Recents in Beach

আমার অভিযোগ

লেখকঃআসাদ রহমান
_কিরে কান্না করছিস কেন?
_ তোকে কত গুলো ফোন দিয়েছি। ফোন গুলো রিসিভ করিস নাই কেন?
_ তাই বলে তুই কান্না করবি?
_ আমার চিন্তা হয় না বুঝি? ও আমার চিন্তায় তোর আবার কি আসে যায়?
_ তাই তো আমার কোন কিছু যায় আসে না।
_ যা আর কখনো তোর কাছে আসব না। জানিস আজ কত চিন্তা হচ্ছিলো? সারাটা দিন না খেয়ে আছি। আর তুই একটা বার ও আমার ফোন ধরিলি না।
_ কি বললি তুই এখনো খাবার খাস নি?
সোহানা ঠোঁট বাঁকা করে বললোঃ "না।"
রাফিও সাথে সাথে ধমক দিয়ে উঠলো।
_ থাপ্পড় দিয়ে দাঁতগুলো ফেলে দিতে মন চায়।
_ তুই আমায় আবার বকা দিচ্ছিস? যা খাবই না।
তারপর আমি সোহানাকে খাইয়ে দিতে লাগলাম। আমাদের সম্পর্কটা যে কেউ দেখলে বলবে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক। শুধু দু রুমে ঘুমাই দুজনে। বাকি সব কিছুই এক সাথে। বলা যায় এক সুতোয় বাধা দুটি প্রাণ।
খাওয়ার মাঝে সোহানা বললোঃ "রাফি তোর ভর্তির কি হল?"
রাফি মুখটা কালো করে ফেললো।
সোহানা রাফির মুখ উপরে তুলে বলে, "তুই চান্স পাস নাই বুঝি? আরে বোকা সবাই কি ডাক্তার হবে এমন কোন কথা আছে নাকি? মন খারাপ করিস না।"
_ওই এত বেশি বুঝোস কেন? আমি কি বলছি তোকে যে আমি সুযোগ পাইনি আমি? আমি তোর এত দিনের ধারণ করা স্বপ্ন, আশা আর বিশ্বাস ভাঙ্গতে পারি?
সোহানা কেঁদে দিয়ে রাফিকে জড়িয়ে ধরে।
_জানিস আল্লাহ তোর মাঝে আমার স্বপ্ন গুলো পূরুণ করে দেয়। আজ আমি অনেক খুশিরে ।
_ এই ধর? তোর জন্য আজ তোর ফেভারিট আইসক্রিম এনেছি।
_ থ্যাংকস তোর বউ এত্ত গুলা লাকী হবে। কেন যে নুসরাত গেলো?
আমি রাগ দেখিয়ে উঠে গেলাম। সোহানা আমায় পেছন থেকে চোখ ধরে ফেললো।
_মহারাজ বুঝি আমার সাথে কথা বলবে না?
_ তুই এমন কেন? তোর ছোঁয়াতে সব রাগ চলে যায়?
এই ভাবে চলছে দিন। আমি আর সোহানা আরো গভিরভাবে জড়িয়ে যাচ্ছি । ঠিক ৬ মাস পর কলেজ থেকে বন্ধুদের সাথে বের হইছি ঘুরতে। তখনই সামনে পড়ে যায় নুসরাত। প্রায় পাঁচ বছর পর প্রিয় মুখটার দেখা মিললো। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতে দেখে বন্ধুরা বললো, "কিরে দাঁড়িয়ে পরলি কেন? চল।"
_ তোরা যা আমি আসছি।
ওরা চলে যাওয়ার পর নুসরাত আমার সামনে আসলো। চেহারা সৌন্দর্য আগের মত নেই কিছুই। মুখটা একদম শুকিয়ে গেছে। আমার সামনে এসে জিজ্ঞাসা করলো, "কেমন আছো রাফি?"
তাচ্ছিল্য একটা হাসি দিলাম ওর দিকে তাকিয়ে।
_কেন ভাবছেন কবে আবার জেল থেকে ছাড়া পেলাম? নাকি আবার কোন ধর্ষণ বা অন্য কিছুর অভিযোগ তুলবে নাকি?
একটা দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলে নুসরাত আমার দিকে তাকালো।
_ সে দিনের করা পাপে আমার কপালে জোটে একটা ধর্ষক। যে কিনা রাতের খুদা আমার শরীরে মিটাতো আর দিনে অন্য কারোর সাথে----।
_ হা হা হা ডাক্তার বর ---। আরো কত কি বলেছিলে--। আমি তো পাগল।
_ হ্যা তখন যদি বুঝতাম পাগলটা আমার জন্য পাগল ছিল। কি পেলাম বাবার কথায় তোমায় অবহেলা আর পুলিশ কেস করে!!বিয়ে প্রায় ৬ মাস ভালোই কাটছিলো। তারপর আর আমার সৌন্দর্য তার কাছে ভালো লাগেনা। সে বাসায় ও মেয়ে নিয়ে আসতো। আমার সামনে ওদের সাথে নোংরামি করতো। আর ওদের বলতো আমি কাজের মেয়ে। প্রায় ওর সাথে ঝগড়া করতাম। ও আমার গলা চেপে ধরে বলতো, আমি কি তোকে পূজা করার জন্য বিয়ে করেছি? তখন তোর রূপ ভালো লাগছিলো করেছি, এখন লাগে না তাই তোকে ও ছুঁই না। আমার তখন খুব করে মনে পড়তো তোমার সাথে কাটানো সময়গুলা। যে খানে আমায় এত দিন পেয়ে ও রূপের দিকে নয় মনের দিকে তাকাতে। তারপর রাতে দিনে কাঁদতাম। বাবাকে বললে বাবা বলে, ছেলে মানুষ এমন করেই। অন্য মেয়েদের যখন বাসায় এনে নোংরামি করতো আর বলতো আমি কাজের মেয়ে তখন নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে হত। তারপর আমি কয়েকবার আত্মহত্যা ও করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সব সময় মনে হত ওর মত একটা জানোয়ারের জন্য কেন আমার জীবনটা নষ্ট করব?! তারপর ওর বাড়ি থেকে আমি চলে আসি। লজ্জায় বাবার বাড়ি ও যাইনি। আজ স্থান আমার পতিতালয়ে।
_ আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম, "এই নাও ১ হাজার টাকা। আমি কোন রাতেই আসব না। আর হ্যাঁ তোমার মত মেয়ের জীবনে এর থেকে ভালো কিছু হতে পারে না।
_ রাফি প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও? ক্ষমা করে দাও আমায়?
_ হা হা হা ক্ষমা??
এই বলে চলে আসলাম ওর সামনে থেকে। মনটা আজ কেন জানি অন্য রকম লাগছে। বাসায় ফিরে সোহানাকে বললাম আজকের পুরো ঘটনা।
_আল্লাহ কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়াতে দেয় আবার কিছু আখেরাতে।
কিছু দিন পর হঠাৎ সোহানার বুকে ব্যথা শুরু হয় প্রচন্ডভাবে। তারপর তাকে হসপিটালে নিয়ে গেলাম।
,,
হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার পর সোহানাকে নিয়ে ডাক্তার আই সি ইউ তে নিয়ে গেলেন। আন্টি আমায় জড়িয়ে কান্না করতে লাগলেন। আমি বললামঃ "আন্টি ভরসা রাখুন। সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এমন সময় পেছন থেকে কেউ ডাকলো।
_ রাফি?
পেছনে তাকিয়ে আমি অবাক কারণ হুইল চেহারা করে বসে আছে
,,,,
বন্ধুরা আশাকরি আগামী পর্বে গল্পের সমাপ্তি ঘটবে তাই আগামী পর্ব কেউ মিস করবেন না, ততক্ষন সবাই ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
চলবে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ