Sponsor

banner image

recent posts

বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

<😍 Session 2 😍> ** ৫ম পর্ব ** লেখাঃ(Asad Rahman ) - অবাক লাগে , বড্ড বেশি অবাক লাগে যখন নিজের দিকে তাকাই । আসলে আমি কি ? কারো মেয়ে ? কারো বউ ? এই কি আমি ? হুম আমি কারো মেয়ে । কারো স্ত্রী।কারো বাড়ির বউ । কিন্তু কি পেয়েছি জীবনে । কিছুই না । নাথিং । বান্ধবীদের হাজব্যান্ড দের থেকে ভাবতাম আমারো হাজব্যান্ড হবে । আর টাকা পয়সা না থাকলেও আমাকে ভালোবাসতে কৃপণতা করবে না । এখন দেখছি সেই আমিই এইসবের মাঝে এসে পরলাম । - হৃদয় ,,,,,,,,, - বড্ড বেশি একগেয়ে লাগছে জীবন টা আমার । যাকে এতো ভালোবাসলাম তাকে পেয়েও হারাতে হচ্ছে । আর না চাইতেও নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে নিলাম তাকে কি করে আপন করবো , ভালো লাগছে না আর । ইমতি ফিরে আসছে , এখন রোজ রোজ নতুন নাটক দেখতে হবে।বাসায় জানালেও প্রবলেম। কিযে এক অবস্থায় আছি আমি জানি । - সেইদিন কার মতো আর কথা বলি নি,, হৃদয়ের সাথে । আসলে সাহস হচ্ছে না । কি বলবো , তীর্থের কাক হয়ে তাদের দুইজনের মাঝে এসে পরা টা ঠিক হয় নি আমার৷। আর তাছাড়া ইমতির ও দোষ নেই , সে কেনইবা তার ভালোবাসার ভাগ আমায় দিতে যাবে । আমি হলেও পারতাম না । তাহলে সে কিভাবে মেনে নিবে । কি করা উচিত বুঝতেছি না । কার কাছে যাবো কিভাবে যাবো কোন মুখে যাবো । - পরদিন , - শুনছেন (নীলা) - কি হয়েছে (হৃদয়) - আমি ভাবছিলাম একটু বাবার বাসায় যাবো (নীলা) - ঠিক আছে (হৃদয়) - এই বলে চলে গেলো । একবারের জন্যে জিজ্ঞাসা ও করলো না কেনো যাবে বা কিছু।কাল যা হয়েছে তারপর চলে যাওয়া টা ব্যাটার । যেই ভাবা সেই কাজ , ব্যাগ গুছিয়ে চলে এলাম বাবার বাসায় । - আরে নীলা তুই (মা) - হুম মা আমি , কেনো খুশি হোও নি (নীলা) - কি বলিস আয় আয় (মা) - বাবা কই , আর ভাইয়া (নীলা) - তোর বাবা একটু দোকানে গেছে আর তোর ভাই ব্যাংকে (মা) - ওহ (নীলা) - জামাই আসলো না (মা) - অনেক ব্যস্ত সে , তাই আমিই চলে এলাম (নীলা) - ভালোই করছিস (মা) - মা আমি একটু ঘুমাবো , ভালো লাগছে না (নীলা) - না খেয়েই ঘুমাবি , কিছু খা তারপর ঘুমা (মা) - নাহ মা আগে ঘুমাবো , তারপর , এখন বলো নতুন বাসায় আমার জন্য রুম রেখেছো নাকি মেয়ে বলে পর করে দিয়েছো (নীলা) - কি বলিস , তোর ভাইয়ের চোখের মনি তুই , তোর জন্যে আলাদা রুম আছে সেই রুমে তুই ছাড়া কেউ থাকবে না এইটা তোর ভাই এর আদেশ (মা) - হা হা হা , তাই নাকি , তাহলে তো ভালোই , তাহলে আজ থেকে এইখানেই থাকবো (নীলা) - কি বলিস যা তা , তোকে বিয়ে দিয়েছি কি বাপের বাড়িতে পরে থাকতে নাকি বোকা মেয়ে । মনে রাখবি স্বামীর বাড়িই সব । আর স্বামীর বাড়ি থেকে মেয়ে তখনই বের হয় যখন তাকে কাফনের কাপড় পরিয়ে বের করে আনা হয় । এই কথা টা সব সময় মনে রাখবি । স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির সব লোকই তোর আপন (মা) - আমি ঘুমাবো একটু মা , পরে কথা বলি (নীলা) - রুমের মধ্যে এসে একটু শক হলাম । এতো সুন্দর করে সাজানো । ভাই আমার পছন্দের সব টা জানে । আমার বেষ্ট ভাই সে । ড্রেস টা চেঞ্জ করে ঘুম দিলাম একটা । এক ঘুমে উঠলাম মাগরিবের পরে তাও ভাইয়ার ডাকে। - বাবুই পাখি , এই বাবুই পাখি (নিলয়) - হুম (নীলা) - কিরে আর কত ঘুমাবি৷, মা বললো এসেই ঘুমিয়েছিস (নিলয়) - হুম (নীলা) - এতো ঘুম কেন , না খেয়ে , উঠ (নিলয়) - ভাইয়া ঘুমাইতে দিবি না (নিলয়) _- নাহ ওঠ তুই (নিলয়) _- হুম বল (নীলা) _- চল খাবি চল (নিলয়) - আচ্ছা সর , ফ্রেশ হই তারপর খাবো (নীলা) _হুম তারাতারি কর (নিলয়) - বাথরুমে ঢুকে বুক টা ফেটে কান্না চলে আসে । এদের কে ঠকাচ্ছি আমি । আমার মা বাবা ভাই এদের কাছে লুকাচ্ছি সব । কার জন্যে , ওই লোক টার জন্যে যে আমায় ভালোইবাসে না । কি করা উচিত বুঝতেছি না । - বাবার বাসায় ভালোই লাগে । আমারো লাগে । কিভাবে যে তিন টা দিন পার করে দিলাম বুঝতেই পারলাম না । এই তিন দিন একবারের জন্যেও কল দেয় নি হৃদয় । কেমন আছি ভালো আছি কিনা , কি করি কিছুই না । - বিকালে বসে আছি বারান্দায় । হঠাৎ মোবাইলে কল । হাতে নিয়ে দেখি হৃদয়ের ফোন । একটু অবাক হলাম । রিসিভ করবো কি করবো না , খুব ভাবাচ্ছিলো বিষয় টা । ভাবতে গিয়ে লাইন কেটে গেলো।আবার কল আসে । এইবার হুট করেই রিসিভ করে ফেললাম। - হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা) - হৃদয় বলছি (হৃদয়) - জ্বি বলেন (হৃদয়) - তারাতারি বাসায় আসো (হৃদয়) - মানে (নীলা) - মাহি কল দিয়েছে ওরা সন্ধ্যায় আসছে বাসায় , সো ফাষ্ট , আধা ঘন্টার মধ্যে বাসায় আসা চাই (হৃদয়) - এই টুকু বলেই লাইন কেটে দিলেন , আমাকে কিছুই বলার সুযোগ দিলেন না । কি আর করার৷, তারাতারি সব গুছিয়ে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা করলাম সো কলড স্বামীর বাড়ির দিকে । এক ঘন্টা পর আসলাম বাসায় । সুমি আজকেও আসে নাই । উফফফফ মেজাজ অনেক খারাপ লাগছে । সব কিছু একা একা করতে হবে আমায় । বাসায় আসার পর থেকে একটা কথাও বলে নি হৃদয় আমার সাথে । জেদ জেদ করতেছে । এমন করার কি দরকার , সোজাসুজি বললেই তো হয় । সব গুছিয়ে রান্নার কাজ টাও শেষ করে ফেললাম । সব গুছিয়ে নিজেও ফ্রেশ হয়ে নিলাম । - প্রায় ৮ টা নাগাদ শ্বাশুড়ি মা আর মাহি হাজির । বাবা আসেন নি , ওনার মিটিং এ উনি ব্যস্ত । তাই হৃদয় বাসায় আজ । তাদের সময় দিচ্ছি , রান্না ঘরে গেলাম হাতের কিছু কাজ আছে তা সারার জন্যে । হঠাৎ মা রান্নাঘরে এলেন। - নীলা (শ্বাশুড়ি মা) - জ্বি মা (নীলা) - কি করিস (শ্বাশুড়ি মা) - একটু কাজ গুলো গুছিয়ে নিচ্ছি , কিছু লাগবে মা (নীলা) - নাহ এমনি আসলাম , আচ্ছা একটা কথা বল তো আমায় (শ্বাশুড়ি মা) - জ্বি মা বলেন (নীলা) - তুই ভালো আছিস তো ? (শ্বাশুড়ি মা) - জ্বি মা আমি ভালো আছি (নীলা) - সত্যি ভালো আছিস তো (শ্বাশুড়ি মা) - হুম মা ভালো আছি , চলুন খেতে চলুন (নীলা) - খাওয়া দাওয়ার পরে ওনাদের বিদায় দিয়ে সব গুছিয়ে আমিও ফ্রেশ হয়ে শুতে গেলাম । রুমের পাশে দিয়ে যাচ্ছিলাম , হঠাৎ শুনতে পাচ্ছিলাম হৃদয় কথা বলছে। - এখন এমন করার মানে কি ইমতি (হৃদয়) - .................? - তুমি কিন্তু বারাবারি করতেছো (হৃদয়) - ..............? - আর ইউ মেড ইমতি ? আমি আর নীলা একসাথে ? মাথা ঠিক আছে তোমার , (হৃদয়) - .............? - সে আমার বউ ঠিক কিন্তু এই তিন মাসে আমি তাকে ছুয়ে পর্যন্ত দেখিনি আর তুমি এইসব বলো (হৃদয়) - .............? - আবার সেই একই কথা , আরে গর্দব রে এমন কিছুই না , তুমি আসো দেখে যাও আমি কোথায় শুই আর নীলা কোথায় শোয় , বাজে কথা বলবা না একদম , খবর দার (হৃদয়) -.... ......? - ওই চুপ , চুপচাপ ঘুমাও কাল দেখা করবো , বাই (হৃদয়) - ছুটে রুমে চলে এলাম , বালিশ মুখে চেপে কান্না করতেছি , এইসব ও শুনতে হয় এখন,,ছি ছি । আয়নার সামনে গেলাম । কে আমি ? কি আমার পরিচয় ? আমি হৃদয়ের কি হই ? হৃদয় আমার কি হয় ? উত্তর খুজতে গেলে আমি হৃদয়ের বউ । কেমন বউ আমি । হঠাৎ মায়ের কথা টা মনে পরে গেলো । এক প্রকার জিদ উঠে গেলে । হ্যা , আমি লাশ হয়েই বের হবো ওর ঘর থেকে । এর আগে বের হবো না । তার জন্য সব সহ্য করবো তবুও থাকবো । - মাথা টা ঝিম করে উঠছে , ঘুম দরকার , ঘুমাতে হবে৷। এখন ঘুমাবো । ঘুমালে শান্তি পাবো । - সেই অবদি ভালো থাকবেন সবাই , আর সবাইকে ভালো রাখবেন । ** চলবে **
বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে  বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ১২, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.