Sponsor

banner image

recent posts

পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা 2019

মোঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ প্রথম শ্রেণির এক পিচ্চি মেয়ে এসে বললো, নিন চকলেট খান। আমি জানি, সম্পর্কে আপনি আমার ভাশুড় হবেন। . মনে হলো আমাকে কেউ ফ্রিজ থেকে মাত্র বের করেছে। আমি বরফ হয়ে গেছি, কোনো নড়াচড়া নেই। স্বাভাবিক হয়ে বললাম, তা বাবু আমি তোমার ভাশুড় হলাম কীভাবে? পিচ্চি বললো, এ মা, আপনার ছোট ভাই আমাকে বিয়ে করলে আপনি আমার ভাশুড় হবেন না। আমি বললাম, ও আচ্ছা, ছোট ভাই! তার মানে তুমি রোহান কে পছন্দ করো? পিচ্চি লজ্জা, লজ্জা ভাব এনে বললো, পছন্দের পর্বতো অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন তো আমরা একে অপর কে। আমি অবাক হয়ে বললাম, একে অপর কে কী? পিচ্চি বললো, কী যে বলেন! আপনাকে এসব বলা যায়, লজ্জা লাগে তো। আমি অবস্থা উথাল পাতাল দেখে বললাম, আচ্ছা লজ্জা যেহেতু লাগছে, তাহলে থাক, বলতে হবেনা। তুমি এখানে বসো, তোমার সাথে একটু কথা বলি। পিচ্চি বললো, বেঞ্চটি অনেক উঁচু, উঠতে পারছিনা। একটু উঠিয়ে দেন। . আচ্ছা এবার বলতো বাবু, তোমার নাম কী? পিচ্চি বললো, আমার নাম রিমি। আমি বললাম, তুমি থাকো কথাই? রিমি বললো, নীমতলি, পুলিশ কোয়াটারে। আমি হকচকিয়ে গিয়ে বললাম, তু, তু, তুমি, পুলিশের মেয়ে। রিমি বললো, হ্যাঁ আমার বাবা পুলিশ। আমি অস্পষ্ট ভাবে বললাম, হায়রে ছোট মিয়া আর কোনো মেয়ে পেলিনা! রিমি বললো, কিছু বললেন? আমি বললাম, না কিছু না। আচ্ছা রিমি একটা কথা বলতো, তোমাদের পরিক্ষা না তিনঘন্টা, তোমার দুই ঘন্টার মধ্যে পরিক্ষা দেওয়া শেষ হলো কীভাবে? তাছাড়া রোহানের পরিক্ষা তো এখনো শেষ হয়নি। রিমি বললো, আমিতো ইচ্ছে করে তাড়াতাড়ি লিখা শেষ করে, রোহান কে খাতা দিয়ে এসেছি। এখন রোহান লিখছে, ওর লিখা শেষ হলে, তবেই তো আসবে। আমি একরকম আতংকিত হয়ে রিমির দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর রিমি বললো, এই যে ভাশুড়, দেখুন না। জুতোর ফিতে খুলে গেছে, একটু ঠিক করে দিনতো। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, হ্যাঁ দিচ্ছি। আচ্ছা রিমি, তোমাকে নিতে আসে কে? রিমি বললো, আমাকে আমার আম্মু নিতে আসে। আম্মু ব্যাস্ত থাকলে আপু নিতে আসে। আমি বললাম, হুম, ভালো। কিছু খাবে রিমি, কিনে দিবো? রিমি বললো, না কিছু খাবোনা। সকাল থেকে অনেক কিছু খেয়েছি, রোহান কিনে দিয়েছিলো। ক্যাটবেরী খেতে ইচ্ছে করছিলো না, তাইতো আপনাকে দিলাম। আমি আহাম্মকের ভঙ্গিতে বললাম, এই ক্যাটবেরী তোমাকে রোহান কিনে দিয়েছে? রিমি স্বাভাবিকই ভাবেই বললো, হ্যাঁ রোহান তো আমাকে অনেক কিছু কিনে দেয়। আইসক্রিম, জুস, চকলেট অনেক কিছু। এজন্যই তো রোহান কে আমি এতো ভালোবাসি। . রিমি ভালোবাসি বলেই দু'হাত দিয়ে চেহারা আড়াল করলো। বিষয়টি এমন যে, কথাটি বলে রিমি খুব লজ্জা পেয়েছে। এবার বুঝতে পারছি। বাবার ম্যানিব্যাগ থেকে একশত টাকা নিলে। বাবা কেনো, আমার দুইশত টাকা কে নিয়েছে বলে চিল্লাচিল্লি করে। হায়রে মতিউর সাহেব! আপনার দুই ছেলে, দুটোই চোর বের হলো। কী আর করবেন, সবই আপনার কপালের দোষ। . সমাপ্ত। . গল্প: পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা লিখা:মোঃআসাদ
পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা 2019 পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা 2019 Reviewed by শেষ গল্পের সেই ছেলেটি on জুলাই ১৯, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.