বৃহস্পতিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৯

পরী

মোঃআসাদ রহমান আমার সিংহাসনের প্রয়োজন ছিলো না,,আমার এতো শক্তির প্রয়োজন ছিলো না আমার শুধু তোমাকে প্রয়োজন ছিলো(জিনিয়া) আমিঃহ্যা তা তো থাকবেই আমাকে দিয়েই তো ১০নাম্বার শিকার ছিলাম তাই না,, এর আগে তো আরো ৯জনের রক্ত খেয়েছ এইবার আমার রক্ত খেয়ে সব চেয়ে বেশি শক্তির অধিকারী হতে জিনিয়াঃদেখো তুমি আমাকে ভুল ভাবছো আমি সত্যি মন থেকেই তোমাকে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি আমার সাথে যা করলে তার জন্য কখনো তোমাকে মাফ করতে পারবো না আমিঃআর তুমি যে আমার ইমোশন নিয়ে খেলছিলে সেটার কি হবে জিনিয়াঃআমি তোমার কিছু নিয়েই খেলিনি বরং তুমি আমাকে নিয়ে খেলা করলে কেনো মামুন কেনো আমি;আরে তুমি এমন করছ কেনো? আমি তো তোমাকে আমার কাছে রাখার জন্যই করেছি আর যদি তা না হতো তাহলে তোমাকে আমি মেরে ফেলতেও দ্বিতীয় বার ভাবতাম না জিনিয়াঃতোমার মতন কাপুরুষ এর চাইতে আর কি করতে পারে,,একটা মেয়ের অজান্তে তার শরীর ভোগ করা একমাত্র কাপুষদেরই কাজ,,যদি সুপুরুষ হতে তাহলে আমাকে জানিয়েই সব করতে আমিঃতোমাকে বললে তুমি কি আর করতে দিতে,সে যাই হোক তুমি তো আর পরীলোকে ফিরতে পারবে না,,চলো তোমার পিতামাতাকে বিদায় জানিয়ে আসি.. জিনিয়াঃএই তুমি আমাদের সম্পর্ক এতো কিছু জানলে কিভাবে? আমিঃতুমি তো সেই সুযোগ করে দিলে জিনিয়াঃআমি সুযোগ করে দিছি মানে? আমিঃকেনো তোমাদের পরীলোক সম্পর্ক যে একটা বইই আছে ওইটা আমার সামনে না আনলে তো আমি কোনোদিন জানতেই পাড়তাম না, জিনিয়াঃতোমারর সাথে কথা বলার আর কোনো ইচ্ছা নাই,,আজ থেকে আমার সাথে কোনো কথা বলবে না,, জিনিয়া উঠে চলে গেলো,,আমিও পেছন পেছন গেলাম.. জিনিয়া ওর আব্বু আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিয়েছে জিনিয়ার মাতাঃএই বালক তুমি যা করলে ঠিক করলে না কিন্তু? আমিঃকেনো আম্মাজান আমি আবার কি করলাম? মাতাঃতুমি আমার মেয়েকে মানুষের রুপান্তর করে দিলে যাই হোক মা আমার আর কান্না করিস না,,আমি দেখি তোর জন্য কিছু করতে পারি কিনা.? জিনিয়া মাতা চলে গেলেন হয়তো মেয়ের কান্না সহ্য করতে পাড়ছিলেন না,, জিনিয়ার পিতা আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন বাবা যা করেছছ একদম ঠিক করেছ পরীলোকে নিয়ে গেলে তোমাকে ওরা কোনো দামই দিতো না,আমি যে রাজা আমার কথার কোনো দাম তোমার শাশুড়ি আম্মা দেয় না,,তোমার সাথেও এমন হতো,,তবে বাবা আমরাও মানুষ হতে চাই,,আর তার একমাত্র উপায় হলো তোমার আর আমার মেয়ের যে সন্তান হবে তার একটু রক্ত পান করলেই আমরাও মানুষ হয়ে যাবো.? আমিঃকিন্ত্য আমার সন্তানের কোনো ক্ষতি হবে নাতো? পিতাঃনা কোনো ক্ষতি হবে না,,আমি যাচ্ছি তোমার সন্তান হলে আবার আসবো তবে তখন একেবারে আসবো আমার মেয়েকে দেখে রেখো একটু রাগি তবে মনটা অনেক ভালো,, বলেই আমার শশুড় আব্বাজান চলে গেলেন,, জিনিয়া সেই তখন থেকে কান্না করেই যাচ্ছে,, আমিঃএই কি হলো তুমি কি এখানে বসে কান্না করবে নাকি বাসায় যাবে জিনিয়াঃবাসা মানে কিসের বাসা আমার নিজের বাসা আছে নাকি? আমিঃকেনো থাকবে না,,আমার বাসা মানেই তো তোমার বাসা জিনিয়াঃআমি কোনো কাপুরুষের বাসায় থাকতে পারবো না, আমিঃতাহলে এখানে বসে বসে কান্না করতে থাকো,,অনেক সুপুরুষ দেখতে পাবে আমি গেলাম আমি চলে আসলাম কারণ জিনিয়ার বোঝা উচিত একজন স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হলো তার স্বামী আর তার স্বামীর ঘর আমি বাসায় চলে আসছি ১ঘন্টা হয়ে গেলো কিন্তু জনিয়ারর আসার কোনো নাম গন্ধ নেই,, আমি আবার বাসা থেকে বের হতে যাবো ঠিক তখনি জিনিয়া দৌড়ে বাসায় ঢুকেই দরজা লাগিয়ে দিলো.? আমিঃকি হলো তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে খুব ভয় পেয়েছ জিনিয়াঃভয় পাবো না লোক গুলো আমার দিকে কেমন নজরে জেনো তাকিয়ে ছিলো আমিঃতো থাকতে দিতে জিনিয়াঃনাহ আমি ওদের চোখে লালসা দেখতে পেয়েছি আমিঃআমি তো কাপুরুষ তাহলে একটা কাপুরুষের বাসায় কেনো আসলে? জিনিয়াঃআসবো নাতো আর কই যাবো? এখানে তো একমাত্র তোমারাই আমাকে চিনো,,আর আমি তোমাদের তাই আপাতত এই বাসায় আমার জন্য নিরাপদ এই আমি তোমার সাথে কথা বলছি কেনো?নাহ নাহ হবে না তোমার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে আমার আমি আমার সব কিছু হাড়িয়েছি জিনিয়া এইসব বলতে বলতে চলে গেলো আমিও রেডি হয়ে নিলাম তারপর অফিসে চলে গেলাম।। সেদিন রাতের বেলায় জিনিয়াঃএই প্লিজ আর কিছু করো না,, আমিঃআচ্ছা ভয় পাবার কিছু নেই জিনিয়াঃউল্টা পাল্টা কিছু করলে আমি কিন্তু নিজেকে একদম শেষ করে দিবো.. আমিঃভয় পাবার কিছু নেই,,আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না, জিনিয়াঃআচ্ছা যাও অইপাশ ফিরে শুয়ে থাকবা ভুলেও আমার দিকে তাকাবা না কিন্তু আমিঃকেনো তোমার দিকে তাকাবো না কেনো? জিনিয়াঃআমি কিন্তু এইবার উঠে চলে যাবো.. আমিঃআরে রাগ করছ কেনো?আচ্ছা আচ্ছা আমি এই যে ঘুরে শুলাম এইবার তুমিও ঘুমিয়ে পরো.. জিনিয়াঃআমার সাথে কিন্তু কোনো কথা বলবে না? আমিঃএতোক্ষন ধরে কে কথা বলে যাচ্ছে জিনিয়া আর কোনো উত্তর না দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো.. এইভাবেই পরের দিন গুলো যেতে লাগলো.. জিনিয়া আমার সাথে খুব কম কথা বলে,, আব্বু আম্মুর সাথেও তেমন মিশে না,,একাই বসে থাকে,, বা সব সময় একাই থাকে.. মাঝে মাঝে ইচ্ছা হয় জিনিয়াকে নিয়ে ঘুরতে বের হতে,,কিন্তু জিনিয়া যাবে না একবারেই বলে দিয়েছে আমি জোড় করি না,,হয়তো আমাদের এই পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস জিনিয়া আগের মতো হয়ে যাবে ১মাস পর আমি অফিসে ছিলাম তখন আম্মু আমাকে ফোন করে আর্জেন্ট বাসায় যেতে বলে,,কিন্তু কেনো বাসায় ডাকছে তা আমাকে কিছুই বলে না... আমার ভয় হচ্ছে জিনিয়া উল্টা পাল্টা কিছু করে বসলো নাতো.. আমি তাড়াতাড়ি ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসলাম আব্বু আম্মু জিনিয়া সবাই নিচেই বসে আছে,, আব্বু আম্মুকে দেখে খুশি লাগতেছিলো,,কিন্তু জিনিয়া মন মরা হয়ে বসে আছে,, আমিঃআম্মু কি হয়ছে এমনভাবে ডেকে পাঠালে কেনো? আম্মুঃআরে তুই বাবা হতে চলেছিস আম্মুর কথা শুনে আমার পুরো শরীর একদম ঠান্ডা হয়ে গেলো,, কিছুক্ষণ অমনভাবে দাঁড়িয়ে থেকে আমি জিনিয়াকে কোলে তুলে নিলাম.. তারপর বলতে লাগলাম হ্যা আমি পেড়েছি আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে সারাজীবন আমার কাছে ধরে রাখার জন্য সব করতে পেড়েছি জিনিয়া আমার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো,,তারপর উপরে চলে গেলো আব্বু আম্মু জিনিয়ার এমন ব্যাবহারে একটু অবাক হলো.. আমিঃআব্বু আম্মু কোনো ব্যাপার না তোমাদের বউমা একটু লাজুক তো তাই লজ্জা পেয়ে চলে গেছে আমি যাচ্ছি ওর কাছে রুমে এসে দেখি জিনিয়া কান্না করছে আমিঃকি হলো আমাদের বাচ্চা আসছে তুমি খুশি হওনি.. জিনিয়াঃআর বাচ্চা যেটুকু আশা ছিলো সেটাও শেষ হয়ে গেলো। আমি আর কোনো দিন পরীলোকে যেতে পারবো না..আমি আর কোনো দিন পরীর রূপ ধারণ করতে পারবো না,,বলেই আবার কান্না শুরু করে দিলো.. আমি জিনিয়ার পাশে বসে ওর মাথায় হাত রাখতেই জিনিয়া আমার হাত ঝামটা মেরে ফেলে দিয়ে বলে আমাকে একদম ছুবে না,আজকে যা কিছু হয়েছে সব কিছুর জন্য দায়ি তুমি,, আমিঃহ্যা আমি দায়ি তোমার পেটে যে বাচ্চাটা আছে অই বাচ্চার বাবা আমি জিনিয়াঃহুম তোমার বাচ্চা তুমি পেয়ে যাবে,,কারণ আমি মানুষ হলেও আমার মাঝে পরীর কিছু গুন বিদ্যমান থাকবে সারাজীবন তার মধ্যে একটা হলো প্রথম সন্তানকে জম্ম দিতেই হবে,যদি কোনোভাবে প্রথম সন্তান নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আর কোনো দিন মা হতে পাড়বে না,,তাই তোমার সন্তান জম্ম দিয়েই আমি তোমাকে ছেড়ে দিতে চাই,,প্লিজ এই কয়েকটা মাস আমাকে একদম জ্বালাবে না,, মনে করো আমাকে তোমার সন্তানের জন্য রাখা হয়েছে সন্তান হলেই আমার ছুটি আমিঃএই তুমি এইসব কি বলছ,যে কিনা দুনিয়াতেই আসেনি সে আসার আগেই তাকে মাতৃহীন করতে চাচ্ছ জিনিয়াঃএই ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই,, আমি কোনো মানব সন্তানের মা এটা ভাবলেই নিজেকে খুব ছোট মনে হয় চলবে…………………

কোন মন্তব্য নেই: