Recents in Beach

বেঁচে থাকুক ভালোবাসা পুরাটাই বাস্তব

বেঁচে থাকুক ভালোবাসা পুরাটাই বাস্তব লেখাঃ #আসাদ বাবা কাঁদছো কেন? -কই কাঁদছি নাতো। পাগল ছেলে। - বাবা তোমার কান্না দেখে আমারো খুব কান্না পাচ্ছে, বলনা বাবা কি হয়েছে? স্পর্শ কাঁদতে কাঁদতে ছেলেকে বলল, আজ তার জীবনের একটা বিশেষ দিন, এই দিনেই তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে চিরোবিদায় দিয়ে চলে যায়। সে তার ছেলেকে বলতে শুরু করল। তখন খুব ছোটো আমি। বিয়ে কি জিনিশ বুঝতামনা। বয়স ৮/৯ হবে। আমার বাবা তার ছোট ভাইয়ের মেয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করলেন। তখন মেয়েটিও অনেক ছোটো। সবে আধো আধো কথা বলা শিখেছে। ওই মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হলো। কাজি সাহেব আমাকে কবুল বলতে বললেই আমি। এক নিশ্বাসে ৩বার কবুল বলে ফেললাম। তখন বুঝতামনা এটার মানে কি। মেয়েটি মানে যার সাথে আমার বিয়ে হল নিহাল, তার কবুল বলতে অনেক সময় লেগেছিল। কিছুতেই বলতে পারছিলনা পরে নিহালের নানু মেয়েটিকে কবুল বলানোর জন্য অনেক কিছু করল। তারপর সে আধো আধো বোলে কবুল বলে ছিল। এরপর থেকে পাড়ার সবাই আমাকে নিহালের জামাই বলেই ডাকতো। আমার নামটা আস্তে আস্তে অকেজো হয়ে গেল। ও যেহেতু আমার চাচার মেয়ে সেহেতু দুই পরিবার একই সাথে থাকতাম। নিহালের সাথে খেলা খেলতাম। ওর সাথে খেলা খেলেই আমার পুরাটা সময় পার হয়ে যেতো। আস্তে আস্তে দুজনেই বড় হতে লাগলাম। নিহালকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হল। আর আমি স্কুলে যাবার আগে অকেও স্কুলে দিয়ে আসতাম। ও আমার সাথে ছাড়া যেতো না। এমনকি আমার হাতে ছাড়া খেতো না পর্যন্ত। এই নিয়ে পাড়ার মানুষেরা ঠাট্টা তামাসা করতো। নিহাল যখন ক্লা ফাইভে আমি তখন ক্লাস এইটে। আস্তে আস্তে ও আমার থেকে দূরে সরে যেতে লাগল। আমার সাথে খেলতনা। স্কুলে যেতোনা। এমনকি আমি ওর সামনে থাকলে খেতও না। এর বেশ কিছুদিন পর ওরা শহরে চলে গেল। আর আমরা গ্রামেই রয়ে গেলাম। আমি প্রায় কিছুদিন পর পরি ওদের বাসায় যেতাম। ও আমাকে দেখে দরজা লাগিয়ে রাখতো। যতক্ষণ আমি না যেতাম ততক্ষণ দরজা খুলতোনা। তখন আমার খুব কষ্ট হতো। জানিনা কেন? হয়ত ওকে আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তখন আমি বুঝতাম ভালোবাসা কি? বউ কি? এরপর আমার আর লেখা পড়া হলোনা ক্লাস নাইনেই ইতি টেনে দিলাম। কেননা ওকে ছাড়া আমার স্কুলে যেতে ভালোলাগত না। কিছুইনা। এভাবেই দু বছর কেটে গেল। আমি নিহাল কে চিঠি লিখতাম। চিঠির উত্তর কখনো পাইনি। সেযুগে এতো ফোন ছিলনা। তাই নানান ছন্দে ওকে আমি চিঠি লিখতাম। ওর উত্তর না পেয়ে আমি প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেলাম। আবার ওর কাছে ছুটে গেলাম ও আমার আসার কথা শুনেই এলাকার কারো একজনের বাসায় লুকিয়ে পড়ল। সারাদিনেও ওর দেখা পেলাম না। এরপর নিহালের বাবা আর আমার বাবা যুক্তি করে আমাকে বাহিরে পাঠিয়ে দিলেন। তারা মনে করলেন বাহির থেকে ফিরে এলে হয়ত আমাদের সম্পর্ক্টা ঠিক হয়ে যাবে। আর নিহাল ও বুঝতে পাড়বে। যে আমি ওর জামাই। আমি বিদেশ থেকে ৩বছরের মাথায় চলে এলাম। ওর জন্য অনেক গহনা এনে ছিলাম। ভাবলাম ওকে এবার বউ করে ঘরে নিয়ে যাবো। ছোট্ট একটা সংসার পাতবো। যেদিন আমি ওর সাথে দেখা করার জন্য ওদের এলাকাতে মানে শহরে ছুটে এলাম। ও আমার সাথে দেখা করতে চাইলো না। কিন্তু সবার জোরাজুরিতে দেখা করেছিল। আমি ওকে সব কিছু দিলাম ওর জন্য যা যা এনেছিলাম। তখন ও আমাকে বলল, আপনি আরো কয়েকবছর বিদেশ করে আসুন। তাহলে আমার এস. এস. সি পরিক্ষাটাও হয়ে যাবে। আমি ওর কথামতো আবারো সৌদিআরব চলে আসলাম। ওদের এলাকার একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। যার সাথে কথা হয় সে নিহালের মামাতো ভাই। ও আমাকে জানালো নিহাল ওর ভাইয়ের বন্ধু আরিয়ানের সাথে একটা সম্পর্কে জড়িয়েছে। আরিয়ান ওর ভাইয়ের সাথে ওদের বাসায় সন্ধ্যায় পড়তে আসতো। একথা আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। আমি ভেবেছিলাম হয়ত মিথ্যে বলছে। কিন্তু যখন আমি আবার দেশে ফিরে আসলাম। তখন আমি নিজেই জানতে পারলাম। আমি ওর আব্বু, আম্মু, মামা, মামির হাত ধরে খুব কেঁদেছিলাম। এর দুদিন পর নিহালের আব্বু মানে আমার চাচা নিহাল কে একরকম জোর করেই আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিল। ও আমার বাসায় কয়েকমাস ছিল। কিন্তু আমাদের ভিতরে কখনো স্বামী, স্ত্রীরির সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এর ভিতরে নিহাল যেই ছেলেটির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। ও মাঝে মাঝে আসতো। আর চিঠি দিয়ে যেতো । আরিয়ান মানে নিহালের প্রেমিক আমার ভাবিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছিল। সে এসবের কিছুই জানায়নি। আমার পরিবারকে। একদিন একটা চিঠি আমি পেয়েছিলাম। চিঠিটা পরে সেদিন নিহালের হাত চেপে ধরে কেঁদে বলেছিলাম। কখনো আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। আমি বাঁচতা পারব না। যেদিন ওর চিঠির কথা জানাজানি হয়ে গেল। সেদিন ও ওর ওর্না দিয়ে গলায় ফাঁস দিতে গেছিল। আমার আম্মু দেখে ফেলায় সে যাত্রায় ওকে আটকায়। তখন আমার আম্মু ওকে ওর বাসায় পাঠিয়ে দিলো। যদি ও একটা কিছু অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, এই ভয়ে। ও এসেই আরিয়ান কে বিয়ে করে নিয়েছিল। এই কথা ওর মা অর্থাৎ আমার চাচি সব জানতো। যখন বাড়ি সুদ্ধ লোক জানাজানি হয়ে গেল। তখন নিহাল আর আরিয়ান পালিয়ে গেল। ওদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে ছিল আমার চাচি। খুঁজতে খুঁজত দুদিন পর দুজনকে একসাথে পেয়েছিল নিহালের এক বন্ধুর বাসায়। দুজনকে এনে খুব মেড়েছিল। এতোকিছুর পরেও আমি ওর সাথে দেখা করতে যেতাম। ওকে না দেখে থাকতে পারতাম না দূর থেকেই ওকে দেখতাম। আমি একবার ওর সামনাসামনি এসে কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম। তুমি আমার সাথে চল, তোমার একটা বিয়ে হয়েছেতো কি হয়েছে। তোমার যদি ১০টাও বিয়ে হয় তুমি যদি ১০ বাচ্চার মা ও হয়ে যাও তবুও আমি তোমাকে মেনে নিবো। সে আর কখনো আসেনি। আমাকেও ওর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মা আমার অন্য জাগায় বিয়ে দিয়ে দিল। মায়ের মুখের দিকে চেয়ে বিয়ে করে নিলাম। আমার বউকে আমি বাসর রাতেই আমার সব কথা বলেছিলাম। ও বলেছিলো আমি আপনার পাশে আছি। অই বউ ও আমায় কথা দিয়ে কথা রাখেনি। আমাকে ছেড়ে চলেগেল না ফেরার দেশে। আমার এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়ে। ওর সাথে বিয়ে হবার পরেও আমি নিহালকেই ভালোবাসতাম। নিহালের জায়গাটা আমি আজও কাউকে দিতে পারিনি। সেই আগের মতোই ওর জন্য তুলে রেখেছি। এখন শুনেছি ওকে নাকি ছেলেটা অনেক তরচার করে। ও ওর সাথে ভালো নেই। ও হয়ত ওর নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। আমি জানিনা কাওকে কাঁদিয়ে কেউ সুখি হতে পারে কিনা। তাই হয়ত ও ও পারেনি। আমি এখনো ওর পথ চেয়ে আছি। হয়ত ও আসবে হয়ত কখনো আসবেনা লজ্জায় ঘৃনায়। আজকের এই দিনেই ও আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমার ছেলে আমার চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে বলল, চিন্তা করনা বাবা আমি তোমায় ছেড়ে কখনো যাবোনা। ছেলেটিও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরল। বিঃ দ্রঃ গল্পের চরিত্রের নাম গুলো ছাড়া পুরাটাই বাস্তব। তাই আমি আমার কল্পনা শক্তি দিয়ে সেভাবে গুছিয়ে লিখতে পাড়লাম না। লেখাতে বানান ভুল হলে মাফ করবেন। সমাপ্ত

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ