Recents in Beach

ফাজিল মেয়ে

ভয়ে আমার শরির কাপছে কি হবে আমার এই মেয়ের পাল্লায় পড়লে। আমি মরতে চাই না,, এ জিন্দেগী নেহি মিলেগা দুবারা। এমন ভাবছি আর যার্মিদের বাসায় বসে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি। - এমন সময় হঠাৎ করে কেউ একজন বলে উঠলো,, আনিকা,সাদিয়া,মিথিলা,মীম এরা কারা। পুচ করেই মুখের চা গুলা স্প্রে হয়ে গেলো দেওয়ালে। সামনে দেখি যার্মি কোমরে হাত দিয়ে চোখ পাকিয়ে দারিয়ে আছে। আমি বললাম কারা ওরা আমিতো চিনিনা। চিনেন না মানে, এত্তগুলা মেয়ের সাথে টাংকি মারেন আপনি। ব্যাপার না, আজ থেকে এগুলা বাদ। নইলে, আমি বললাম থাক আর বলার দরকার নেই।যেথেষ্ট বুঝেছি আমি, আমার আর রক্ষা নেই। যার্মি এখন আর তেমন শয়তানি করে না পড়ানোর সময়। কিন্তু আমার ধারনা সে আবার ভুল প্রমান করে দিলো। আমি গত ৩ মাস যাবত চুল কাটিনা, কারন চুলে একটা স্টাইল দিমু। গতকাল চুল গুলা স্ট্রাইট করে শাইনিং করে হেব্বি স্টাইল মাইরা আইছি। বাসায় আসার পরে আম্মু আমাকে দেখেই বলল,, কই গো দেখে যাও দেখে যাও আমাদের বাসায় বান্দর এসেছে। বাবা এসে বললেন, বাহ তোরে তো একদম বান্দরের মাস্তুতো ভাই লাগছে। হারামজাদা আমাদের বংসে এমন ভাদাইমা মার্কা চুল কেউ কাটছে? বাবা এইডা ডিজিটাল জুগ, সবাই দেয় আমারো তো ইচ্ছা করে নাকি।জানো আসার সময় জরিনা আন্টি কত্ত প্রশংসা করেছে তোমার নামে। আম্মু বলল কি বলেছেরে,, নাহ আম্মু সে বলার মতো নয়। এই বলে পালিয়েছি আমি, আম্মু আব্বুকে ঝাড়ছেন 😷। ফেবুতে একটা পিক তুলে পোষ্ট দিলাম,,, আবুল মাল লিখেছেন,, আজ বড় চুল নেই ব্লে 😫😫 দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নাদিয়া লিখেছেন,, ক্রাশ খেয়েছি 😘😘 রহিমা বেগম তার বয়ফ্রেন্ড কে মেনশন দিয়ে লিখেছেন, এই তুমি এমন করে হেয়ার কাটিং দিতে পারো না,, বান্দর মার্কা স্টাইল দাও কেনো? ( হিংসা প্রকাশ করেছেন।)😳 নিউটনের নানি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে 😏,, নিউটনের নানাকে😵 এই স্টাইল যদি আগে দিতি তুই বুইড়া তাহলে তোর আমার পিছে ১০ মাস ৭ দিন ঘুরা লাগতো না🙊 ডিজে হুজুর কমেন্ট করেছেন,, আমিও দিমু ভাই,,, লিংক হপ্পে 😒😒 সুলতানা খাতুন লিখেছেন,, এই ছেলে তুমি সিঙ্গেল তো?😳 মরজিনা বেগম লিখেছেন,, ক্রাশ খেলাম তাই রাতে ডিনার না করলে ও চলবে 🙈🙊 এসব কমেন্ট দেখে চোখ দিয়ে আনন্দ অশ্র‍ু ঝরতে লাগলো। হুট করেই বলে ফেললাম,, আজ যদি চুল গুলা ফিমেইল হইতো তাহলে গর্বে গর্ববতী হয়ে যেতো। আমার অনেক শখ ৪ টা বিয়ে করবো তাই আমার রুমে ৪ টা কোল বালিশ। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই বলে উঠলাম। বাবাগো... আসলে ভয়ে বলেছি,, আমার কোল বালিশ গুলা দেখি ফাসিতে ঝুলে আছে। আম্মুকে ডাকলে লাগলাম আম্মু আম্মু আম্মু,,, কিরে! ষাড়ের মতো চিল্লাচ্ছিস কেনো? আমার রুমে কে এসেছিলো? যার্মি এসেছিলো? কেনো এসেছিলো? আজ বাদে কাল বউ হয়ে আসবে, সে আসতেই পারে৷ যা ফ্রেস হয়ে নে, নাস্তা করে আমাকে উদ্ধার করুন। টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম একটা চিরকুট,, তাতে লিখা.. এতো বড় দামড়া ছেলে ঠিক মতো লুঙ্গীই পড়তে পারোনা,, ছ্যা ছ্যা ছ্যা। এই খেয়েছেরে মান সম্মান ইজ্জত সব লুঙ্গীতেই খেয়ে নিলো রে। নিজেকে বাঙালি বলতেই লজ্জা করে, বাঙালির সেই ঐতিহ্য বাহী লুঙ্গীই যদি ঠিক মতো সামলাতে না পারি। সেদিন লুঙ্গী পড়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে এক ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছিলাম। ঠিক সেই মুহুর্তে একটা সুন্দ্রী মেয়ে আসছিলো, আর ওমনি হারামজাটা লুঙ্গী টান দিলো৷ এমনিতেই পারিনা লুঙ্গী গিট দিতে তার ওপর আবার টান, কি আর খুলে গেছে। হারামি ফ্রেন্ড তো খুলে দিয়েই দৌড়, তাতে আমার কি আমার তো তলে হাফ প্যান্ট ছিলো। এই যে আপু, চোখ খুলেন তলে হাফ প্যান্ট ছিলো। আর একটু হলেই আমার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাচ্ছিলো। ভাভাগো ভাভা কি সাংঘাতিক। যার্মির চিঠিটা পড়ে এই ঘটনা গুলো চোখে ভাসছিলো। ভাগ্যিস যার্মি কিছু দেখেনি। ভার্সিটি দেখে আসার পথে দেখি যার্মি ওর বান্ধপীদের সাহে দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখতে পেয়েই ডাক দিলো। আমি গেলাম এরপর ও কিছু বলতে যাবে এর আগেই ওর এক বান্ধুপী বলে উঠলো ভাইয়া আপনার চুল গুলাতো অনেক সুন্দর ওয়াও। ওই ছেমরি, ওইটা তোর জিজু হয়। যার্মির এমন ধমকিতে দেখি মেয়েটা বেলুনের মতো কুচকে গেছে। বাবারে বাবা গলার কি জোর রে ভাই। হুট করেই আমার হার ধরেই টানতে টাননে বলল চুপচাপ কথা না বলে আমার সাথে চলো। কথা বলেছো কি, তোমার জ্বীব্বা কেটে দিবো। একি আমাকে সেলুনের সামনে আনলো কেনো? ( পরবর্তী পর্বের জন্য সাথেই, থাকুন ধন্যবাদ। গল্পটি সম্পুর্ন কাল্পনিক, এটার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। তাই,,অযথা উল্টাপাল্টা মন্তব্য হতে বা করতে বিরত থাকুন।সম্মান দিন সম্মান নিন।) writer : Tanvir Ahmed.(মিঃলুজার )।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ