Recents in Beach

পূর্নতা

ঘঠনাটা ছিলো আজ থেকে ছয় বছর আগে,,,,,,, . যখন আমি ইন্টারে পড়তাম,,,,,,,,,জান্নাতও আমার সাথে একসাথে পড়তো একই কলেজে,,,,,,,,তাকে দেখে আমার অসম্ভব ভালো লেগে যাই,,,,তার সাথে বন্ধুত্ত করি,,,একসময় সেটা ভালোবাসায় রুপ নেয়,,,,,,,জান্নাতরা অনেক বড়োলোক ছিলো,,,,,,,তার বাবার কোম্পানি,বাড়ি গাড়ি সব আছে,,,,তাদের তুলনায় আমি কিচ্ছু নয়,,,তবুও জান্নাত আমাকে ভালো বাসত,,,,,,,,ইন্টার এক্সাম দেওয়ার পর আমরা কোর্ট ম্যারেজ করে ফেলি,,,,,,,,,,জান্নাতের জোরাজোরিতে করতে বাধ্য হই আমি,,এর পর ভার্সিটিতে ভর্তি হই আমারা,,কেউ জানত না যে আমরা বিয়ে করছি,,তিনমাস যাওয়ার পর জান্নাত আমাকে ভয়ংকর এক দুসংবাদ দেয় ,,,তার বাবা নাকি তাকে লন্ডনে পড়াশুনা করাবেন,,,জান্নাত আমাকে তাকে ভুলে যেতে বলে,,সে দিন আমি তাকে অনেক বুঝালাম,,তার হাত পা ধরে কান্না করছিলাম আমাকে যাতে ছেড়ে না যায় ,,কিন্তু সে তার ব্যাগ থেকে একটা ডিবোর্স পেপার বের করে আমার দিকে ছুড়ে মারে,,আর বলে দেয় নেক্সট টাইম তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফল খুব খারাপ হবে,,আমি পুরোপুরিভাবে ভেঙ্গে পরি,,নিজেকে অনেক কষ্টে সান্তনা দিয়ে লেখাপড়ায় আবার মনোযোগ দেইই,,,,..আর আজ এভাবে সেই বিশ্বাসঘাতকের সাথে দেখা হবে ভাবতে পারি নি,,,,,,, . এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে বাসায় চলে আসলাম টেরই পেলাম,,বাসায় শুধু আমার মা আর বোন থাকে,,বাবা মারা যায়ওয়ার পর সংসারটা আমাকেই দেখতেই হচ্ছে,,,সেজন্য চাকরির উদ্দেশ্যে আজ যাওয়া,,,,যেয়ে এতো বড় সারপ্রাইজ পাবো ভাবতে পারি নি,,,, . কি ববা তোর চাকরি হয়ে হয়েছে?(মা) . হুমমমম,,,,মা,,,তোমার ছেলের চাকরি হয়েছে,,(আমি) . আমি শুনে খুব খুশি হলাম রে বাজান,,,কিন্তু তোরে এতো অস্হির লাগছে কেনো?(মা) . কিছু না মা,,তুমি খাবার রেডি করো খুব ক্ষিদে পেয়েছে আমার,,, . মা আর কিছু বললো না ,,,আমার জন্য খাবার আনতে চলে গেলো,,,, . আমি খাবার খেয়ে রুমে শুয়ে আছি,,,আর ভাবতেছি যাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি তার সাথে আমি কিভাবে জব করবো? আমার খুব কষ্ট হবে জান্নাতকে দেখলে,,,,কারন সে আগের চেয়েও অনেক সুন্দর হয়ে গেছে,,যে কেউ দেখলে তার উপর ক্রাশ খেয়ে যাবে,,আমি ত ছয় বছর আগেই খেয়ে গেছি,,যার ফল এখন হাড়ে হড়ে টের পাচ্ছি,,,জান্নাত ইচ্ছা করেই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে আমি জানি,,কিন্তু কেনো? আমিও মন শক্ত করে নিছি,,,এখন আর কারো জন্য তেমন কষ্ট হয় না,,,, . . . পরের দিন সকাল বেলা রেডি হয়ে অফিস চলে গেলা‌ম,,আজ আমার চাকরির প্রথম দিন,,,,,মনে মনে খুব খুশি লাগছে আবার রাগ ও দুঃখও পাচ্ছি,,,, . অফিসে যাওয়ার পর দেখি সবাই আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে,,,,,অফিসে কলিগরা সবাই আমার সাথে পরিচিত হচ্ছে,,সবাই বলাবলি করতেছে উনি জান্নাত মেডামের Parsonal Secretary ,,সবার সাথে পরিচিত হলাম,,এর মাঝে একজন মেয়ে কলিগ এসে আমাকে বলতে লাগলো,,,হাই আমি সাহরিকা কম্পিউটার অপরেটর,,,আপনি চাইলে আমার সাথে বন্ধুত্ব করতে পারেন,,, . আমি কিছু না বলে চুপ করে আছি,,,, . মেয়েটা আবার বলতে শুরু করলো,,,,,, . আসলে আমিই এমন ,,একটু বেশিই কথা বলি,,,,,আপনি কিছু মনে করবেন না,,,,আপনাকে আমার ভালো লেগেছে তাই বললাম,,,,,,,,(সাহরিকা) ‌. . ভালো সবাইকে লাগতে পারে,,কিন্তু অফিসের ভিতর না,,,,,,, . কথাটা শুনে আমি আর সাহরিকা চমকে উঠি,,পিছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি,,,,,, . জান্নাত রাগি লুক নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে,,মনে হচ্ছে কত বড়ই না অপরাধ করে পেলেছি,,,,,, . না মানে ম্যাডাম আমি কথাটি ওইভাবে বলতে চায় নি,,(সাহরিকা) . ইটস ওকে তুমি তোমার কাছে মনোযোগ দাও,,,আর এই যে মিঃ নোমান আপনি আমার কেবিনে আসুন(জান্নাত) . জান্নাতের পিছে পিছে তার কেবিনে গেলাম,,,সেখানে গিয়ে দেখি নতুন আরেকটা কেবিন,,,,আর তাতে আমার নাম লিখা,,,বুঝতে আর বাকি রইল না এটা আমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে,,,,,, . মিঃ নোমান আজ থেকে তুমি এই কেবিনে বসবে,,,,,(জান্নাত) . জি ম্যাম ,,,,,(আমি) . তুমি চাইলে আমার নাম ধরে ডাকতে পারো,,আমি কিছু মনে করবো না(জান্নাত) . কি বলেন ম্যাম? আমি ত একজন সামান্য চাকরিজিবী আপনার আন্ডারে কাজ করি,,মালিক কে কি কেউ কখনো নাম ধরে ডাকতে পারে?(আমি) . আমি বলছি তাই ডাকবে,,,(জান্নাত) . সরি ম্যাম আমি পারবো না(আমি) . জান্নাত আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে ছিলো,,আজ তাকে অনেক সুন্দর লাগতেছে,,,নীল শাড়ি পড়ে এসেছে,,একদম নীল পরির মতো,,,তার চোখ দুটো আগের মতোই টানা টানা,,,চোখের দিকে তাকালে মনে হবে যেনো হারিয়ে,,,,,,,,,,,, . আমি তার দিকে একবার তাকিয়ে আবার নিচের দিকে তাকিয়ে আছি,,,,, . অহ্ ভালো কথা,,,তুমি সাহরিকার সাথে কিসের কথা বলেছো? আজ অফিস জয়েন হতে না হতে তার সাথে ভাব জমিয়ে ফেলেছো দেখছি,,,(জান্নাত) . নাহ্,,,,ম্যাম আসলে আপনি যা ভাবছেন তেমন কিছু নয়,,,(আমি) ‌. হুমমমম,,,কোনো মেয়ে কলিগের সাথে বেশি কথা বলবে না,,,কথা বলতে মন চাইলে আমি আছি ,,,আমার সাথে সব শেয়ার করতে পারো,,,,(জান্নাত) . আমি মাথা নাড়ালাম,,, . এরপর কয়েকজন সিনিয়র অফিসার এসে আমাকে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছে,,,আমিও আমার নিত্যদিনের কাজ বুঝে নিলাম,,, . লাঞ্ছ টাইমে আমি কেন্টিনে গিয়ে হাজির হলাম,,সবাই সবার ফ্রেন্ডদের সাথে একসাথে বসে লাঞ্ছ করছে,,আমি একা একটি টেবিলে বসে লাঞ্ছ করতেছি,,এমন সময় সাহরিকা হুট করে কোথা থেকে এসে আমার পাশে বসে পড়লো,,,,,, . আরে আপনি একা বসে আছেন কেনো? আমাকে ডাক দিলেও ত পারতেন,,,,,,,বাই দা বে,,,,আপনি কেন্টিনের খাবার নিয়েছেন? . হুমমমম,,,,,(আমি) . আপনি চাইলে কাল থেকে আমি নিজের হাতে আপনার জন্য খাবার বানিয়ে নিয়ে আসবো,,,,,(সাহরিকা) . ধন্যবাদ,,,সরি ,লাগবে না(আমি) . কিন্তু কেনো হা? আপনি আমাকে ফ্রেন্ড ভাবেন না? জানেন এই অফিসের কেউ আমার সাথে ভালোবাবে কথা বলে না,,সবাই কাজে ব্যাস্ত ,,ভেবেছিলাম আপনি যেহুতু নতুন আপনার সাথে বন্ধুত্ব করবো,,কিন্তু আপনি কেমন জানি আমাকে এড়িয়ে এড়িয়ে চলছেন,,,আচ্ছা ভালো থাকবেন আর কক্ষনো বিরক্ত করবো না,,,,এই বলে সাহরিকা উঠে যাচ্ছে,,,,, . . আমি তার হাত ধরে আবার বসিয়ে দিলাম,,,,,,,,,,সাহরিকার মুখে হাসি ফুটে উঠলো,,মেয়েটা আসলে একটা পাগলি,,,,, . ধন্যবাদ আপনাকে,,,আমার সঙ্গ দেওয়ার জন্য,,,, . আপনি খুশি হয়েছেন?(আমি) . এই আপনি করে বলছেন কেনো?হুমমমম তুমি করে বলবেন আমাকে ভালো লাগবে,,,,, . আচ্ছা তুমিই করে বলবো,,হ্যাপি?(আমি) . হুমমমম ,,অনেক হ্যাপি,,,,,, . . এই জান্নাত এসে আমাদের টেবিলে হাজির,,,রাগি লুক নিয়ে বলতে শুরু করলো,,, . চারদিকে তাকিয়ে দেখুন মিঃ নোমান,,,, . আমি চারদিকে তাকিয়ে দেখি,,যে একটা কলিগও নেই,,সবার খাওয়া শেষ,,শুধু আমি আর সাহরিকা ছাড়া,,, . শুধু গল্প করলে হবে? লাঞ্ছ টাইম ত অভার হয়ে গেছে,,(জান্নাত) . সাহরিকা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে আছে,,,, . সরি মেম,,আসলে আমি লক্ষ্যই করে নি,,, . গল্প করলে কিভাবে লক্ষ করবেন,,,লাঞ্ছ করা লাগবে না তোমার,,আর এই যে সাহরিকা তুমি লাঞ্ছ করে তাড়াতাড়ি কাজে মনোযোগ দও,,,,, . জান্নাত আমাকে তার সাথে করে নিয়ে গেলো,,,,,,,দুর ভালো লাগে না,,প্যারার উপর প্যারা,,,,, . তার কেবিনে গিয়ে দেখি আমার জন্য খাবার রেডি করা,,,, . নাও এগুলো খেয়ে নাএ,,নিজের হাতে বানিয়েছি আমি,,,,জানি তোমার খুব প্রিয় খাবার এটা,,,,(জান্নাত) . সরি,,মেম আমি খাবো না,,,,, ‌. রেগে গিয়ে আমাকে বলতে শুরু করলো,,,,, . ওইই সাহরিকার সাথে খুব ত ভালোই গল্প শুরু করে দিছো,,,,তার হাতের খাবার খুব ভালো লাগে তাই না??? তাহলে আমি কে? আমার হাতের খাবার তোমাকে খেতেই হবে(জান্নাত) . আপনি কিন্তু একটু বেশিই বলে ফেলছেন,,চাকরি করে দেখি আপনি আমার উপর যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না(আমি) . আমার সম্পূর্ন অধিকার তোমার উপর আছে,,,,আর তুমি ভালো করেই জানো আমি যা চাই তাই পাই,,,,,,,,,কোনো কিছু না ফেলে সেটা ছিনিয়ে নেই,,তাই চুপচাপ খেয়ে নাও,,,,(জান্নাত) . ভয় দেখাচ্ছেন(আমি) . ভয় দেখাচ্ছি না ,,,,আমি আমার বরের উপর অধিকার ফলাচ্ছি,,,(জান্নাত) . কে আপনার বর?আর কিসের বর?(জান্নাত) . কিছু না,,তুমি খেয়ে নাও,,,তোমার,প্রচুর ক্ষিদে লাগছে আমি জানি (জান্নাত) . চলবে....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ