গল্পটা আমার

গল্পটা আমার #পর্ব-১ ডিভোর্সের পর এই প্রথম ওকে দেখলাম। আগের মতই আছে। ভেবেছিলাম আর কখনোই ওকে দেখব না। কিংবা দেখলেও চোখ ফিরিয়ে নিব। কিন্তু পারি নি। আমি পারি নি। রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখলাম ও ওর বন্ধুর সাথে গল্প করতে করতে হেটে যাচ্ছে। হাত নেড়ে নেড়ে কি যেন বলছে। মুখ ভর্তি হাসি। কয়েক সেকেন্ড লেগেছে ওর আমাকে পার হতে। কিন্তু এই কয়েক মুহূর্তে আমি আমাকে দ্বিতীয় বার হারিয়ে ফেললাম। আমি এক সেকেন্ডের জন্য চোখ সরাতে পারি নি... অবশ্য সেই চেষ্টা ও করিনি। বহু বছরের জমানো শক্তির পাহাড় আজ ধসে গেছে। আজ অনুভব করতে পারছি কতটা ভালোবাসা লুকানো ছিল ওর জন্য। কিরে তানশি এইভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? অনন্যার ডাকে আমার ঘোর ভাঙলো। ওকে বললাম "কই কিছু না তো" অনন্যা বলল, -মিথ্যা বলছিস কেন? -সত্য শুনে খুব খুশি হবি? -Enough তানশি, its been 5 years. You have to forget him. -হুম। চল -চল মানে? তুই আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস কেন? -এড়িয়ে যাচ্ছি না। এই বিষয়ে কিছু বলতেও চাচ্ছি না আর। আমি চাই না তুইও আমাকে কিছু বলিস এই নিয়ে। -ok fine. বলব না। অনন্যার বিয়েতে এসেছি। ওর সাথেই বাহিরে গেয়েছিলাম শপিং এ। ভাবি নি অয়ন এর সাথে দেখা হয়ে যাবে। অনন্যার বাসা ভর্তি মেহমান। ওকে বলেছিলাম আমি আসব না। ও এমন জোর করলো, না এসে পারলাম না। একটা রুম ও এখন খালি নেই। আমার মাথা প্রচণ্ড ব্যাথা করছে। একটু একা থাকতে চাই এই মুহূর্তে। ছাদে চলে এলাম। পড়ন্ত বিকেলে চারিদিকে আলো নিভু নিভু করছে। কখন নামবে আঁধার? একটু নিজেকে লুকাতে পারতাম যদি? অয়ন কি আমাকে দেখে নি? একবারও দেখলো না? আগে তো আমি আশেপাশে থাকলেও আমার উপস্থিতি টের পেয়ে যেত। আজ পেল না কেন? আমি কি করে টের পেলাম যে ও পাশে দিয়ে হেটে যাচ্ছে, এত-শত মানুষের ভীরে? পারছি না। এই মুহূর্তে কিছুই মাথায় আসছে না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। ফোন বেজে উঠলো। মা কল করেছে -হ্যালো -হুম বল, মা। -কেমন আছিস মা, সব ঠিক তো? -হ্যা আমি ভাল আছি। সব ঠিক আছে। -সত্য বলছিস তো মা? -মা, আমার মাথা ব্যথা করছে খুব, তোমাকে পরে কল দিব। কল কেটে দিলাম। অফিস থেকে ৪দিনের ছুটি ম্যানেজ করছি। ভেবেছিলাম অনন্যার সাথে সময় কাটাতে পারব। এখন মনে হচ্ছে বিরাট ভুল হয়েছে, আসা ঊচিত হয় নি। আযান দিচ্ছে, বাসায় যাওয়া দরকার। পেছনে ফিরেই ভূত দেথার মত চমকে উঠলাম। আমি ছাদের রেলিং এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পেছনে টানকির উপর থেকে কেউ তাকিয়ে আছে টের পাই নি। আমি একবার তাকালাম। আজব তো!! লোকটা এখনো তাকিয়ে আছে আমার দিকে। Manner বলতে কিছু নেই নাকি? ধুর বাসায় যাই... দিনটাই খারাপ। বাসায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। দেখলাম লোকাটাও নামছে উপর থেকে, আমি একটু দ্রুত হাটতে লাগলাম। আঊ... সামনে একটা ইট ছিল খেয়াল ই করি নি। হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম। লোকটা নেমে আমাকে এই অবস্থায় দেখে হেটে চলে গেল। অদ্ভুত তো!!! আমার মনে হলো উনি মিটি মিটি হাসছে। পা অনেকখানি কেটে গেছে, রক্ত ও যাচ্ছে। উঠে দাঁড়াতে গিয়ে টের পেলাম ভালোই ব্যাথা পেয়েছি। হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। কোনোভাবে বাসায় গেলাম। দরজা খুলেই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। সোফায় ঐ লোকটা বসে আছে। আমাকে এই অবস্থায় দেখে অনন্যা দৌড়ে এলো। -কিরে তোর কি হইছে? -তেমন কিছু না। সামান্য ব্যাথা। -চুপ কর তো তুই। ভেতরে আয়। তোর পা থেকে রক্ত যাচ্ছে। ব্যান্ডেজ করতে হবে। তাড়াতাড়ি আয়। যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম লোকটা কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। আচ্ছা উনার প্রব্লেমটা কি। আমাকে এইভাবে দেখছে কেন? ভেতরে গেলাম। অনন্যা পায়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। খাটে শুয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছি। কালকে অনন্যার গায়ে হলুদ সবাই এখন থেকেই মহা ব্যস্ত। হঠাৎ ফোনে মেসেজ আসল, *ব্যাথা কি বেশি পেয়েছ?* আমি জানি না নম্বর টা কার। তবুও বুঝতে বাকি রইলা না কে হতে পারে। -এই অনন্যা.. -হুম বল -সামনের রুমে বসে আছে যে লোকটা কে? -কার কথা বলছিস? ওখানে তো অনেকেই ছিল। -ওই যে সাদা টি-শার্ট পড়া উনি? -আচ্ছা, তুই রিহানের কথা বলছিস? -ও আমার কাজিন। -আগে তো কখনো দেখি নি? -ওরা ঢাকা থাকে। ছোট খালামনির ছেলে।আগে কখনো আসে নি এখানে। তোকে বলেছিলাম না ছোট খালুর সাথে বাবার ঝামেলা হওয়ার পর থেকে কখনো আমাদের বাসায় আসে নি। আমার বিয়ে উপলক্ষেই রাগ ভাঙানো হয়েছে। তবে রিহানের সাথে আমার কথা আগেও হত। পড়ালেখা শেষ ওর। জব করে এখন। বেচারা ছুটি পায় না মোটেও। আমার জন্য ছুটি নিয়ে আসছে অনেক কষ্টে। তাও মাত্র ২দিনের -হুম বুজছি। -তুই ওর কথা জিজ্ঞাস করলি কেন? -এমনি আগে দেখি নি তো, তাই -ও আচ্ছা। অনন্যার সাথে গল্প করছিলাম এর মধ্যে সব মহিলারা এসে ঢুকলো রুমে। আসলে আমি ওদের আত্মীয়-স্বজন কাউকেই চিনিনা। তার উপর আমি সহজে সবার সাথে মিশতেও পারি না। তাই এক কোণে বসে রইলাম চুপ-চাপ। একটু পর আবার মেসেজ আসল, *এত চুপ করে থাক কেন তুমি ?* আশ্চর্য তো, সমস্যাটা কি এই ছেলের? সে অনন্যার ছোট ভাই। আমি ওর কম করে হলেও ৩বছরের বড়। কি বুঝে আমাকে তুমি করে বলছে? আর মেসেজ ই বা দিচ্ছে কেন? আমি রিপ্লে দিলাম না। ভাবলাম হয়ত একসময় ও নিজেই দেয়া বন্ধ করে দিবে। সবাই চিল্লা-চিল্লি করছে। কালকে কোন রঙের শাড়ি পড়বে, কোন চুড়ি..কানের দুল...হাবিজাবি। উফফ আর পারছি না এখানে থাকতে। আবারো মেসেজ এলো.. *তোমার মুখে বিরক্তি মানায় না।* একদম বেশি হচ্ছে এইবার। কি বলা দরকার ওকে? যাইহোক আপাতত এখান থেকে যাওয়া দরকার। উঠে গেলাম। পাশের রুমগুলো ও খালি নেই... কি করি? কোথায় যাই? ছাদেই গেলাম... আমার মনে হচ্ছে এত গুলো বছর পরো আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি? কত দিন পারব এইভাবে পালিয়ে বেড়াতে? আকাশে কি সুন্দর চাঁদ আজ। চারিদিকে জৎস্নার আলো। আর ভীষণ আলোকিত চারপাশ। ফোনটা শব্দ করে ঊঠল। উফফ আবার মেসেজ। *তুমি কি জানো তোমার চোখের কোণে জমে থাকা পানির বিন্দু গুলো চাঁদের আলোতে মুক্তোর মত লাগে?* নাহ আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, এই ছেলে আমার পিছে পিছে আসছে এখানে?? পাশ ফিরে দেখি এই দিকে তাকিয়ে আছে... আমি এতটাই অন্যমনস্ক ছিলাম যে খেয়াল ই করিনি কখন আসছে ও। আমি বললাম, এমন কেন করছো তুমি? অকারণে আমাকে মেসেজ দিচ্ছ কেন? রিহানের ঠোটের কোণে হাল্কা হাসি, ও এখনো মিটি মিটি হাসছে। প্রচণ্ড রাগ লাগছে আমার। ফাজিল নাকি ছেলে টা, উত্তর দিচ্ছে না। আবার হাসছে। আমি আবার বললাম, সমস্যা টা কি তোমার? উত্তর দাও না কেন? কি হলো বুঝলাম না। সোজা হেটে চলে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। পাগল নাকি ছেলেটা? ৫মিনিট পর মেসেজ এলো, *এত রাগ কর কেনো তুমি?* চলবে... 😍😍😍😍মোঃআসাদ রহমান😍😍😍😍 😍😍😍কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ😍😍😍

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.