বাবু তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না

ইফতারির পর সোফাতে বসে বসে বুট চিবুচ্ছিলাম।হঠাৎ করে গফের কল দেখে রিসিভ করার সাথে সাথেই কথাটি বলে চুপ করে রইলো। বুটের বাটিটা শক্ত করে চেপে ধরে...

ইফতারির পর সোফাতে বসে বসে বুট চিবুচ্ছিলাম।হঠাৎ করে গফের কল দেখে রিসিভ করার সাথে সাথেই কথাটি বলে চুপ করে রইলো। বুটের বাটিটা শক্ত করে চেপে ধরে বললাম। -কেন,হঠাৎ তোমার মনে হলো কেন আমি তোমাকে ভালোবাসি না? -কেন আবার,আমার সবথেকে ক্লোজ ফ্রেন্ড তানিশা,তার বফ তাকে কয়েকদিন আগে একটা দশহাজার টাকার ড্রেস কিনে দিছে। তারপর সায়লার বফ তাকে দামি একটা নেকলেস গিফ্ট করছে। রুহির বফ তাকে আজকে একটা ব্রান্ডের ফোন গিফ্ট করছে। আর সেই ফোন দিয়ে কাপল পিক তুলে আমাকে দেখিয়ে বলছে। 'বেবি নতুন ফোন,আমার বাবু গিফ্ট করছে। কেমন লাগে তখন আমার। একমুঠো বুট নিয়ে খেতে খেতে বললাম। -খুবই খারাপ লাগে বেবি। -হ্যাঁ,তাই মুখের উপর ঠাস করে ফোন কেটে দিয়ে তোমাকে কল দিছি। -খুবই ভালো করেছো। আমারো একা একা সময় কাটছিলো না। -উফপ আমি সময় কাটানোর জন্য কল দেয় নি।আমাকেও আগামীকাল শপিং করায়ে দিতে হবে। শপিং করানোর কথা শুনে বুকের ভিতরটা চিনচিন করে উঠলো।এখনো অবধি নিজের একটা আন্ডারওয়ার্ল্ড থুক্কু আন্ডারওয়ার কিনতে পারি নি। আর উনি আসছে ঈদের শপিং করিয়ে নেওয়ার জন্য। আরো একমুঠো বুট হাতে নিয়ে বললাম। -ওকে বাবু,তুমি আমার হবু শ্বশুরের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে রাখো,আগামীকালই তোমাকে নিয়ে শপিং করতে যাবো। -ঐ তুমি কি ফকিন্নি। -নাতো আমি বড় লোক শ্বশুরের ভবিষ্যৎ কোটিপতি জামাই। -উফপপ ফাজলামি রাখবা। দেখো আমি কিন্তু কিচ্ছু জানি না,আগামীকাল আমাকে নিয়ে শপিং না করালে তোমার সাথে আজকেই আমার শেষ কথা বলে দিলাম। একটা হুশিয়ার সংকেত দিয়ে ঠাস করে ফোনটা কেটে দিলো।এদিকে আমি পড়ে গেলাম মহাচিন্তাতে। কত কাটখোট্টা পুড়িয়ে একটা গালফ্রেন্ড জোগাড় করেছি।এখন যদি ঈদের আগে সেইটা হাত ছাড়া হয়ে যাই তাহলে তো ঈদের দিন নাকে শরিষার তৈল মাখিয়ে ঘুমানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। না যেভাবেই হোক কিছু একটা করতে হবে। বুটের বাটিটা রেখে দিয়ে বুক ফুলিয়ে সোজা বাপের ঘরে গিয়ে বললাম। -বাবা আমার টাকা লাগবে। বিশ হাজার টাকা। আমার মুখে বিশ হাজারের কথা শুনে বাবা আমার দিকে কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকার পর বললো। -কি বললেন বাপধন? আমি ভ্যাবলার মত হেসে দিয়ে বললাম। -আমার টাকা লাগবো। -কিসের জন্য আব্বাজান? -কিসের জন্য আবার,ঈদের শপিং করবো। আব্বা একটু নড়েচড়ে বসে বললো।। -হারামজাদা,টাকা কি গাছে ধরে। "আব্বা টাকা লাগবো',এমনভাবে বিশহাজার টাকা চায়ছে মনে হচ্ছে যেন বাচ্চার হাতের মোয়া দেখে কেনার জন্য আবদার করছে। -আব্বা তুমি সে যাই ভাবো আমার টাকা লাগবে তো লাগবে। -দুর হ হতভাগা,পারলে চুরি করে শপিং কর। তবুও টাকা চায়তে আসবি না আর। আব্বার কথা শুনে দিলে চোট পেলাম। মাঝে মাঝে বাপের কিছু কিছু কথা শুনলে মনে হয় গুলিস্তান থেকে পাইকারি দরে কিনে নিয়ে এসেছিলো ছোট থাকতে আমাকে।একটামাত্র ছেলে আমি তার, সামান্য তো কয়টা টাকা চেয়েছি তাতেই এমনভাবে বললো। ব্যাপার না,আব্বায় কয়ছে চুরি করতে আমি চুরি করবো তবে কার বাড়ি থেকে চুরি করবো। চুরির কথা ভাবতেই কয়েকবছর আগেকার এক রাতের রহিম চাচার বাড়ির ডাব চুরির কথা মনে পড়তেই গায়ের পশম গুলো সব শিহরিত হয়ে উঠলো। ব্যাডা বুইড়া খাটাস সামান্য দুটো ডাবের জন্য দু ঘন্টা শীতের রাতে ঠান্ডা পানিতে পুকুরে গলা অবধি দাড় করিয়ে রেখেছিলো আমাকে। তাই এবার আর অন্য কোথাও চুরি করবো না,নিজের ঘরের শেদ কেটে চুরি করবো। শুরু হলো অপেক্ষার প্রহর গুনা,রাতে বাপজান ঘুমাইলে তার লকার থেকে বিশহাজার না ত্রিশহাজার টাকা ঝেড়ে দিবো। চুরি করবো তো একটু বড় করেই করবো। বাপের রুমের দরজাতে কান পেতে দেখলাম,বাপজান আমার সমুদ্রের গর্জন তুলে ঘুমাচ্ছে। উফপপ আমার মা'কে তো অস্কার দেওয়ার দরকার। এই বুনোষাড়টার নাক ডাকা এতোবছর ধরে সহ্য করে এসেছে কি করে? সে যাই হোক আমি আমার কাজে মনযোগ দিলাম।খুবই সতর্কের সাথে বাপের বালিশের নিচ থেকে চাবিটা বার করে লকার থেকে ত্রিশহাজার টাকা বার করে নিয়ে সোজা নিজের রুমে। বাপটা আমার সত্যি মহাকিপ্টা,এতোগুলো টাকা কি করবে রেখে দিয়ে সোজাসোজি দিলেই তো হয়ে যেতো। সে যাই হোক খুশিতে গদগদ হয়ে গফস কে ফোন লাগালাম। ফোন ধরতেই পাল্টা ঝাড়ি শুরু করে দিলাম -ঐ তুমি না বলছো আমি ফকিন্নি। আমারে যে ফকিন্নি কইবে সে বড় ফকিন্নি। ফোনের ওপাশে গফস আমার রাগে ফসফস করতে করতে বললো। -এতো রাতে ফোন দিছো কেন সেইটা বলো। -ওহ্ হ্যাঁ,তুমি না বলছিলা তোমার ঈদ শপিং করা লাগবে।কালকে সকাল সকাল রেডি হয়ে আমার বাসার নিচে চলে আসবা। শপিং করতে যাবো,আর হ্যা পুরো টাকা আমি দিবো। গফস আমার খুশি হয়ে একটা বড় সড় ফ্লাইং কিস মেরে বলল। -ওকে জান। -হুম ওকে। সালার মেয়ে মানুষ শুধু নেওয়ার ধান্দা,দিতে পারলে জান আর না পারলে জানোয়ার। সে যাই হোক টাকা গুলো পুরো বিছানাতে ছড়িয়ে রেখে একটু গড়াগড়ি খেলাম সেল্ফি মেরে ফেসবুকে আপডেট দিলাম। তারপর একটু ঝাকানাকা ড্যান্স মেরে ধপাশ করে সুয়ে পড়লাম আগামীকাল আবার সকাল সকাল উঠতে হবে। খুব ভোরে গফস ফোন দিলো। ঘুমের ঘোরে বললাম, -কোন সালা রে এতো ভোরে ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গালি। -ঐ তুমি আমাকে সালা বললা।(কাঁদো কাঁদো স্বরে) কাম সারছে রে,চোখ গুলো মোটামোটা করে তাকিয়ে দেখলাম কলটা আর কেউ না আমার একমাত্র গুলুমুল গফস কল দিছে। নিজের জিহ্ববাতে কামড় বসিয়ে বললাম। -সরি বেবি ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছিলাম তো তাই ভুলে সালা বলে ফেলেছি। মাইন্ড খাইয়ো না। -ওকে,তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো। আমিও রেডি হয়ে নিচ্ছি। -কেন,আজকে কি কোথাও দাওয়াত আছে নাকি? -উফপপ আজকে না আমাদের শপিং করার কথা। উরে খোদা রে মেয়েরা সব ভুললেও শপিং করার কথা কখনো ভুলবে না।(বিড়বিড়িয়ে) -কিছু বললা। -না তো,,আচ্ছা তুমি একঘন্টা দাঁড়াও আমি দু'ঘন্টার ভিতরে রেডি হয়ে আসছি। -ফাজলামি বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি রেড়ি হও। -ওকে বেবি। ঘড়িতে সকাল আট টা বাজে,এই সময় আমার গফসের অন্যদিন ভোর হয় কি না সন্দেহ আর আজকে কি না দেরি হয়ে যাচ্ছে। আহ মোর খোদা। একঘন্টা পর গফস আবার কল দিলো। -ঐ তুমি কোই? -এইতো বাবু আমি ছোটঘরে। -উফপপ এখনো বার হও নি। তাড়াতাড়ি বার হও এক্ষনি। -ওকে বেবি। সালার শপিং এর মাইরে বাপ,শান্তিতে হাগু পর্যন্ত করতে দিবে না। তাড়াহুড়ো করে বার হয়ে বাসার নিচে গিয়ে তো আমি পুরাই টাস্কি। "এইটা কি আমার গুলুমুলু নাকি ময়দার ডিব্বা। -বাবু ময়দা একটু কম হয়ে গেছে তো।ডিব্বা কি শেষের দিকে? গফস আমার দিকে তার ভ্রু -ফ্লাপ করা শকুনি মার্কা চোখে তাকিয়ে বলল... -উফপপ তোমাকে না কতবার বলেছি মেকাবকে ময়দা বলবা না। -ওকে সেই একি তো কথা। তবে আজকে কিন্তু তোমাকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম। গফস আমার মিথ্যা প্রসংসা শুনে ফুলে একবারে ফাটবে ফাটবে অবস্থা। -তা কোন দিকে যাবা? -বাবু আমার না সব বান্ধবিরা বসুন্ধরাতে শপিং করছে। বুঝলাম আজকে ভালো করেই বাশটা দিবে। মুখটা কাচুমাচু করে হেসে বললাম। -কোনো ব্যাপার না চলো। জীবনে কোনোদিন বসুন্ধরাতে গিছে কি না সন্দেহ আর আজকে পরের টাকা পেয়ে বসুন্ধরাতে শপিং করবে। আহারে জীবন,জীবনডা বেদনা। একটা রিক্সা চেপে বসুন্ধরা শপিংমলের নিচে গিয়ে তো আহামরি কারবার। চোখ পুরো ছানাবড়া হওয়ার মত অবস্থা। গেইটের সামনে যেতেই দারোয়ান বললো। -আসেন স্যার আসেন। ডেকে টেকে তো বাঁশটা ভালো ভাবেই দিবা। শপিং মলের দ্বিতীয় ফ্লোরে যেতেই হাজারো রমনী দেখে মনটা আমার বাকবাকুম করে উঠলেও পাশে থাকা গফসের জন্য নিজেকে কন্ট্রাল করে রাখার চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরাঘুরির পর গফস একটা পিংক আর নীল কালার মিক্স হওয়া একটা ড্রেস পছন্দ করলো। ড্রেস কোডে মূল্য দেখে তো আমার চোখ কপালে উঠার মত অবস্থা। সামান্য কয়েক গজ কাপড়ের দাম নাকি বিশ হাজার টাকা।জীবনে কাউরান বাজার,গুলিস্তানের খোলা বাজার ছাড়া কখনো কিছু কিনে গায়ে পরলাম না। আর আজকে গফসকে বিশ হাজার টাকা দিয়ে একটা ড্রেস কিনে দিতে হবে। বুকটা আমার ফাইট্টা চৌচির হয়ে যেতে চাচ্ছে।এদিকে গফস আমার এমনভাবে হতটাকে ধরে রেখেছে ইচ্ছে করলেও পালাতে পারবো না।বুক ফাটা কষ্ট বুকে চেপে রেখে বললাম। -বেবি এইটার নাম কি? -বাবু এইটার নাম গাউন। ড্রেসের নাম নাকি গাউন,এর নাম গাউন না হয়ে গোডাউন রাখলে ভালো হতো।সালা কি এমন আছে যে এতগুলা টাকা দাম দিয়ে রাখছে। কি সব নাম রাখে,অদ্ভুৎ। ড্রেসটা হাতে করে গফস দোকানির কাছে গিয়ে বললো। -আংকেল এইটা প্যাক করে দিন। মানিব্যাগ থেকে টাকা গুলো বার করতে গিয়ে বারবার বাপজানের মুখটা ভেসে উঠছে।একবার যদি জানে আমি এতগুলো টাকা দিয়ে অন্যের মেয়েকে ড্রেস কিনে দিছি,তাহলে তো সারাজীবন বাপের বাগানে কামলা খাটতে হবে। হাটার সময় খেয়াল করলাম গফস বারবার তার হাতের ব্যাগটার দিকে তাকাচ্ছে আর কপালটা কুচকে ফেলছে। তা দেখে বললাম। -বেবি তোমার ব্যাগের আবার কি হয়ছে? -আর বইলো না,কইদিন ধরে ব্যাগের চেইনটা খুব বিরক্ত করছে। খুলতে গেলে ঝামেলা হচ্ছে।আম্মুকে বললাম একটা ব্যাগ কিনে দিতে,না দিবে না। -আচ্ছা কত টাকা ব্যাগের দাম? -তা তো জানি না,তবে একহাজার টাকা হলেই হবে। -কিনবা? -ঐ দোকানটাতে অনেক সুন্দর সুন্দর ভ্যানিটি ব্যাগ বিক্রি করে। কিন্তু আমার কাছে তো আর টাকা নেই। বুঝলাম এইটাও আমার থেকে নেওয়ার ধান্দা। -আচ্ছা তাহলে থাক,যখন টাকা থাকবে তখন না হয় একদিন এসে নিয়ে যাবো। -তুমি এইটা বলতে পারলা। -আবার কি বললাম।। -আসলেই তুমি আমাকে ভালোবাসো না। বাসলে কখনোই এইটা বলতা না। ব্যাগ নষ্ট হওয়ার কথা শুনেই নিজ হতে নতুন আরেকটা কিনে দিতে। 'সবই বুঝি,শুধু নেওয়ার ধান্দা। বললেই তো হয় এতো ন্যাকামি না করে। -কিছু বললা। -না,আচ্ছা চলো দেখি। গফস আমার খুশি হয়ে ব্যাগের দোকানে গিয়ে ঘুরেঘুরে কয়েকটা ব্যাগ নিয়ে এসে বললো। -বাবু দেখো তো কোনটা সবথেকে বেশি ভালো লাগছে। পছন্দের আগে ব্যাগের গায়ে লিখে রাখা দাম গুলো দেখতে গিয়ে বুকটা আবারো চিনচিন করে উঠলো। 'সালারা তো দিনেদুপুরে ডাকাতি শুরু করে দিছে। এই ব্যাগ গুলোর নাকি চার হাজার টাকা করে দাম।এই গুলো তো গুলিস্তানে দুইশত টাকা করে বিক্রি করার জন্য তোষামোদ করে দোকানিরা। কি আর করার,গফস এর মন রাখতে একটা ব্যাগ কিনে দিয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করে দিলাম। এই মলে আর কিছুক্ষণ থাকলে হয়তো আমার নিজের মলত্যাগ করতেই ভুলে যাবো। হনহনিয়ে বেরিয়ে আসছি এমন সময় গফস তার মিষ্টি কণ্ঠে ডেকে বললো। -বাবু। -আবার কি হলো। -তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না। -আবার কি করলাম। -তোমাকে না বললাম আমার মেকাব বক্সটা শেষের দিকে,এবার ঈদে কি আমি মেকাব ছাড়া বার হবো। হায়রে ময়দা সুন্দরী।জীবনে কোন বাল করতে যে প্রেম করছিলাম কে জানে। সালা আবুলরে আজকে যেখানেই পাবো সেখানেই মেরে ভর্তা বানাবো। দেশে এতো মেয়ে থাকতে এই রাক্ষস মার্কা মেয়েটাকেই আমার জন্য তাকে ঠিক করতে হয়েছিলো। তবুও গফসের মন রাখতে তো হবে। তাই আবুলের উপর সব রাগ আর গফসের প্রতি হাজারটা না বলা ক্ষোভ মনের ভিতরে রেখে দিয়ে বললাম। -আচ্ছা চলো। আরো আধাঘন্টা ঘুরেফিরে তারপর একটা বড়সড় দেখে ময়দার ডিব্বা পছন্দ করলো। দাম দুইহাজার তিনশত টাকা। সাথে আরো দুটো ল্যাকমির লিপষ্টিক সহ মোট তিনহাজার টাকা বিল হলো। মানিব্যাগটাও মনে হয় আমাকে এই রোজার মাসে একশ একটা গালি দিয়ে দিছে। জীবনে প্রথমবারের মত এতগুলো টাকা তার বুক থেকে হড়হড় করে বের করে নিচ্ছি দেখে।জীবনে বড় শখ ছিলো একদিন বসুন্ধরাতে আসলে নিজের জন্য একটা আন্ডারওয়ার হলেও কিনে নিয়ে যাবো। কিন্তু মানিব্যাগের টাকা যেভাবে খসছে আন্ডারওয়ার তো দুরের কথা,নিজের একটা সেন্টু গেঞ্জিও কিনা যাবে না এখন। আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না। তাড়াহুড়ো করে শপিং মল থেকে বার হয়ে রিক্সাতে উঠতে যাবো ঠিক তখনি গফস হাতে টেনে ধরে বললো। -তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না। -আবার কি করলাম। -সারাদিন ঘুরাঘুরি করলাম। একটাবার খাওয়ার কথাটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করলা না। -ঐ তুমি না রোজা? -বাবু আজকে শপিং-এ বার হবো দেখে রোজা রাখি নি। তোর পেটের মাইরে বাপ। -তো এখন কি করবো। -আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে,চলো রেষ্টুরেন্টে। -বেবি আমি তো রোজা। -তাতে কি!আমি খাবো আর তুমি বসে থাকবা। কি আর করার সবই তো করলাম। লাষ্ট একটা আবদার আর রেখে লাভ কি। গফসকে নিয়ে রেষ্টুরেন্টে ঢুকে একটা টেবিলে গিয়ে চুপচাপ বসলাম। রোজার মাসে রেষ্টুরেন্ট,মোটেও ভালো কথা না।কেউ যদি দেখে নেই তাহলেই শেষ। টেবিলে বসে বই দিয়ে মুখটাকে আঁড়াল করে গফসকে বললাম। -তোমার যা খেতে ইচ্ছে করে অর্ডার দাও। গফস আমার কথা শুনে 'উলে বাবুটা' বলেই ওয়েটারকে ডেকে অর্ডার দিলো। একটু পর মুখের উপর থেকে বইটা সরাতে গিয়ে মনে হলো আমি কোনো রাজপারিবারের খাবার টেবিলে বসে আছি। -ঐ এতো খাবার কে খাবে? গফস তার নাকে মুখ বন্ধ অবস্থাতেই কোনোরকমে জবাব দিলো। -কে আবার আমি। জীবনে খাদক দেখেছি,এমন মহাখাদক কখনো দেখি নি। মনে হচ্ছে রেষ্টুরেন্টের যত প্রকার খাবার আছে সবগুলো অর্ডার দিয়ে এনেছে। খাবার গুলো দেখে নিজেরই রোজাটা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করছে। তবুও তো কিছুটা হলেও টাকা উসুল হতো। কিন্তু কি আর করার,রোজা তো আর ভাঙ্গা যাবে না। তাই বসে বসে গফসের খাবার খাওয়া দেখছি আর উপরওয়ালাকে বলছি। -আল্লাহ আমাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দাও শেষমেষ খাবারের বিল এলো,দুইহাজার তিনশত টাকা। এইটা কি মানুষ,নাকি টাকা খরচের মেশিন কিছুই বুঝতাছি না।একদিনে আমার ত্রিশ হাজার টাকার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। ইচ্ছে করছে এবার নিজে থেকেই ব্রেকআপ কইরা দিয়ে চিরকুমার সংঘের সদস্য হয়ে যেতে। সবকিছু শেষে গফসকে বাসায় পৌঁছায়ে দিয়ে আসার সময় বললাম। -বাবু এতো কিছু তো করলাম,তো আমাকে কিছু একটা দাও। গফস সাথে সাথে তার মুখটাতে মেঘ জমিয়ে বললো। -তুমি আমাকে ভালোবাসো না। -কেন আবার কি করলাম। -জানো না কাউকে ভালোবাসলে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে হয়। -আমি এমন কি চায়লাম,একটা হামি দিতে বলেছি শুধু। -তুমি না রোজা,যাও এখন। ঈদের পর দিবো হুম। বলেই রিক্সা থেকে নেমে গেলো। আমি ছলছল চোখে গফসের চলে যাওয়া দেখছি। আপনারা কি ভাবছেন গফস চলে যাচ্ছে দেখে কাঁদছি। মোটেও না,আমি কাঁদছি আমার বাপজানের কথা ভেবে। টাকার হদিস না মিললে আমাকে কি করবে সেইটা ভেবে। রিক্সাতে চেপে বসে মনের দুঃখে গলা চেপে ধরে গান ধরলাম। "কারে দেখাবো মনের দুক্কু রে আমি বুক চিরিয়া। অন্তরেতে তুষেরই আগুন জ্বলে রইয়া রইয়া। জীবনডা পুরো বেদনা কইরা দিলো। বিদায় পিতিবি। রম্য গল্প-শপিং উইথ গালফ্রেন্ডস। Writen by-Asad_Rahman (বি.দ্র-গল্পটা নিছক পাঠকদেরকে বিনোদন দেওয়ার জন্য লেখা হয়ছে। গল্পে কিছু কিছু শব্দ রম্যের ক্ষেত্রে একটা অন্যরকমভাবে লেখা হয়ছে। তবে আমার গালফ্রেন্ডটা কিন্তু ওমন না। সে কখনোই আমার কাছ থেকে কিছু চায় নি,তার চাহিদা খুবই সিমিত। তবে গল্পের সাথে যদি কারো গালফ্রেন্ডের চরিত্রের সাথে মিলে যাই তাহলে লেখককে দায়ী না করে চুপচাপ মেনশন দিয়ে কেটে পড়েন)

COMMENTS

নাম

৭ টি বিভাগের ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে,1,এডমিন নোটিশ,2,কবিতা,13,কষ্ট ও ভালবাসা,26,জীবনধারা,8,ঝিনাইদহ জেলা,28,ফটো গ্যালারী,1,বাস্তব কাহিনী,32,ভালোবাসা গল্প,132,মাইন্ড হ্যাকিং,24,লাভ মেসেজ,9,শিক্ষণীয় গল্প,17,হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন ডে,6,Entertaiment,92,Islam,5,
ltr
item
MD ASAD RAHMAN : বাবু তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না
বাবু তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না
MD ASAD RAHMAN
https://www.asadrahman.xyz/2019/06/blog-post_1.html
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/
https://www.asadrahman.xyz/2019/06/blog-post_1.html
true
3383293187171369634
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Readmore Reply Cancel reply Delete By Home PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS CONTENT IS PREMIUM Please share to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy