হুম ভালোবাসি!

হুম ভালোবাসি! লেখকঃমোঃআসাদ রহমান (কোটচাঁদপু,ঝিনাইদহ) বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেল অবন্তী। তুমি যদি বাচ্চাটা না নষ্ট করতে চাও। তবে আমার জীবন থেকে একেবারে চলে যাও। -- কি বলছ এসব নীল? বাচ্চাটা আমাদের দুজনের। নিজের সুখের জন্য বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলব? আমি এতো বড় পাপ করতে পাড়ব না। তাছাড়া আমাদের সন্তানটা অবৈধ না। তবে কেন এই নিশপাপ প্রাণটাকে হত্যা করব? --আমি এতোকিছু বুঝতে চাইনা তুমি যদি বাচ্চাটা না নষ্ট করতে পারো, তবে তোমার সাথে আমার আর সম্পর্ক্টা রাখা হবেনা। ডিভোর্সটা দিয়ে দিতেই হবে। -- আচ্ছা তাহলে তুমি ডিভোর্সটা দিয়েই দাও। তবুও আমি নিষ্পাপ প্রাণটাকে হত্যা করব না। --তুমি ভেবে বলছ? -- হুম --শিওর তো? --একদম। অবন্তীরর কথা গুলো বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। সব কষ্ট গুলো দূরে ঠেলে দিয়ে। নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে। অবন্তী কথা গুলো বলল। নীলকে। অবন্তী প্রথম নীলকে প্রপোজ করেছিল। যদিও ছেলেরা আগে করে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তার ব্যাতিক্রম হয়েছিল। কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে গান গাইতে এসেছিল নীল। যদিও নীল প্রোফেসনাল শিল্পী নয়। তবুও গানের গলা ভালো থাকার সুবাদে। সব খানেই ডাক পড়ত তার। সেদিন নীল আর অবন্তী ফাংশনে এক সাথে একটা ডুয়েট গেয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত গান। "আমারো পরানো যাহা চাই তুমি তাই, তুমি তাই গো.... আমারো পরানো যাহা চাই" নীল এমন ভাবে অবন্তীর দিকে চেয়ে গানটি গাইছিল। যেনো গানে গানে প্রেম নিবেদন করছিল নীল। সেই থেকেই নীলের প্রতি অবন্তীর মুগ্ধতা শুরু। এরপর কিছু আলাপ তারপর নাম্বার দেওয়া। তারপর এক বিকেলবেলা দুজনের দেখা। নীল সেদিন বিকেলে নীল পাঞ্জাবী পড়ে এসেছিল। আর অবন্তীও নীল শাড়ি। হাতে এক গোছা কাঁচের চুড়ি। চুলের ক্ষোপায় একটা লাল গোলাপ ছিল। লাল গোলাপ অবন্তীর অনেক পছন্দের। সে যেখানেই যেতো ক্ষোপায় একটা লাল গোলাপ থাকতোই। নীল অবন্তীর চোখের দিকে তাকিয়ে কি ভাবছিল? কে জানে। দুজনকে পাশাপাশি দেখে যে কেউ বলবে এরা এক সুখি যুগল। অবন্তী নীলের হাতটা ধরে বলেছিল, ভালোবাসবে আমায়? আমি তোমার হৃদয়ের এক কোনে বন্দী হয়ে থাকতে চাই আজীবন। রাখবে তোমার হৃদয় কোনে? নীল সেদিন বলেছিল, শুধু হৃদয়ের কোনে নয়। এই সমস্ত হৃদয়টা জুরে তুমিই রয়েছো। নীল অবন্তীকে হারাতে চাইনি তাই সেদিন সন্ধ্যা বেলাতেই দুজনে গোপনে বিয়ে করেছিল। নীল এখনো অবন্তী কে হারাতে চায়না। নীলের পরিবারের কেউ জানেনা সে তাদের লোক চক্ষুর আড়ালে যেয়ে অবন্তী নামের একটি মেয়ে কে বিয়ে করেছে। নীল আজও সাহস করে বলতে পারেনি সে কথা। তবে নীল বলেছে সে একটি মেয়েকে পছন্দ করে। আর সেই মেয়েটিই হচ্ছে অবন্তী। কিন্তু অবন্তী নীলকে বলে দিয়েছে তুমি আমাদের সন্তানের কথাটাও বলে দাও। নীল পারেনি। তাই সে অবন্তীর গর্ভের সন্তান কে নষ্ট করতে বলেছে। অবন্তীও জানিয়ে দিয়েছে তারপক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। ওদিকে নীলের জন্য তার বাবা মা একটি মেয়েকে পছন্দ করেছে। নীল আসলেই দেখাবে মেয়েটিকে। কিন্তু সেদিন নীল আর বাসায় ফেরেনি। নীল কি করবে বুঝতে পারছেনা। সে অবন্তীকেও হারাতে চাইনা। আবার তার পরিবারকেউ কষ্ট দিতে চাইনা। নীল ডিভোর্স করার আগেই অবন্তী নিজেই নীলকে ডিভোর্স দিয়েছে। শুধু এখনো নীলের সাইনটা করা হয়নি। অবন্তী আরেকটা বার ভেবে দেখা যায়না? -না। সইটা করে দাও। আর অন্য কাওকে বিয়ে করে নাও। আমি কখনওই তোমার কাছে। আমার ও আমার সন্তানের অধিকার চাইব না নিশ্চিত থাকো। -- কেন এমন করছো? তুমি চাইলেই আমরা সুখের একটা সংসার গড়তে পারি। -- আমি চাইনা। আপনি যদি আমাকে কখনো একবিন্দু ভালোবেসে থাকেন তবে সইটা করে দিয়ে চলে যান। নীল ডিভোর্স পেপারে সাইনটা করে দিয়ে চলে যায়। অবন্তীর ভিষন কাঁদতে ইচ্ছে করছে। অবন্তী জানেনা সে ভুল করেছে না ঠিক করেছে। সে শুধু জানে তার বাচ্চাটিকে পৃথিবীর আলো দেখাতে হবে। ডিভোর্সের বেশ কিছুদিন পরেই নীলের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। পাত্রী কে নীল দেখেনি। সে তার বাবা-মায়ের পছন্দের মেয়েকেই বিয়ে করতে চলেছে। অবন্তীকেও অবশ্য ইনভাইটেশন কার্ড পাঠিয়েছে। অবন্তী বিয়ের কার্ড দেখে.... চলবে.... ভুল ত্রুটি মাফ করবেন।

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.