Recents in Beach

প্রিয়জন by Asad Rahman

প্রিয়জন... ♥ 😍😍😍😍লেখিকা: সূর্যস্পশ্যা তনয়া😍😍😍😍 ২০১৪ এর দিকে...তখন ইন্টার পরীক্ষার জন্য স্যারের বাসায় এক্সট্রা ক্লাস করানো হত।যার কারণে বাসায় আসতে প্রায় সন্ধ্যার ঘোর ঘোর হয়ে যেত। ঠিক এমনি সময়ে একদিন আমি বাসায় ফিরছিলাম।মুকুল চাচার বাড়ির সামনের গলিটার কাছে একটা বিদ্যুৎ খাম্বা ছিলো।আমি সেটা ক্রস করার সাথে সাথে একজনের হাতের সাথে আমার হাতটা একটু টাচ হয়ে গেলো।আমি খুব চমকে গেলাম। একবার মাত্র মুখের দিকে তাকিয়ে দ্রত সেখান থেকে প্রস্থান করলাম। আমাদের বাসার গেটে ঢোকার সময় ৩য় ফ্লাটের বারান্দায় হঠাৎই চোখ চলে যায়। তখন যা দেখি তা দেখে আমার কাপুনি চলে আসে।একটু আগে যার সাথে ধাক্কা লাগতে গিয়েও বেঁচে গেছি সেইম দেখতে একজন ওই বারান্দায় দাড়িয়ে।এতো দ্রত কিভাবে আসতে পারেন উনি।তাহলে কি উনি অন্যকিছু? এটা ভেবে আমি থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে আমাদের ফ্লোরে চলে আসি।আমাদের ৪ নং ফ্লোর। অনেক্ষণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম যে আসলে এটা কি ছিলো। তবে বিষয়টা কারো সাথে শেয়ার করিনি। * পরেরদিন কলেজ থেকে ফিরে ৩ য় ফ্লোরের সিঁড়িতে আবার সেইম লোকের সাথে দেখা।আমার দিকে কেমন বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিচে চলে গেলেন।আমি ভয় পেয়ে দ্রত রুমে এসে বারান্দায় গেলাম,কি অদ্ভুত আবারও দেখি সেইম লোক ৩য় ফ্লোরের বারান্দায়। ভয়ে হাত পা অবশ হয়ে আসছিলো।এটা কিভাবে সম্ভব। আমাকে জানতেই হবে। কিন্তু পরীক্ষার টেনশনে ভুলে যেতে বসেছিলাম।কয়েকদিন পর আবারও ঘটনার রিপিট হলো। এবার আমি আম্মুকে সব বলে দিলাম।আম্মু তো শুনে হাসতে হাসতে দম বন্ধ হবার অবস্থা। পরে উনি যা বললেন তাতে আমিও হাসলাম।আসলে আমাদের ৩য় ফ্লোরে নতুন ভাড়াটিয়া এসছেন,তাদের জমজ দুই ছেলে।অনার্স ৪র্থ বর্ষ পড়ে। দুজনের চেহারার এতোটাই মিল যে কেউই তাদের চিনতে পারে না। যাক ব্যাপারটা ক্লিয়ার হয়ে খুব ভালো হলো।এখন আমি মন দিয়ে পড়ালেখা করতে পারব ভেবে একটু শান্তি পেলাম।কিন্তু সেই শান্তি বোধ হয় কপালে ছিলো না। আর তাই বোধ হয় জুড়ওয়া দো ভাই হামারি ঘাড়মে আব্বুর কাছে অর্থনীতি বিষয়ে পড়তে আসা শুরু করলো। আব্বু অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর। ওরা যখন পড়তো আমি চুপ চুপ করে আড়াল থেকে দেখতাম।কয়েকদিনেই বুঝলাম একজন অনেক বেশি চঞ্চল।আরেকজন একটু শান্ত টাইপ।তবে দুজনই বেশ মেধাবী। আস্তে আস্তে আমাদের দুই পরিবারের মাঝে বেশ ভালো সম্পর্ক তৈরী হলো। যদিও আমি তেমনভাবে মিশি নাই কখনও।তবে ওরা দুজন আমাকে "তুই" বলেই সম্বোধন করতো।আর আমি ভয়ে ভয়ে "তুমি" করেই বলতাম। * এদিকে আমার এক্সাম শুরু হওয়ায় অনেক ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। একদিন আমার দুপুরে পরীক্ষা ছিলো।সেদিন হঠাৎ কাল বৈশাখি ঝড় উঠলো।স্যাররা কোনোরকমে পরীক্ষা শেষ করে ছেড়ে দিলেন। আমি তো চিন্তায় পড়ে গেলাম বাসায় যাব কিভাবে।নিচে নেমে এসে দেখি অনেক বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে।আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলাম।এদিকে সন্ধ্যাও নামো নামো। দেখি ভিড় ঠেলে জমজ ভাই এর একজন আমার দিকে আসছে। ওহ ওদের নামই তো বলা হয়নি। ডাকনাম, নীল- সবুজ। নীল টা আমাকে একবারে দেখতে পারে না।ঝগড়া করার জন্য মুখিয়ে থাকে।এজন্য আমার সবুজকে লাইক হয়।আজকে চুপচাপ থাকায় বুঝছি না। আমি জানি না আমাকে কে নিতে এসছে। আমাকে বলল চল, আমি বললাম, এতো বৃষ্টি হচ্ছে যে। ও ছাতা দেখিয়ে বলল, ছাতা নিয়ে এসছি। দুজন দুইটা ছাতা নিয়ে গেটের দিকে হাটা শুরু করলাম।পা টিপে টিপেই হাটছিলাম কিন্তু কিভাবে যেন পা টা পিছলে গেলো।আর অমনি আমার ছাতাটা উল্টে বাতাসে দুমড়ে গেলো।উনি সাথে ওনার ছাতার নিচে আমাকে নিয়ে নিলেন।এক ছাতার নিচে হাটতে আমার ইতস্তত বোধ হচ্ছিলো।আমি আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে। আমি ওকে জিগ্যেস করলাম তুমি কে? ও বলল, ভুত। আমি- দেখো ফাজলামি ছাড়ো।কে তুমি নীল? উনি- সবুজ।কেন নীল আসলে ভালো হত? আমি- একদমই না।শয়তানের হাড্ডি একটা।তুমি যেন বলে দিও না। উনি- হুম। গেটের কাছে এসে দেখি রিক্সাও নাই।মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। বাট ওনার কোনো চিন্তায় নাই মনে হয়। আমাকে জিগ্যেস করলো- কিরে তোর এক্সাম কেমন হইছে? খাতা ঝড়ে উড়ে যায়নি তো? আমি- নাহ উড়েনি।পরীক্ষা ভয়ে ভয়ে দিছি কি হবে জানি না। উনি- আচ্ছা তোর কি ভয়টা অনেক বেশি নাকি? আমি- কেন? উনি- মনে হয় তুই অনেক ভীতু। কথা শুনে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো।এক ঝটকায় ছাতাটা আমার দিকে টেনে নিয়ে বললাম,নীলের বাচ্চা।আমি তোমায় চিনে ফেলেছি। উনি ভিজে যাচ্ছিলেন তাই মাথায় রুমাল দিতে দিতে বললেন, কচু চিনেছেন। এরই মাঝে অটো চলে আসলো,উনি হাত ইশারা করে দাড় করালেন। আমরা অটোতে উঠলাম।আমাদের সাথে আরো দুইটা মেয়ে উঠলো।তাদের দেখে ওনার গল্প করার স্পিড আরোও বেড়ে গেলো।এমনভাবে কথা বলা শুরু করেছে মনে হচ্ছে আমি ওনার জিএফ।কটমটে লুক নিয়ে তাকালাম। উনি মনে হয় একটু ভয় পেয়ে চুপ হয়ে গেলেন। বাসায় পৌছে ওনাকে সিড়িতে আরেকবার চোখ রাঙালাম।সাথে ধন্যবাদও দিলাম। * সেদিন রাতে আমি ওনার কথাই ভেবেছি।আর ভাবছিলাম ও যদি সত্যি সবুজ হয়,তাহলে ওকে নিয়ে অনেকটা পথ পাড়ি দিব। দিন দিন কেমন জানি দূর্বলতা অনুভব করতাম। আবার ভাবতাম ওর কোনো ভালো লাগা আছে কিনা। সবুজ এর রিলেশন থাকবে বলে মনে হয় না।থাকলে নীলের থাকতে পারে। কারণ চঞ্চল টাইপের ছেলেরা মেয়ে পটানোর ওস্তাদ।😜 পরীক্ষা শেষ।বাসায় বিয়ের প্রস্তাবও আসতে শুরু করেছে।আর আমি শুরু করেছি ওভার এক্টিং।কিভাবে পাত্র পক্ষকে সাইজ করা যায়।হঠাৎ একটা বিয়ের প্রপোজাল আসলো যা শুনে আমি ব্রেক ডান্স দিলাম। সবুজের আব্বু আমার আব্বুকে বললেন আমাকে ওনার পুত্র বধূ করতে চান।তবে দুই ছেলের বিয়ে যেহেতু একসাথে দিবেন তাই আরেকজন পাত্রী খুঁজে তারপর বিয়ে। আমার কি যে আনন্দ লাগছিলো। আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম অনেক্ষণ। আমি এতোটাই আনন্দে বিভোর ছিলাম যে আমি একবারোও কাউকে জিগ্যেসও করিনি আমার কার সাথে বিয়ে হচ্ছে। দেখতে দেখতে বিয়ের দিন হাজির।যথারীতি বিয়ের সব নিয়ম কানুন শেষে আমাকে বাসর ঘরে নেওয়া হলো। দীর্ঘ প্রতিক্ষার একটি রাত। তবুও আমার বরের দেখা নাই।অনেক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি আসলেন। - আসসালামু ওয়ালাইকুম। - ওয়ালাইকুমুস সালাম।(আমি) - ভিতরে আসতে পারি? - জী,আসেন। - মা শা আল্লাহ। সত্যি অসাধারণ। সৌন্দর্যের প্রশংসা করায় লাজুক লাজুক মুখ করে না বোঝার ভান ধরে জিগ্যেস করলাম... - কি? - এই ফুলগুলো।( বাসর সাজানোর ফুল গুলো দেখিয়ে) অপমানিত হওয়ায় রাগ হলো আমার। উনি আবার বললেন আসলেই চাঁদের মতই সুন্দর। আমি এবার কান করলাম না। নীলের সাথে থাকতে থাকতে সবুজটাও অনেক ফাজিল হয়ে গেছে। আমি কোনো কথা না বলে ফোনে বিয়ের পিকগুলা দেখতে শুরু করলাম। উনি বুঝতে পারলেন আমি ওনাকে পাত্তা দিচ্ছি না।তাই এক টানে হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলেন। ফোনের পিকগুলা দেখতে দেখতে বললেন,আরি বাবা কে গো এইটা।মনে হচ্ছে দেশে আটা ময়দার এবার প্রাইস বেড়ে যাবে যে পরিমাণ আটা ময়দার অপচয় হইছে। আমি কটমট করে বললাম,ওইগুলা আটা ময়দা না মেকআপ।অশিক্ষিত একটা। - হুম অনেক।শিক্ষিত করে নিবা? - অবশ্যই। এভাবে কথা বলছিলাম ঠিক তখনি দরজা টোকানোর শব্দ। আমার শাশুড়ি আম্মা। আমি বুঝিনা এই শাশুড়ি গুলার কি সমস্যা। ছেলেকে বউ এর সাথে একঘরে দেখলেই হাকডাক হি হি। যায়হোক উনি দরজা খুলে দিলেন। শাশুড়ি ঘরে এসে বললেন, এই নীল, ফোন বাইরে কেনো রেখে এসছিস? বাড়িভর্তি মানুষ।হারিয়ে যেতে পারতো। - ওহ ভুলে গেছি।জাযাকিল্লাহ খাইর আম্মু। - ওয়া ইয়্যাকি।আমাকে বললেন, সুহা কোনো সমস্যা হলে বলিস মা। আমি মাথা নাড়ালাম।উনি ঘুমিয়ে পড়তে বলে চলে গেলেন। আমি তখন স্তব্ধ হয়ে বসে আছি। যাকে আমি স্বপ্নেও ভাবিনি সে নাকি আমার বর। - নীল? - হুম, - এমনটা কেন হলো বলতে পারো আমার সাথে। - আমি সবকিছুই জানি। - জানোই যখন কেন আসলে আমার লাইফে? - আমার কিছু করার ছিলো না। - আর মিথ্যে বলো না। - আমার মনে হয় আমাকে মেনে নিতে তোমার বেশি অসুবিধা হবে না।কারণ সবুজ আর আমি একরকমই দেখতে।বাইরে ভিতরে সবটাই। - shut up. চেহারা এক হলেই হয়না।দুজনের মনটা তো আর এক নয়। - তুমি কি তাহলে সত্য টা শুনতে চাও? - মানে? কি সত্যি - আগে বলো তুমি কাকে পছন্দ করতে,যার সাথে সিড়িতে দেখা হত তাকে? নাকি যাকে তুমি বারান্দায় দেখতে। - আমি আগেই বলেছি আমি চেহারা দেখে ভালোবাসিনি। - বারান্দায় সবুজ থাকতো।কারণ কি জানো ও যে মেয়েটিকে ভালোবাসতো সে ওই সময় রাস্তা দিয়ে যায়তো। - কিহ? সবুজ কাউকে ভালোবাসতো। - হুম,যার সাথে ওর বিয়ে হইছে। - ওহ,খুব ভালো।বাট এটা আগে জানলে আমাকে কষ্ট পেতে হতো না। আচ্ছা তাহলে কলেজে ওইদিন কে ছিলো? উনি চুপ করে আছেন।আমি বুঝে ফেলেছি। - মিথ্যে করে সবুজ বলার প্রয়োজন ছিলো না সেদিন। - সরি - তো আপনার কোনো পছন্দ ছিলো না? আপনি তো মেয়ে পটানোর ওস্তাদ। - দেখো কেউ বেশি কথা বললে বা চঞ্চল ভাবে চললে সে খারাপ হয়ে যায় না। আর পছন্দের কথা বলছো,হুম পছন্দ ছিলো একজন।দেখবে? - হুম উনি আলমারী খুলে আমার হাতে এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিলেন। আমি অবাক হলাম,এটাতো আমার। - তুমি কোথায় পেলে? - তোমার মনে আছে যে দিন আমাদের প্রথম দেখা হয়,সন্ধার সময়।ওইদিন পিকটা তোমার ব্যগ থেকে হয়তো পড়ে যায়। - ওহ এজন্য আমি বাসায় এসে ৬ কপির পরিবর্তে ৫ কপি পাইছিলাম। - হুম,তোমার আব্বু কাছে পড়তে যাওয়া,দুই পরিবারকে এক করার সব প্লান আমারই ছিলো।ভুলে হলে ক্ষমাপার্থী। - আপনার ভুল হয়নি।ভুল হইছে আমার।আমি আমার প্রিয়জনকে চিনতে পারিনি। - তাই।আচ্ছা শুনো,সময় নষ্ট না করে চলো টুইন বেবি আনার ব্যাবস্থা করি। - মারব না এমন.... - হা হা হা পাগলি.. #লেখিকা: সূর্যস্পশ্যা তনয়া (প্রথম গল্প লিখলাম,কেমন হইছে অবশ্যই জানাবেন)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ