে কত টাকা আছে। কেয়া শুনে বিশ্বাসই করতে পারলো না, মামুন গত ১বছরেরই তার নামে ৫০লাখ টাকা রাখছে। কেয়া যেনো আলাদিনের প্রদীপ পাওয়ার মতো অবস্থা। ১০হাজার টাকা নিয়েই চলে আসলো বাসায়। মেয়েকে নিয়ে কেয়া খাওয়া দাওয়া করে বসে ভাবছে কি করে দাঁঠানো যায় আবার। সুমা এখনো হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে। কয়েকদিন পরই সুমার ছেলে যা কিনা সদ্য কিছুদিন হলো জন্ম নিলো এর ভিতরই তার একটা রোগ হয়ে গেলো। ডাঃ ইবা ছেলেটাকে ভালো করে পরীক্ষা করলো। -রাজু সাহেব, কয়েকদিন ছেলে দেখলাম আজ একটু অসুস্থ দেখে ছেলেটার রক্ত পরীক্ষা করা হলে একটা রোগ ধরা পরলো । (ডাঃ ইবা) -কি হইছে আবার ওর?(রাজু) - আপনার ছেলের ব্লাড ক্যান্সার। রাজুর উপর যেনো আকাশ ভেঙে পরলো। আর কখনো সন্তান হবে না সুমার তার উপর আবার ছেলেটার এই অবস্থা। -ভালো হবে না?(রাজু) - আমার এক বন্ধু ডাঃ রেজা তার কাছে যান ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি। রাজু ঠিকানা নিয়ে পরেরদিন ডাঃরেজার কাছে গেলো। ডাঃ রেজা কয়েকদিন চিকিৎসা করার পর রাজুর ছেলেটা মারা গেলো। সুমা এখন পাগলের মতো হয়ে গেছে। রাজু অনেক কষ্ট পেলো সারাজীবন আর বাবা হতে পারবে না। আরেকটা বিয়েও সম্ভব নয় কারন যে মেয়েটা নিজের জীবন দিয়ে দেওয়ার মতো হলো একটা সন্তান জম্ম দিতে গিয়ে। রাজু এবার ভাবছে সুমাও খুশী হবে যদি কেয়ার সন্তান যেটা রাজুর বলে ছিলো। ওটা এনে দিলে হয়তো এখন ছেলেটা একটু বড় হয়েছে। কয়েকদিন পর সুমাকে রেখে রাজু চললো চট্টগ্রাম কেয়ার খুঁজে। কেয়া চট্টগ্রাম তা জানতেতে পারে আরো আগে সিয়ামের কাছ থেকে। রাজু চট্টগ্রাম এসে কেয়াকে খুঁজে চলছে। রাজু কেয়াকে অনেক খুঁজে আর পায় নাই। আর সন্তানও পেলো না। রাজু একটা এতিমখানা থেকে ছোট একটা বাচ্চা নিয়ে আসলো লালন-পালন করতে। রাজু ভেবেই চলছে, তখন যদি ভার্জিন না খুঁজতাম তাহলে সবই থাকতো। এতিম ছেলে সুমা ও রাজু অনেক ভালোই আছে। কেয়া অনেক ভালো করে ভেবে সেই টাকা দিয়ে একটা ছোট গার্মেন্টস দিলো, তাতে কয়েকটা মেশিন ও লোকক নিয়ে ব্যবসা শুরু করলো। কয়েক মাস পর কেয়ার ঘরে একটা ছেলে হলো। কেয়ার মেয়ে,ছেলে আর ব্যবসা ভালোই কাটছে জীবন। কয়েক বছর কেটে গেলো কেয়া ব্যবসার লাভের টাকায় একটা বাড়িও করলো। ব্যবসাও অনেক বড় হয়ে গেলো। এখন কেয়ার আগের মতো বিলাস বহূল জীবন। বাড়ি গাড়ি সববই হলোলো কেয়ার। ,,,,,,সমাপ্ত,,,, *গল্পটা কেমন হলো আপনাদের মন্তব্যই নতুন গল্প লেখার আগ্রহ সৃষ্টি করবে। ভুল হলে ক্ষমার চোখে দেখবেন |
পরিণতি <mark> পরিণতি </mark> Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ১৪, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.