Recents in Beach

দেমাগি মেয়ের অপমান

দেমাগি মেয়ের অপমান লেখকঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপুর"ঝিনাইদহ একদিন গ্রামের রাস্তায় আমি ও আমার বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন একটি গাড়ি আসলো প্রাইভেট কার এসেই আমারা যেখানে আড্ডা দিচ্ছিলাম সেই খানে দাঁড়ালো। গাড়ির ভেতর থেকে কেও একজন আমাদের তার কাছে যাবার জন্য ডাকছিলো কিন্তু আমরা কেও যাইনি। যার দরকার সে নিজেই আসবে।আমরা কেনো তার কাছে যেতে যাবো।আমরা কেও যাচ্ছি না বলে গাড়ি থেকে একটা অপরূপা সুন্দরী বের হলো,,কিন্তু সে যে জামা কাপড় পড়েছে তাতে করে তাকে রাস্তার ভিখারির থেকে খারাপ লাগছে ছেড়া জামা কাপড় যদিও আমরা জানি এইটা এই যুগের ফ্যাশন তবে গ্রামে এই রকম ফ্যাশন চলে না।মেয়েটি গাড়ি হতে নেমে সোজা আমাদের কাছে চলে এলো। মেয়েটিঃকিরে ছোটলোকের বাচ্চারা ডাকছি কান দিয়ে যাচ্ছে না। আমিঃকথা গুলো কাদের বললেন? মেয়েটিঃএখানে তো অন্য আর কেও নেই তোরা যেহেতু আসিস তাই তোদের বলেছি। আমি;কেনো আমাদের এমন ভাবে গালি দেওয়ার কারন কি?? মেয়েটিঃঅই এতো কথার উত্তর দিতে পারবো নাহ।তাড়াতাড়ি বল এইখানে রফিক চৌধুরীর বাড়ি কোথায়?? আমিঃআমরাও জানিনা আমরা এই গ্রামে একটু আগে এসেছি তো তাই কিচ্ছু চিনি না। মেয়েটিঃঅই একদম মিথ্যা কথা বলবি না,ছোটলোক কোথাকার। আমিঃদেখুন এইবার কিন্তু একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটিঃহলে হয়েছে কি করবি শুনি? আমিঃযা করার তাই করবো।আর আপনি যে জামা কাপড় পরে এসেছেন তাতে করে যে কোনো পরুষ মানুষের লোভ হতে পারে। মেয়েটি আমার কথা শুনে পুরাই রেগে আগুন হয়ে গেলো।তারপর কি হলো ঠাসসস ঠাসসসস কয়েকটা পড়লো আমার গালে এই আপনি আমাকে মারলেন কেনো?? মেয়েটিঃমেরেছি বেশ করেছি ছোটলোক তোর সাহস কি করে হয় আমার দিকে নজর দেওয়া।দাড়া একবার জমিদার বাড়ি খুজে পায় তোর ব্যাবস্থা আমি নিচ্ছ। এই কথা বলে মেয়েটি চলে যেতে লাগলো হুদাই আমাকে চর মেরেছে সময় সুযোগ পেলে আমি এর প্রতিশোধ নিবোই নিবো।মেয়েটি গাড়িতে উঠে চলে গেলো।তখন আমার বন্ধুরা বললো কিরে মামুন তুই অপরিচিত মেয়ের হাতে চড় খেলি।কিছু বললি না কেনো। আমি;আরে মামা এক মাঘে কি শীত যায়।আমারো যেদিন সুযোগ আসবে আমি ঠিক এর প্রতিশোধ নিবো দেখি নিস।চল এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে বাসায় চলে যায়।গালটা এখনো ঝিন ঝিন করছে।ফাজিল মাইয়া একটা।আমি বাসায় চলে এলাম।আম্মু তো আমাকে দেখেই বুঝে ফেললো কিছু একটা হয়েছে আম্মুঃকিরে মামুন তোকে এমন লাগছে কেনো কি হয়েছে?? আমিঃনাহ আম্মু তেমনন কিছু হয়নাই,,খেতে দাও তো? আম্মুঃআচ্ছা দিচ্ছি কিন্তু বললি না তো কি হয়েছে? আমিঃআম্মু সময় আসলে বলবানি এখন খেতে দাও পেটে ইদুর দৌড়াচ্ছে। আম্মুঃতা তো দৌড়াবেই সারা দিন না খেয়ে শুধু বাহিরে ঘুরাঘুরি। একটু বাড়ির কাজ তো করতে পারিস। আমিঃআম্মু তুমি তো জানোই সাংসারিক কোনো কাজ আমাকে দিয়ে হবে না। আম্মুঃকোনো কাজ না পারলে কোনো মেয়ে তোকে বিয়ে করতে চাইবে না হাদারাম। আমিঃআম্মু সমস্যা নাই আমি বিয়ে ছাড়াই জীবন কাটিয়ে দিবো। আম্মুঃহাহাহাহ ছেলে আমার বলে কি?শুন বাবা জীবন পরিপূর্ণ হয় কিন্তু বিয়ের মাধ্যেমেই। আমিঃসেটা কি করে আম্মু? আম্মুঃসেটা তুই বুঝবি না,যা হাত মুখে ধুয়ে আয় তোকে খেতে দিচ্ছি। তারপর আম্মুর কথামত হাত মুখ ধুয়ে এসে খেতে বসলাম।খাওয়া দাওয়া শেষ করে বন্ধুদের ফোন দিলাম।একটু রফিক সাহেবের বাড়ির দিকে যাবো।দেখবো মেয়েটা সেখানে কি করতে এসেছে আর সেখানে এখনো আছে কি না।রফিক সাহেব আমাদের এলাকার একজন সনামধন্য মানুষ তাদের পরিবারের পরেই আমাদের পরিবারের অবস্থান।আর রফিক সাহেব আর আমার আব্বু তো সেই হাফ প্যান্ট কালের বন্ধু মানে ছোট বেলার বন্ধু সেই হিসাবে রফিক সাহেবের বাড়িতে আমাদের ভালোই যাতায়াত। আমার বন্ধুগুলা এসে পরেছে যদিও বাইক আনতে চেয়েছিলো আমি না করে দিয়ছি হেটেই যাবো।আর বিকালে হাটার মজাই আলাদা যারা গ্রামে থাকে শুধু তারাই মজা বেশি করে উপভোগ করতে পারবে।আমার বন্ধুদের নাম পরপর বলি রাফি নাজমুল ইমন রানা সবাই হেটে হেটে যাচ্ছি।আমার বন্ধুগুলাও আমার হাফ প্যান্টকালের বন্ধু ছোট থেকে একসাথে বড় হয়েছি।অনেক ঝগড়া হয়েছে কিন্তু কেও কাওকে ছাড়া মনে হয় না একদিন এর বেশি থেকেছি।কথা বলতে বলতে রফিক সাহের বাসায় এসে পরেছি।আমদের দেখেই দারোয়ান চাচা বললো কি ব্যাপার বাবারা তোমরা এখানে কি করতে এসেছো? আমিঃচাচা একটা গোপন সংবাদ দিতে পারবেন। চাচাঃ হ্যা বলো কি জানতেও চাও? আমিঃআচ্ছা চাচা আজকে শহুরে একটা মেয়ে এসেছে নাকি এই বাসাই? চাচাঃ হ্যা রফিক সাহেবের বোনের মেয়ে ঢাকা থেকে এসেছে।শুনলাম তার বাবার নাকি বিশাল ব্যাবসা আছে।অনেক বড় লোক আমিঃচাচা আমি এতো কিছু জানতে চাইনা শুধু এই টুকু বলে সেই মেয়েটা এখনো এই বাসায় আছে কি না? চাচাঃহ্যা আছে শুনলাম তো মেয়েটি নাকি এই বাসায় আরো কিছুদিন থাকবে। আমিঃআচ্ছা চাচা আমি তো তোমার ছেলের মত তাই না?? চাচাঃকি বলবি বল এতো বাহানা করতে হবে না। তারপর চাচার কানে কানে কিছু কথা বললাম আপনাদের শোনানো যাবে না।আপনারা শুনলে আবার বলে দিতে পারেন😁😁😁 চাচাঃনাহহ এটা আমি পারবো না কেও যদি জানতে পারে এই কাজের সাথে আমি জড়িত তাহলে আমার চাকরি খেয়ে নিবে। আমিঃচাচা আমার আর একটা বুদ্ধি আছে যেটা করলে সাপ ও মরবে আর অন্যদিকে লাঠিও ভাঙবে নাহ। চাচাঃকি কাজ বল আসলে তোরা তো এই গ্রামের ছেলে তোদের সাহায্য করতে পারলে আমারো কিছুটা ভালো লাগবে। আমি আবার চাচার কানে কানে আরো কিছু মন্ত্র দিলাম😜😜 চাচাঃআচ্ছা যদি এই রকম হয় তবে আমি রাজি আছি। আমিঃচাচা তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ? চাচাঃযা করবি একটু ভেবে চিন্তে করিস কেমন আমিঃচাচা তুমি একদম চিন্তা করো নাহ,দেখবে আমি আমার কাজে সফল হবোই হবো। চাচাঃতাই যেনো হয়। তারপর আমি আর আমার বন্ধুরা মিলে কাজটা কিভাবে সফল করা যায় সেই পরিকল্পনা করলাম।আমাদের প্লান থাক বলমু নাহ।সেই বিকেল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছি বাসায় যায়নাই।রাত ১২টা বাজে এখন আমাদের প্লান কাজে লাগানোর সময় এসে গেছে।দারোয়ান চাচাকে বলে বাসার ভেতরে চলে গেলাম শহুরে ম্যাডাম কোন রুমে শুয়েছে সেটা জেনেও নিলাম।চুপি চুপি পাইপ বেয়ে উঠলাম ম্যাডাম নাকি দ্বিতীয় তলার একদন কর্নারের রুমে শুয়েছে।আমি উঠছি আর আমার হারামি বন্ধু গুলো নিচে দাঁড়িয়ে আছে।আমি জানালা দিয়ে ম্যাডামের রুমে প্রবেশ করলাম।দেখি ম্যাডাম শুয়ে আছে সত্যি বলতে ম্যাডামকে দেখতে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।এতো সুন্দর চেহারা এতো সুন্দর রুপ কিন্তু সে কিভাবে চলাফেরা করে ছিঃ আমি আগে থেকেই একটা বেশ ধরে আছি আমি গিয়ে ম্যাডামের মুখে আগে সুন্দর করে টেপ লাগিয়ে দিলাম তারপর আমি ম্যাডামকে খোচা মারলাম। হাহাহাহাহাহাহা বিকট শব্দে আমি হাসতে লাগলাম ম্যাম তো জেগে এমন ভয় পেয়েছে যে দৌড়িয়ে পালাতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি শক্তা করে চেপে ধরে রাখছিলাম আরে আমি ভুত সেজেছি ম্যামকে ভয় দেখানোর জন্য আমাকে চড় মারার শাস্তি এইভাবে দিবো এমন ভয় দেখাবো যে বাপ বাপ করে এই এলাকা থেকে পালাবে।ম্যাম কিছু বলতে পারছে না শুধু ছটফট করছে।আমিও ম্যামকে শক্ত করে ধরে আছি ছাড়বো নাহ।কিন্তু বিপত্তি ঘটে গেলো ম্যামের একটা হাত ছুটে গেলো আর ম্যাম আমার মুখের যে মুখোশ ছিলো সেটা টেনে খুলে নিলো। এইরে খাইছে রে এইবার আমি কোথায় যায়।নাহ ভালো করে দেখার আগেই পালাতে হবে তা নাহলে তো ধরা পড়ে যাবো।আর একবার যদি ধরা পড়ে যায় জেল নিশ্চিত একটা মেয়ের রুমে রাতের আধারে এসেছি পালাই আমি আমি ম্যামকে ছেড়ে দিয়ে কোনো রকম।পাইপ বেয়ে নেমে বন্ধুদের বললাম দে দৌড় নাহলে কিন্তু পরে বিপদে পরবি।আমার বন্ধুরাও আমার সাথে দৌড়াতে লাগলো এক দৌড়ে নদীর পারে এসেছি বন্ধুরাঃকিরে কি হয়েছে? আমিঃআর বলিশ নাহ,,মেয়ে তো আমার মুখে মুখোশ নিয়ে নিয়েছে জানিনা দেখে নিয়েছে কিনা। শোন এখন চল যে যার যার বাসায় চলে যায়।পরে কি হবে সেটা এখন আমি ভাবতে চাই নাহ। বন্ধুরাঃহ্যা তাই চল তারপর বাসায় চলে গেলাম চুপি চুপি রুমে গিয়েই শুয়ে পড়লাম।পরদিন সকালে ঘুম ভাঙে প্রচন্ড জোড়ে দরজা ধাক্কানোরর শব্দে কিন্তু এই সকাল বেলা কে এতো জোড়ে দরজা ধাক্কাচ্ছে।আমি দরজা খুলে দেখি আব্বু দরজা ধাক্কাছে আমিঃকি ব্যাপার আব্বু এতো সকাল সকাল দরজা ধাক্কা দিচ্ছো কেনো? আব্বুঃকাল রাতে তুই কোথায় গেছিলি? আমি;নাহ আব্বু শুধু বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দিচ্ছিলাম। ঠাস ঠাস চুপ একদম চুপ মিথ্যা বলবি না গতকাল রাতে তুই রফিকের বাসায় গেছিলি সেখানে তার বোনের মেয়ের সাথে তুই কি করেছিস হ্যা। আমিঃআব্বু আমি যাইনাই তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে না আংকেল এই ছেলেটাই কালকে আমার রুমে গিয়ে আমাকে ভয় দেখিয়েছে।আর একটু হলে তো আমি হার্ট এর্টাক করতাম।(সেই মেয়েটি)নাম জানিনা এখনো) আরে এই মেয়ে আমার বাসায় আসলো কি করে?বুঝেছি দারোয়ান চাচা মনে হয় সব বলে দিছে তার কোনো দোষ নেই. আমিঃআব্বু না মানে আব্বুঃমানে মানে করছিস কেনো,,একটা অবিবাহিত মেয়ের রুমে রাতের আধারে যাওয়ার মানে বুঝিস?? আমিঃআব্বু আমার ভুল হয়ে গেছে আমাকে মাফ করে দাও। আব্বুঃএখন আমার মাফ করা না করাই কিছু যায় আসে না।সারা গ্রামে এই কথা ছড়িয়ে গেছে,,এখন তাদের কিভাবে মুখ দেখাবো সেটাই ভাবছি।তাড়া তো বলছে তোদের বিয়ে না দিলে আমাদের বা রফিকদের এই দুই পরিবারকে গ্রাম ছাড়া করবে। আমিঃআব্বু কোনো হালার পুত হালা এই কথা বলেছে একবার বলো অরে গিয়ে আগে দুনিয়া ছাড়া করে দিয়ে আসি(যদিও মারামারির মধ্যে একদম নেই কিন্তু আব্বু কথা শুনে মাথা গরম হয়ে গেছে) আব্বুঃহয়ছে এখন আর বড় গলায় কথা বলতে হবে নাহ………… আব্বুঃমামনি তোমার নাম তো জানা হলো নাহ মেয়েটিঃজি আমার নাম দৃষ্টি চৌধুরী। আব্বুঃতোমার আব্বু আম্মুকে একবার গ্রামে আসতে বলো তাদের সাথে কথা আছে.. অহহ মেয়েটির নাম তাহলে দৃষ্টি ?? দৃষ্টিঃ আমি তো সেই সকালেই আসতে বলেছি এতক্ষন হয়তো তাড়া এসে গেছে। আব্বুঃএকদম ঠিক কাজ করেছে,,তুমি এখন বাসাও যাও আমি কিছু একটা ব্যাবস্থা করছি দৃষ্টিঃ আচ্ছা আমি যাচ্ছি কিন্তু আপনার ছেলের জন্য আমার যে সম্মানহানি হলো সেটার কি করবেন? প্লিজ আংকেল একটা ব্যাবস্থা করুন?তা নাহলে যে আমার মরা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আমিঃতো গিয়ে মর না ফাজিল মেয়ে তোরে কি কেও চিৎকার করতে বলেছিলো নাকি পরে,, চিৎকার না করলে তো এতো লোক জানতো না। দৃষ্টিঃ দেখেছেন আংকেল আপনার ছেলে কিভাবে কথা বলে আমি তো ভয়ে চিৎকার দিয়েছি আমি কি জানতাম এতো লোক জানবে আর এই রকম কান্ড হবে?? আমি;ভালো হয়েছে খুব ভালো এখন বুঝো ঠেলা। আব্বুঃঅই তুই চুপ থাক একদম কথা বলবি নাহ।তোর জন্যই এতো কিছু হলো এখন এই ভুলেল মাশুল তোকেই দিতে হবে। এখন দেখি দৃষ্টির আব্বু আম্মু আসুক তারপর দেখি কি করা যায়? আমিঃআব্বু তোমার যা খুশি করো আমি এতে নাই।আমার যেটা ভালো মনে হয়েছে আমি সেটাই করেছি এই কথা বলে আমি রুমের দরজা বন্ধ করলাম অহহ হ্যা দৃষ্টি আমার কথা গুলো শুনে রেগে যাচ্ছিলো দেখে মনে হচ্ছিলো আমাকে কাচা খাবে চোখ দুটি লাল হয়ে গেছিলো আমি জানি দরজা খুলে যদি তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি তবে আরো অনেক কথা শুনতে হবে চলবে,,,,,,

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ