হুম ভালো বাসি

পঞ্চম পর্ব লেখকঃ আসাদ রহমান নীল নিধিকে অবন্তীর কাছে নিয়ে এসে বলল, নিধিকে তুমি নিজের হাতে বউ সাজিয়ে দিবে। জেনো আমি বাসর রাতে শুধু নিধির দিকেই চেয়ে থাকি। নীলের কথা গুলো তীর এর মতো বিঁধছিল অবন্তীর বুকে। তবুও অবন্তী ঈষৎ হেসে বলল, তুমি কোনো চিন্তা করোনা নিধিকে আমি এমন করে সাজাবো। যে তুমি ওর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে, আর বলবে "তুমি এতো সুন্দর" আজ নীল এর হলুদ ছোঁয়া পুরো বাড়ি লাইটিং করা হয়েছে। হরেক রকমের বাতি দিয়ে বাড়ির ছাদ থেকে এক দম নিচতলা পর্যন্ত লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, হালকা গোলাপি রাঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। এক রাতের মধ্যেই। অবন্তীর চিলেকোঠার ঘর ও বাদ পড়েনি। রাত পোহালেই বাড়িতে নতুন বউয়ের আগমন হবে। নতুন বউ অবন্তীকে ছিনিয়ে নিবে নীল এর কাছে থেকে। হয়ত নীল আর অবন্তী কে আগের মতো ভালোবাসবেনা। রাতের আধারে অবন্তীর জন্য চুপিচুপি বিরিয়ানি আনবেনা। ছুটির দিন গুলিতে অবন্তীকে নিয়ে বের হবে। অবন্তীর স্থানটা নীল হয়ত এখন নিধিকে দিয়ে পুরুন করবে। সন্ধাতে নীলকে স্টেজে বসানো হল। একটু পরেই হলুদ ছোঁয়াবে সবাই নীলের গায়ে। অবন্তীর সময় এসব কিছু করা হয়নি। হলুদ ছোঁয়ানো হয়নি। সারা বাড়ি আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়নি। এতো ধুমধাম করে কিছুই হয়নি। কিন্তু অবন্তীরর স্বপ্ন ছিল খুব ধুমধাম করে তার বিয়ে হবে। সারা পাড়ার লোক তাকে দেখতে আসবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। চিলেকোঠার ঘরে বসে বসে এসব ভাবছিল অবন্তী। তার ডাক পড়লো নীল এর গায়ে হলুদ ছোঁয়ানোর জন্য। তার যে নীলের গায়ে হলুদ দেওয়ার শক্তিটুকু নেই। বাড়ির মানুষ কি সেটা বোঝেনা। নাকি তারা অবন্তীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই অবন্তী নীলের যোগ্য নয়। অবন্তী পাহার সম কষ্ট বুকে চেপে হলুদের স্টেজে এসেছে। নীল কে পাঞ্জাবীতে খুব সুন্দর লাগছে। না জানি শেরওয়ানি পড়ে ওকে বিয়ের দিন কত সুন্দর লাগবে। সেদিন অবন্তীর, নীলকে বর বেশে দেখার শক্তিটুকু হয়ত থাকবে না। অবন্তী যখনি নীলকে হলুদ ছুঁয়ে দিলো। নীল ও অবন্তীকে হলুদ ছুঁয়ে দিয়ে সবার সামনে জড়িয়ে ধরল। অবন্তীকে নীল কেন জড়িয়ে ধরল হটাৎ, তা অবন্তীর জানা নেই। হয়ত আজকের পর আর কখনো জড়িয়ে ধরবেনা। তখন তার পুরো অস্তিত্ব জুরে থাকবে নিধি। আচ্ছা তখনকি একবারের জন্যও অবন্তীর কথা নীলের মনে পড়বেনা? নীলের আম্মা বলাবলি করছিল। নীলের পাশে নিধিকে খুব মানিয়েছে। এতোদিন এক অপায়াকে নিয়ে পড়েছিল। বিয়েটা ভালোই-ভালো মিটে গেলে অবন্তীকে এ বাড়িতে রাখা যাবেনা। অবন্তীর চোখে জল ছলছল করছিল। এই আম্মাই একদিন অবন্তীকে বলেছিল লক্ষি একটা মেয়ে আর আজ সে তার কাছে অপায়া হয়ে গেল। মানুষ এতো সহজে কিভাবে বদলে যায়? নীল ও হয়ত বদলে যাবে। অনেক রাত হয়েছে এতোক্ষণ হয়ত হলুদ ছোঁয়া অনুষ্ঠান শেষ আর কয়েক ঘন্টার বিনিময়ে নীল অন্য কারো হয়ে যাবে। নীল অন্য কারো কেয়ার করবে। অন্য কারো জন্য বিরিয়ানি আনবে। পুরনো অতিত গুলো মনে পড়তেই অবন্তীর চোখে ঘুম আসছেনা। নীল কি করে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে? নীলতো ঘুমাবেই। তার সব আশা আজ পুর্ন হচ্ছে। মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অবন্তী তাদের পুরনো দিনের ছবিগুলো দেখছিল। কত সুন্দর ছিল সেই সময় গুলি। হটাৎই আননোন নাম্বার থেকে ফোন এলো অবন্তী রিছিভড করল না। কয়েকবার বাজার পর বিরক্ত হয়েই রিছিভড করল অবন্তী। কন্ঠ শুনেই বুঝল ওপাশের মানুষটি নীল। ওপাশ থেকে নীল বলল, ঘুমাও নি? --না। --একটা কথা জিজ্ঞেস করব? -- করো। -- সত্যি করে বলবা কিন্তু। -- হুম বল। -- ভালোবাসো আমায়? --হুম ভালোবাসি। --তবে এখনি নিচে নামো আমি দাঁড়িয়ে আছি। কোনো প্রশ্ন করবেনা। -- কিন্তু কেন? -- পালাবো। -- এতো সব আয়োজনের কি হবে? -- চুলোয়যাক। আমি তোমায় ছাড়া থাকতে পাড়ব না। -- তবে এতো কষ্ট দিলে কেন? -- তুমি আমার বিয়ে দিতে চাইছো তাই। আজ অবন্তী বুঝতে পেরেছে তার সন্তানের মৃত্যুর জন্য নীল দায়ী নয়। হয়ত অবন্তী জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাবার কারনে সন্তানটার মৃত্যু হয়েছে। তাই সেদিন ডক্টর বলেছিল একটু আগে নিয়ে এলে হয়ত সন্তানটা বাঁচত। নীল সেদিন রাতে হয়ত বাথরুমে গিয়েছিল ববা ফোন এসেছিল। আর অবন্তী এতোদিন নীলকে মিথ্যে সন্দেহ করে আসছিল। সে অবন্তীকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। যাক অবন্তীর এটা ভেবে ভালো লাগছে যে। তার সন্দেহর কথা নীল জানেনা। সেদিন রাগের মাথায় নীলের আম্মুকে যা বলেছি। সেটা নীল বুঝেছিল। অবন্তী নিচে যেয়ে দেখল নীল দাঁড়িয়ে আছে। নীলকে জড়িয়ে জাপটে ধরল অবন্তী খুব শক্ত করে। আর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, হুম ভালোবাসি। ভুল মাফ করবেন। সমাপ্ত

কোনো মন্তব্য নেই for "হুম ভালো বাসি "

Berlangganan via Email