Recents in Beach

কালো মেয়েটির গল্প

লেখা <> Ni Sanvi (নূর ইসলাম সানভি) . ফোনটা হাতে নিতেই পাঁচ বছর আগের সেই পরিচিত নাম্বার থেকে কল। রিসিভ করতে করতে কলটা কেটে গেলো। মোহনা পাশ থেকে বললো তোমার যদি আমি থাকাতে কথা বলতে সম্যসা হয় তবে আমি বেলকনিতে যাই তুমি রুমে কথা বলো। তোমার কোথাও যেতে হবে না এখানেই বসে থাকো। তাছাড়া ফোনের ওপাশের মানুষটা কে সব কথাই আমি তোমাকে বলবো৷ আবার ফোনটা বেজে উঠলো..!! . -- সানভি কেমন আছো। তোমাকে আমার আজ খুব প্রয়োজন? -- আপনি কে? আমি চিনতে পারছি না! -- সানভি আমি তোমার ফাতিমা চিনতে পারছো? -- আমি ফাতিমা নামে কোনো মহিলাকে চিনি না। -- কানিজ ফাতিমা কলি এবার চিনতে পারছো? -- ফাতিমা নামে এক বেঈমানকে চিনতাম আপনি কি সে? -- আজ তুমি যাই বলো আমি সব মুখ বুঝে সহ্য করবো। -- ফাতিমা আপনি আমার কাছে অনেক আগেই মরে গেছেন। সানভি এভাবে বলো না সত্যি আজ আমি নিরুপায়। আমি তোমার বাসার নিচে একবার কি নিচে আসতে পারবা। আপনি রং নাম্বারে কল দিয়েছেন বলে কল কেটে দিলাম৷ মোহনা আমার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটো কেমন ঝাপসা দেখাচ্ছে যে কোনো সময় বৃষ্টি হবে আমি খুব ভালো করেই জানি। . মোহনা আমি জানি এখন তোমার মনে হাজারো প্রশ্ন অনেক কিছুই ভাবছো। আমি কিছুই ভাবছি না চলো ঘুমাতে যাই তবে তোমার কাছে আমার একটাই চাওয়া আমাকে কোনো দিন দূরে ঠেলে দিয়ো না। তোমাকে আমি কোনো দিন দূরে ঠেলে দিবো না। আমি যখন কলেজে পড়তাম সেই সময়ে ফাতিমার সাথে আমার পরিচয় হয়। আমি যে মাষ্টারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম ফাতিমা তার কাছে অনেক আগে থেকেই প্রাইভেট পড়তো। কলেজে তেমন কথা না হলেও প্রাইভেটে প্রায়ই আমাদের কথা হতো। এভাবে ধিরে ধিরে পরিচয় একটা সময় ভালো বন্ধুত্ত। যখন সেকেন্ড ইয়ারে উঠলাম তখন একদিন ফাতিমাকে আমার মনের কথাটা জানালাম সেও নাকি আমাকে লাভ করে অনেক আগে থেকে। ফাতিমা দেখতে অনেক সুন্দরী ছিলো তবুও কেনো যে আমার মতো একজন ছেলের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলো সেদিন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারছিলাম ইন্টার পরীক্ষার ফলাফল বের হবার দিন৷ আমার দুই সাবজেক্টে ফেল আসছিলো আর ফাতিমা এ প্লাস পেয়েছিলো। তার পরের ঘটনা খুব বেশি লম্বা নয়, ফাতিমা ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি হলো আমি মনের দুঃখে ঢাকা গার্মেন্টসে চাকরি নিলাম কিন্তু ভাগ্য আমার সহায় হলো। হঠাৎ একদিন পত্রিকায় নিউজ দেখলাম আর্মিতে লোক নিবে। আমি আবেদন করলাম আল্লাহর রহমতে আমার জবটা হয়ে গেলো। সেনাবাহিনীর চাকরি পাওয়ার পরে আমি বাড়িতে খুব কম আসতাম। এর মাঝে শুনলাম ফাতিমা ঢাকার কোনো একজন স্থানীয় ছেলেকে বিয়ে করছে। তারপর আমি আর ফাতিমার সাথে কোনো দিন যোগাযোগ করিনি। . শুনো তোমার অতীত নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। আজ থেকে তুমি আমার স্বামী এটাই সব থেকে বড় সত্য। হা আমি তোমার স্বামী আর আমার ভালোবাসা পাবার অধিকার একমাত্র তোমার। আচ্ছা শুনো ওসব ফাতিমার কেচ্ছা কাহিনী বাদ দাও। আমি যত টুকু বুঝতে পারলাম ভাবিদের মনে হয় আমাকে পছন্দ হয়নি। তবে বড় আপু ছোট আপু দুজনেই আমাকে মন থেকে মেনে নিছে। সেটা আমি তাদের মুখ দেখেই বুঝতে পারছি। ভাবিদের বিষয়টা তাহলে কি হবে। তাদের মন জয় করতে হবে। তোমাকে কিছুই করতে হবে না। তুমি আমার বাবা আর দুই আপুকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখতে পারবে না। হুম পারবো বেশ পারবো। আচ্ছা মোহনা তোমার ঠোঁটে কি যেনো পড়ছে একটু সরিয়ে দেই চোখটা বন্ধ করো। শুনো এখন দুষ্টুমি মোটেও ভালো হবে না৷ আচ্ছা তুমি কি শুধু ওই একটা কারনে আমার মতো একজন কালো মেয়েকে বিয়ে করছো। না আরো কোনো বিশেষ কারন আছে। হুম আছে আরেকটা কারন..! . আমাদের সেনাবাহিনীর সৈনিক দের একটা কমন সম্যসা হলো বউ বেশির ভাগ কাছে রাখা যায় না৷ মুল ঘটনা তাহলে শুনো আমার অফিস কলিগ আরমান ভাই বউয়ের বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা দিয়ে চাকরি নেয়। বউটা মাসআল্লাহ চাঁদের মতো সুন্দর ৷ আরমান ভাই প্রায় গল্প করতো জানো সানভি তোমার ভাবি আমাকে অসম্ভব ভালোবাসে। বলতে পারো নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালো বাসে। আমি বলতাম দেইখেন ভাই পরে যেনো ভাবী ভেগে না যায়। আপনি তো বছরের বেশির ভাগ ডিউটি করেন। তাহলে অসম্ভব ভালো বাসে বুঝলেন কিভাবে। সেটা বুঝার মতো ক্ষমতা তোমার মতো সানভির নেই। সত্যি আমার বুঝার মতো ক্ষমতা ছিলো না যেকারণে আরমান ভাইয়ের বউ হুট করে একদিন পাশের বাসার অনিক নামের স্কুল পড়ুয়া এক ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। আরমান ভাই হয়তো সেদিন আমার কথাটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলো। রুপের অহংকারে আর অবৈধ সুখ পাবার জন্য অনেক মেয়েই পরকীয়ার সম্পর্কে জরায়। তাই অনেক ভেবে চিন্তে দেখলাম রুপ যৌবন একদিন ফুরিয়ে যাবে কিন্তু কিছু ভালোবাসা অমর হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে মোহনা আমি তোমার মতো একজনকেই প্রয়োজন বোধ করছিলাম। আল্লাহ আমার আশা পূর্ণ করছে। আমার আর কিছু চাওয়ার নাই তার কাছে। মোহনাকে বুকে জরিয়ে নিয়ে সানভি বললো কি সারা জীবন ভালোবাসবে তো। মোহনা বুকে মুখ গুজে বললো মরন ছারা তোমার মাঝে থেকে আমাকে কেউ আলাদা করতে পারবে না। . #কিছুকথা :- একটি সম্পর্ক নষ্টের পিছনে বড় একটি কারন হলো কাছের মানুষটিকে অবহেলা, মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহ করা। . কাছের মানুষটির সাথে দিনের পর দিন প্রতারণা করে যাওয়া। একটা কথা হয়তো মনে আছে সবার চোরের সাত দিন গৃহস্থের একদিন। . কালো বলে কোনো মেয়েকে অবহেলা করা ঠিক নয়। কোনো এক অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে রুপোবতী মেয়ের থেকে শ্যাম বর্ণের ও কালো মেয়ে গুলো স্বামীকে ভালোবাসে বেশি। যা তাদের হৃদয় নিংরানো ভালোবাসা যে ভালোবাসার মাঝে কোনো ভেজাল নাই। তাই বলে এটা বলবো না রুপোবতী মেয়েরা স্বামীকে ভালোবাসে না। তারাও বাসে তবে শ্যাম বা কালো মেয়েদের থেকে একটু কম। সত্যি বলতে ভালোবাসাটা নির্ভর করে দুটি মনের মাঝে কতটা টান বা কাছে পাবার আকাঙ্খা সেটার উপর করে ৷ সাদা কালো মূখ্য বিষয় নয়। . স্বামী/স্ত্রী একে অপর মন থেকেভালোবাসুন, ছোট ছোট ভুল গুলো নিজেরা নিজেরা সেক্রিফাইজ কর। দেখবেন আপনার সংসারো হবে বেহেস্তের বাগিচা যেখানে থাকবে না কোনো মন কষাকষি মান অভিমান, থাকবে শুধু ভালোবাসা আর ভালবাসা । . লেখক..../ আমার লেখার মাঝে যদি কোনো ভুলত্রুটি থেকে থাকে তাহলে আপনারা ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি সমাজের এক শ্রেণির মানুষের মনের সামান্য অনুভূতি তুলে ধরার নিছোক চেষ্টা করেছি। গল্পটা থেকে আপনাদের ভালো লাগা মন্দ লাগা অনুভূতি গুলো নিচে কমেন্ড বক্সে জানাতে বিনীত অনুরোধ রইলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ