মুগ্ধতা

মুগ্ধতা আহিয়া দেখতে পেল রুপা ওর শাড়ীটাই পড়ে আছে। আহিয়া রাগ যেও কিছুটা কমেছিল, সেটা আবার বেড়ে গেল নিয়ানের দেওয়া ওর শাড়ীটা রুপা পড়ে আছে দেখে। আহিয়া মনে মনে ভাবতে লাগল, এটাতো নিয়ানের সবছেয়ে পছন্দের শাড়ী! এই শাড়ীটা তো আমাদের বাসর রাতে আমার পড়ার কথা ছিল। আহিয়া< এই মেয়ে শাড়ীটা তুমি কেন পড়েছ(অনেক রেগ) রুপা< এটাতো আমাকে ওনি পড়তে দিয়েছেন। আহিয়া< ওনিটা কে? রপা মনে মনে বলল, এই মেয়েটা এত তেরা কেন? মন চাইছে থাপরাইয়া ৩২টা দাত ফালাই দেই! নিয়ান সাহেব যে কী দেখে মেয়েটার প্রেমে পড়ল আল্লাহই জানেন। রুপা মুখে বলল, রুপা< আরে ওই যে বাথরুমে গোসল করছেন ওনি। আহিয়া< নিয়ান দিয়েছে? রুপা< হুম! আহিয়া< তো নাম বলতে পার না, ওনি ওনি করছ কেন? রুপা মুখে কিছু বলল না,, মনে মনে বলল, আমি নাম বলব না ওনি বলব সেটা আমার ব্যাপার তাতে তর বাপের কী? আহিয়া< এই মেয়ে নিয়ান তোমার কী হয়? রুপা< ওনি তো আমার ব.... রুপা কিছু বলতে যেয়ে আটকে গেল। আহিয়া< এই মেয়ে বলছ না কেন যে নিয়ান তোমার কী হয়? রুপা< ওনি আমার কী হন সেটা ওনাকেই জিজ্ঞেস কইরেন! বলেই রুপা সুপাতে গিয়ে পা দুইটা উপরে তুলে বসে পড়ল। আহিয়া ভিতরে ডুকে গিয়ে খাবার গুলা খাবার টেবিলে রাখল। । । আমি বাথরুম থেকে টাওয়াল জরিয়ে বেরিয়ে এসে চুল মুচতে মুচতে বললাম, আমি< রুপা কে এসেছে? আমি সামনে তাকিয়ে দেখলাম আহিয়া, দুইজন দুইদিকে মুখ করে বসে আছে। আমি< আহিয়া তুমি? আহিয়া< কেন আমি এসে কী অনেক বড় ভূল করে ফেললাম নাকি? আমি< আরে আমি সেটা বললাম নাকি? আমি বললাম তুমি কখন এলে? আহিয়া কিছুটা নরম হয়ে বলল, আহিয়া< এখনই এলাম, তোমাদের জন্য খাবার নিয়ে এলাম! তারপর আহিয়া রুপার দিকে তাকিয়ে বলল, এই মেয়ে তুমি অই রুমে যাও, আমার নিয়ানের সাথে কিছু পারসোনাল কথা আছে। রুপা আহিয়ার কথায় কান না দিয়ে আমার দিকে তাকাল, আমি< যাও রুমে গিয়ে বস। রুপা আমার কথায় রুমে চলে গেল। রুপা চলে যাওয়ার পর আহিয়া বলল, আহিয়া< নিয়ান এই মেয়েটা কে? আমি জানি অই মেয়েটা কখনো তোমার বউ হতে পারে না। আমি< হুম...এটা সত্যি যে ও আমার বউ না। কিন্তু ওর মধ্যে কিসের কমতি আছে যে ও আমার বউ হতে পারে না? আহিয়া< মানে কী? আমি< মানে একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়েকে এরকম ছোট করে কথা বলা ঠিক না আহিয়া। আহিয়া< আমি এখানে তোমার লেখছার শুনতে আসি নাই। তোমি বল ও যদি তোমার বউ না হয়ে থাকে তাহলে কাল এত রাতে তোমি ওর সাথে কী করছিলে? আর আজকে ওকে এখানে কেন নিয়ে আসলে? আমি আহিয়াকে কালকের ঘটনা সব খুলে বললাম। আহিয়া< সবই বুঝলাম, কিন্তু ওকে সাথে করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার কী ছিল? ওকে সাথে করে যদি বাসায় না নিয়ে যেতে, তাহলে এত কাহিনী ঘটতো না। আমি< যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন রুপাকে ঠিক মত ওর বাড়ি পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে আমার আসল কর্তব্য। আহিয়া< তো মেয়টকে কখন এখান থেকে বিদেয় করছ? আমি< আহিয়া এভাবে বলছ কেন? বিদেয় করব মানে কী? ওকে আমি নিজে গিয়ে ওর বাসায় দিয়ে আসব। কয়েকদিন যাক,, রুপার বাড়ির পরিস্থিতিটা শান্ত হোক আর রুপাও একটু পরিস্থিতি সামলে উঠুক। আহিয়া< তারমানে কী? ওই মেয়েটা এখন তোমার সাথে থাকবে? আমি< তো? তাছাড়া ত আর কোনো উপায় নাই। ওকে থাক তুমি... ওই মেয়েটাকে নিয়েই থাক যা ইচ্ছা কর তাতে আমার কী। আহিয়া হন হন করে বেড়িয়ে গেল। । । আমি রুপাকে ডাকতে লাগলাম, রুপাআআআ এই রুপাআআআ আস দুপুরের খাবার খাবে। কিন্তু রুপার কোনো সারা শব্দ পেলাম না, মেয়েটা রুমে বসে করছে কী? আমি রুমে ডুকে দেখলাম রুপা বালিশে মুখ গুজে কান্না করছে। আমি< এই রুপা কী হয়েছে তুমি কাদছ কেন? রুপা বালিশ থেকে মুখ তুলে চোখ মুছে আমার কাছে এসে আমার একটা হাত চেপে ধরে বলল, রুপা< পিল্জ আপনি আমাকে আমার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাবেন না, পারলে আমাকে জঙ্গলে রেখে আসেন, তবুও আমাকে আমার গ্রামের বাড়ি রেখে আসবেন না। আমি< কেন? তুমি তোমার গ্রামের বাড়ি যেতে চাইছ না কেন? রুপা নিজের চোখের পানি মুছে বলতে শুরু করল, রুপা< আমার বয়স যখন দশ তখন মা মারা যান, মা মারা যাওয়ার কদিন পরেই বাবা আরেকটা বিয়ে করে। বাবার অবহেলায় আর সত মার অত্যচারে আমার দিন যাচ্ছিল, অনেক কষ্টে পড়ালেখা করে সবেমাত্র SSC পাশ করেছিলাম। SSC পাশ করার পর পরই আমার সত মার আর তর সইছিল না আমাকে বাড়ি থেকে বের করার। তারপর সত মা টাকার লোভে এক বুইড়ার সাথে বিয়ে দিতে ছেয়েছিল। যেই বুইড়ারার আরও দুইটা বউ আছে। বিয়ের দিন আমি পালিয়ে আসি। তারপর আপনার সাথে দেখা। । আমি জুরে একটা নিশ্বাস ফেলে বললাম, আমি< সবই বুঝলাম। তুমি SSC তে পয়েন্ট কত পেয়েছিলে? রুপা< ৪.৫০! আমি< বাহহ..ভাল! তুমি খুব শিগ্রই কলেজে ভর্তি হচ্ছ। আর তোমাকে তোমার গ্রামের বাড়িও যেতে হবে না! কান্না থামাও। আমি হাত বাড়িয়ে রুপার চোখের পানি মুছে দিলাম। রুপা< সত্যি আমি< হুম সত্যি। রুপা হুট করে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আজ রুপা আমাকে জুড়িয়ে ধরাতে আমার ভিতরে অদ্ভুত একটা ফিলিংস জাগতে লাগল। আমার বুকের ভিতরে ধুকধুকানিটা অনেকটা বেড়ে গেল। আজ আমার এমন হচ্ছে কেন? এর আগেও তো রুপা আমাকে ভয়ে কয়েকবার জড়িয়ে ধরেছে তখন তো আমার এমনটা হয় নাই। । রুপা নিজেও জানে না যে খুশিতে কখন জড়িয়ে ধরে ফেলেছে। রুপা আমাকে ছেড়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল, সরি.. # চলবে

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.