Sponsor

banner image

recent posts

* বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে ** < 😍Session 2😍 > ** ৩য় পর্ব ** লেখাঃ(Asad Rahman ) - এইভাবে কেটে যায় এক সপ্তাহ । এইখানে আসার পর ভালো লাগে না তেমন একটা । একা একা । সুমির সাথে কতক্ষন কথা বলা যায় । হঠাৎ একদিন শ্বাশুড়ি আর মাহি আসে । সারাদিন ছিলো খুব ভালো লাগছিলো । কিন্তু সন্ধ্যায় চলে যায় । খুব মন চাইছিলো বলি মা আমায় ও নিয়ে যাও। - সেইদিন রাতে প্রায় ১১ টায় ও আসে । খাবার টেবিলেই ঘুমিয়ে গেছিলাম , পরে জেগে যাই । - খাবেন না (নীলা) - না (হৃদয়) - ওহ (নীলা) - তাকে কিছুই বলিনি কেনো কিছু বলি নাই , জানেন? , কাকে বলতাম , একে , যে নাকি আমায় স্ত্রী হিসেবেই মানে না । তাই আর কিছু বলিও নাই । বাবা মা বিয়ে দিয়ে দায় সারিয়ে ফেলছে । এখন আর কি করার । - ছুটির দিন,,, - শুক্রবার ছিলো ,,, - হৃদয় সেইদিন বাসায় ছিলো । শুক্রবারের দিন টা আমার খুব প্রিয় । বাবার বাসায় থাকা-কালীন সময় আমি এটা সেটা রান্না করতাম । তাই আজকেও কিছু রান্না করবো ভাবছিলাম । চাইনিজ টা পারি । তবে হৃদয় খাবে কিনা বুঝতে পারতেছিলাম না । গিয়েছিলাম তার কাছে আস্ক করতে । গিয়ে শুনি মোবাইলে কথা বলতেছে । - বলছি তো সব ঠিক করবো , এতো হাইপার হচ্ছো কেন, আর শুনো ডির্ভোস বললেই হয় না , আর মাত্র এক মাস হয়েছে বিয়ের , এখন পসিবল না , সো সব দেখছি ওকে (হৃদয়) - ................? - আজব , কথা কম বলো , ও আর আমি এক সাথে থাকি না , আমরা আলাদা থাকি , দুই রুমে (হৃদয়) - .......................? - আমি মিথ্যা বলি না তা তুমি জানো , সো চুপ করো , বাজে কথা বলবা না , যখন বলেছি তোমাকে ভালোবাসি , সো ভালো আমি তোমাকেই বাসি (হৃদয়) - ..............................? - হুম দেখে নিও , রাখলাম , আর তারাতারি ব্যাক করো (হৃদয়) - কথা গুলো তীর হয়ে বুকে বাধে আমার , উফফফফ কি অসহ্য যন্ত্রনা । নিজের স্বামীর মুখে এইসব কথা শুনতে যে কি কষ্ট , তা হয়তো আমি মেয়ে ছাড়া কেউ বুঝবে না । নিজের চোখ যেনো থামছে না , অনবরত পানির ধারা বয়ে যাচ্ছে । ভালোবাসা না পাওয়ার যন্ত্রনা এমনই হয় মনে হয় । খুব কষ্ট করে মনের মন্দিরে হৃদয় নামক মানুষ টিকে যত্নের সহিত আসন দিয়েছিলাম , কখনো ভাবি নি এইভাবে ছেড়ে দিতে হবে । কোন কিছু তে আমি লোভ করি না , কিন্তু আজ জানি কেমন লোভ হচ্ছে । ছাড়তে ইচ্ছে করে না মাঝে মাঝে নিজের জায়গাটা । - চোখ মুছে স্বাভাবিক হয়ে তার কাছে গেলাম , - শুনছেন (নীলা) - হুম (হৃদয়) - আজ তো friday , কিছু স্পেশাল করি (নীলা) - মানে , কি স্পেশাল (হৃদয়) - মানে , রান্না টা আর কি , খাবেন ? (নীলা) - নাহ আমি বাহিরে যাবো এখন (হৃদয়) - বুকে কে যেনো ছুড়ি মেরে দিয়েছে , আচ্ছা ঠিক আছে (নীলা) -আচ্ছা শুনুন (হৃদয়) - জ্বি , (নীলা) - কি রান্না করবেন , করেন , খাবো আজকে বাসায় (হৃদয়) - এই না বললেন খাবেন না (নীলা) - খাবো এখন , তা কি রান্না করবেন (হৃদয়) - বলুন কি খাবেন , (নীলা) - চাইনিজ রান্না করতে পারেন ? যেমন ধরেন , ফ্রাইড রাইস , চিলি চিকেন , বিফ মাসালা , ফ্রুট সালাদ , পারেন এইসব ? (হৃদয়) - এই গুলা পছন্দ আপনার (নীলা) - হুম (হৃদয়) - আচ্ছা (নীলা) - তার কথা অনুযায়ী সব রান্নার ব্যবস্থা করলাম । সুমি শুধু হা হয়ে দেখছিল , বলে আল্লাহ গো ভাবি এতো কিছু কেম্বে জানেন , ওর উত্তরে শুধু হেসেছিলাম , আর কিছুই না। - সব রান্না শেষ করে ডাইনিং এ সাজিয়ে দিয়েছি , গা থেকে কেমন যেনো মশলার স্মেল আসতেছে , শাওয়ার নিতে গেলাম , শাওয়ার শেষে বেরিয়ে দেখি তিন টা বাজে। ইয়া আল্লাহ হৃদয় লাঞ্চ করে ২ টার মধ্যেই । আল্লাহ জানে রেগে আছে কিনা । রুমে গিয়ে দেখি লেপটপে কাজ করতেছে সে । - এই যে (নীলা) - হুম বলেন (হৃদয়) - আসেন , খাবেন না , সরি দেরি করে ফেলেছি অনেক (নীলা) - আপনার সময় হয়েছে এখন , তাহলে চলেন (হৃদয়) - আচ্ছা আসেন (নীলা) - ওনাকে আর সুমিকে খাবার বেরে দিলাম , হৃদয় খুব ভালো মনের একজন মানুষ , সে কাউকেই ছোট করে দেখে না , সুমি যে তার বাসায় কাজ করে কেউ দেখলে বুঝবেই না , একই সাথে ডাইনিং এ বসে অন্য সবার মতো সেও খায় । সুমির জোড়াজুড়ি তে আমিও খেতে বসি । খাচ্ছি আর আড় চোখে হৃদয়কে দেখছি । সে শুধু খেয়েই যাচ্ছে কিছুই বলছে না । খাবার খেয়ে দেখলাম না খাবার তো ভালোই হয়েছে তাই হয়তো কিছু বলে নাই আর আমিও সেধে সেধে কিছুই বলি নাই । খাবার শেষ করে রুমে চলে যায় । - বিকেলে নিজেই আমার রুমে এসে নক দেয় । - ফ্রী আছেন (হৃদয়) - হুম কেনো (নীলা) - দুই কাপ কফি নিয়ে , আমার রুমে আসুন , কিছু কথা বলবো (হৃদয়) - আচ্ছা (নীলা) - তার এই কিছু কথা বলবো শুনে আমার পেটে কামড় দিয়ে উঠে । কি বলবে সে । কফি বানিয়ে গেলাম তার রুমে । গিয়ে দেখি বারান্দায় বসা । - আসতে পারি (নীলা) - আমার অফিস না এটা আর আপনি আমার ক্লাইন্ট না আসুন (হৃদয়) - নিন কফি (নীলা) - থ্যাংকস , আপনার টা কই (হৃদয়) - আমি কফি খাইনা , আমার লিকার ভালো লাগে (নীলা) - তাহলে তাই নিয়ে আসতেন (হৃদয়) - নাহ এখন আর কিছু খাবো না , কি জানি বলবেন বলেছিলেন , (নীলা) - হুম বসো বলবো (হৃদয়) - কেন জানিনা একটা অজানা ভয় কাজ করছিলো । কলিজার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে।তারপর ও বসলাম তার সামনের দিকে রাখা চেয়ার টায় । - তোমাকে আজও কিছু বলি । শুনো (হৃদয়) - হুম বলেন (নীলা) - ইমতি চৌধুরীর কথা বলেছিলাম না তোমাকে আমি (হৃদয়) - জ্বি (নীলা) - আমি ইমতি কে ভালোবাসি , শুধু ভালোই বাসি না সে আমার জীবন (হৃদয়) - আল্লাহ আমায় আরো শক্তি দাও , শুধু চোখ থেকে পানি বের করো না , - ওর লেখার প্রেমে পরে গেছিলাম আমি , পরে একদিন ইনবক্সে নক করি , তারপর কথা হতো প্রায়ই , এরপরে রেগুলার কথা হতো , তারপর ভালো লাগা টা বেড়ে যায় আর তারপর থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি । একটা সময় খুব ভালো লাগতে লাগলো আমার । আর এখন সেই আমার মনের রানী । আমি শুধু তাকেই ভালোবাসি । এই দিকে ইমতি দেশের বাহিরে গেছে । জব করে সে , জব এর কাজেই বাহিরে যাওয়া তার । আর এর ফাকেই বাবা বাধ্য করলো বিয়ে করার জন্য । বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে কর‍তে বাধ্য হলাম , কিন্তু আমি আপনাকে কখনোই মানতে পারবো না আর কখনোই স্ত্রীর সম্মান দিতে পারবো না । কিছুদিন পর আমরা আলাদা হয়ে যাবো (হৃদয়) - আল্লাহ আরো শক্তি দাও যাতে সব টা সহ্য করতে পারি আল্লাহ । - তা কবে ডির্ভোস ফাইল করবেন (নীলা) - খুব তারাতারি (হৃদয়) - ওহ , আচ্ছা , আপনি প্রসেসিং শুরু করেন , আমি আমার দিক থেকে যা করা লাগে করবো (নীলা) - তোমার কোন অভিযোগ নেই (হৃদয়) - অভিযোগ , কিসের অভিযোগ , আর কেনোই বা করবো অভিযোগ ? কপালে যা আছে তাই তো হবে , তাই না , আপনার হাড়ির ভাত আমার কপালে না থাকলে তো আর আমি জোড় করে আনতে পারবো না তাই না । তার থেকে যেইভাবে ভালো হয় সেইভাবেই হোক (নীলা) - মাঝে মাঝে অবাক লাগে তোমাকে দেখে (হৃদয়) - উঠলাম (নীলা) - চলে এলাম রুমে । দরজা আটকে দিয়েছি।বারান্দার দরজা আর রুমের দুই পাশে থাকা জানালা গুলাও আটকে দিলাম।ফুল স্প্রীটে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে বালিশ চেপে চিৎকার করে কান্না করতেছিলাম । আমার সাথেই কেনো । আমার সাথেই কেনো এমন টা হলো আল্লাহ। অপরাধ কি করছিলাম আমি , যার শাস্তি এইভাবে দিলা । - এক সময় কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম । - এই হলাম আমি । আমি নীলা। এই হলো আমার বিবাহিত জীবন । এই হলাম আমরা সুখী দম্পতী। এই হলো আমার সুখে ভরা সংসার । - স্মৃতি চারন থাকা অবস্থা তেই কলিংবেল বেজে উঠে । দুইটা দিন হলো সুমি টা নেই । গ্রামে গেছে । বাসায় একা একা থাকতে থাকতে হাপিয়ে গেছি । দৌড়ে নিচে নেমে দরজা টা খুললাম। - একি আপনি.................. (নীলা) - আজ থাক এই অবদি । ভালো থাকবেন সবাই । আর সবাইকে ভালো রাখবেন । ** চলবে **
Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on আগস্ট ১২, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.