Sponsor

banner image

recent posts

আমার সংসার

গল্পঃআমার সংসার লেখাঃনুসরাত জাহান রোদ ওয়াশরুম থেকে বেড়িয়ে আঁড়চোখে মাহির দিকে তাকাচ্ছে। মাহি জানালা ধরে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। তাই হাত দিয়ে চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছে বার বার। এদিকে রোদ ও মাহির দিকে অপলোক ভাবে তাকিয়ে হাসছে। . রোদের দিকে চোখ পড়তেই মাথায় ওড়াণাটা টেনে দিলো। রোদের হঠ্যাৎ করে এভাবে তাকিয়ে থাকাটা তার কাছে তেমন সুবিধে মনে করছেনা। . মাহি রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়বে তখুনি রোদ ডাক দিলো। মুখটা ফিরিয়ে রোদের দিকে তাকিয়ে বলে,,, -"জ্বি কিছু বলবেন? -"হুম। -"তাহলে বলে ফেলুন। -"বলছিলাম যে তোমাকে বিয়ে করে তো এখন পর্যন্ত কোন কাপড় চোপড় কিনে দেইনি। তাই ভাবছিলাম বিকালে তোমাকে নিয়ে শপিং করতে বের হবো। . . রোদের মুখে এমন কথাটা শুনে বুকের ভিতরে ঢোক গিললো মাহি। আপনি কী বললেন?? কথাটা যদি আবার বলতেন?? ভ্রু কপাল একত্রে করে,,,,,,আমি কী কথাটা আস্তে বলেছি যে তুমি শুনতে পাওনি?? মাহি ঠোঁটের উপরে ঠোঁট চেপে মুচকি হাসি দিয়ে বললো,,, -"আসলে এরকম কিছুনা। আমি কথাটা শুনেছি কিন্তু আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না যে আপনি আমাকে নিয়ে শপিং করতে বের হবেন। মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নে দেখছি। -"মাহি এত খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। তুমি তো বাসা থেকে তেমন কোন ড্রেস নিয়ে আসোনি। তার উপরে তোমার কান এবং গলায় ও কোন স্বর্নের জিনিস নেই। এখন যদি আমার কোন পরিচিত কেউ এসে পড়ে তখন তো তোমাকে দেখতে চাইবে। আর তুমি ও যাবে তাদের সাথে দেখা করতে। তখন তোমাকে এই অবস্থায় দেখলে তাদের ভিতরে কী ধারণা জন্ম নিবে একটু ভেবে দেখেছো?? . -"আপনি কী আমাকে করুণা করছেন?? আমার বাবার বাড়ির অবস্থা যেমন তারা ঠিক তেমনি ভাবে আমাকে সাজিয়ে দিয়েছে। আর শোনেন এসব স্বর্নের প্রতি আমার কখনো লোভ ছিলোনা। ছোটবেলা থেকেই জীবনের সাথে লড়াই করে বড় হয়েছি। তাই সব কিছুর অভ্যাস আমার আছে। আর আমার চিন্তা আপনাকে করতে হবেনা। আমি নিজের চিন্তা নিজেই করতে পারবো। . . মাহি আমি বিকাল ৬ টার দিকে আসবো আর এসে যেনো দেখি তুমি রেডী হয়ে আছো। আমার যেনো ওয়েট করতে না হয়। আর আমি যেটা বলি সেটাই কিন্তু করি। কথাটা যেনো মনে থাকে। . . রোদ বেড়িয়ে যেতে নিলে মাহি পিছন থেকে ডাক দিলো। রোদ মাহির দিকে তাকিয়ে বলে,, -"ডাকলে যে? কিছু বলবে?? -"আমি যেতে পারি তবে একটা শর্ত আছে?? -"কী শর্ত?? -"কালকে আমাকে বাবার বাসায় দিয়ে আসতে হবে। মনটা ছটফট করছে তাদেরকে দেখার জন্য। -"হুম। . . রোদ চলে গেলে মাথার ভিতরে শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে। পুরুষ মানুষ কী সবাই এক?? বিয়ের প্রথম রাত থেকে যে ব্যবহার করে এসেছে আজ হঠ্যাৎ করে এত ভালো হয়ে গেলো কীভাবে? কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? রোদের মা মাহিকে ডাকতে এলো। -"মাহি নাস্তা করতে টেবিলে আয়। -"জ্বি মা একটুপরে আসছি। -"একটু পরে না এখুনি আয়। কারণ নাস্তা ঠান্ডা হয়ে গেলে খেতে ভালো লাগবেনা। -"ঠিকাছে। মায়ের পিছু পিছু নাস্তার টেবিলে গেলো মাহি। টেবিলে আগে থেকেই রোদ বসে আছে। মাহিকে দেখেই পাশের চেয়ারটা টেনে দিলো। মাহি তো পুরোই অবাক। কী হচ্ছে এসব? স্বপ্নে দেখছে না তো?? রোদ তাকে বসার জন্য চেয়ার টেনে দিলো। রোদের মা বিষয়টা বুঝতে পেরে আসি বলেই চলে গেলো। মাহি রোদের পাশে গিয়ে বসলো। মাহি টেবিলের উপরে হাত রেখে অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। মাহি নাস্তা বেড়ে দাও। না হলে দেরী হয়ে যাবে। আমতা আমতা করে,,,ঠিকাছে। প্লেটে করে নাস্তা বেড়ে রোদের সামনে দিলো। -"তোমারটা বাড়বেনা?? -"আপনি খেয়ে নিন আমি পরে খাবো। -"পরে খাবে কেনো? এখুনি খাও। -"এখুনি। -"হুম। . . . মাহি তো থ.......মেরে বসে আছে। মুখ দিয়ে কোন কথা বলছেনা। -"কী হলো খাচ্ছো না কেনো?? মাহি কিছুই বুঝতে পারলো না। তারপর নাস্তা খেয়ে উঠে তাড়াতাড়ি করে নিজের রুমে ঢুকলো। কিছুক্ষণ পরে রোদ রুমে ঢুকে আলমারি খুলে শার্ট বের করলো। শার্টের হাতা কাচাতে কাচাতে বললো,,, -"আমি অফিসে যাচ্ছি ফিরে এসে তোমাকে নিয়ে মার্কেটে যাবো। মাথাটা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মোধণ করলো মাহি। রোদ চলে গেলে রোদের মা মাহির রুমে ঢুকলো। . মাকে দেখেই মাথায় ওড়াণাটা টেনে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে এলো। -মা,,,,নাস্তা করেছেন?? -"না করিনি। একটুপরে করবো। -একটুপরে কেনো এখন করে নিলেই তো পারেন। দেরীতে নাস্তা করলে তো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা করবে। -"না করবেনা। মাহি রোদকে দেখে তো অনেকটা পরিবর্তন লাগছে আজ। এত মাস পরে আজকে রোদের মুখে হাসি দেখে সত্যি আমি আনন্দিত। -"আমি ও অনেক অবাক হয়েছি। প্রথমদিনের ব্যবহারের সাথে আজকের ব্যবহারের কোন মিল নেই। -"তাই তো দেখছি। আর এসব কিছু তোর জন্যই সম্ভব হলো। . . কলি এসে দরজায় টোকা দিয়ে বলে,, আম্মা আফামনি ঘুম থেকে উঠছে। -"তুই যা আমি এখুনি আসছি। আমি যাচ্ছি মা আপনি এখানে থাকেন। মাহির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে রোদের মা। কী শুনছে সে?? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেনা। মাহি আজ নিজে থেকে মেহেতার কাছে যাওয়ার কথা বলেছে। . . . মাহি রুম থেকে বেড়িয়ে মেহেতার রুমে ঢুকলো। মেহেতাকে কোলো করে বিছানার উপরে বসলো। মেহেতা হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাসছে। হাত পা গুলো একদম ছোট ছোট। দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে। মাহি মেহেতার নাকের সাথে নাক ঘষে দিয়ে বলে,,,দেখতে তো মাসআল্লাহ। কলি রুমে ঢুকে মাহির হাতে দুধের ফিডারটা দিয়ে বলে,,,,এইডা ওরে খাওয়াইয়া দিন। ক্ষুদা লাগছে মনে হয় তাই তো ঘুম ভেঙে গেছে। কলির হাত থেকে ফিডারের বোতলটা হাতে নিয়ে মেহেতার মুখে তুলে দিতেই চুষে চুষে পুরো বোতলটাই খেয়ে নিলো। মাহি তো পুরোই অবাক। মেহেতার পেটে এত ক্ষিদে পেয়েছিলো ভাবতেই কষ্ট লাগছে। খাওয়া শেষ হলে কলির কোলে মেহেতাকে দিয়ে মাহি চলে গেলো। রুমে ঢুকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে ড্রেসিন টেবিলের উপরে রাখলো। তারপর গিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার নিয়ে বেড়িয়ে এসে ভিজা টাওয়ালটা বেলকুনিতে মেলে দিয়ে চেয়ার টেনে বসলো। . . হঠ্যাৎ তার মোবাইলটা বেজে উঠেছে। বসা ছেড়ে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে আরিতার নাম্বার। কলটা রিসিভ করে.... -আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছিস? -"ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ। তুই?? -"আলহামদুলিল্লাহ। -"মাহি আরমান এখন সুস্থ হয়েছে। গতকালকে হসপিটাল থেকে রিলিজ হলে বিকালে বাসায় এসেছে। আমি সন্ধ্যার পরে আরমান ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। আমাকে দেখেই কেঁদে দিলো। তোর বিয়ের কথা শুনে সে এতটাই কষ্ট পেয়েছে সারাদিন মন মরা হয়ে পড়ে থাকে। কিছুতেই মানতে পারছেনা তার মাহি অন্য কারো ঘরের বউ হয়ে গেছে। সে তোকে খুব বিশ্বাস করত কিন্তু তোর বিয়েটাকে সে ধোঁকা মনে করছে। আমাকে শুধু এটাই বলেছে আরিতা মাহির জন্য আমি কী না করেছি কিন্তু আমাকে এই অবস্থায় রেখে কী করে সে লাল বেনারসি শাড়ি পড়ে অন্যের ঘরের বউ হয়ে সংসার করেছে। আমার একটিবার মাহিকে জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছা করছে আমাকে ছেড়ে অন্যের ঘরে কী খুব সুখে আছে? খুব জানতে ইচ্ছা করছে। . . . আরিতার মুখে আরমানের কথাগুলো শুনে চোখদুটো জ্বলে টলটল করছে। নিশ্বাঃস ভারী হয়ে যাচ্ছে। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। বহুত কষ্টে বললো,,, আরিতা তুই চুপ করে ছিলি কেনো?? তুই কী জানিস না আমি কী ইচ্ছা করে বিয়েটা করেছি। এই বিয়েটা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে দিয়েছে। আমি আরমানকে কোনদিন ও ভুলতে পারবোনা। আরমানের ভালোবাসা আমার প্রতিটা শিরায় শিরায় বয়ে বেড়াচ্ছে। আমি এখন অন্যের ঘরের বউ কিন্তু আরমানকে আমি সেই ছোটবেলা থেকেই নিজের স্বামী হিসাবে মেনে নিয়েছি। আরমানের জায়গাটা কেউ কক্ষনো নিতে পারবেনা। কথা গুলো বলতে বলতে তার চোখের পানি ছেড়ে দিলো। আরিতা এখন রাখছি আবার পরে কথা হবে। . . . কলটা কেটে মোবাইলটা জোরে বিছানার উপরে ছুরে মারলো। তারপর হু হু করে কাঁদতে কাঁদতে বিছানার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে। মাহির হার্টবিট প্রচন্ড পরিমাণে বেড়ে যায়। স্তব্দ হয়ে যায়। মাথাটা প্রথমে চক্কর দিয়ে ওঠে। সমস্ত পৃথিবীটা চোখের সামনে উলোট পালোট হতে থাকে। মনে হয় এখন যদি সে কেঁদে না ফেলতো তাহলে বুক ফেটে মারা যেতো। মনের ভিতরে খচখচানি শুরু হয়ে গেলো। আরমান তাকে কী করে ভুল বুঝলো?? ভাবতেই পারছেনা এসব কথা। চলবে................
আমার সংসার আমার সংসার Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on জুলাই ৩১, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.