শেষ প্রহরে বৃষ্টি

গল্প: "শেষ প্রহরে বৃষ্টি "(১ম পর্ব) লেখিকা-
সূর্যস্পশ্যা তনয়া
আজ অনেকদিন পর কলেজে যাচ্ছি, শুনলাম সমাজকল্যাণ এর নতুন প্রফেসর আসছে আজ।। রশিদ স্যার বদলি হওয়ার পর থেকে আর সমাজকল্যাণ এর ক্লাস করা হয়নি।স্যারকে অনেক মিস করি। ♣ বাসায় চাচাতো বোনের মেয়ে এসছে,নেহা পিচ্চিটা সবসময় আমার কাছে থাকতে চায়,ওকে লুকিয়ে ক্লাসে যাচ্ছি। কিছু চকলেট নিতে হবে আমার কলিজাবুড়ি নেহার জন্য। আমি চকলেট নেওয়ার জন্য দোকানের সামনে দাড়িয়ে আছি,হঠাৎ দেখি একটা পিচ্চি ছেলে রাস্তার মাঝ দিয়ে দৌড় দিতে যাচ্ছে। বয়স আনুমানিক ৩ বছর হবে। আমি দৌড়ে যেয়ে ওকে ধরি।কোলে তুলে নিয়ে দোকানের সামনে এসে জিগ্যেস করি,বাবু তোমার আম্মু কই? কার সাথে এসছো তুমি? এভাবে দৌড় কেন দিচ্ছ রাস্তার মাঝ দিয়ে? পিচ্চিটা গালের মধ্যে আঙ্গুল দিয়ে আমার কথা গিলছে।এতো কিউট একটা বেবি,এমনিতেই আমার বেবি অনেক ভালো লাগে। ফ্রেন্ডরা বলে বিয়ের পর বছর মিস দিবি না।যায়হোক, আমি অনবরত জিগ্যেস করছি সে কিছুই বলেনা।তাই নেহার জন্য কেনা চকলেট দিলাম ওর হাতে,যদি চকলেট এর লোভে অন্তত কিছু বলে।কিন্তু না সে চুপ করে আমার মুখের দিকে অপলক চেয়ে আছে। - এক্সকিউজ মি?( পিছন থেকে কেউ একজন পুরুষ কন্ঠ) - জী,বলুন। - সাহিল,তুমি এখানে কিভাবে এসছো? - আপনার বাচ্চা? - জী,কোথায় পেলেন ওকে? - তার আগে বলেন কেমন বাবা আপনি? একটা বাচ্চা সামলিয়ে রাখতে পারেন না।বাচ্চা যে রাস্তার মাঝ দিয়ে দৌড় দিতেছে তা কি জানেন? আজব,বাচ্চা সামলাতে পারবেন না তো কেন আনেন সাথে? আসলেই,মায়ের মত বাবা আগলে রাখতে পারেনা এটাই সত্য দেখছি। - Shut up. এটা বলেই উনি আমার কোল থেকে বাচ্চাটাকে কেড়ে নিয়ে চলে গেলেন। লোকটা মনে হয় রেগে গেছে,হি হি।একটু বেশিই বলে ফেললাম নাকি। আয়, হায় আমার কলেজ.... একটা রিক্সা নিয়ে দ্রত কলেজে গেলাম। লিপিকাকে খুঁজছি। আমার বেস্টু♥ আজকের ঘটনাটা ওকে না বললে শান্তি পাচ্ছি না। অবশেষে লিপিকে পেলাম,ঘটনার বিস্তারিত বলে দুজন হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়তেছি।তখনি ক্লাসের ঘন্টা বেজে উঠলো। আমরা হল রুমের দিকে দৌড় দিলাম। প্রথমেই ইংলিশ ক্লাস।মিস হলে হাসান স্যার এর অপমান শুনতে হবে।পর পর তিনটা ক্লাস শেষ হলো,এবার আমাদের অপেক্ষারত সমাজকল্যাণ ক্লাস।নতুন স্যারকে দেখার জন্য অধির আগ্রহে সবাই। কেউ কেউ রুমের দরজায় উঁকি ঝুকি মারতেছে।একজন দৌড়ে এসে বলল,নতুন স্যার আসতেছে,স্যার হেবি হ্যান্ডসাম। সবাই হো হো করে হাসতে শুরু করল। আগেরবার অর্থনীতি বিভাগের সাদিক স্যারের উপর অনেকেই ক্রাশ খাইছিলো।কিন্তু কলেজের মেয়েদের ছ্যাকা দিয়ে স্যার বিয়ে করে ফেলেন। তাই এবারও অনেকে চান্স নিতে চাইবে। যায়হোক,অবশেষে প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে নতুন স্যার রুমে প্রবেশ করেন।সবাই নতুন স্যারকে স্বাগতম জানায়,শুধু আমি বাদে।স্যারকে দেখার পরই আমার গলা শুকিয়ে গেছে। কারণ ইনি সেই ব্যাক্তি,যিনার বাচ্চা হারায় গেছিলো।ভয় লাগতেছে স্যার যদি চিনে ফেলে,যদিও আমি বোরখা পরে মুখ ঢেকে ছিলাম। স্যারের কোলে সাহিল বাবু। অনেকেই ওকে কোলে নিতে চাচ্ছে। কিন্তু ও যাচ্ছে না। তবে একটা কথা ভেবে ভালো লাগলো,স্যার বিবাহিত।কেউ আর ডিস্টার্ব করবে না স্যারকে। স্যার নিজের পরিচয় দিলেন। নাম সৈকত। পড়ালেখা শেষ করে প্রথম প্রফেসর হিসেবে জয়েন করেছেন।স্যার কথা বলছেন, হঠাৎ করে সাহিল বাবু স্যারের কোল থেকে নেমে আমার কাছে চলে আসলো। সবাই অবাক হয়ে গেছে। আমি তো লজ্জায় শেষ,স্যার হয়তো এতক্ষনে আমায় চিনে ফেলেছে। আমি সাহিলকে কোলে তুলে নিলাম,তখন ও আমায় কানে কানে বলল " তুমি মিলাকুলাস লেডি"। হায়,আল্লাহ মিলাকুলাস আবার কি জিনিস। ওদিকে স্যার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে ক্লাস শেষ করলেন। আমি সাহিলকে নিয়ে স্যারের কাছে দিতে গেলাম,কিন্তু স্যারকে স্বাভাবিক মনে হলো। তবুও আমি নিজেই স্যারকে সরি বললাম। অথচ তিনি কিছুই বললেন না। বুঝলাম স্যার দেমাগ দেখাচ্ছেন।মানুষের এই জিনিষ টাই না আমি একদম সহ্য করতে পারিনা। সাহিল আমার কাছ থেকে যেতে চাচ্ছে না,তবুও স্যার জোর করে নিয়ে গেলেন। সবমিলিয়ে আমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। তাই আমি বাড়ি চলে আসলাম। পরেরদিন কলেজে ঢুকতেই দেখি লিপিকা আর সাহিল বাবু আমার জন্য অপেক্ষা করছে।সাহিলকে প্রতিদিন কলেজে আনার কারণ বুঝলাম না।যায়হোক সাহিলকে নিয়েই আমরা ক্লাসে গেলাম।১ টা ক্লাস শেষ হতেই স্যার সাহিলকে খাওয়ানোর জন্য নিতে আসলো।কিন্তু সাহিল আমার সাথে খাওয়ার জন্য জিদ করছে।বাট স্যার তা চাচ্ছে না।সাহিলের জিদের জন্য অগত্যা আমাকেই ওকে খাইয়ে দিতে হলো।এখন সৈকত স্যারের সমাজকল্যাণ ক্লাস।সাহিল আমার পাশে বসে আমার ফোনে আব্দুল বারীর ইসলামিক কার্টুন দেখছে।হঠাৎ সাহিল বলল,সে পটি করবে। তাও আমার সাথে। আমি পড়লাম মহাবিপদে,বাচ্চা ভালো লাগলেও বাচ্চার হাগু সহ্য করতে পারিনা,আর সেই আমাকে এখন.... ভাবতেই কেমন জানি লাগছে। কিন্তু উপায়ও নাই,তাই সাহিলকে নিয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ পর স্যার আসলেন,আমি স্যারকে জিগ্যেস করে ফেললাম,সাহিলকে বাসায় ওর আম্মুর কাছে কেন রেখে আসেন না? - সাহিল কি অনেক কষ্ট দিচ্ছে আপনাকে?(স্যার) - না, না তা নয়।প্রতিদিন নিয়ে আসেন তাই বলছি। স্যার মুখটা গোমরা করে চলে যেতে যেতে বললেন,সাহিলের আম্মু নেই। - নেই মানে? - নেই মানে নেই।আর কিছু জিগ্যেস করবেন না। ভেবে নিলাম হয়তো মারা গেছে। আহারে বেচারা সাহিল বাবুটা।মাকে ছাড়া কত অসহায়,তার উপরে এমন জল্লাদ বাপ। পরদিন কলেজে যেয়ে সাহিলকে খুব মিস করছিলাম,তাই ওকে আনার জন্য স্যারদের কমন রুমে গেলাম। কিন্তু সাহিল আমাকে দেখেও আমার কাছে আসলো না।আমি জানালা দিয়ে ওকে ইশারায় ডাকলাম,কিন্তু ও যেয়ে স্যারের কোলে বসল,আমার কাছে আসলো না। খুব খারাপ লাগছিলো।সেদিন কোনো ক্লাসে মন দিতে পারিনি। এদিকে বাড়িতে মেহমান আসার কারণে কয়েকদিন কলেজে যেতে পারিনি। ফোনে আননোন একটা নাম্বার থেকে কল আসায় রিসিভ করবনা ভাবতে ভাবতে রিসিভ করলাম।ওপাশ থেকে পুরুষ কন্ঠে ভেসে আসলো.. - আসসালামু ওয়ালাইকুম।আমি প্রফেসর সৈকত বলছি, সুহায়লা আছে? - ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।জী স্যার,আমি বলছি। - আপনি কি ফ্রি আছেন? - জী স্যার,কেন? - আসলে,সাহিলের অনেক জ্বর,আপনাকে দেখতে চাচ্ছে।যদি একটু সময় দিতে পারতেন। - জী,স্যার।আমি আসব। আপনার বাসার ঠিকানা? - ************ আম্মুকে সব খুলে বললাম,আম্মু লিপিকাকে সাথে নিয়ে যেতে বললেন। চলবে....

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.