আলোর পথে

#আলোর পথে ২য় পার্ট লেখকঃ মোঃআসাদ রহমান অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে অর্পার মায়ের মুখটা বেশ গম্ভীর হয়ে গেল।অর্পার বেপারে এমন কথা শুনে তার ক...

#আলোর পথে ২য় পার্ট লেখকঃ মোঃআসাদ রহমান অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে অর্পার মায়ের মুখটা বেশ গম্ভীর হয়ে গেল।অর্পার বেপারে এমন কথা শুনে তার কিছুটা রাগও হল।তবুও তিনি নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে হাসি মুখেই ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসল।বেড়িয়ে আসার আগে ডাক্তার কিছু ঔষধ এর কথা লিখে একটা ছোট কাগজ ধরিয়ে দিলেন অর্পার হাতে। অর্পা নিজের প্যাগনেন্ট এর কথা শুনার পর থেকেই কিছুটা ভয় পেয়ে মুখটা কালো হয়ে গেছে।সে ভাবছে বাসায় গিয়ে মা বাবা ভাইকে কি জবাব দিবে সে। নিলয়কে এত করে বলার পরও সে বলছিল প্যাগনেন্ট এর বেপারে কোন চিন্তা নাই।কিন্তু আজ কি থেকে কি হয়ে গেল। তাহলে কি সেদিনের বমিটা এই প্যাগনেন্ট এর কারনেই হয়েছিল।কি জবাব দিবে নিজের পরিবারকে, নিলয় কি তাকে এগুলা জানার পর বিয়ে করতে রাজি হবে। হায় আল্লাহ এ আমি কি করে ফেললাম।ভালবাসার মানুষটিকে তার ভালবাসার পরিক্ষা দিতে গিয়ে আজ আমার এই অবস্থা। কি করব এখন আমি,এখন যদি নিলয় আমাকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে তো আত্নহত্যার পথ ছাড়া আর কিছুই করার পথ নেই আমার কাছে।এরকম আরও অনেক কিছুই ভাবতে থাকে অর্পা। এসব ভাবতেই অর্পার চোখে পানি চলে আসে।মা কে কিছু বুঝতে না দিয়ে কোন রকম চোখ মুখ মুছে মায়ের সাথে বাসায় ফিরে আসে। । । । বাসায় আসতেই অর্পার মা অর্পার বাবাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলে উঠে--কই গো,শুনছ তুমি।তোমার মেয়ে তো আমাদের মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিল। অর্পার মায়ের এমন চিৎকার শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আসল অর্পার বাবা আর অর্পার ভাই নিরব। ----কি হইছে এমনভাবে চেচ্চাছো কেন?কি করছে কি আমার মেয়ে! ---- কি করছে শুনতে চাও।তোমার মেয়ে প্যাগনেন্ট , কার বাচ্চার মা হতে চলেছে তাই জিজ্ঞেস কর তোমার মেয়েকে? অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে বাবা হতবাক হয়ে অর্পার দিকে তাকিয়ে রইল। অর্পা তাৎক্ষণিক দৌড়ে এসে বাবাকে জরিয়ে ধরে--বাবা আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ।আমি না জেনেবুঝে এমন কাজ করেছি।আমাকে তোমরা ভুল বুঝ না, বলেই বাবার বুকে মাথা রেখে কান্না শুরু করে দিল অর্পা। বাবা কিছু বলতে যেয়েও অর্পার কান্নার ফলে কিছুই বলতে পারলেন না তিনি। মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন---এইরকম একটা কাজ তুই কি করে করতে পাড়লি মা?এখন তর কি হবে, কে তোকে এসব জেনেশুনে বিয়ে করবে? অর্পা কিছু না বলে বাবার বুকে মুখ গুজে নিঃশব্দে কান্না করতে লাগল। ----- কি রে মা,কিছু তো বল।এমন করে চুপচাপ থাকলে আমরা কি করব বলতো তুই!তারচেয়ে ভাল বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলি,কি বলিস তুই? অর্পা বাবার কথায় কিছুটা চমকে উঠে, বাবাকে ছেড়ে দিয়ে বলল --- না বাবা এমন কাজ আমি করতে পারব না!ও যে আমাদের ভালবাসার ফসল।আমাদের ভুলের কারনে আমরা তো ওকে মেরে ফেলতে পারি না তাই না?আমি যে ওর মা, আমি মা হয়ে কি করে আমার সন্তানকে মেরে ফেলব বাবা? বাবা কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন---- তাহলে এখন কি হবে তোর!কি হবে তোর ভবিষ্যৎ এর,আমি কখনওই তর কাছে থেকে এমন কিছু আশা করিনি! অর্পা শান্ত স্বরে বলল--- তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না বাবা,আমি নিলয়কে বুঝিয়ে সবকিছু বললে নিশ্চিয় নিলয় রাজি হয়ে যাবে। আমার গর্ভে নিলয়ের সন্তান জানলে নিলয় অনেক খুশি হবে।তুমি দেখ বাবা আমি নিলয় কে বুঝিয়ে বললে ও কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে! ------ কিন্তু এই নিলয় কে?আমি তো এই নিলয়কে ঠিক চিনলাম না! অর্পা খানিকটা হেঁসে উত্তর দিল---নিলয় আমাকে খুব ভালবাসে।আমাকে ছাড়া একদম কিছু ভাবতে পারে না।ও খুব ভাল ছেলে!আমার গর্ভে নিলয়েরই সন্তান।আমাদের পাশের এলাকাই থাকে। কিছুদিন আগেই লেখাপড়া শেষ করে একটা কোম্পানিতে ভাল একটা পদে চাকরি পেয়েছে নিলয়।বেতনও খুব ভাল। তুমি আর চিন্তা করো না,নিলয় রাতে অফিস থেকে বাসায় আসলেই, আমি নিলয়কে সবকিছু বুঝিয়ে বললেই সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবে! অর্পার বাবা স্লান হেসে অর্পার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে রুমে চলে গেলেন।তার পিছুপিছু অর্পার মাও রুমে চলে গেল। এতক্ষণ তাদের পাশে দাড়িয়েই অর্পার সব কথা শুনল অর্পার বড় ভাই নিরব। বোনকে সে খুব বেশিই ভালবাসে।এখন অর্পার বেপার নিয়ে সে চিন্তিত মনে হচ্ছে। কোথাও একটা ভয় কাজ করছে নিরবের মনে,সাথে পুরনো এক কথাও মনে পড়ে গেল নিরবের।চিন্তিত মনেই অর্পার সাথে কোন কথা না বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল সে। । । রাতে অর্পা খেতে না চাইলেও বড়ভাইয়ের জুরাজুরিতে খেতে বাধ্য হল সে!জাস্ট বড় ভাইয়ের কথা রাখতেই কিছুটা খেয়েই রুম্র চলে আসল অর্পা।কেন জানি খুব চিন্তা হচ্ছে। , রাত প্রায় ১২ টা ছুঁই ছুঁই, ঠিক তখনি অর্পা ফোন দিল নিলয়কে। ------হ্যালো কে? ------ কিহ,তুমি আমার নাম্বার চিনতে পারছ না।আমি অর্পা, তোমার অর্পা। ------ ওহ,অফিসের কিছু কাজ করছিলাম তো, তাই মোবাইলের নাম্বারের দিকে খেয়াল করতে পারিনি।তা এত রাতে কেন ফোন দিছ? ------ কেন আমি কি তোমাকে ফোন দিতে পারিনা? ------ আমি কি তাই বলছি?কখনওই তো এত রাতে ফোন দেও না তাই বললাম!তা কি জন্য ফোন দিছ সেটা বল!কাল অফিসের মিটিং আছে,আমাকে জরুরী কিছু কাজ করতে হবে। নিলয়ের কথায় অর্পা মন খারাপ হয়ে গেলেও তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল---- নিলয় আমি প্যাগনেন্ট! আমার গর্ভে তোমার আমার ভালবাসার ফসল!আমাকে নিয়ে এখন বাবা মা অনেক চিন্তায় আছে।আমি তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছি, তুমি আমকে বিয়ে করবে,কিছুদিন এর মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে আমার বাসায়! ওপাশে নিলয় নিশ্চুপ।কোন কথাই বলছে না সে! নিলয়ের নিশ্চুপ থাকার ফলে অর্পার বুকে ধুক ধুক শব্দ হতে লাগল----- কি হল নিলয়,কিছু বলছ না যে!তুমি কি আমাকে মেনে নিবে না,আমাদের ভালবাসাকে, আমাদের সন্তানকে স্বীকৃতি দিবে না,আমাকে বিয়ে করবে না? নিলয় কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলল--- দেখ অর্পা এখন আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়।আমার পরিবার কিছুতেই এসব জানার পর তোমাকে মেনে নিবে না,,আর তোমার গর্ভের সন্তান যে আমার তার কি প্রমান আছে?ওটা তো অন্য কারও সন্তানও হতে পারে? নিলয়ের কথা শুনে অর্পার বুকের ধুক ধুক শব্দের পরিমান আরও বেরে গেল,মনের অজান্তেই চোখের লোনাজল গড়িয়ে পরতে লাগল,তবুও কান্নাভেজা কন্ঠে বলতে লাগল---- এসব কি বলছ নিলয়? তুমি না আমাকে ভালবাস?তুমিনা সেদিন বলছিলে তোমার প্রোমোশন হলেই আমাকে বউ করে ঘরে তুলবে? আর তুমি তো আমাকে খুব বেশিই বিশ্বাস করতে,,তাহলে কি সেসব কথাই মিথ্যে ছিল? নিলয় অর্পার কথায় নিশ্চুপ। অর্পা এবার আর কান্না থামাতে না পেরে বলল---প্লিজ নিলয় আমাদের ভালবাসাকে,আমাদের ভালবাসার ফসলকে এভাবে অপমান করো না।আমি যে বাবা মাকে বড় মুখ করেই বলেছি যে,তুমি আমাকে বিয়ে করে তোমার ঘরে তুলে নিবে।তারা যে এখন সেই আশায়ই আছে।এখন তুমি আমাকে বিয়ে না করলে যে আমার আত্নহত্যার পথ ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকবে না।প্লিজ তুমি এমন করো না আমার সাথে,আমি যে তোমাকে বড্ড বেশিই ভালবাসি,অর্পার আর কিছু না বলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল। অর্পার মুখে আত্নহত্যার কথা শুনে নিলয়ের বুকের বা পাশে কেমন জানি একটা চিনচিন ব্যাথ্যার অনুভুটি শুরু হল,------ দেখ অর্পা আমি এখন তোমার কথা রাখতে পারব না।কিন্তু তোমাকে এটা বলি যে,নিজের ইচ্চায় নিজেকে শেষ করে দিও না।আত্নহত্যা করে মারা যেয়ে কেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।তাই এই কাজটা ভুলেও করতে যেও না,ওকে। আর কিছু না বলেই নিলয় ফোন কেটে দিল। অর্পার কথায় কিছূটা মন খারাপ হলেও, তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,---ধুর কি না কি ভাবছি আমি।যা হবার তা হবেই।এসব ভাবলে যে আমার কোন কাজই পরিপূর্ন ভাবে হবে না। তবুও নিলয়ের ভাললাগছে অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে। তাই নিজের ডান হাত ঝাঁকিয়ে খুশি মনেই বলে উঠল, ""ইয়েসসসসস""। পরক্ষনেই অরিনের কথা মনে পরতেই আবারও মন খারাপ হয়ে গেল নিলয়ের। মাথা নিচু করেই পুরানো কিছু কথা ভেবেই চুপচাপ চোখের জল ফেলতে লাগল নিলয়। , , , সেদিন অফিস শেষে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিল নিলয়।হঠাৎ করে কেও একজন এসে রিকশা থামিয়ে পা জরিয়ে ধরে কান্না করে দিল। নিলয় তাকে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে না না চেনার ভান করে বলল---- একি কে আপনি!আর এভাবে আমার পা জড়িয়ে ধরে আছেন কেন?পা ছাড়ুন বলছি! -----না আমি আপনার পা ছাড়ব না ভাই, আগে বল তুমি আমার বোনকে বিয়ে করবে? ----- কি আবোলতাবোল বলছেন,কাকে বিয়ে করব কে আপনি? ----- আমি অর্পার ভাই নিরব।তুমি আমার বোনকে বিয়ে কর প্লিজ ভাই।আমি তোমার পায়ে ধরে বলছি! ----- কিন্তু আপনি আমাদের বেপারে জানলেন কি করে? ------ গতকাল রাতে যখন তোমার আর অর্পার কথা হয় তখন আমি অর্পার রুমের পাশে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনেছি।তারপর অর্পার কাছে থেকে সব জেনে তোমার কাছে আসলাম।আমার একমাত্র আদরের বোনকে এভাবে কষ্ট দিও না ভাই।তুমি অর্পাকে বিয়ে করে গ্রহন করে নেও। নিরবের কথা শুনে ত নিলয় খুশিতে আত্নহারা।নিলয় হা হা করে বিজয়ী হাসি দিয়ে বলল--+ হা হা, বিয়ে করব আমি,তাও আবার তোর ওই নষ্টা বোনকে। নিলয়ের মুখে তুই শুনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নিরব। -----অরিনের কথা মনে আছে মিস্টার নিরব। আজ এত বছর পর অরিনের নাম শুনেই চমকে উঠল নিরব😇😇😇😇😇😇😇 চলবে........................................???

COMMENTS

নাম

৭ টি বিভাগের ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে,1,এডমিন নোটিশ,2,কবিতা,13,কষ্ট ও ভালবাসা,26,জীবনধারা,8,ঝিনাইদহ জেলা,28,ফটো গ্যালারী,1,বাস্তব কাহিনী,32,ভালোবাসা গল্প,132,মাইন্ড হ্যাকিং,24,লাভ মেসেজ,9,শিক্ষণীয় গল্প,17,হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে,6,Entertaiment,92,Islam,5,
ltr
item
MD ASAD RAHMAN : আলোর পথে
আলোর পথে
MD ASAD RAHMAN
https://www.asadrahman.xyz/2019/06/blog-post_35.html
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/2019/06/blog-post_35.html
true
3383293187171369634
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy