Sponsor

banner image

recent posts

স্বপ্নগুলো একটু বেশি রঙিন

Write : md Asad Rahman মোঃআাসাদ রহমান কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ >>>>>>>>>>>>>> -সেই কখন থেকে হাত উপরে ধরে আছো। আমার হাত লেগে গেছে, আর বিড় বিড় কি বলো?? কিছুই তো বুঝিনা.... (শুভ চোখ বন্ধ করে বলল) -(শয়তানটা তাহলে ঘুমাই নি জেগে আছে...ইরা এই কথা ভাবল আর একটু হাসলো) ,, -এই আপনি জেগে আছেন??(ইরা) -হ্যা (শুভ) -তাহলে চোখ বন্ধ করে আছেন কেনো?? -চোখ খুললেই খারাপ লাগে -আচ্ছা সরি -সরি লাগবে না, তুমি এখানে শুয়ে আছো কেন?? -এমনি আমারও ভালো লাগছে না তাই -আচ্ছা কেউ দেখলে খারাপ কিছু ভাবতে পারে তুমি যাও -কে কি ভাবলো না ভাবলো তা দিয়ে আমি কি করব?? আমি তো আমার বর এর পাশে শুয়ে আছে -আচ্ছা চুপপ, চাচি দেখলে কিছু বলতে পারে -না মা দেখছে, কিছু বলবে না -তুমি যাবে নাকি আমি বাইরে যাবো?? -এমন করেন কেনো?? আমি কি আপনার উপর পা তুলে দিয়েছি?? -নাহহ তাও এটা ঠিক না যাও তুমি ,, ইরা কোনো কথা না শুনে শুভর শরীর উপর তার এক পা তুলে দিলো... শুভ নামিয়ে দিলো.. ইরা আবার দিলো, শুভ আবারও নামিয়ে দিলো... ,, -বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে কিন্তু(শুভ) -না বাড়াবাড়ি আসীম..(ইরা) -................. -এটা তো কিছুই না আর কতো কিছু আছে.. -কি আছে?? -দেখবেন -না -তাহলে চুপ করে থাকেন -....... ,, শুভ আর কিছু বলল না। এখন দুজনেই চুপ...হঠাৎ ইরা শুভর গাল ধরে জোড়ে একটা টান দিলো... শুভ তাও কিছু বলল না... ,,, শুভর কিছু না বলাতে ইরার জেদ অনেক বেড়ে গেলো...আর শুভর ঠোঁটে কিস করলো... -ঠাসসস ঠাসসস (শুভ ইরাকে চর মারল) ,, ইরা গাল ধরে আছে...চোখ দিয়ে পানি পরছে...অনেকক্ষণ চেপে চেপে কান্না করলো... -আচ্ছা সরি (শুভ ইরার হাত ধরলো) ইরা হাত সড়িয়ে দিলো... -ব্যাথা পাইছো খুব?? -............. ,, ইরা বাইরে চলে যাবে, তখন শুভ ইরার হাত ধরলো...ইরা জোড় করে ছাড়িয়ে নিলো... -একটা কথাও বলবি না তুই...(এটা বলেই ইরা চলে গেলো) ,, শুভ হা হয়ে আছে রাগলে বড়দের সাথেও এমন ব্যাবহার করে! মারা টা ঠিক হয় নি। শুভ ও উঠতে পারছে না। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো.. ,, বিকেল এর দিকে শুভর বাবা ফিরে দেখে খুব জ্বর। শুভর কাছে অনেক্ষন বসে থাকলো। মাথায় জলপট্টি করে দিলো...সন্ধ্যার দিকে শুভ জেগে উঠে...তখন একটু ভালই লাগছে তার...উঠে বাইরে এসে দেখে তার বাবা বসে আছে.. -বাবা (শুভ) -হ্যা বল, কেমন লাগছে এখন??(শুভর বাবা) -হুমম ভালো, -বস এখানে.. ,, শুভ একটা চেয়ারে বসলো..বসে এদিক ওদিক তাকিয়ে ইরা কে খুজছে কিন্তু পাচ্ছে না...হঠাৎ ইরার মা ইরার বাবা কে বলল -ইরার জন্য ঔষধ আনতে হবে??(ইরার মা) -কেনো কি হয়েছে??(ইরার বাবা) -পা কেটে গেছে, খুব ব্যাথা করছে.. -পা কাটলো কিভাবে?? -ওকেই জিজ্ঞাস করো, মেয়েকে তো তুমি এমন বানিয়েছো -ও তো ছোট কিছু বোঝে না -এ কথা বলেই তো আজ এই অবস্থা -ও কোথায়?? -ওই যে ওই ঘরে ,, শুভ তাদের কথা শুনছিলো। ইরার বাবা উঠে গিয়ে ইরা কে দেখে আসলো ইরাকে...শুভ উঠলো উঠে এদিক ওদিক তাকিয়ে সেই ঘরে গেলো... ,, গিয়ে দেখে ইরা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে...শুভ খুব তাড়াতাড়ি গিয়ে তার কাছে শুয়ে পড়লো... ,, ইরা বুঝতে পারলো কে আসছে.. -আপনি এখানে আসছেন কেনো??(ইরা) -...........(শুভ কিছু বলল না) -কি মুখে কি টেপ মেরে রাখছেন?? -........... -কথা বলবি নাকি এখান থেকে তাড়াই দিবো -আমি তোমার বড়, এভাবে কথা বলছো কেনো?? -তুই আমার মাত্র তিন বছর এর বড়, বর আমি তোকে ভালবাসি, তুই করে বলতেই পারি, আমার অধিকার আছে -ওহহহহ -কি জন্য আসছিস এখানে -এমনি -আমি জানি রাগ ভাঙাতে আসছিস -হুমমম -তোর রাগ ভাঙানো লাগবে তুই ওঠ যা -ভালবাসি -ধুরর তোর ভালবাসা তোর কাছেই রাখ যা এখান থেকে.. ,, শুভর মন খুব খারাপ হয়ে গেলো। শুভও তো ইরাকে ভালবাসে কিন্তু শুধু বলাটাই বাদ এখন। ,, সন্ধার পর থেকে ইরার সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু কাজ হয়নি...খাওয়ার আগে একবার কথা বলার সুযোগ পায় তখন শুভ ডেকে বলে -কাল চলে যাচ্ছি (শুভ) -আরে আজব তো আপনি! আমাকে বলছেন কেনো??(ইরা) -............. -যেখানে ইচ্ছা সেখানে যান -আচ্ছা (শুভ আর কিছু বলল না) ,, রাতে সবাই একসাথে খেতে বসেছে। আজকে আর ইরা শুভর সাথে বসে নি, একটু দূরেই বসেছে... শুভ তার বাবা কে বলল -বাবা (শুভ) -হুমম কিছু লাগবে নাকি?? নে অনেক কিছু আছে, হাত দিয়ে নিয়ে খাওয়া শিখলি না এখনো... -কিছু লাগবে না, অন্য কথা -অন্য কি কথা?? -কাল ফিরতে হবে, স্যার ফোন করেছিলো কিছুক্ষণ আগে, -কি বলিস! মাত্র দুইদিন হলো আসছি এখনই যেতে হবে -তুমি থাকলে থাকো। আমার যেতে হবে -কাজ পরে করলে হবে না -সেটা আমি কিভাবে বলব?? স্যার জানে এটা -ভাইজান তাহলে তো আমাকে যেতেই হবে (শুভর বাবা) -এটা কি বলো। ও যাক তুমে কয়েকদিন থেকে যাও (ইরার বাবা) -না ভাইজান, ও একা থাকতে পারবে না -ওহহহহহ ,, ইরা এমন কথা শুনে খাওয়া ছেড়ে উঠলো.. -কি হলো আর খাবি না?? (ইরার মা) -না ভালো লাগছে না (ইরা) -আচ্ছা এই ধর ঔষধটা খেয়ে নাও -লাগবে না একাই সেড়ে যাবে -আরে তোর জন্য আনছি তো -বললাম না লাগবে না, পাড়লে তুমি খাও ,, ইরা জোড়ে জোড়ে পা ফেলে চলে গেলো.. -এই আস্তে যা, কাটা জায়গায়, আবার ব্যাথা করবে...(ইরার কান পর্যন্ত কথাটা পৌছায় নি মনে হয়) ,, শুভ খাওয়া বাদ দিয়ে এতক্ষণ সব দেখছিলো.. -কি হলো তুই খাচ্ছিস না কেনো (শুভর বাবা) -না খাচ্ছি তো(শুভ) -হুমম, কখন রওনা দিবি তাহলে?? -কাল সকালেই -আচ্ছা তোর যা আছে সব গুছিয়ে রাখিস -হুমমমম ,, (শুভ খাওয়া শেষ করে ইরার রুমে গেলো) গিয়ে দেখো ইরাও আছে...ওদিকে এবার তাকিয়ে কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে তোলা শুরু করলো.. -আমার জন্যই যাচ্ছেন তাই না?? (ইরা) -...........(শুভ কিছুই বলল না) -উত্তর দেন না কেনো?? -জ্বি কিছু বললেন?? -আমার জন্যই যাচ্ছেন তাই না? -আরে আপনার জন্য যাবো কেনো?? স্যার ফোন দিয়েছিলো তাই যেতে হবে -ওহহহহ - ............ -আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সরি -আরে কি বলেন এগুলা?? কই কষ্ট দিলেন?? -...........(ইরা কিছু বলল না) ,,, কাপড় গোছানে শেষে শুভ বলল -আপনার রুমে তো আপনি থাকবেন তাই না...??(শুভ) -না আমি মার কাছে ঘুমাবো -ওহহ তাহলে জান -আমার রুম আমি কখন যাবো এটা আমার ব্যাপার -হুমমম ,, ইরা শুয়ে আছে.. আর শুভ একটা টেবিল এর সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে.. কেউ কোনো কথা বলছে না...এভাবে কেটে গেলো দুই ঘন্টা... ইরার মা ইরাকে এসে নিয়ে গেলো...শুভ তারপর বিছানায় যায়.... পরদিন সকাল বেলা... শুভ ঘুম থেকে উঠে দেখে... ইরা তার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছে...ইরার চোখ লাল হয়ে গেছে...শুভ একবার তাকিয়ে চোখ সড়িয়ে নিলো... -সাইড দেন যাবো(শুভ) -.........(ইরা কিছু না বলে একটু সড়ে গিয়ে দাড়ালো) ,, শুভ বাইরে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আসে..এসে দেখে ইরা ওইভাবে দাড়িয়ে আছে...শুভ বলে -ব্যাপার টা কি আপনার?? এভাবে দাড়িয়ে আছেন কেনো?? আমি চোর না যে আপনার রুম থেকে আমি কিছু চুরি করে নিয়ে যাবো....(শুভ) -.....(শুভর কথা শুনে ইরা কিছুই বলছে না। শুধু পাথর এর মতো চুপচাপ দাড়িয়ে আছে) -আচ্ছা দাড়িয়ে থেকে পাহারা দেন, কিছু নেই কি না,তা ভালো করে পরখ করে দেখেন -...........(ইরা মুখ ফুলিয়ে মাথা নিচের দিক করে আছে..হয়তো শুভকে কিছু বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। ই -.....(বোঝো কেমন লাগে এখন। শুভ মনে মনে বলল) -এই যে আসি হ্যা, ভাল থাকেন, -.....(ইরা মাথা উপরের দিক তুলল। এবার মনে হয় কান্না করেই দিবে। কিন্তু পারছে না। ভেতর থেকে বার বার আটকে যাচ্ছে। সে হয়তো শুভ কে কিছু বলবে তাও পাড়ছে না। কারন শুভকে সে অপমান করছে...) ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। ।। চলবে মোঃআাসাদ রহমান কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ
স্বপ্নগুলো একটু বেশি রঙিন স্বপ্নগুলো একটু বেশি রঙিন Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ০৪, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.