Sponsor

banner image

recent posts

প্রিয়জন -৩ by asad Rahman

প্রিয়জন ৩ লেখিকাঃসূর্যস্পশ্যা তনয়া নামাজ পরে রুম থেকে বের হতেই দেখি আব্বু এসছে। আমি তো একছুটে আব্বুর কাছে চলে গেছি। - আসসালামু ওয়ালাইকুম।আব্বু কেমন আছো? - ওয়ালাইকুমুস সালাম।আলহামদুলিল্লাহ ভালো। (তবে আমি চোখের কোণায় স্পষ্ট পানি চিকচিক করতে দেখলাম।আসলে আমাকে ছেড়ে কখনও থাকেনি তো। আর আমি অনেক চাওয়ার ফল।আল্লাহর কাছে অনেক চেয়ে চেয়ে পাইছে আমাকে এজন্য হয়তো ভালোবাসাটা আরোও বেশি।) আব্বু আমার শাশুড়ি কে উদ্দেশ্য করে বললেন,আজকেই যেন নীল আর আমাকে আব্বুর বাসায় পাঠিয়ে দেন। আমি তো মহাখুশি।মন চাইছে এখনি উপরে চলে যায় আমার রুমে। বাট ভদ্রতা+রীতি বলে কথা। * দুপুরে খাওয়া দাওয়া সেরে আমি বাসায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।শাশুড়ি কে বললাম আম্মু আমি উপরে যাচ্ছি। উনি বললেন- নীল কোথায়? আমি- ঘরে বসে মোবাইল টিপসে। আম্মু- ও কি যাবে না বলেছে? আমি- জিগ্যেস করিনি। আম্মু - এটা কেমন কথা হুম।আচ্ছা চল আমি দেখছি।উফ! আমি আর পারি না।আগে ছিলো দুইজন এখন হইছে চারজন।এই চারজন বাচ্চারে কি করে যে সামলাবো। আমি- হি হি হি আম্মু- খুব হাসি আসছে না? আমি- হুম,বাচ্চা বললে যে আমাদের। আম্মু - তা নয় তো কি? ওদিকে আনিকা সেজে বসে আছে,সবুজ গেছে মিষ্টি আনতে।বার বার আসছে আর বলছে আম্মু গরম লাগছে,তোমার ছেলে কখন আসবে।তাহলে তুই বল আমার মাথাটা খারাপ হবে কিনা। আর এই যে আপনি কি এই থ্রিপিস পরেই বাসায় চলে যাবেন? আমি- কেন আম্মু কি সমস্যা? আম্মু- বাসা ভর্তি আত্মীয় স্বজন।এই অবস্থায় গেলে মান সম্মান যাবে তোর মায়ের।তখন তোর মা আমাকেই ঝাড়বে। শোন,ওই যে নীল রং এর শাড়িটা যেটা সালমা আন্টি তোদের দুই বউকে দিয়েছে ওইটা পরে নে।আনিকাও পরেছে। তুই কিরে আনিকার দেখে কি একটু শিখতে পারিস না? দেখেছিস ও সবসময় কেমন সেজেগুজে ফিটফাট থাকে। আমি- আমি ওসব সাজতে টাজতে পারি না বাপু।গরম লাগে খুউব। আম্মু- পাগলি মেয়ে আমার। কথা বলতে বলতে রুমে আসলাম আমরা। আম্মু- এই ছেলে,এখনও ফোনে কি সারাদিন হুম।বিয়ে করতে চাইছিলি, এক কথায় দিয়ে দিছি,এবার রেজাল্ট ভালো না হলে কিন্তু খবর আছে বললাম।আর এখনও রেডি কেন হস নাই? নীল- কেন কোথায় যায়তে হবে? আম্মু- কেন আপনি কি কিছু জানেন না? নীল- নাহ। আম্মু আমার দিকে তাকিয়ে- তুই কিছু বলিসনি? আমি মাথা নাড়িয়ে না বললাম। আম্মু নিজের মাথায় দুইবার বাড়ি দিলেন হাত দিয়ে।তারপর বললেন- আল্লাহ গো তুইলা নাও। নীল সাথে সাথে আম্মুর মুখে হাত চেপে ধরল। ওর চোখগুলা কেমন ছলছল করছে। আমার সত্যি এবার খারাপ লাগছে।সব দোষ আমার।আমি যদি নীলকে বলতাম আমাদের বাসায় আব্বু যেতে বলে গেছে তাহলে আর এমনটা হতো না।ধুরর ভাল্লাগে না ছাই। আম্মু নীলকে সবটা বললেন।আর বললেন রেডি হয়ে নিতে।রুমে থেকে যাওয়ার সময় আমাকে শাড়ি পরে নিতে ইশারা করলেন। আমি- এই যে মশাই,বাহিরে যান? নীল- কেন? আমি- শাড়ি পরতে হবে এখন আমাকে।উফ ভাল্লাগে না। নীল- ভাল্লাগে না তো পরার কি দরকার? আমি- আম্মু বলেছে। নীল- ওসব শাড়ি টারি পড়তে হবে না।বোরখা পরো।এক মিনিটে রেডি। আমি- হা হা হা,উপরে যাব জাস্ট কয়টা সিড়ি, এর জন্য আমাকে বোরখা পরতে হবে? নীল- তোমাদের বাসায় না অনেক মেহমান?বোরখা পরাটাই বেটার। আমি- তাই না? তাহলে বিয়ের দিন কেন বোরখা পরে আনোনি হুম। নীল- আমি সত্যিই চাইছিলাম।কিন্তু বলতে পারিনি ভয়ে।তারপর ভাবলাম বিয়েটা আগে হোক তারপর সাইজ করে নিব। চোখ ছোট করে ওর দিকে তাকালাম। আমি বললাম,শাড়ি না পরলে আম্মু রাগ করবে। নীল- তাহলে শাড়ির উপরে হিজাব করবে। যদিও এটাকে পর্দা বলেনা। বাট একেবারে আলগা মাথা থাকার চাইতে এটা কিছুটা ভালো। আমি রাজি হলাম। আমি- ঠিক আছে,এবার তো বাহিরে যান। নীল- এইগুলা কি নাটক সিনেমা দেখে শিখেছেন? বর রুমে থাকলে সমস্যা কি? কচুর বর,কথাটা বলে ওকে ঠেলতে ঠেলতে রুমের বাহিরে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলাম। ১০ মিনিট হয়ে গেছে।এখনও শাড়ি গুছাতেই পারি নি।কখনও পরা হয়নি শাড়ি।নীল বাইরে থেকে দরজা নক করছে। নীল- হইছে? আমি- নাহ আরো ১০ মিনিট পর, নীল- কি রে পাগলি আজকে কি শ্বশুর বাড়ি যেতে পারব? আমি- এখনও হয়নি।পরতে পারছি না। নীল বলল,একটা কাজ কর।ইউটিউবে সার্চ দে।দেখ এই বিষয়ে টিউটরিয়াল আছে কিনা। আমি- বাহ আইডিয়া তো মন্দ না।ব্রিলিয়ান্ট বয়।অবশ্য এটা বরাবরই জানি আমি। ইউটিউবে সার্চ দিয়ে অবশেষে শাড়ি পরে দরজা খুললাম। নীল পিছন ঘুরে ছিলো,দরজা খোলার শব্দে এদিকে তাকাতেই আমাকে দেখে থ বনে গেলো। এহেম এহেম... হালকা কাশি দিয়ে বললাম,সুহা মানুষের বদনজর থেকে সাবধান থাকিস। নীল বলল,এহে ,আমি বদনজর দিইনি,সুনজর দিয়েছি। আমি- হইছে হইছে,এখন রেডি হয়ে নিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন।বিয়ে করেতো অনেক উদ্ধার করছেন হুহ। নীল রুমে ঢুকে বলল,এবার তুমি বাহিরে থাকো। আমি- কেন কেন? নীল- আমি ড্রেস চেঞ্জ করব। আমি- আপনি তো ছেলে।আপনার সমস্যা কিসের। নীল- আরেব্বাস,তুমি মেয়ে বলে তোমার লজ্জা আছে আর আমি ছেলে বলে নাই? আমার ইজ্জত কি ফেলনা নাকি হা? আমি- ওকে বাবা,আমি আম্মুর রুমে যাচ্ছি।হিজাব পরতে। চলেই যাচ্ছিলাম। নীল বলল, আচ্ছা থাক যাইতে হবে না।তুমি রুমেই সাজো।আমি বাথরুম থেকে চেঞ্জ হচ্ছি। বিড়বিড় করে বললাম,আব আয়ি উঠ পাহাড় কি নিচে... হে হে * হিজাব পরে রেডি হয়ে গেলাম।এক্সট্রা কোনো সাজ নিইনি। নীলকে বলছি,আপনি কিন্তু রাতে নিজের রুমে চলে আসবেন বাট কেউ যেন না বুঝে। নীল- থাক বোন,তাইলে আমার যাওয়ার কোনো দরকার নাই।এতো রিস্ক নিয়ে সম্ভব নয়। (কি ফাজিল রে বাবা,হাড়ে হাড়ে বদমাইশি বুদ্ধি।) জানে যে এখন আমি নিরুপায়।এর শোধ আমি নিব হুহ। আমি- ওকে।আসা লাগবে না।চলেন দয়া করে। * অবশেষে বিকেলে আম্মুর কাছে গেলাম। আত্মীয়স্বজন সবার সাথে গল্প গুজব,খাওয়া দাওয়া করে রাতে আমার রুমে আসলাম দুজন। রুমে ঢুকেই বললাম,হাত টানের অভ্যেস নেই তো? নীল- মানে কি? আমি- চুরি টুরি।আসলে আমার রুমে অনেক দামী দামী জিনিশ আছে কিনা তাই বলছিলাম আরকি।( দুষ্টামি করে বলছি) নীল- সব চাইতে দামী জিনিশ টা তো আমার রুমেই চলে গেছিলো,চাইলেই চুরি করে নিতে পারতাম। আমি- মানে? নীল- সবকিছুর মানে খুঁজোনা,একটু নিজে থেকে বোঝার চেষ্টা করিও। এটা বলে নীল ছাদে চলে গেলো। এদিকে আমার পিচ্চি বোন আসলো আমার রুমে।ওর নাম রুশা। রুশা- আপু তুই কি রে।একটু সাজলে কি হয়।আয় আমি সাজিয়ে দিই। সাজবোনা বলেও ও হিজাবটা খুলে জোর করে সাজিয়ে দিলো।সাজানোর পর ও আমাকে আয়নার সামনে নিয়ে গেলো । দেখ তো আপু কেমন হইছে সাজানো।আমি নিজেকে নিজে দেখেই মুখ ঢাকলাম লজ্জায়।তারপর রুশা চলে গেলো।নীল টা রুমে আসছে না।কল দিচ্ছি কিন্তু কেটে দিচ্ছে। তাহলে কি ও নিচে চলে গেলো। রুশা কে নিয়ে ছাদে গেলাম দেখতে। দেখি অন্ধকারে বসে আছে।আমাকে রেখে রুশা চলে গেলো। আমি নীলের পাশে যেয়ে বসলাম। আমি- কি ব্যাপার এত চুপচাপ কেন?মন খারাপ? নীল- আমার কথা তো কারো ভালো লাগে না। আমি- কিন্তু চুপ থাকলে তো আপনার মুখের অসম্মান হবে। নীল- হোক,তাতে তোমার কি? আমি- সেটাই তো।তবে অস্থির মানুষকে চুপচাপ দেখতে ভালো লাগে না। আচ্ছা আপনার ফিউচার প্লান কি? নীল অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকায়,তাকে জানার আগ্রহ দেখে হয়তো। নীল- প্লান তো আছেই একটা ইং শা আল্লাহ।বাট শুরুটাই তো এখনও ঝাপসা বা এলোমেলো।বলতে পারো তোমার উপরে নির্ভর। আমি- যেমন, নীল- একজন পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার ইচ্ছে,নিজের পরিবারকেও ইসলামিক মাইন্ডে গড়তে চাই।তুমি যদি আমার পাশে থাকো তাহলে অনেক কয়টা বাচ্চা নিব আর তাদের সবাইকে মাদ্রাসায় পড়াবো। আমি ওর কথা শুনে চুপ হয়ে যায়। নাহ যতোটা ভাবছিলাম তার চাইতে বেশিই চালাক। দুনিয়া নিয়ে ভাবা লোকগুলো আসলেই বোকা,খুব বোকা।বুদ্ধিমান লোকেরাই আখিরাত নিয়ে তাদের প্লান করে। আম্মু ডাক দেওয়ায় রুমে চলে যায়। নীল বলে,আচ্ছা তুমি থাকো আমি চলে গেলাম আমার রুমে। আমি বললাম,থাক আর ঢং করতে হবে না। ও মুচকি মুচকি হাসলো। আমি আবার বললাম,মানুষের চোখগুলা কেমন জানি হয়ে গেছে।সাজলেও চোখে পড়ে না। নীল এবার একটু জোরেই হেসে ফেলল,ওর সাথে আমিও। নীল- মন্তব্য করলেও তো দোষ,বলবা নজর দিচ্ছি। হি হি হি বলব বেশ করব। চলবে.. লেখিকা- সূর্যস্পশ্যা তনয়া
প্রিয়জন -৩ by asad Rahman প্রিয়জন -৩ by asad Rahman  Reviewed by MD ASAD RAHMAN on মে ২৩, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.