ছাত্রী থেকে বউ

ছাত্রী থেকে বউ লেখকঃমোঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপু,ঝিনাইদহ 😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😗😗 তাবিব : actually... গাড়িতে উঠো ( আমতা আমতা করে ) প্রিয়া : কেন? ( অবাক হয়ে ) তাবিব : গাড়িতে উঠো তারপর বলছি। --- তাবিব গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে প্রিয়াকে ইশারায় বসতে বলল। প্রিয়া তাবিবের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে একদৌড় দিতে লাগলো। দৌড় দেওয়ার আগে তাবিব তার হাত ধরে ফেললো,,, তাবিব : what happened...? প্রিয়া : স্যার আমি আপনার নামে পুলিশ কেস করবো। ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তাবিব : কি? ( অবাক হয়ে ) প্রিয়া : আমি জানি আপনি এখন আমাকে নিয়ে মেরে ফেলার প্লান করছেন। আপনার প্লান আমি কখনো সফল হতে দিবনা, তার আগে আপনাকে জেলে দিয়ে দিবো। তাবিব : what do you mean...?( রাগী চোখে ) প্রিয়া : কালকে শাহরিন আপনাকে সব সত্যি কথা বলে দিয়েছে। তাই এখন আপনি আমাকে নিয়ে হাত পা বেধে মেরে ফেলার প্লান করছেন। স্যার আমার স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। আমার মরার কোনো ইচ্ছা নাই, আমাকে ছেড়ে দেন please... ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তাবিব : ok fine... ছেড়ে দিচ্ছি। শাহরিন কালকে সব বলেছে, I just went to say thanks for everything... and কালকের behavior এর জন্য I'm sorry... and I'm not a murderer so chill... আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। কালকের behavior জন্য তোমাকে একটা sorry treat দিতে চাইছি that's it... ( হাতটা ছেড়ে দিয়ে ) --- প্রিয়া অবাক তাবিবের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, এনাকন্ডা এতো ভালো হলো কিভাবে? নাকি মাথায় কোন সমস্যা হয়েছে,,, প্রিয়া : স্যার আপনি ঠিক আছেন তো? তাবিব : I'm absolutely ok... ( এক গাল হেসে ) প্রিয়া : না মানে শয়তান থেকে এতো ভালো হয়ে গেলেন কিভাবে? এটাই মাথায় আসছেনা আরকি। ( আনমনে ) তাবিব : আমি মোটেওশয়তান না। তুমি আমার বোনের জন্য যেটা করেছো সেটা হয়তো আমার পক্ষেও করা সম্ভব ছিল না। আর কালকে শাহরিন না বললে সত্যিটা হয়তো কখনো জানা হতনা। প্রিয়া : মানে? শাহরিন আপনাকে বলেনি যে কালকে আপনাকে কি কি বলছি? তাবিব : না। কেন কি কি বলছো? ( ভ্রু কুচকে ) প্রিয়া : কিছুনা। ( হাসি দেওয়ার চেষ্টা করে ) তাবিব : এখন যাওয়া যাক? প্রিয়া : হুম। --- প্রিয়া গাড়িতে বসে ভাবছে, এখন যদি গন্ডারটা জানতো কালকে আমি তার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছি। তাকে কিমা বানিয়ে খাওয়ার প্লান করছি। তাহলে ট্রিটের বদলে আমাকে ফাঁসির দরিতে ঝুলিয়ে দিতো। তাবিব আড়চোখে প্রিয়াকে বারবার দেখছে আজ দেখতে ভালই লাগছে। প্রিয়া আনমনে কি যেন ভাবছে, তাবিব এতদিন খেয়াল করেছে মেয়েটা দেখতে পিচ্চি হলেও অসম্ভব সুন্দর। বড় একটা রেস্টুরেন্টে পৌছে তাবিব গাড়িটা ব্রেক করলো। দুজনে রেস্টুরেন্ট গিয়ে বসলো, তাবিব মেনুকার্ড প্রিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে অর্ডার করতে বলল। প্রিয়া তার পছন্দমত ৭-৮ টা আইটেম অর্ডার করলো। তাবিব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে এতটুকু পিচ্চি পেয়ে এতো খাবার খাবে? প্রিয়া : স্যার এভাবে কি দেখছেন? তাবিব : হুম, কই না কিছুনা। প্রিয়া : যাইহোক স্যার আজকে আপনাকে দেখতে অনেক ভাললাগছে। --- ততক্ষণে খাবার চলে এসেছে, তাবিব কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,,, তাবিব : Oh thanks... আগে কি খারাপ লাগতো নাকি? ( মুচকি হেসে ) প্রিয়া : স্যার খারাপ লাগতো বলতে, আপনি যখন শয়তান রূপ ধারন করেন তখন আপনাকে পুরাই আফ্রিকান গন্ডার আর নাইজেরিয়ান এনাকন্ডার মতো লাগে। এমনিতে আপনি জিরাফের মতো লম্বা, তার উপর মুখটা পেঁচার মতো করে রাখেন। আর রাগলে তো পুরা লাল বাদর আর মুখ পুড়া হনুমানের হয়ে যান। আর হাটাচলা তো পুরাই মহিষের মতো, সব মিলিয়ে আপনি ডাইনোসরের থেকে কম না। মাঝেমাঝে তো জলহস্তীর মতো,,, --- প্রিয়া খেতে খেতে কথাগুলো এতো জোরে বলছিল আশেপাশের মানুষগুলো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাবিব রাগের চোটে তার হাতে থাকা গ্লাস এতটাই জোরে চেপে ধরেছে গ্লাসটা ভেঙ্গে তার হাত থেকে রক্ত পরছে। গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ শুনে প্রিয়া তাবিবের দিকে তাকালো তাবিব তার দিকে আগুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। প্রিয়া রক্ত দেখে তার ব্যাগ থেকে একটা রুমাল আর এন্টিসেপটিক ক্রিম বের করে তাবিবের দিকে এগিয়ে গেলো,,, তাবিব : just leave... I can't tolerate you any more... ( দাঁতে দাঁত চেপে ) প্রিয়া : স্যার আপনার হাত থেকে রক্ত পরছে তাবিব : পরুক তাতে তোমার কি? ( রাগী গলায় ) প্রিয়া : আমার কিছুনা একদম চুপ করে বসে থাকেন। কোনো কথা বলবেন না( ধমক দিয়ে ) --- প্রিয়া তাবিবের হাত টেনে নিয়ে রুমাল দিয়ে রক্তটা মুছে এন্টিসেপটিক ক্রিমটা খুব যত্ন করে লাগিয়ে দিলো। তাবিব কেমন যেন অদ্ভুত নজরে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। তাবিবের এমন অদ্ভুত চাহনি দেখে প্রিয়া বলল,,, প্রিয়া : স্যার আমার কোন দোষ নেই আপনি জিঙ্গাসা করছেন আগে কেমন লাগতো।আমার কাছে আগে আপনাকে যেমন মনে হতো আমি তেমনি বলছি। তাতে আমার কি দোষ? স্যার কালকে কি কলেজে আমাকে কানে ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখবেন? ( করুণ গলায় ) --- তাবিব প্রিয়ার অবস্থা দেখে সব রাগ উধাও হয়ে গেলো। খুব হাসি পাচ্ছে তার,,, তাবিব : কালকেরটা কালকে ভেবে দেখবো।( বসা থেকে উঠে ) প্রিয়া : স্যার যাওয়ার আগে বিলটা মিটিয়ে যাইয়েন। আমার কাছে টাকা নাই ( অসহায়ের মতো ) তাবিব : তোমাকে কে বলল বিল দেওয়ার জন্য? ( ভ্রু কুচকে ) প্রিয়া : না মানে যদি ভাবেন যে, এই শাঁকচুন্নি মেয়েটা আমাকে এতগুলো নাম দিয়েছে তাকে আমি খাওয়াতে যাবো কেন? নিজের বিল নিজে দিবে আমি দিবনা। তাহলে রেস্টুরেন্টের মালিক আমাকে বার্গার বানিয়ে খাবে, কারন আমার কাছে বিল দেওয়ার মতো টাকা নাই। তাবিব : don't worry... তোমাকে কেউ বার্গার বানাবে না। বিল আমি paid করছি। --- তাবিব বিল মিটিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেলো সাথে প্রিয়াও। প্রিয়া রিক্সা নেয়ার জন্য রাস্তার পাশে গেলো, তাবিব এগিয়ে গিয়ে বলল,,, তাবিব : তুমি গাড়িতে না বসে এখানে কি করছো? প্রিয়া : স্যার রিক্সার জন্য। তাবিব : আমি যেহেতু নিয়ে এসেছি obviously... আমি পৌছে দিবো। তাইনা? প্রিয়া : আপনি তো এমনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না। আমি আর জীবনেও,,, --- প্রিয়া কথা শেষ না করতেই তাবিব তার হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। তাবিব গাড়ি ড্রাইভ করছে প্রিয়া পাশে চুপচাপ বসে আছে। মেয়েটা চুপচাপ থাকতে একদম ভাললাগে না। তাই তাবিব নিজ থেকে বলতে শুরু করলো,,, তাবিব : তোমার কি কি স্বপ্ন যেগুলো এখনো পূরণ হয়নি? প্রিয়া : হু,, ( তাবিবের দিকে তাকিয়ে ) তাবিব : তখন বলছিলে না, তোমার স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। সেগুলোর শুনতে চাইছি আরকি প্রিয়া : না মানে জেনে আর কি করবেন? ( আমতা আমতা করে ) তাবিব : পূরণ করার চেষ্টা করবো। after all... you are my student... প্রিয়া : না থাক আপনাকে পূরণ করতে হবে না। ( বিচলিত হয়ে ) তাবিব : তাও বলো শুনি কি স্বপ্ন? প্রিয়া : না মনে স্যার,,, বিয়ে করবো, তারপর আমার ছেলেমেয়ে হবে। তারপর তারা বড় হয়ে তাদেরকে বিয়ে দিবো তাদের বাচ্চা হবে আমার নাতি নাতনি। তাদের সাথে আমি খেলবো এই আরকি। ( মাথা নিচু করে ) --- তাবিব গাড়ি ড্রাইভ করা বন্ধ করে প্রিয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এতটুকু বয়সে কারো এমন স্বপ্ন হয় তাবিবের জানা ছিলনা। আর এই স্বপ্ন নিজে পূরণ করার কথা তাকে বলেছে, ভাবতে তাবিবের কেমন জানি লাগছে। প্রিয়ার থেকে চোখ ফিরিয়ে আবার ড্রাইভ করতে শুরু করলো। প্রিয়াকে তার বাসায় পৌছে দিয়ে তাবিব চলেগেলো। পরেরদিন কলেজে প্রিয়া তার বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। তার মধ্যে শাহরিন উঠে বলল,,, চলবে,,,?? আপনাদের মন্তব্য জানাবেন প্লিজ👏😏😏😏😏

কোনো মন্তব্য নেই for "ছাত্রী থেকে বউ"

Berlangganan via Email