Recents in Beach

বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

< Session 2 > ** ৯ম পর্ব ** লেখাঃ(asad Rahman ) - সব শুনে শকড হৃদয় , এ কোন ইমতি চৌধুরী । যে কিনা এক সময় অনেক ভালো ছিলো । বিছানায় শুয়ে থাকা অচেতন নীলাকে দেখছে হৃদয়। তখন তারাহুরা করে নিজের রুমেই নিয়ে আসে নীলাকে । ঘুমিয়ে আছে চুপচাপ মেয়েটা । এর মাঝে নেই কোন অভিযোগ নেই কোন বিদ্বাস । নীলাকে রেখে বেলকুনিতে কিছুক্ষণ সময় কাটায় হৃদয় । ভাবনায় ডুব দেয় , - কি করছি আমি ? একদিকে কর্তব্য অন্যদিকে ভালোবাসা । কোন দিকে যাবো ? আর আজ ইমতি যা করেছে , ছি ছি আমাকে লজ্জজনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে। মেয়েটা কোন কথাই বলে না সেই মেয়েকে এইভাবে ইমতি , ছি ছি (হৃদয়) - বারান্দা থেকে এসে নীলাকে একবার দেখে।ঘুমিয়ে আছে আগের মতো , সেই থেকে ঘুমিয়েই আছে , উঠছেও না কিছু খাচ্ছেও না । এইসব ভেবে যাচ্ছে হৃদয়। তারপর হঠাৎ গল্পের কথা মনে পরে যায় তাই তারাতারি ফেসবুকে লগ ইন করে । হঠাৎ বৃষ্টি গল্প পোষ্ট দিয়েছে । পড়ায় মনোযোগ দেয় হৃদয়। বাহ দারুন লিখে মেয়েটা । হঠাৎ নজর যায় টাইমলাইন এর একটা পোষ্ট এ । দুপুর ১ টায় পোষ্ট করা । পোষ্ট টা ছিলো এমন , **ভূবন-বিলাসী** --এবার আবারো আসছে আপনাদের মাঝে তবে পোষ্ট হয়ে নয় , বই হয়ে । খুব শীঘ্রই বই টি বের হতে যাচ্ছে । - তারমানে ভূবন-বিলাসী গল্পের বই বের হতে যাচ্ছে । ঠিক সেই সময়েই ইমতির ফোন। - হ্যালো (হৃদয়) - হাই জান (ইমতি) - কিছু বলবা (হৃদয়) - কি ব্যাপার এইভাবে কথা বলছো যে (ইমতি) - আমার বাসায় এসে তুমি এই কাজ টা করলা কিভাবে ইমতি , তোমার সাহস হয় কিভাবে (হৃদয়) - ওয়েট ওয়েট , কি কাজ করেছি (ইমতি) - মিথ্যা বলো না বা অভিনয় করো না , এইসবে তোমাকে মানায় না ইমতি , তুমি এতো নিচে নামবে আমার তো তা জানাই ছিলো না(হৃদয়) - কি যা তা বলছো (ইমতি) - নীলাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে কেনো বললে তুমি (হৃদয়) - ওমা , তো কি হয়েছে , এইটা আমার বাসা , আর সে বাহিরের মানুষ , আমি ছিলাম বাসায় , তাই সে বাহিরে গেছে (ইমতি) - হাসালে ইমতি , তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো আমি বা তুমি মানি আর না মানি , এই মুহুর্তে তোমার চেয়ে তার অধিকার বেশি । কারন , সে এখন অফিসিয়ালি আমার ওয়াইফ , আর এই ঘরে তার অধিকার টা বেশি ইমতি (হৃদয়) - বাহ , খুব ভালো তো , এখন বউ পেয়ে আমায় ভুলে গেছো , তাই না , এই ছিলো তোমার মনে (ইমতি) - ইমতি চুপ করো , আমি একবারের জন্যেও তা বলি নি , শুধু বলেছি এইটা করা উচিত হয় নি তোমার (হৃদয়) - ওকে , বাই , আমায় আর ফোন দিবা না (ইমতি) - একটা কথা শুনে রাখো ইমতি , আমি যেমন তোমাকে ভালোবাসি তেমনি ওকে সম্মান করি ওকে অসম্মান করার কোন ক্ষমতা আমার নেই কারন এর মতো মানুষ আমি এই প্রথম দেখেছি যে বিয়ের এতো দিন পরেও একবারের জন্যেও আমার কাছে কোন অধিকার নিয়ে সামনে দাঁড়ায় নি । তাকে আমি কিছুই বলতে পারবো না (হৃদয়) - টুটু টুটু টুট,, - জেদ দেখিয়ে লাইন কাটা , এই মেয়েকে আমি আমার আর তোমার লাইফে থাকতে দেবো না , মাইন্ড ইট নীলা । এই হৃদয় নিজে তোমাকে বের করবে , এইটা আমার প্রমিস , (ইমতি) - পরদিন সকাল বেলা , - ঘুম ভেঙে নিজেকে হৃদয়ের বিছানায় পেয়ে অনেকটাই অবাক নীলা । হৃদয় ইজি চেয়ারে বসে আছে , আর সে বিছানাতেই শোয়া । কয়েক মিনিট সময় নিয়ে নিলো ব্যাপার টা বুঝতে সে । - তারাতারি উঠে চলে যায় নিজের রুমে , ফ্রেশ হয়ে কিচেনে যায় , নাস্তা রেডি করে ফেলে , এর ফাকে সুমিও চলে আসে । হৃদয় ফ্রেশ হয়ে নিচে যায় , দেখে নীলা কিচেনে এখান থেকে ওইখানে দৌড়াচ্ছে । - সুমি আমার রুমে আয় তো (হৃদয়) - জ্বে ভাইয়া আইতাছি (সুমি) - ভাইয়া কন , কিছু কইবেন (সুমি) - হুম , যতক্ষন থাকবি , ওকে দেখে রাখবি , আর খেতে না চাইলেও জোড় করে খাইয়ে দিস । কোন রকম যাতে না খেয়ে থাকে কেমন (হৃদয়) - আচ্ছা ভাইয়া , কিন্তু কি হইছে ভাইয়া (সুমি) - কিছুই না কাল অসুস্থ হয়ে গেছিলো , তাই বললাম আর কি (হৃদয়) - খালাম্মারে জানাইছেন নি , উনি চিন্তা করবো তো (সুমি) - নাহ কেউই জানে না , আর বলিস ও না , ঠিক আছে (হৃদয়) - আইচ্ছা (সুমি) - সময় পার হচ্ছে , সম্পর্ক যেমনটা ছিলো তেমন টাই আছে । আগাচ্ছেও না পেছোচ্ছেও না । সব সময় কেন এদের সাথেই এমন হয়। - এইদিকে ইমতি ঝামেলা শুরু করে দিয়েছে , এতো টাই ফেড আপ করে তুলেছে হৃদয়কে যে বেচারা কোন দিকে যাবে নিজেও না । তেমনি এক সন্ধ্যায় , - ওই তুমি কই (ইমতি) - বাসায় কেনো (হৃদয়) - এখন বাসায় কি করো (ইমতি) - বাসায় মানুষ কি করে , আমি নাচি , হয়েছে (হৃদয়) - বের হও (ইমতি) - এখন পারবো না (হৃদয়) - তা পারবা না তুমি তো এখন বউতে মজে আছো তাইনা (ইমতি) - ইমতি , ডোন্ট টক রাবিশ , ভদ্র ভাবে কথা বলবা , (হৃদয়) - কি ভদ্র ভাবে বলবো , হ্যা , তুমি গাছের ও খাবা তলার ও কুড়াবা , তাই না , দুই জনকে এক সাথে চাই তোমার , রাতে বউ আর বাকি টাইম আমি তাই না (ইমতি) - ইমতি , বেয়াদব কোথাকার , ইডিয়েটের মতো কি সব আজেবাজে কথা বলো হ্যা । আমি গাছের খাই মানে আমার দুইটাই লাগে এইসবের মানে কি (হৃদয়) - মানে খুব সোজা , এখন বউ নিয়ে ফুর্তি করবা আর তারপর আবার আমি , আমি সব বুঝি হৃদয় (ইমতি) - আরে জানোয়ার মেয়ে , কাকে কি বললি তুই , আমায়েই চিনলি , যেই মেয়েকে বিয়ের এতো দিন পরেও স্পর্শ করলাম না এক মাত্র তোর জন্যে আজ তুইইই আমায় এইসব শুনাস (হৃদয়) - খবর দার তুই তুকারি করবা না , তুমি কত টা কি কর‍তে পারো সব জানি আমি (ইমতি) - কি জানো তুমি , ওই কি জানো তুমি , আমি তোমার সাথে কি একদিনও শুয়েছি নাকি যে আমাকে তুমি এইসব বলো , অফিসে কাজের চাপ , বাবা আর কত সামলাবে , সব সামলাতে হয় , তার উপরে মিটিং করতে হয় কনফারেন্স এটেন্ড করতে হয় , আজকে মাথা ধরেছে বলে বাসায় আসলাম তাও তুমি এইসব শুনাচ্ছো আমাকে (হৃদয়) - তোমার কি মাথা ধরেছে তা আমি ভালো মতো জানি (ইমতি) - কি বলতে চাও তুমি ইমতি (হৃদয়) - আমি কি বললাম ভালো মতই জানো (ইমতি) - তোমার মতো ন্যারো মেন্টালিটির আমি না ইমতি , তুমি অনেক অচেনা হয়ে গেছো ইমতি (হৃদয়) - হ্যা তাই তো , ভালো ভালো , খুব ভালো (ইমতি) - ইমতি আর কিছু বইলো না প্লিজ , আমার রাগ উঠিও না , ভালো আছো ভালো থাকো।আর আমাকেও ভালো থাকতে দাও (হৃদয়) - তুমি যে কতটা ভালো আমার জানা হয়ে গেছে , সো আর কিছুই বলতে হবে না আমায় (ইমতি) - নেক্সট টাইম আমায় কল দিবা না (হৃদয়) - আরে যাও যাও তোমাকে কে কল দেয় , ছোটলোক কোথাকার , খারাপ পুরুষ , নোংরা মনের মানুষ , মেয়েদের শরীরের ঘ্রান পেলে যে তোমরা সব ভুলে যাও এই তার প্রমান (ইমতি) - ইমতিইইইইইইইইইইইইই , you bloddy idiot don't call me nxt time (হৃদয়) - চিৎকার করে লাইন কেটে দেয় হৃদয় । নীলা রুম থেকে দৌড়ে এই রুমে চলে আসে। - কি হয়েছে (নীলা) -........................? - কি ব্যাপার এতো রেগে আছেন যে , আর এতো ঘামছেন যে ? কি হয়েছে (নীলা) - ..................? - শুনছেন , কি হয়েছে , বলবেন তো না কি , আর এই গ্লাস এতো জোড়ে আছাড় কেনো মারলেন (নীলা) - .....................? - আরে কি হইছে বলবেন তো নাকি , আজব তো (নীলা) - ঠাসসসসসসসসসসসস ঠাসসসসসসসসসসসস।,, - চুপ একদম চুপ , অনেক হয়েছে , অনেক সহ্য করেছি , আর না । তোমার জন্যে আমার জীবন নষ্ট হচ্ছে , আমার ভালোবাসা আমায় সন্দেহ করে , আমি আর পারছি না , আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি , চলে যাও আমার লাইফ থেকে , আমি তোমাকে কখনো ভালোবাসতে পারবো না , সো থেকে লাভ নেই , চলে যাও । ডির্ভোস এর জন্যে রেডি হয়ে নাও (হৃদয়) - এই বলে মোবাইল টা একটা আছাড় মেরে মেঝেতে ফেলে দেয় । তারপর দ্রুত বেরিয়ে যায় । - আর নীলা গালে হাত দিয়ে সেইখানেই দাড়িয়ে থাকে । চোখ দিয়ে গর গর করে পানি পরছে তার । কি বলে গেলো হৃদয় । - প্রায় তিন ঘন্টা পরে একটা কল আসে ল্যান্ড লাইনে। - হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা) - হুম (অচেনা) - কেঁ বলছেন (নীলা) - আমি মুরাদ বলছি হৃদয়ের ফ্রেন্ড (মুরাদ) - জ্বি বলেন (নীলা) - একটা কথা বলার ছিল (মুরাদ) - আজকে যাই আবার কালকে আসবো। সেই অবদি সবাই ভালো থাকবেন আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন। ** চলবে **

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ