Sponsor

banner image

recent posts

গল্পটা আমার

গল্পটা আমার পর্ব-২ *এই ছেলে তোমার কি মাথা খারাপ?* এই প্রথম ওর মেসেজ এর রিপ্লে দিলাম। রিহান আবার মেসেজ দিল, *কিছুটা তো বটেই* নাহ, আমি পারব না রিহান এর সাথে Deal করতে। অনন্যাকে কি কিছু বলব? হ্যা ওকেই বলতে হবে... নিচে যেতে হবে এখনই, এমনিতেই আজ সকালের ব্যাপারটা মাথা থেকে যাচ্ছে না.. তার উপর রিহান কি শুরু করেছে.... ছাদের দরজা দিয়ে বের হতে যাব, তাড়াহুড়ায় কিছুতে পা বেঁধে গেল.... ওমনি পড়ে যেতে নিলাম.... মনে হল কেউ আমার হাত ধরে ফেলল, আমি ভয়ে চোখ বন্ধ রেখেছিলাম। এখনো হার্ট বিট কমছে না। আরেকটু হলেই কি যে হত.... চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি রিহান আমার হাত ধরে আছে। এক ঝটকায় হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। রিহান এখনো এখানে!! দরজার পাশে দাঁড়ায়ে মেসেজ দিচ্ছিল... তো কথা বলে না কেন ও!! কিছু না বলেই বাসায় চলে এলাম। রুমে ঢুকছি এমন সময় মেসেজ আসল, *আচ্ছা তুমি কি ছোট বেলায় ও এমন ছিলা?* আমি রিপ্লে দিলাম, *কেমন?* আমি বুঝতে পারলাম না, রিহান কি বুঝাতে চাচ্ছে... এত ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলছে কেন আমার সাথে? আর আমি ই বা কেন কথা বলছি ওর সাথে!! আবার মেসেজ আসল, *অনন্যার কাছে আমার নামে Complain করতে গেছ তো?* আমি তো অবাক। এই ছেলে কেমনে বুঝলো আমি অনন্যার কাছে এসেছি? যাইহোক ওর কাছে স্বীকার করতে চাচ্ছি না। অযথা আমায় নিয়ে হাসা-হাসি করবে। আমি রিপ্লে দিলাম, *না এমনি আসছি আমি।* আর কোনো মেসেজ আসল না। উফফ বাঁচা গেল, আচ্ছা নম্বর টা কি ব্লক করে দিব? কি ভেবে যেন করতে পারলাম না। রাতে অনন্যার সাথে কথা বলার সুযোগ পেলাম না। কি নিয়ে যে এত ব্যস্ত বুঝলাম না। এই রুমে আমি, অনন্যা আর অনন্যার ছোট বোন, অবনী শোয়ার কথা। অবনী ঘুমিয়ে পড়েছে। ১২টার বেশী বাজে। অনন্যা রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দিল। আমার মনে হল ও কিছু বলবে হয়তো। আমার কাছে এসে বসল, -তানশী... -হুম? -ঘুমাস নি এখনো? -তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। -এই শুন না, আমার ভয় করছে। -কিসের ভয়? -কাল গাঁয়ে হলুদ। আর এই দিকে বাসার জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। আমার খুব টেনশন হচ্ছে রে। -এতে তোর টেনশন হওয়ার কি আছে???? -আরেহ। কারেন্ট একটু পর পর চলে যায়, এই গরমে আমার Make-up নষ্ট হয়ে গেলে?? অজান্তেই হেসে ফেললাম। "এখনো বাচ্চাই রয়ে গেলি তুই" বললাম আমি। অনন্যা অবশ্য সিরিয়াসলি টেনশন করছে ওর Make-up নিয়ে, যা ওকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছি, কত দিন ঠিকমত সাজগোছ করি না আমি? -এই তানশী কাল তুই কোন শাড়ি টা পড়বি? -আমি কোনো শাড়ি ই আনি নাই অনন্যা। -জানতাম তুই আনবি না। অবশ্য তুই যে এসেছিস এটা ই বেশি আমার জন্য। বাসার সবার জন্য গাঁয়ে হলুদের শাড়ি কিনা হয়েছে। সব গুলো শাড়ি আলমারি তে আছে। তুই তোর পছন্দমত একটা নিয়ে নে। পরে দেখা গেল তোর মন মত না হলে তুই পড়বি না। তোকে আমি চিনি ভাল করে। -আচ্ছা অনন্যা শাড়ি না পড়লে হয় না? -তানশী আমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে তোকে চেয়েছি আমার পাশে, আমার এই খুশির দিন গুলোতে। তুই যদি এইভাবে মন খারাপ করে থেকে ভাবিস আমার চোখে কিছুই পড়ছে না, আর তোকে এইভাবে দেখে আমি খুশি হব তাহলে ঠিক আছে শাড়ি পড়তে হবে না। -আরে রাগ করিস না। ঠিক আছে পড়ব। -থাক তোর ইচ্ছা না করলে... -বললাম তো পড়ব। আর রাগ করতে হবে না তোর। আর তুই জানিস আমি নরমালই ছিলাম। সকালের কারণে আমি একটু Stoned হয়ে গেছিলাম। Now I m fine. -সত্যি? -হ্যা বাবা সত্যি সত্যি সত্যি... -এই তানশি আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, তুই ও শুয়ে পড়। -আচ্ছা । ১টার মত বাজে। আমার ঘুম আসছে না। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। অন্ধকরের নিজস্ব ক্ষমতা আছে নিজের ভেতর সব লুকানোর। গভীর কষ্ট গুলো রাতেই জাগে। আর কষ্ট গুলো আমাদের জাগায়। হঠাৎ দেখি ফোনে আলো জ্বলে উঠল, উফফ আবার মেসেজ, আবার!! এত রাতে কিসের মেসেজ, *কাঁচা হলুদ রঙ আর গাঢ় কমলা পাড়ের শাড়ি পড়িয়ো কাল, ইন্দ্রাণীর মত লাগবে তোমায়* আমি এখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে আছি। রিহান কিভাবে জানল শাড়ির কথা? আর এটাই বা কিভাবে জানে যে আমি এখনো জেগে আছি। মেসেজ এর রিপ্লে কি দেওয়া উচিত? ভাবতে লাগলাম। এর মধ্যে আবার মেসেজ আসল.. *এত কি ভাব তুমি? যাও ঘুমাও এখন। Good Night.* প্রচণ্ড রাগ লাগছে এখন। এই ছেলে পেয়েছে টা কি? ওর ইচ্ছা মত চলব নাকি আমি? অবশ্য ও ঘুমাতে না বললেও যেতাম। খুব ঘুম পাচ্ছে হঠাৎ করে। সকাল সকাল এত হৈ-হুল্লোড় কেন বাসায়? মনে হচ্ছে একটু ঘুমানো ও যাবে না।। এইভাবে শুয়ে থেকে লাভ নেই, তাই উঠে পড়লাম। ফ্রেস হয়ে নিলাম। ৭টা বাজে মাত্র। এরই মধ্যে সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। অবশ্য, এই বাড়ির বড় মেয়ের গাঁয়ে হলুদ আজ। আনন্দ-আমেজ চারিদিকে। অবনী ডাকল আমায়, -তানশী আপু টেবিলে এস নাস্তা খেতে। -তুই যা আমি আসছি। চেয়ার টেনে বসতে যাব দেখি রিহান নাস্তা করছে। একবার ফিরেও তাকাচ্ছে না। যাক বাঁচা গেল। মনে হয় ওর মাথা থেকে ভূত নেমেছে। নাস্তা খাওয়ার সময় ওর মুখের দিকে তাকালাম। এত ইনোসেন্ট চেহারার ছেলে এত পাজী হয় কেমনে? নাস্তা সেরে রুমে এসে বসলাম। অনন্যা টা যে কই গেল সকাল সকাল। কাল ও বলেছিল আলমারি তে শাড়ি আছে। আমি কি দেখব? -এই অবনী শুন তো? -কি আপু? -গাঁয়ে হলুদে পড়ার শাড়ি গুলো একটু বের কর। -আচ্ছা আপু। বাহ!! এত্তগুলো শাড়ি!!! আমি সব সময় কনফিউজড হয়ে যাই, বুঝতে পারি না কোনটা আমাকে মানাবে। অয়ন সব সময় রাগ হতো এই নিয়ে। বলত নিজের জিনিস চয়েস করতে পার না, তাহলে শপিং করতে আসো কেন? আসলেই অয়ন ঠিক বলত, আজও আমি দ্বিধায় ভুগি... আজও... শাড়ী গুলো দেখার সময় একটা শাড়ী তে চোখ আটকে গেল, কাঁচা হলুদ রঙ, কমলা পাড়... বাহ, অনেক সুন্দর তো, এটার কথাই রিহান বলেছে মনে হয়। নাহ এটা তো পড়াই যাবে না। পরে ভাববে ওর কথা মত পড়েছি.... এই সময় অনন্যা আসল রুমে। -কিরে শাড়ি পছন্দ হল? -না, দেখছি। -দেখি তো তোর হাতের টা? আরেহ এটা তো অনেক সুন্দর তুই এটা রেখে দে। তোকে খুব মানাবে। -ইয়ে... -কিসের ইয়ে.. চুপ থাক। এটাই পড়িস। দেখিস তোকে কত সুন্দর লাগে। কি আর করার আছে। এটাই রাখলাম। সারাদিন কোনো মেসেজ আসল না। আচ্ছা, আমি কি পাগল হয়ে গেছি? আমি কেন ওর মেসেজ এর অপেক্ষা করছি মনে মনে? সন্ধ্যার আগে সব আয়োজন শেষ। সব মেহমান এসে পড়লো। ছাদে গাঁয়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে। অনন্যা পার্লার থেকে সেজেছে। আমাকেও যেতে বলেছিল যাই নি। আমার এইসব একদম ভাল লাগে না। অনন্যা কে নিয়ে গেছে উপরে। আমি বাসায় বসে আছি। উপরে যেতে ইচ্ছা করছে না। অনন্যা বিকেলে পার্লার থেকে এসে দেখে আমি একটু ও সাজগোজ করি নি। কি যে রাগ করল ও। বাধ্য হয়ে সাজলাম, কি ই বা পারি আমি, একটু কাজল একটু লিপস্টিক... আর হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি। ফোন শব্দ করে উঠলো। আমি জানি এটা রিহান। ফোন হাতে নিলাম। *কেমন আছ তানশী? আমি অয়ন।* আমার মাথা ঘুরছে। মনে হচ্ছে পড়ে যাব। এত গুলো বছর পর কেন মেসেজ দিল? আমার নম্বর পেল কোথায়? বুকের মাঝে কেমন জানি করছে... এতটা পেইন হচ্ছে কেন? এতটা? চলবে.... 😍😍😍😍মোঃআসাদ রহমান😍😍😍😍 ,,,,,,,,কোটচাঁদপুর,,,ঝিনাইদহ,,,,,,,,,
গল্পটা আমার গল্পটা আমার Reviewed by MD ASAD RAHMAN on জুন ০১, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.