ছাত্রী থেকে বউ

লেখকঃআহসান তাবিব ঢাকা,গাজীপুর বিয়েটা হয়েগেলো। তাবিব প্রিয়াকে বিয়ের অভিনন্দন জানিয়ে সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। প্রিয়া করুণ দৃষ্টিতে তাবিবের দিকে তাকিয়ে বলল,,, প্রিয়া : স্যার বাসার সবাই মনে হয় আমার জন্য টেনশন করছে। আমাকে বাসায় যেতে দেন please... --- তাবিব প্রিয়ার কথার কোনো তোয়াক্কা না করে তার দিকে এগিয়ে গেলো। তাবিবকে এভাবে এগিয়ে আসতে দেখে প্রিয়া ভয়ে পিছুপা হতে হতে বলল,,, প্রিয়া : স্যার আমাকে মারবেন না। আমি আমার মা বাবা বড় মেয়ে, আমাকে যদি মেরে ফেলেন। আমার বাবা আপনার নামে পুলিশ কেস করবে দেখে নিয়েন। স্যার please... আর একপা এগুবেন না। নাহয় আমার আত্মা শেওড়া গাছের সাদা পেত্নী হয়ে আপনাকে মেরে ফেলবে। --- তাবিব এগিয়ে এসে প্রিয়াকে এক টানে বাম হাতে নিজের বাহুডোরে চেপে ধরে। প্রিয়া মাথা নিচু করে তাবিবের বুকের মিশে আছে, ভয়ে তার কলিজা শুকিয়ে গেছে। না জানি শয়তান এখন তার সাথে কি করে? তাবিব ডান হাতে প্রিয়ার মুখটা উচু করে বলল,,, তাবিব : তখন কি যেন বলছিলে? প্রিয়া : স্যার আমার মাথায় একটু সমস্যা আছে। আমি সবার সাথে এভাবেই কথা বলি। আমার মনে হয় কিছুদিন পরে সবাই মিলে আমাকে পাবনার পাগলাগারদে পাঠিয়ে দিবে। আপনার বিশ্বাস না হলে শাহরিনকে জিঙ্গাসা করে দেখেন। স্যার আমাকে অবুঝ মনে করে মাফ করে দেন। ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তাবিব : আমি যেটা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দাও। প্রিয়া : স্যার আমি মরে গেলেও আপনার নামে পুলিশ কেস করবো না। আমার আত্মাও আপনাকে মারবেনা। আমি আর জীবনেও আপনার সামনে আসবো না। আমি সারা জীবন এক পায়ে কানে ধরে দাড়িয়ে থাকবো। তবুও আমাকে মাফ করে দেন। তাবিব : আমি রেস্টুরেন্টের কথাগুলো বলছি। প্রিয়া : কি? তাবিব : এটাই যে তোমার উপর আমার কোনো অধিকার নেই। তাইনা? ( রাগী গলায় ) প্রিয়া :... ( নিশ্চুপ ) তাবিব : এখন দেখো তোমার উপর আমার থেকে বেশি অধিকার আর কারো নেই। হয়তো তোমার মা বাবাও নেই, আর অন্য কারো তো দূরের কথা। একটা কথা সবসময় মনে রাখবে তোমার উপর শুধুমাত্র আমার অধিকার আর কারো না। ( দাঁতে দাঁত চেপে ) প্রিয়া : শুধুমাত্র অধিকার খাটানোর জন্য বিয়ে করেছেন? ( ছলছল চোখে ) --- প্রিয়ার এমন প্রশ্নে তাবিব কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। আচমকাই ছেড়ে দিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,,, তাবিব : জামা কাপড় change... করে আসো। প্রিয়া : কেন? তাবিব : বাসায় যাবেনা? নাকি এখানে থাকার preparation... নিচ্ছো? --- প্রিয়া বাসার নাম শুনে তাড়াতাড়ি জামা কাপর change করে এসেছে। তাবিব তার বন্ধু সুমন আর তার পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পরলো। গাড়িতে বসে ড্রাইভ করছে আর সামনের ছোট্ট আয়নাটা দিয়ে প্রিয়াকে দেখছে। প্রিয়ার মনটা খুব খারাপ নিজের অজান্তে চোখ থেকে গড়িয়ে জল পরছে। তাবিব রাগের বশে হয়তো বিয়েটা করেছে, কিন্তু প্রিয়াকে এভাবে দেখে তার নিজের কাছে সহ্য হচ্ছেনা। প্রিয়াকে তার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে বলল,,, তাবিব : কালকে কলেজে যেতে যেন লেট না হয়। --- প্রিয়া কিছু না বলে বাসার ভেতরে চলেগেলো। সন্ধার পর বাসার ফেরার কারনে তার মামনি অনেক প্রশ্ন করছে,,, মামনি : তুই কোথাই উধাও হয়ে গেলি? তোর মোবাইল বন্ধ কেন? কতো টেনশন হচ্ছিল জানিস? প্রিয়া : মামনি আমার ভালো লাগছেনা। তুমি যাওতো এখান থেকে। মামনি : কি হয়েছে বলবি তো? প্রিয়া : বলছিতো বিরক্ত করোনা। --- প্রিয়ার মামনি চলেগেলে তানিশা এসে পাশে বসলো,,, তানিশা : আপ্পি তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে? জানো মামনি আর বাবা কতো টেনশন করছে প্রিয়া : তানিশা আমাকে একটু একা থাকতে দে। তানিশা : আগে বলো সারাদিন কোথায় ছিলে? প্রিয়া : তুই যাবি না? ( রেগে গিয়ে ) তানিশা : আমার প্রশ্নের উত্তর না দিলে আমি যাবো না। --- প্রিয়া কিছু না বলে রুম থেকে বেরিয়ে ডাইনিং থেকে একটা চুরি নিয়ে তানিশার কাছে গিয়ে বলল,,, প্রিয়া : অনেক সহ্য করেছি আর না। ঐ এনাকন্ডাকে তো কিছু করতে পারিনা আজকে তোকে কুঁচিকুঁচি করে রান্না করে খাবো। তানিশা : আপ্পি তুমি পাগল হয়েগেছো? প্রিয়া : আগে পাগল ছিলাম এখন রাক্ষসী হয়েছি। --- প্রিয়া চুরি নিয়ে তানিশার দিকে এগিয়ে আসতেই, তানিশা ভয়ে চিৎকার করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। মামনির কাছে গিয়ে বলল,,, তানিশা : মামনি আপ্পি পাগল হয়েগেছে ওকে পাগলাগারদে দিয়ে দাও। মামনি : কি যাতা বলছিস? প্রিয়া : ও ঠিক বলছে। আমাকে পাবনার পাগলাগারদে পাঠিয়ে দাও( রাগে গজগজ করে ) মা : ওরা যদি তোকে নিয়ে যায়, পরেরদিন এসে দিয়ে যাবে। এমন পাগল মেয়েকে কেন তাদের ওখানে পাঠিয়েছি? এই জন্য আমাদের নামে মামলা করবে। তোর মতো মেয়েকে ওখানে রাখার মতো সাধ্য তাদের নেই। বুঝলি? --- প্রিয়া রেগে গজগজ করে রুমে চলেগেলো। রুমে গিয়ে ভাবছে কিভাবে শয়তান এর হাত থেকে বাচা যায়। একটা উপায় বের করতে হবে তাকে। যতদিন কোনো উপায় না পায় ততদিন কলেজে যাওয়া যাবেনা। তাবিব রুমে বসে ভাবছে শুধুমাত্র অধিকার খাটানোর জন্য কি প্রিয়াকে বিয়ে করেছে? আবিরের সাথে রোদেলাও ছিল তাহলে প্রিয়ার জন্য এমন অনুভব করছে কেন? না শুধুমাত্র অধিকার খাটানোর জন্য বিয়ে করেনি। তাবিব নিজের অজান্তে প্রিয়াকে ভালবেসে ফেলেছে। যেই মেয়েটাকে একসময় তাবিব সহ্য করতে পারতো না। যার সাথে তাবিবের কোনো মিল নেই তাকেই তাবিব ভালবেসে ফেলেছে? ভাবতেই ঠোঁটের কোনে হাসি ফোটে উঠলো। পরেরদিন কলেজে গিয়ে দেখে প্রিয়া এখনো আসেনি। প্রিয়াকে কল করেছে ২ বার রিং হবার পর ফোন বন্ধ করে দিলো। তাবিবের মেজাজটাই খারাপ হয়েগেলো। ক্লাস শুরু হতে এখনো অনেক সময় বাকি। তাবিব গাড়ি নিয়ে প্রিয়ার বাসায় পৌছে কলিংবেল বাজাতে লাগলো,,, মামনি : প্রিয়া দেখতো কে এসেছে প্রিয়া : আমি কেন দেখবো? আমি কি কাজের বুয়া রহিমা নাকি? মামনি : দেখছিস না আমি কাজ করছি( রেগে ) প্রিয়া : কোন বজ্জাতের হাড্ডি জানি এই সময় এসেছে? সকাল সকাল মেজাজটা খারাপ করে দিয়েছে। --- প্রিয়া বকবক করে বাসার মেইন ডোর খুলে দেখে তাবিব দাড়িয়ে আছে,,, মামনি : কে এসেছে? প্রিয়া : শয়তান.. না মা,,মানে এনাকন্ডা। মামনি : কি যাতা বলছি প্রিয়া : কলেজের টিচার এসেছে। তাবিব : ২ মিনিটের মধ্যে তৈরি হও কলেজে যাওয়ার জন্য। আমি বাহিরে wait.. করছি প্রিয়া : স্যার আমার শরীর ভালো না। আজকে কলেজে যাবো না, আপনি চলে যান। --- তাবিব দারজায় দাড়িয়ে থেকে কিছুক্ষণ প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। প্রিয়াকে না নিয়ে সে কলেজে যাবেনা। কিছু একটা ভেবে বলল,,, তাবিব : ঠিক আছে চলে যাবো। তাই বলে আমাকে ভেতরে বসতে বলবেনা? after all... আমার শশুড় বাড়ি বলে কথা। আর আমার শাশুড়ি মা কোথায়? ওনার সাথেতো আমার পরিচয়টা হয়নি। ওনাকে তো জানাতে হবে বড় মেয়ের জামাই বলে কথা। ( বাসার ভেতরে ঢুকে ) প্রিয়া : স্যার please... ( করুণ গলায় ) তাবিব : কি? ( প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ) প্রিয়া : আমি ২ মিনিটে তৈরি হয়ে আসছি যাওয়ার জন্য। আপনি মামনিকে কিছু বলবেন না। তাবিব : ওকে। ( মুচকি হেসে ) --- প্রিয়া কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে এসে দেখে তার মামনির সাথে তাবিব অনেকটা ফ্রি ভাবে কথা বলছে। প্রিয়া ভাবছে না জানি শয়তান তার মায়ের কাছে সব সত্যি বলে দিয়েছে। প্রিয়াকে দেখে তাবিব বলল,,, তাবিব : এখন যাওয়া যাক। --- প্রিয়া মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলল। তাবিব এগিয়ে গিয়ে প্রিয়ার জন্য গাড়ির দরজাটা খুলে দিলো। প্রিয়া গিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে পরলো রিক্সার জন্য। তাবিব গিয়ে তার হাত ধরে গাড়ির কাছে এনে বলল,,, তাবিব : মাঝরাস্তায় কেন দাড়িয়েছো? ( দাঁতে দাঁত চেপে ) প্রিয়া : রিক্সার জন্য ( ভয়ে ভয়ে ) তাবিব : আমার গাড়ি থাকতে তুমি রিক্সায় করে যাবে? ( রাগী গলায় ) প্রিয়া : স্যার আমি সবসময় রিক্সায় করেই যাই। তাবিব : ঠিক আছে আজকে থেকে আমার সাথে যাবে। ( আমতা আমতা করে ) প্রিয়া : স্যার আপনার সাথে গাড়িতে গেলে মানুষ কি ভাববে? ( করুণ দৃষ্টিতে ) তাবিব : মানুষ যা ইচ্ছা ভাবুক তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। do you understand...?? প্রিয়া : কিন্তু স্যার,,, তাবিব : গাড়িতে বসো ( রাগী গলায় ) --- প্রিয়া কিছু না বলে গাড়িতে উঠে বসলো। তাবিব গাড়ি ড্রাইভ করছে আর আড়চোখে প্রিয়াকে দেখছে। প্রিয়া মুখ ফুলিয়ে বসে আছে ভালই লাগছে তাবিবের। ইচ্ছে করছে প্রিয়াকে ভালবাসার পরশে একটু ছুয়ে দিতে। প্রিয়া মনেমনে বলছে, লাল বাদর আমার থেকে পিছা ছুটানোর জন্য তোমার গলায় যদি কালো বাদর না ঝুলাইছি তবে আমার নামও প্রিয়া না। কলেজে পৌছে প্রিয়া তার বন্ধুদের কাছে চলেগেলো। রোদেলা প্রিয়াকে দেখে বলল,,, রোদেলা : কালকে স্যার তোকে কোথায় নিয়ে গেছে রে? শাহরিন : মানে কোন স্যার? ( ভ্রু কুচকে ) প্রিয়া : ঐ গন্ডারটার কথা একদম আমার সামনে নিবি না। শাহরিন : তুই কি ভাইয়ার কথা বলছিস? প্রিয়া : তোর ভাই নাইজেরিয়ান এনাকন্ডার, ডাইনোসরটার কথা বলছি। রোদেলা : এসব বাদ দিয়ে বলনা স্যার তোকে কোথায় নিয়ে গেছে? প্রিয়া : বিয়ে করতে ( দাঁতে দাঁত চেপে ) --- সবাই একসাথে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,,, what... !!! চলবে,,, ( ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন )আপনাদের মতামত উপর নির্ভর করবে,নেক্সট পার্ট

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.