Sponsor

banner image

recent posts

প্রেমের পরশ

লেখকঃজামিয়া মেম কি ব্যপার ঘরে বসে বসে কি করছো? ” ঘরে ঢুকেই সামিহা নিরুকে প্রশ্ন করে। • “ কি আবার করবো ননদিনী, দেখতেই পাচ্ছেন বিশ্রাম নিচ্ছি। ” আসলে সামিহা কে দেখে নিরুর মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেছে। • “ তা তো দেখতেই পাচ্ছি, তা কেমন কাটছে নিউ লাইফ? ” • “ শুভ তো আমাকে অনেক হ্যাপি রেখেছে, বলতে গেলে আমার চাইতেও আমাকে বেশি ভালোবাসে।” • “ হুম বুঝলাম! তা তোমার লজ্জা লাগেনা শুভকে নাম ধরে ডাকতে?” • “ আজব তো, আমি আমার হাজবেন্ড কে নাম ধরে ডাকতেই পারি। ” • “ তুমি কি জানো? শুভ তোমার চেয়ে গুনে গুনে ৯ বছরের বড়। এইটুকু সম্মান তো দিতেই পারতে। ” • “ আমি আমার স্বামীকে সম্মান দিবো কিনা সেইটা আমার ব্যপার। ” • “ খুব ই সুন্দর ছবিটা। ” ঘরের মধ্যে শুভ আর নিরুর ছবির দিকে ইঙ্গিত করে বলে সামিহা। • “ পৃথিবীর বেষ্ট কাপল বলে কথা সুন্দর তো হবেই। ” • “ তুমি কি নিজেকে বেষ্ট ভাবো নাকি? ” • “ অযথা এই রুমে কারো আগমন শুভ পছন্দ করেনা। ” • “ তুমি আমায় অপমান করছো তাইনা। ” • “ কারো যদি মান থাকে তাহলে অপমান হবার প্রশ্ন আসে। আপনার তো সেটাও নেই। যদি মান থাকতো তাহলে আমার হাজবেন্ড কে জড়িয়ে ধরে কিস করার চেষ্টা করতে পারতেন না। ” • “ মুখ সামলিয়ে কথা বলো নিরু। ” • “ আমি নিজের চোখে দেখেছি মিস সামিহা আপু। সো প্লিজ, লিভ মি এলোন। ” সামিহা অনেক টা রাগী গলায় নিরুর রুম থেকে বের হবার সময় শুভর সাথে ধাক্কা লাগে। • “ সরি শুভ, আসলে দেখতে পাইনি। ” শুভ কিছু বলার আগেই সামিহা বলে। • “ তা চোখ মাথায় নিয়ে হাটলে ধাক্কা লাগা স্বাভাবিক, যদি কেউ ইচ্ছে করে পরপুরুষের ছোঁয়া চায় তার ক্ষেত্রে আলাদা ব্যপার। ” নিরু খুব সুন্দর করে কথা গুলো বলে। • “ নিরু, তুমি আমায় অপমান করছো কিন্তু।” • “ এতক্ষণ নিরু অপমান করেছে এখন আমি করবো, যা রুম থেকে, এই রুমে আসা সবার জন্য নিষেধ। ” সামিহা রাগ দেখিয়ে চলে যায় রুম থেকে। মনে মনে ভাবে, “ যাওয়ার আগে অশান্তি করেই যাবো নিরু। এতো তেজ আমি দেখে নিবো। ” ...... রিমি কে রাকিব বেশ ভালো ভাবেই দুর্বল করে ফেলেছে। এতদিন শুধু ফোনে কথা আর ফেসবুকে চ্যাট এর মধ্যেই সম্পর্ক টা সীমাবদ্ধ ছিলো কিন্তু এখন রাকিব রিমির সাথে দেখা করার সুযোগ চাচ্ছে। রাকিব নিজের চাওয়া টা পূরন করাএ জন্য আবারো রিমি কে ফোন দেয়, • “ এই রিমি বাবু, কি করছে আমার জান টা? ” • “ এইতো বাবু, আমিতো পড়ছিলাম, জানোই তো কিছুদিন পর ইয়ার চেঞ্জ পরীক্ষা হবে। তুমি কি করছো? ” • “ আমার বাবু টা কে মিস করছি খুব। ” • “ ওওওও তাই বুঝি। ” • “ রিমি কোন এক ভাবে ম্যানেজ করো প্লিজ। ” • “ দেখো রাকিব, আমি তোমায় ভালোবাসি কিন্তু দেখা করতে পারবোনা, জানোই তো নিরু ভাবী এখন আমার কলেজেই পড়ে। প্রতিদিন আমার সাথে একই গাড়িতে যাওয়া আসা করে। আমি ভাবীকে লুকিয়ে কিছুই করতে পারবোনা। ” • “ এইভাবে বলোনা, আমি তোমায় একটা বুদ্ধি দিই, কাজে দিবে। ” • “ কি বলো। ” রাকিব রিমিকে বুঝিয়ে দেয় কিভাবে রিমির সাথে দেখা করতে চায়। রিমিও রাজি হয়ে যায় রাকিবের সাথে দেখা করার জন্য। ...... শুভ সারাদিন ক্লান্ত হয়ে ফিরে নিরুর দুঃখ ভারাক্রান্ত মুখ দেখে নিজেও কষ্ট পেয়ে গেলো। • “ মন খারাপ কেনো নিরু? ” • “ বুঝই তো, জিজ্ঞেস কেনো করো বলো? ” • “ সামিহা তোমাকে হিংসে করে বুঝই তো পাখি। ” • “ হুম বুঝি, কিন্তু ওকে দেখলে সহ্য করতে পারিনা আমি। মনে হয় ও তোমায় কেড়ে নিবে আমার থেকে। আমি আবার অসহায় হয়ে যাবো। ” • “ আমি শুধুই তোমার পাখি। একটা গুড নিউজ আছে। ” • “ কি? ” • “ বিয়ের দুই মাস পার, হানিমুনে যেতেই পারলাম না। ” • “ হানিমুন তো প্রায়ই হয় , হিহিহি” • “ আরে পাগলী, আমি ঘুরতে যাওয়ার কথা বলছি। ” • “ সত্যিই নিয়ে যাবেন? ” খুব খুশি হয়ে শুভর গলা জড়িয়ে ধরে নিরু। • “ হুমম সত্যি মহারানী, তোমায় নিয়ে মুক্ত বাতাসে প্রাণখুলে হাসতে চাই। এই বোরিং লাইফে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ” • “ আমরা কবে যাচ্ছি? ” • “ সামনের সপ্তাহে ই। ” • “ আর রিমির কি হবে? ” • “ আমি ওর ব্যবস্থা করে রেখেছি। ” নিরু এতো পরিমাণ খুশি হয় যে শুভর পিঠে লাফিয়ে চড়ে গলা জড়িয়ে ধরে। শুভ এমন পাগলী বউ পেয়ে যতটা খুশি তার চেয়ে বেশি ভাগ্যবান মনে করে নিজেকে। শুভর রাগ, অল্প কয়েকদিনের মাঝেই ভালোবাসায় রুপান্তরিত করে নিয়েছে নিরু। ডিনারের টেবিলে শুভ ওদের বেড়াতে যাবার কথা সবাইকে জানায়, • “ ঘুরতে যাওয়া মানেই টাকা নষ্ট ছাড়া কিছুই না। ” শুভর খালা বলেন। • “ মনে হচ্ছে তোমার কাছে টাকা গুলি চেয়েছি আমি? ” • “ না তা চাসনি, দুলাভাই এর অফিস থেকেই তো যাচ্ছে। ” • “ আমার ছেলে, ছেলের বউ কি করবে তা তোমাকে ঠিক করে দিতে হবেনা শ্যালিকা। ” হাহাহা • “ আহহ দুলাভাই, আমি তো মজা করছি। এতো সিরিয়াসলি নিচ্ছো কেনো? ” • “ আমি জানিরে, সামিহার জন্য তুই শুভকে চয়েস করতিস। কিন্তু বিয়েটা ভাগ্যের ব্যপার। ভুল বুঝিস না বোন আমার। ” শুভর মা বোন কে কথা গুলি বলে। • “ নাহ দিদি, ভুল বুঝবো কেনো বলো। আসলেই আমার মেয়েটার ভাগ্য টাই খারাপ। ” মন খারাপ করে কথাটা বলে। • শুভ প্রতিউত্তরে বলে “ তোমার মেয়ের ভাগ্য খারাপ না, স্বভাব খারাপ। তাই এমন হয়েছে ওর সাথে। ” নিরু মনে মনে বেশ খুশি হয় শুভর এমন ব্যবহারের জন্য। শুভ সব কিছু প্লান করে, কুয়াকাটা যাবে ঠিক করে। শুভ নিজে ড্রাইভ করে নিয়ে যাওয়ার প্লান করে। এতে পুরো টা সময় দুজন দুজনের কাছাকাছি থাকতে পারবে। ওরা শুক্রবার সকাল সকাল রেডি হয় বেড়াতে যাবার উদ্দেশ্যে। নিরুকে আজ শুভ ইচ্ছে মতো সাজিয়েছে। সাদা রঙ এর লং সিল্কের গাউন এর সাথে পিংক কালারের ওড়না। চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে ফুলিয়ে আটকিয়ে দিয়েছে। কানের পাশের চুলগুলো ছেড়ে রেখেছে। সিলভার আর পিংক কালারের মিশ্রণের ম্যাচিং গয়না পড়িয়েছে। হাত ভর্তি ম্যাচিং চুড়ি, স্বর্নের আংটি তে সিলভার স্টোন বসানো ডিজাইন করা। উঁচু হিল পড়িয়েছে নিরুকে আজ। চোখে কাজল আঁকিয়ে দিয়েছে শুভ। ঠোঁট এমনিতেই পিংক তাও পিংক কালারের লিপস্টিক লাগিয়ে দিয়েছে। নিরু এমনিতেই অনেক ফরসা, মেকআপ লাগেনা। সব মিলিয়ে অপ্সরীর মতো লাগছে নিরুকে। আর শুভ ব্লু শার্টের সাথে ব্লু জিন্স, ব্লাক সু, রিস্ট ওয়াচ, সানগ্লাস পড়েছে আর চুলগুলো জেল দিয়ে স্টাইল করে সাজিয়েছে। দুজনকে একসাথে দেখে শুভর মা বলে, • “ দেখে তো রাজকুমার আর রানীর মতো লাগছে, নজর যেন না লাগে। দেখেশুনে ভালোভাবে যাস। ” • “ ভাবী ঘুরতে যাচ্ছো যাও আশার সময় আমার গিফট চাই। ” মনে মনে খুব খুশি হয় রিমি। কারণ রিমিকে সব সময় নিরু গাইড দেয় । এখন রিমি ইচ্ছেমত রাকিবের সাথে ডেট করতে পারবে। • “ ভালোভাবে ফিরে আসিস বোন। ” রুবি নিরুকে জড়িয়ে ধরে কথাটা বলে। • “ দোয়া করি, সব সময় হাসিখুশি থাকবে তোমরা দুজন। ” শুভর বাবা বলেন। শুভ সবাইকে সালাম দিয়ে বিদায় নেয়। শুভ ড্রাইভিং করছে আর নিরু ওর পাশের সিটে বসে আছে। রাতের বেলা বিপদ হতে পারে রাস্তায় তাই দিনের যাত্রা শুভর কাছে শুভ মনে হয়েছে। • “ কি ব্যপার, চুপচাপ আছো যে? ” • “ আসলে এক্সাইটমেন্ট এতো বেশি, মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সকালে যখন আপনি আমায় সাজাচ্ছিলেন, মনে হচ্ছিলো আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ। আর এখন এতো ভালো লাগছে, চারিদিকের সৌন্দর্য আমাকে উতলা করে দিচ্ছে। এমন অনুভূতি আগে হয়নি আমার। ” • “ এর জন্য নিশ্চয়ই আমার উপহার আছে। ” • “ কি উপহার স্যার। ” • “ তোমার ঠোঁটের অধিকার। ” নিরু লজ্জায় মুখ নিচু করে নেয়। শুভ একটা গান প্লে করে, মোর প্রিয়া হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।। কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা হংস –সারির দুলানো মালিকা বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।। জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায় রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়। আমার গানের সাত সুর দিয়া তোমার বাসর রচিব প্রিয়া। তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।। গানের সুরে, চারিদিকের পরিবেশ এ নিরু আর শুভ বেশ উপভোগ করছে, গাড়ি ছুটে চলেছে গন্তব্য স্থলের দিকে। চলবে.........
প্রেমের পরশ প্রেমের পরশ Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on জুলাই ৩১, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.