Sponsor

banner image

recent posts

গল্পটা ছিলো কিছুটা অন্যরকম

গল্পটা ছিলো কিছুটা অন্যরকম...... প্রায় 6 মাস আগের কথা...ফেসবুকে একটা আইডি খুলেছিলাম(গৃহীত গল্প) নাম দিয়ে।তো ভালই যাচ্ছিলো দিনগুলো..মাঝে মাঝে নিজে দুই একটা গল্প লিখতাম আর কিছু গল্প কপি করতাম এইভাবে আইডিটা চলছিল। -যা হোক সাত থেকে আট দিন পরে হঠাৎ করে খেয়াল করলাম একটা মেয়ে আইডি থেকে একটা মেসেজ এসেছে।মেসেজ টা এক্সেপ্ট করলাম এবং মেসেজের রিপ্লাই করলাম।তখন মেয়েটি হয়তো লাইনে ছিল।এটা ভাগ্যবশত।সে ও মেসেজের রিপ্লে করতে শুরু করলো এভাবে দুই দিন মোটামুটি কথা হল। -এক পর্যায়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম... সে আমাকে চিনে কি না?কেননা আমি অপরিচিতদের সঙ্গে খুব কমই কথা বলতাম।সে বলল,, না ..সে আমাকে চেনে না। কিন্তু আমার আইডিতে যে গল্পগুলো আছে সে গল্প গুলো তার ভালো লেগেছে তাই সে আমাকে এসএমএস করেছে। তখন আমি একটা হাসির রিয়েক্ট দিয়ে বললাম,,গল্প গুলো তো আমি লিখি নাই ওগুলা তো কপি করে নেওয়া ছিল।আমি যে দু- একটা গল্প লিখতাম তাও তাকে স্বীকার করিনি।কেননা জানতাম মেয়েরা এই লাভ স্টোরি গল্প গুলো পড়ে মনে করেন হয়তো লেখক ও এতটা রোমান্টিক..গল্পের মতোই!! -কিন্তু আমার মনে হয় অধিকাংশ লেখকেরাই রিলেশন করেন না।কারন লেখকেরা কল্পনা করতে ভালোবাসেন,বাস্তবতাটা খুবই কম উল্লেখ করেন। যাহোক এ প্রসঙ্গে আর কথা বাড়ালাম না।তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম শুধু গল্প পড়েই কি আমাকে এসএমএস করেছেন তাও আবার কপি করা গল্প!! তাহলে হয়তো ভুল জায়গায় এসএমএস করেছেন। তখন সে বলল,সে যাই হোক আপনি গল্প গুলা কপি করেন বা নিজেই লেখেন গল্পগুলো আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে তাই আপনাকে এসএমএস করলাম ভাবলাম এই কপি করা লিংকটা হয়তো নিতে পারবো। আমি বললাম ব্যাপারটা এমন নয়।ওয়েবসাইট ঘাঁটতে ঘাঁটতে যে গল্পটা ভালো লাগে সেটাই কপি করে এখানে পোস্ট দিয়ে দেই। এখন কি করে আপনাকে সবগুলা গল্পের লিংক দেই? - সে বলল হ্যাঁ তাও তো ঠিক তবে একটা কাজ করলে তো পেতে পারি আপনার প্রোফাইল টা ভিজিট করলে তো সব সময় নতুন গল্প পাবো আপনি যদি কপি করে দেন তাএ তো এখান থেকে পড়তে পারব। -আমি বললাম হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক বলেছেন।তবে ভুলেও মনে করবেন না এই গল্প গুলার লেখক আমি।কেননা এতটা রোমান্টিক গল্প লেখার সামর্থ্য আমার এখনো হয়নি। - কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে সে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলো,, বন্ধু হতে চাই!! -আমি আর না করলাম না। বন্ধু আমার ভালই লাগে।পরিচিত-অপরিচিত অনেক বন্ধু আমার।বন্ধুর পরিনাম এতটাই বেশি ছিল যে,কখনও রিলেশনের প্রয়োজন পড়েনি।এছাড়াও অনেক ছেলেমেয়ে-অপরিচিত বন্ধু ছিল।তবে পরিচিত হওয়ার পরই তাদের সাথে কথা বলতাম। -বন্ধুত্ব ঠিকই করেছিলাম কিন্তু এই মেয়েটার বন্ধুত্বটা একটু বেশিই ছিলো।সবসময় আমার খোঁজ নিতো।কি খেয়েছি,কি পরেছি বা কি পরব। -সত্যি বলতে অগোছালো আমাকে ও গোছালো করেছিলো।এমনিতেই আল্লাহ ততটা হ্যান্ডসাম চেহারা দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরন করেননি তবে শুকরিয়া যে,ভালো একটা ভাগ্য দিয়ে পাঠিয়েছেন।অতি সহজেই সবার সাথে পরিচিত হতে পারি। -অনেকদিন আমাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কটা চলছিলো।বন্ধুত্বটাও হয়তো অতিক্রম করেছিলো। -কখনো কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়নি কিন্তু এই মেয়েটার কথা আমার কাছে একটু অন্য রকমই লাগতো।সব সময় যেন আমার কানে বাজতো। তবু বন্ধুত্বের খাতিরে আমি বিষয়টা লুকিয়ে রাখতাম।কিছুই বুঝতে দিতাম না।আর কিই বা বুঝতে দিতাম হয়তো আমি ওর প্রতি দুর্বল ছিলাম।ব্যাপারটা আমার কাছে ঠিক মনে হতো না কেননা আমার কাছে বন্ধুত্ব টাই বড় ছিল। -এভাবে চলতে থাকলো আরো কিছুদিন। আমার সঙ্গে অনেক কথা হত,আমার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত,সব কিছু জিজ্ঞেস করত আর আমি বলতাম।বলব ই বা না কেন কেননা ইতিমধ্যে সে আমার খুব কাছের বন্ধু হয়ে উঠেছে।আমার বিপদ-আপদ সুখ-দুঃখ সব খবরই তাকে বলতাম।জানিনা কেন বলতাম!! নতুন কোন গল্প লিখতে শুরু করলে তা বলতে হতো..না হলে হয়তো গল্পের শুরুটাই করতে পারতাম না। -অবস্থাটা এমন ছিল।জানিনা দিন দিন আমি গল্প লেখা হয়তো ভুলে যাচ্ছিলাম।সত্যি বলতে গল্পের কল্পনাটা ওকে ঘিরেই ছিলো।আমার অনেক গল্পের নায়িকার নামটা ওর নামই ছিলো।গল্পগুলো পড়ে ও ভীষন আনন্দ পেত আর মেসেজ করে উৎসাহ দিত। -- --গল্পটা অনেকটা লিখে ফেললাম কিন্তু মেয়েটার নামটাই এখনও বলা হলোনা...ওর নাম(অনন্যা)। ভালোই চলছিল।ওর কথার মাঝেও যেন একটা মায়া ছিল। অন্যরকম একটা যাদু ছিলো।তবে এত কিছুর পরেও আমাদের বন্ধুত্বটা ঠিক ছিলো। -একদিন হঠাৎ করে ওর আইডি থেজে একটি মেসেজ আসলো।মেসেজটাতে ওর বিয়ের কথা লিখে জানিয়েছে।আমি কিছুটা শক্ খেলাম কেননা হঠাৎ করে এমন একটি মেসেজ ওর কাছ থেকে আশা করিনি। তাছাড়া হয়তো অনেকটা দুর্বল ছিলাম ওর প্রতি...তাই ওর বিয়ের কথা শুনে আমার বুকে কিছুটা ব্যাথা হয়েছিলো।অদৃশ্য একটা ব্যাথা।আমি মেসেজটা দেখে অনেকক্ষন নিরব ছিলাম কোনো রিপ্লে করেছিলাম না। - কিছুক্ষণ পরে আর একটি মেসেজ আসলো। ....মেসেজটিতে অনুগ্রহপূর্বক ও আমাকে ওর বিয়েতে দাওয়াত করেছে। ব্যাথাটা আরো একটু বেড়ে গেলো।কিন্তু কেন এতো অজানা ভয়,কিসের ভয়। ফেসবুকে ওর সাথে পরিচয়,আমিতো ওকে দেখিনি পর্যন্ত।তবে ওর মায়াতে যে আমি গেঁথে গেছি এটা নিশ্চিত। -কি হবে এই মায়া দিয়ে যে মায়াটা শুধু দুঃখ বাড়াবে তার থেকে মায়াটা কাঁটিয়ে ফেলাই ভালো।তাই আমি শুধু শুধু আর মায়া বাড়াতে চাইলাম।বন্ধুত্বের জয়টাই বরন করলাম।বিয়ের দাওয়াত গ্রহন করলাম এবং বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার আশ্বাস দিলাম। -কিন্তু ওর কাছ থেকে ওর সম্পর্কে ততটা শুনিনি আর নাতো এখন পর্যন্ত ওর কোনো পিকচার আমি দেখেছি তবুও কেনো যেন দাওয়াতটা গ্রহন করলাম।তবে ওর গ্রামটা ছিল যশোরে।গ্রামটার নাম আমার ঠিক মনে নাই!! -আমার বাড়ি ও খুলনাতে তাই দুরত্বটা খুব একটা বেশি ছিল না। যাই হোক বিয়ের দিন নিকটবর্তী হচ্ছিলো। আমি যাওয়ার জন্য রেডী হচ্ছিলাম। গায়ে হলুদের ঠিক 2 দিন আগে রওনা দেওয়ার কথা ছিল।কথা অনুযায়ী দুই দিন আগে রওনা দিচ্ছিলাম।কেননা ও খুব আন্তরিকতার সাথে আমাকে দাওয়াত করেছিল। -তারপরেও সব সময় জানতে চাই তো আমি সত্যিই যাব কিনা!!বিশ্বাস হচ্ছিল না যে,আমি যাব।অবশ্য বিশ্বাস না হওয়ার বিশেষ কারন ছিলো আমি ওর সম্পর্কে তেমন কিছুই জানিনা তাই যাওয়াটা আমার জন্য ঝুকিপূর্ন ছিল।তবুও বন্ধুত্বের টানে আমি রওনা করলাম। -প্রায় 6 ঘন্টা জার্নি এর পর আমি পৌছালাম ওর গ্রামের বাজারে। পৌঁছানোর পর আমি ওকে ফোন দিলাম কিন্তু ফোন রিসিভ করছিলো না।আমি কিছুটা ভীত হলাম। অনেকবার ফোন দিলাম কিন্তু রিসিভ করলনা।অবশেষে ভাবলাম হয়তো ফোনটা রিসিভ করবে না। -তাই শেষ আশা ছেড়ে দিয়ে ফিরে আসার চিন্তা করলাম। তখন পিছন থেকে কেউ ঘাড়ে হাত দিল।পিছন ফিরে দেখলাম 25-30 বছর বয়সের একজন যুবক আমার পিছনে দাঁড়িয়ে। -তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন আমি আকিব কি না?! আমি তাকে বললাম,, হ্যাঁ আমি আকিব।তখন তিনি আমাকে বললেন চলো আমার সাথে।বললাম কোথায় যাব?? তিনি বললেন আগে তো চলো। কিছুটা ভয় পেলাম তবুও তার সাথে চললাম। -কেননা মুরুব্বিদের মুখে শুনেছি যশোর জায়গাটা খুব একটা ভালো নয়।।এখানে দিনের বেলাও রাস্তায় লাশ পড়ে থাকে।ডাকাতের ভয়ে নাকি দিনের বেলাও বাইরে বের হতে ভয় পায়। 2য় পার্ট খুব শীঘ্রই পোস্ট করা হবে........... ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।।।
গল্পটা ছিলো কিছুটা অন্যরকম গল্পটা ছিলো কিছুটা অন্যরকম Reviewed by MD ASAD RAHMAN on জুন ০৬, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.