🤔 হুয়াওয়ে , www.asadrahman1998.blogspot.com

হুয়াওয়ে রাত প্রায় দশ টা বাজে মাত্র । এমন গ্রিল বানানো গরমের সময় দশটা তেমন রাতই না। টিউশনি থেকে ফিরছি। আজ ছাত্রের কাছ থেকে বেতন পাওয়ার আশা ছিলো। তবে সেই আশায় গুড়ে বালি। ছাত্রের মা বললো কয়েকদিন পর দেবে। অথচ কয়েকদিন পরই ঈদ। পকেটে মাত্র দশ টাকার সাইকেল মোছার ত্যানার মত পাঁচটা রোগা নোট আর দুই টাকার চার টা নোট ছাড়া কিছুই নেই। এদিকে প্রচণ্ড খিদেও পেয়েছে। মেসে ফিরতে হলে বাস ভাড়া দিতে হবে তাও ভালো বাসেও যাওয়া যাবে না। উপায় না পেয়ে ছাত্রদের বাসার সামনের দোকান থেকে দু'টো কলা আর একটা রুটি খেয়ে নিলাম। তারপর বাস স্টপে এসে মিনিট দশেক পর একটা লোকাল বাসে উঠলাম। যাত্রী মাত্র কয়েকজন পুরুষ। দেখে মনে হচ্ছে কাজ করে ফিরছে। ঠাণ্ডা হওয়া বইছে বাইরে। এদিকে লোকাল বাসের জানালা কেমন হয় তা সবারই জানা। সস্তায় এসি গাড়ির মতো হাওয়া দিচ্ছে । হঠাৎই পকেটে থাকা ফোন টা বাজতে শুরু করলো। আইফোন টেন এর রিংটোন বাজছে। এদিকে পকেটে হাত দিতেই মন চাইছে না তাই ফোন ধরছিই না। ফোনটা আবার বেজে উঠলো। বুঝলাম আমার প্রেয়সীর ফোন। তবুও ধরতে মন চাচ্ছে না। রিংটোন টা ভালোই লাগছে। আমার প্রিয় রিংটোন এটা। পাশে তাকিয়ে দেখি ডান পাশের দিকে বসা চার জনই কি নিয়ে যেন কানাঘুষো করছে। যাইহোক ওসব ভেবে আমার কাজ নেই। .বাস থেকে নেমে হাঁটা শুরু করলাম। কি গরম রে বাবা। মনে হচ্ছে শুধু আন্ডার ওয়্যার পড়ে থাকি। এদিকে কারেন্ট না থাকায় রাস্তার লাইট অফ । গুণগুণ করে গান গাইছি আর মেসের দিকে হাঁটছি। আজ রাস্তা একদম শুনশান লাগছে। মনে হচ্ছে যেন গ্রামের পথে হাঁটছি। হঠাৎই টের পেলাম পেছনে পেছনে কারা যেন আসছে। ভাবলাম তাদের সাথে কথা বলতে বলতে যাই। একটু দাঁড়িয়ে থাকালাম তবে তারাও কেন যেন দাঁড়িয়ে গেলো বুঝলাম না। আবার একটু হাঁটার পর পিছে ফিরে দেখলাম তারাও হাঁটছে। দূরের এক দোকান থেকে আসা ক্ষীণ আলোয় দেখলাম এই লোক চারটা গাড়িতে বসে থাকা সেই লোক গুলোই! বুকটা একটু কেঁপে উঠলো। ছিনতাইকারী নয় তো! একটু তাড়াতাড়ি হাঁটা দিয়ে মেসের গলিতে ঢুকে গেলাম। অন্ধকার আর হালকা চাঁদের আলোয় একদম ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। ভয়টা আরও বেড়ে গেলো। হঠাৎই আমাকে সেই লোক গুলো ঘিরে ধরলো। বুঝতে পারলাম আমি আসলেই ছিনতাইকারীদের ক্ষপ্পরে পরছি। আমি কিছু বলার আগেই একটা কালো করে মোটাসোটা লোক এসে পেছন থেকে চাকু গলায় ঠেকিয়ে বললো, --যা আছে সব তাড়াতাড়ি বের কর। আমি ভয়ে আমতা আমতা করে বললাম, --ভা ভাই আমার কাছে কিছুই নেই। --কি আছে আর কি না আছে আমরা ওসব বুঝি বুঝি। তাড়াতাড়ি পকেট থেকে সব বের কর তো। সামনে থেকে একজন বললো। বুঝলাম ইনিই হয়তো এখানকার বস। আমি আবার বললাম, --ভাই, সত্যি আমার কাছে টাকা পয়সা কিচ্ছু নেই। আমাকে ছেড়ে দেন। মেসে গিয়ে আমার আরিশা কে ফোন দিতে হবে। না হলে আবার ব্রেক আপ দেবে। --আমরাও তো তাড়াতাড়ি করছি। তাই তো পকেট থেকে ঝটপট সব বের কর তো দেখি। --আমার কাছে কিচ্ছু নাই ভাই। আল্লাহর কসম কিচ্ছু নাই। --এই জসিম, শালা মিচা কতা কয়। লাগায়ে দে একটা। বস বললো। আমিতো ভয়েই শেষ। কোনো রকমে বললাম, --ভা ভাই সত্যি আমার কাছে কিচ্ছু নাই। --শালা, আমরা কী এক্কেবারে বোকা? পকেট থেকে আইফোনটা বাইর কর দেহি। বাসে যহন ফোন বাজলো তাও ধরলি না তহনই বুঝলাম তোর কাছে আইফোন আছে। আর এইডা যে দামি ফোন তা আমরা জানি, জানি। এহন দে তাড়াতাড়ি না হইলে! চাকুটা গলায় জোরে ধরে বললো। আইফোনের কথা শুনে জান টা আমার প্রাণ ফিরে পেলো। ঘটনা এবার বুঝলাম। মনে মনে মুচকি হেসে বললাম, --ভাই গো, এই একটাই ফোন আমার। ফোন টা নিলে আমি শ্যাষ। আমার কথার তোয়াক্কা না করেই একজন পকেটে হাত দিয়ে বেঁচে যাওয়া আঠারো টাকা আর ফোনটা বের করলো। লোকটা ফোন বের করে বসের কাছে গিয়ে বললো, --বস, এইডা তো আফোন না। --আইফোন না মানে! --বস, আফোন না মানে আফোন না। আমি জানি আফোনের পিছে এক কামড় খাওয়া আপেল আছে কিন্তু এইডায় তো খাওয়া আপেল নাই। --কি! -- হ বস, এইহানে ফুলের মতো দেহা যায়! বস ভিমরি খেয়ে মোটা লোকটার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে হতাশ হয়ে গেলো। তারপর ঝাড়ি দিয়ে আমাকে বললো, --ওই মিয়া ওই, ভাব লও হ্যা ভাব লও? এই ডা কি ফোন মিয়া? -- হুয়াওয়ে ফোন। আব্বায় কিনে দিছিলো। --তা তো দেখতাছি তয় আইফোনের রিংটোন কে? আর এই ফোন তো বেঁচলে পঞ্চাশ টাকাও হইবো নাহ। --গরিব মানুষ তো। তয় বড্ড সাধ জাগে আইফোন কেনার। সামর্থ্য নাই তাই রিংটোন দিছি। --ওই মিয়া জানোস তোর এই রিংটোন শুনে আমাদের কত্ত বড় ক্ষতি হলো? আমরা কখনও ভুল করি না আর আজ! -- বস, শুনলাম হাওয়াই ফোনে নাকি আর গুগল সেবা দেয়া হবে না। --মানে? -- মানে এই ফোনে আর ইউটিউব, প্লে স্টোর, গুগল থাকবে না। -- তবে রে! তাহলে এটা নিয়ে কি করবো! শালার কিপ্টা, এ আমি কার কাছে ছিনতাই করতে।আসলাম রে। --সরি ভাই। --ধুর, ওই জসিম পকেটে কত টাকা আছে? --বস, আঠারো টেকা! --কিহ! শালার এত্ত বড় ধরা খাইলাম! আমি একটু মায়া কান্না কেঁদে বললাম, --টিউশনির টাকা টা দেয় নাই বস। --তোরে যে আমার কি মনে চাচ্ছে! যা এখান থেকে ভাগ। --ভাই, ব্যাচেলর মানুষ এই আঠারে টাকাই ভরসা। টাকা ডা দেন ভাই। আর ফোন ডাও দেন। --এ আমি কার কাছে ছিনতাই করতে আসলাম রে। ওই জসিম টাকা ডা দিয়া ভাগ। জসিম নামের মোটা লোকটা পায়ের কাছে আমার খাওয়া আপেল থুক্কু ভাঙা হুয়াওয়ে ফোনটা ফেলে দিয়ে দিলো ভোঁ দৌড়। আমি টাকা আর ফোন টা পকেটে রেখে মেসের দিকে পা বাড়ালাম। মুচকি হাসছি আর ভাবছি, আজ যদি টিউশনির পাঁচ হাজার টাকা পেতাম তাহলে কি ক্ষতি টাই না হতো। পকেটে হাত দিয়ে ফোনটা বের করে আরও একবার মুচকি মুচকি হাসলাম। আজ আইফোনের রিংটোন দেয়া ছিলো বলে আমার এই হাল। কিন্তু হুয়াওয়ের এই গুগল বঞ্চিত হওয়াটাও আমার জন্য লাকী। তা না হলে আজ ফোন আর টাকা দুটাই যেতো। নাহ, তাড়াতাড়ি মেসে যাই। আজ আরিশাকে এই গল্প টা বলতেই হবে। না হলে ব্রেক আপ আর ঠেকবে নাহ। যাচ্ছি আর ভাবছি, হুয়াওয়ে থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তো খাওয়া আপেলের রিংটোন ই ভালো। 🤔 মোঃআসাদ রহমান 🤔 ,,,,,,,,,কোটচাঁদপুর,,,,,,,, ঝিনাইদহ,,,,,,,,,,,,,,,,

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.