Recents in Beach

প্রিয়জন-২ by Asad Rahman

প্রিয়জন- ২ #লেখিকা: সূর্যস্পশ্যা তনয়া আমি বুঝতে পারছি নীল আমাকে ভালোবাসে অনেক।কিন্তু কেন জানি না ওকে বর হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। দুষ্টামি করতে করতে নীল ঘুমিয়ে পড়ল।কিন্তু আমার তো ঘুম আসছে না। আমি আস্তে করে বেড থেকে নেমে ঘর থেকে বের হলাম।উদ্দেশ্য চারতলায় আমাদের ফ্লাটে যাব।এই রুমে ওর সাথে ঘুমানো আমার পক্ষে অসম্ভব।আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই ফ্লাট থেকে বের হয়ে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম।রাত আনুমানিক ১ টা হবে। ফোনটাও আনিনি।আমাদের ফ্লাটের সামনে এসে দেখি দরজা লক। এতোরাতে আম্মুকে ডাকলেও প্রবলেম,হাজারটা প্রশ্নের সম্মখিন হতে হবে।সেই ভয়ে ফিরে আসলাম।নীলের রুমের সামনে এসে দেখি গেট ভিতর থেকে লাগানো।ওরে ফাজিল...৫ মিনিটও হয়নি গিয়েছি,এর মাঝেই গেট বন্ধ। তারমানে ও ঘুমানোর ভান করেছিলো। দাড়া একবার ভিতরে যায় তারপর তোরে দেখে নিব। আমি আস্তে করে গেটে টোকা দিলাম।কিন্তু কোনো সাড়া নাই। কতক্ষণ এভাবে করেছি আমার খেয়াল নেই। ভোরে শাশুড়ি আম্মুর ডাকে ঘুম ভাঙলো।তখন নিজেকে বেডে আবিষ্কার করলাম। এখানে কিভাবে এসছি কিছু মনে নাই,নীলকে দেখলাম বাথরুম থেকে বের হচ্ছে।মনে হলো অযু করে আসলো।আম্মু ডাকায় আমি দরজা খুলে দিলাম। শাশুড়ি - আসসালামু ওয়ালাইকুম। আমি- ওয়ালাইকুমুস সালাম। - উঠে পড়েছিস? ওমা এখনও এইসব শাড়ি গহনা পরে।চেঞ্জ করিস নি? - রাতে খুব ঘুম পাইছিলো, তাই..... - আচ্ছা নামাজ পড়ে নে।নীল,সবুজ দাড়িয়ে আছে তাড়াতাড়ি যা।জামায়াত শুরু হয়ে যাবে নয়তো। নীল- জী আম্মু,যাচ্ছি। আম্মু চলে যাওয়ার পর আমি বললাম,নামাজ পড়ে আসো তারপর কথা আছে। উনি ভিলেন এর মত হাসি দিয়ে চলে গেলেন। * নামাজ পড়ে আমি আম্মুর কাছে গেলাম।দেখি সবুজ ভাই এর বউও আছে। ওর সাথে আমার কোনো কথায় হয়নি। তারপর অনেক কথা হলো আমাদের ।উনি আমার চাইতে এক বছরের সিনিয়র।তবুও নাম ধরে ডাকার অনুমতি পেলাম।কথা বলে বেশ ভালোই মনে হলো।ওর নাম আনিকা। কথায় কথায় আনিকা আমাকে বাসররাত কেমন কাটলো জিগ্যেস করলো। আমি কিছু বলতে পারছিলাম না।আসলে বলার মত কিছু হয়নি আমাদের। কিন্তু ও ভাবছে আমি লজ্জা পাচ্ছি। এর মধ্যে দুভাই নামাজ পড়ে চলে আসলো।আম্মু দুষ্টামি করে বললেন,কার বর কোনটা চিনতে পারছিস তো? আনিকা হাসি দিয়ে বলল, জী আম্মা।সবুজের চোখের চাইতে নীল ভাইয়ার চোখের মনি বেশি কালো। এটা শুনে সবাই হো হো করে হেসে দিলো। কিন্তু আমার হাসি আসলো না।আসলে আমি কখনও এটা খেয়ালই করিনি।কখনও চোখের দিকে তাকানো হয়নি। আমি লুকিয়ে নীলের চোখের দিকে একবার তাকালাম। ইশ,দেখি উনিও আমার দিকেই তাকিয়ে।আমার ভীষন লজ্জা লাগছিলো।তাই আম্মুর সাথে রান্নাঘরে চলে গেলাম। আম্মু চা বিস্কিটের ট্রে হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল রুমে নিয়ে যা। আহা কি শখ।আমাকে ওই নীলের বাচ্চার ফরমায়েশ খাটতে হবে। রুমে ঢুকে দেখি আমার ফোন টিপছে। আমি ছোঁ মেরে ফোনটা কেড়ে নিলাম।দেখি আমার পিক জুম করে দেখছে। মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। - আমার ফোন কেন হাতে নিছস? - আরেব্বাস তুমি থেকে তুই হয়ে গেলো? আমি কিন্তু তোমার চাইতে ৪ বছরের বড়।একটু সম্নান তো করাই যায় তাই না? - পারব না। - ওকে নো প্রবলেম। হঠাৎ কাল রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো। - আচ্ছা কাল রাতে আমি বেডে কিভাবে আসলাম? - তার আগে বলো ওতো রাতে কোথায় গেছিলা? - আমাদের ফ্লাটে।কিন্তু তুই তো মস্ত বড় ফাজিল।গেট কেন লাগাইছিলি বল? - হি হি হি,আমাকে একা রেখে গেছো তার শাস্তি। - তাই না।তো বেডে আসলাম কিভাবে।এই তুই আমাকে কোলে করে আনিস নি তো? - হুররর।আমার তো আর খেয়ে দেয়ে কোনো কাজ নাই। হাতি কোলে নিব।হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এসছি। - কিহ,আমি হাতি? - না না,হাতির কিউট গুলুমুলু বাচ্চা। - তোরে না.... - আদর করবা? - সররররররর.... - ওরে আমার পিচ্চি বউটা রে আমার জন্য চা নিয়া আসছে।দেখি দেখি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। - তোর কি একটুও লজ্জা নাই? - বউ এর সামনে লজ্জা কিসের হুম। - একদম বউ বলবি না। রাগ নিয়ে ঘর থেকে বাইর হয়ে গেলাম। বিকেলের দিকে নীল একটু বাহিরে গেছে।আমি ছাদে বসে একটা ছোট ইটের টুকরা নিয়ে হাবিজাবি আঁকতেছি।এমন সময় দেখি সবুজ ভাইয়া ছাদে আসলো। - কি রে এখানে কি করতেছিস? আমি ইটের টুকরাটা লুকিয়ে বললাম,এই তো বসে আছি। - নীল কোথায়? - জানি না। উনি একটু গলাটা ঝেড়ে বলতে শুরু করলেন। - দেখ সুহা,আমি তোর ফিলিংসটা বুঝতে পারছি।কিন্তু নীল সত্যি খুব ভালো ছেলে।হ্যা ও একটু দুষ্টু টাইপ।কিন্তু ওর মন অনেক ভালো।কাউকে কষ্ট দিতে জানে না।আমি বিশ্বাস করি ওর চাইতে বেশি ভালো কেউই তোকে রাখতে পারবে না। - কিন্তু..... - জানিস,আমার ভাইটা অনেক কষ্ট করেছে জীবনে।একটু দুষ্টু হওয়ায় আব্বু ওর চয়েজকে কখনও প্রাধান্য দিত না।হয়তো ভরসা করতে পারত না।আমরা দেখতে একরকম হলেও আমাদের দুজনের পছন্দ এক নয়।কিন্তু তবুও ও সবসময় আমার পছন্দকে গুরুত্ব দিছে।আমি যা পছন্দ করেছি সেটাই ও নিয়েছে।শুধু তোর বেলাতেই ও মুখ ফুটে বলেছিলো,ভাই এই মেয়েটাকে আমার বউ বানাতে চাই। - ভাই এর নামে সাফাই গাইতেছো? - যা বলবি বল,তবে এগুলায় সত্যি। - সময় লাগবে অনেক নিজেকে বোঝাতে।এতোদিন ওয়েট করবে ও? - সারাজীবন ওয়েট করতে পারবে। - দোয়া করিও বলে নিচে চলে আসলাম। * রাতের বেলা নীল আমাকে বলল, - এক ঘরে ঘুমাতে সমস্যা হলে আমি বাহিরে চলে যাচ্ছি বাট তুমি তোমাদের বাসায় যেও না।আম্মুরা খারাপ ভাববে। - হুম..... নীল বালিশ টা মেঝেতে নিয়ে শুয়ে পড়তে যাচ্ছিলো দেখে আমি বললাম। - একচুয়ালি যার রুম,যার বেড,তার নিচে ঘুমানোটা আমার কাছে খারাপ লাগছে। বেডে ঘুমাও। - আর তুমি? - ঘুমাবো না। - সারারাত জেগে থাকতে পারবা? - জানি না। ও আবার বলল,সবুজকে ভুলতে পারছো না? - কেন পারব না,আমি ভুলে গেছি।আমি ওনার কথা আর ভাবিনি। - প্রমাণ দিতে পারবা? - কিভাবে? - আমাকে স্বামীর অধিকার দিতে হবে। ভয় পেয়ে গেলাম আমি,তবু প্রমাণ যেহেতু করতে হবে তাই বললাম,আচ্ছা। নীল একটু একটু করে আমার দিকে এগিয়ে আসছিলো,আর আমিও পিছিয়ে যাচ্ছিলাম। যেতে যেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়,আর তখনি নীল শক্ত করে আমার দুই বাহু ধরে।খুব ব্যাথা করছিলো,এতো শক্ত হাত।আমি ওর চোখের দিকে তাকায়,ঘন পাপড়ির মায়াবী দুটি গভীর সমুদ্র। যেখানে তেজ নামক ঢেউ আছড়ে পড়ছে। ও আস্তেআস্তে ঠোঁটের দিকে আগাতে শুরু করলো,আমি চোখ বন্ধ করে নিলাম। হঠাৎ ও আমাকে ছেড়ে দিলো,আর বলল, জোর করে শরীল পাওয়া যায়,ভালোবাসা না।আমি তো ভালোবাসার কাঙাল।যদি জানতাম আমার প্রতি এতোটা ঘৃণা জমা আছে।কখনই এই কষ্টে ফেলতাম না।তবে শীঘ্রই মুক্তি পাবে তুমি। এসব বলে ও বেডে শুয়ে পড়লো। আমিও ওর একপাশে শুয়ে পড়লাম। ভোরে যখন এলার্মে ঘুম ভাঙলো,দেখি আমি ওর দিকে দুই হাত এগিয়ে এসছি।ও যেভাবে শুয়েছিলো সেভাবেই আছে। উঠতে যেয়ে দেখি আমার চুলগুলা ওর হাতের নিচে।শাড়ির আঁচল ওর পিঠের নিচে।আমার ওঠার কোনো উপায় নেই। আমি নীলকে আস্তে করে ডাকলাম,শুনছো? এই,,, এই নীল - হুমমমম,উম.... বলো.... - আজান হচ্ছে,নামাজ পড়তে যাও। ও একলাফে উঠে পড়ল।আমিও মুক্তি পেলাম। নীল অযু করে পাঞ্জাবী পরতে পরতে বলল,নামাজ পড়ে নাও। নীলকে পাঞ্জাবীতে এতো সুন্দর লাগে কখনও খেয়ালই করিনি। একপলকে তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে, ওর কথাতে সম্ভিত ফিরে পেলাম। - টুপিটা দেখেছো? - তোমার টুপির খবর আমি কি জানি। কথা না বাড়িয়ে ও খুঁজতে লাগলো। জানি খুঁজে পাবেনা।তাই তাড়াতাড়ি করে খুঁজে দিলাম। ও খুশি হয়ে,কিউট বউটা আমার বলে দৌড় দিলো.... চলবে...... #লেখিকা: সূর্যস্পশ্যা তনয়া

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ