বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

< 😍Session 2 😍> ** ২য় পর্ব ** লেখাঃ(Asad Rahman ) - ওইদিনের পর আর কিছু বলে নি , হ্যা পরে অবশ্য বলেছিলাম , একদিন বিকালে বারান্দায় বসে গান শুনছিল আর মোবাইলে কি যেনো করছিলো , শ্বাশুড়ি মায়ের কথা অনুযায়ী কফি নিয়ে গেলাম তার কাছে । - এই যে , শুনছেন (নীলা) - হুম (হৃদয়) - আপনার কফি (নীলা) - থ্যাংকস (হৃদয়) - আচ্ছা (নীলা) - কোথায় যাও বসো এইখানে (হৃদয়) - {একটু অবাক হইছিলাম} হুম (নীলা) - তোমার এফ বি আইডি আছে (হৃদয়) - হুম (নীলা) - নাম কি (হৃদয়) - নীলা রহমান (নীলা) - আচ্ছা ইমতি কে চিনো , গল্প লিখে যে (হৃদয়) - হুম ইমতি চৌধুরী ? (নীলা) - হুম , ইমতি চৌধুরী (হৃদয়) - চিনি না তবে তার গল্প গুলো সুন্দর (নীলা) - হুম , আর হঠাৎ বৃষ্টি তাকে চেনো (হৃদয়) - কাউকেই চিনি না তবে গল্প লিখে জানি , অনেক ভালো গল্প লিখে উনি (নীলা) - ওহ , কার লিখা ভালো লাগে (হৃদয়) - ইমতি চৌধুরীর (নীলা) - সিরিয়াসলি ? (হৃদয়) - হুম ইমতি ভালো লিখে (নীলা) - আমার কাছে কেনো যেনো মনে হঠাৎ বৃষ্টি অনেক ভালো লিখে৷, প্রতিটা লাইনে অনেক আবেগ মাখা থাকে (হৃদয়) - আপনি এইসব গল্প পড়েন (নীলা) - আগে পড়তাম না , একজন বাধ্য করেছিলো পড়তে , তারপর থেকে পড়ি , (হৃদয়) - ওহ তা ওই একজন টাকে (নীলা) - বলবো সময় আসুক (হৃদয়) - আচ্ছা উঠছি (নীলা) - আপনার কোন অভিযোগ নেই আমায় নিয়ে (হৃদয়) - অভিযোগ , কিসের অভিযোগ (নীলা) - এই যে আপনাকে এতো প্রবলেমে রেখেছি , স্ত্রীর সম্মান দিচ্চি না (হৃদয়) - এতে না আপনার দোষ না আমার , দোষ আমার কপালের , কেমন , এতে অভিযোগ এর কিছুই দেখি না , ছোট বেলা থেকেই আমি এরকম না পাওয়ার আশা নিয়েই বড় হয়েছি , এইসব সেন্টিমেন্ট দিয়ে জীবন চলে না (নীলা) - ভালো বলেন তো আপনি (হৃদয়) - আসছি (নীলা) - এই ছিলো আমার আর আমার বরের মাঝে কয়েক সেকেন্ডর কথাবার্তা । - সেই দিনের ঠিক দুই দিন পরে সকালে , - বাবা আমি আজকে চলে যাবো (হৃদয়) - এতো তারাতারি (বাবা) - হুম তারাতারি কোথায় , অনেক দিন তো থাকলাম , তাও তোমাদের কথা ভেবে (হৃদয়) - ভাইয়া আর কয়েকটা দিন থেকে যা (মাহি) - ওহ হ্যা ভুলে গেছিলাম আমার একটা দুষ্টু মিষ্টি ননদ ও আছে , নাম মাহি । ভারি মিষ্টি মেয়ে । তবে হৃদয়ের কথা টা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে। - নাহ আর থাকা সম্ভব না (হৃদয়) - তাহলে বউমা (মা) - কি বউমা , বউমা তো আছেই তোমার কাছে । কারন তোমার একাকীত্ব ঘোচানোর জন্যেই তো আমায় বিয়ে দিলে তাই না মা (হৃদয়) - হৃদয়ের এই কথা টা শুনে খুব কষ্ট লেগেছিলো , সে এইগুলা বলতে পারে , জানা ছিলো না আমার । - হৃদয় , ঠিক ভাবে কথা বল , আর বউমাকেও সাথে নিয়ে যা , শুক্রবারে হয় তোরা আসিস নয় আমরা যাবো তোদের কাছে (বাবা) - কিন্তু বাবা (হৃদয়) - কোন কিন্তু না , বউমাকে নিয়ে যা সাথে করে (বাবা) - আমি একটু পরেই বেরিয়ে যাবো , সো সেইভাবে সব গুছিয়ে নিতে বল তাকে মাহি (হৃদয়) - সেইদিন সব গুছিয়ে মনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও চলে আসতে হয়েছে আমায় । এইবার বলি অনিচ্ছা টা কেনো হয়েছিলো , আরে যেই স্বামীর তার স্ত্রীর প্রতি কোন টানই নেই , যে স্বামী বিয়েরর ১ মাস এর মধ্যে একবারের জন্যেও তার স্ত্রীকে ছুয়ে দেখে নাই তার সাথে কিভাবে কি করবো । তার উপর যে স্বামীর মনে তার স্ত্রীর বসবাস না থেকে বাস করে অন্য মেয়ে । তাহলে সেই স্ত্রীর কাছে কেমন লাগে বলতে পারেন ? - আমার লেগেছিলো , খুব খারাপ লেগেছিলো আমার । কষ্ট ও পেয়েছিলাম । কেদেছিলাম খুব , কিন্তু কাউকে বুঝতে দেই নি । একটা সত্যি কথা বলি আপনাদের । আমি না আমার বর টা কে কেনো জানি খুব ভালোবেসে ফেলেছি । জানি না কোন অদ্ভুত মায়ায় জড়িয়ে দিয়েছে সে আমায় । তার আমার প্রতি এই অবহেলা গুলো আমার খুব ভালো লাগতো । - যাই হোক এই বাসায় তো চলে এসেছি , খুব সুন্দর বাসা । অনেক বড় একটা ফ্ল্যাট । সাজানো গুছানো , ড্রইং রুম টা অনেক বড় , রুম গুলাও অনেক সুন্দর । - সুমি আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছিলো , এই প্রথম দেখলাম সুমি কে আমি । বয়স টা ততটা বেশি না , ১২ কি ১৩ হবে । অনেক লক্ষী একটা মেয়ে । - আসসালামু আলাইকুম ভাবি (সুমি) - ওয়ালাইকুম আসসালাম (নীলা) - কেমন আছেন (সুমি) - আলহামদুলিল্লাহ ভালো , কিন্তু তুমি ? (নীলা) - আমি সুমি , হৃদয় ভাইয়ের বাসায় থাকি , আপনেগো বিয়াতে আসবার পারি নাই , বাপে অসুস্থ আছিলো (সুমি) - ওহ (নীলা) - কাইল খালাম্মায় কল দিয়া কইলো ভাইয়ের সাথে ভাবিও আসবো তাই আমিও আইসা পরছি (সুমি) - ভালো করেছো (নীলা) - সুমির সাথে আমার বেশি ভালো জমে । মেয়েটার মাঝে এক অদ্ভুত মায়া আছে । অনেক সুন্দর করে কথা বলে। - এই সুমি আমার কফি কই দে তো (হৃদয়) - জ্বি ভাইয়া আনতাছি (সুমি) - সুমি তুমি কাজ কর , আমি কফি নিয়ে যাই (নীলা) - আচ্ছা ভাবি (সুমি) - কফি নিয়ে তার রুমে গেলাম । কফি দিয়ে চলে আসছিলাম , তখনি ডাক দেয়। - শুনুন (হৃদয়) - জ্বি (নীলা) - আপনি কোথায় থাকবেন ? (হৃদয়) - জ্বি ? (নীলা) - হুম , এতো দিন ওই বাসায় ছিলাম তাই কিছুই বলি নাই , কিন্তু এইখানে (হৃদয়) - সম্ভব না তাই তো (নীলা) - হুম (হৃদয়) - আচ্ছা এই বাসায় তো আরো রুম আছে , ওইখানের একটা রুমে থাকবো , প্রবলেম নাই (নীলা) - আচ্ছা , ধন্যবাদ , (হৃদয়) - ধন্যবাদ দিচ্ছেন কেন , আমি জীবনে সব থেকে বেশি ঘৃণা করি এই ধন্যবাদ শব্দটাকে (নীলা) - মানে (হৃদয়) - কিছু না (নীলা) - সুমিকে বলুন লাঞ্চ রেডি করতে আমি বের হবো (হৃদয়) - সুমিকে লাগবে না , একটু অপেক্ষা করেন , আমিই করছি সব (নীলা) - আর হ্যা শুনুন (হৃদয়) - জ্বি (নীলা) - এইটা রাখুন (নীলা) - কি এইটা (নীলা) - ক্রেডিট কার্ড (হৃদয়) - এইটা দিয়ে আমি কি করবো (নীলা) - এইটায় প্রতি মাসে ২০০০০ করে দিয়ে দিব যা লাগে নিয়ে নিবেন , বিয়ে যখন করেই ফেলেছি দ্বায়িত্ব তো এড়াতে পারবো না (হৃদয়) - সিরিয়াসলি ? এইটা কে দ্বায়িত্ব বলে (নীলা) - জ্বি আর এ ছাড়া কিছুই নাই (হৃদয়) - সেইদিন স্বার্থপর হয়েছিলাম । কার্ড টা নিয়েছিলাম । ভেবেছিলাম জীবনে চলার মতো কিছু টাকা তো দরকার পরতেই পারে।আমারও লাগবে , তাই নিয়ে নিয়েছিলাম , আর নিবো নাই বা কেনো । আমার স্বামীর টাকা আমি নিবো নাই বা কেনো । তাই নিয়েছি । - কাল আসবো আবার । সেই অবদি ভালো থাকবেন সবাই , আর সবাইকে ভালো রাখবেন । ** চলবে ** বিঃদ্রঃ ৩য় পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.