একটু ভালবাসা by Asad Rahman

Writter:md Asad Rahman . . . ---------------দিন শুক্রবার।। ঘুম থেকে উঠলাম ১১.৩০ টা তে। উঠে নাস্তা করে গোসল করতে গেলাম। গোসল শেষে মসজিদ এ গেলাম নামাজ পড়তে এসে খেয়ে ভাবলাম একটু ঘুমাবো ঠিক তখন এক বন্ধু কল দিলঃ . . - কিরে শালা কই তুই? (আবির) - এইত মামা ঘুমাবো একটু (আমি) - শালা শুধু ঘুম আর ঘুম! - নারে ভাল লাগছেনা তাই। - তোর ভাললাগার কথাও না।সারাদিন ঘুমাইলে যা হয় আর কি।। শালা ৫মিনিটস এ মাঠে আয় গাড়ি নিয়ে।। - এত জরুরী তলব!! - হ্যা। একটা বিয়েতে যাব।। মেহেদী রাত। - গাড়ি নিয়ে তুই নিজে যা। আমার ভাল লাগছেনা। - তুই আসবি! নাকি আমার গিয়ে থাপড়ানো লাগবো! - আহা এত পেইন দিস কেন? তুই ৫মিনিট দাড়া আমি ৩০মিনিট পর রেডি হয়ে আসছি। - তারাতারি আয়। . অতঃপর আম্মুকে জানালাম আবিরের সাথে বিয়েতে যাচ্ছি। রাতে আর ফিরবো না।। তারপর ঠিক পাক্কা ৩০মিনিটস পর গেলাম মাঠে। - ৩০মিনিটস বলেছিস ঠিক ৩০ মিনিট পর এলি।। কি করছিলি? (আবির) - দোস্ত রেডি হয়তেছিলাম।। (আমি) - আচ্ছা এখন চল। সামনে দোকানে থামিস,,সিগারেট নিব। . . আমাদের যেতে প্রায় ১ঘন্টা লেগে যায়।। গিয়ে বিয়ে বাড়িতে আমি আর আবির টো টো কম্পেনির ম্যানেজিং এর দায়িত্বে ছিলাম।। কিছুক্ষন ধরেই খেয়াল করছি একটা মেয়ে আবির কে বার বার ফলো করছে।। যদিও সে বিষয় টা ততটা খেয়াল করেনি।। আমি করেছিলাম।। . . - দোস্ত দেখতো মেয়েটা তোর দিকে বার বার তাকাচ্ছে কেন! (আমি) - কই দেখিতো! (আবির) - ঐ যে। - আরে এত নীলা!! আমার দুরসম্পর্কের বোন হয়। ও এখানে! চলতো।। - কই? - আরে চল। . . তারপর মেয়েটার সামনে গিয়েঃ - আরে তুই? (আবির) - হুম। আমাকে তো ভুলে গেছিস মনে হয়। - আরে না। আমি খেয়াল করিনি। - ওও করবি কেন। - আচ্ছা সরি। আনকেল আন্টি কেমন আছে? - ভালই আছে। তোর সাথে এটা কেরে ঐদিকে চলে গিয়েছে? - আমার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। - খুব চেনা চেনা লাগছে। কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে কিন্তু মনে পরছেনা। - তোর ফেসবুক এ দেখেছিস। ঐ যে চিরচেনা লেখক আছেনা! সে! - কি বলিস? নীল তোর বন্ধু!! - কেন হতে পারেনা? - হ্যা পারে।। আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেনা।। . আবির আমাকে ডেকে বল্লঃ - ঐ! এদিকে আইতো। (আবির) - দাড়া। - ও নীলা। তোর খুব বড় ফ্যান।। কথা বল আমি আসছি বলে চলে গেল আবির।। - হা হা হাই! - হুম। এভাবে তোতলাচ্ছেন কেন? - আসলে আমার প্রিয় লেখক আমার সামনে দাড়িয়ে তাই একটু আনইজি ফিল করছি। - ও আচ্ছা।। - আমি আপনার সব গল্প পড়েছি।। খুব সুন্দর লিখেন আপনি। - ধন্যবাদ। - হুম।। তা এখন তো খুব কম লিখেন আপনি। - হ্যা সময় পাইনা ঠিক মত। - ও আচ্ছা। - হুম। - আচ্ছা রাতে থাকবেন। - হ্যা। - আপনার বাড়ি কোথায়? - জ্বি ........ তে।। - ওও। - আচ্ছা পরে কথা হবে।এখন আসি। - আচ্ছা। . . সন্ধ্যা ৭টা। বিয়ের আয়োজন শুরু হয়েছে।।মেহমান দের খাবার পরিবেশন করছে। এক ফাকে আমি আর আবির খেয়ে নিলাম।। খাওয়া শেষ করে আমি একটু দুরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। এইত দুই মিনিট পর দেখি নিলা আমার সামনে। . . - ছিঃ আপনি সিগারেট খান? - না আমি নীল খান। - ধুর মজা করবেন নাতো। - আচ্ছা। - এটা ফেলে দিন। - মানে? - ঐ ফেলবি নাকি বল। (আমার শার্টের কলার ধরে) - ফেলছি ফেলছি।। - আর খাবে সিগারেট? - সিগারেট না খেয়ে কি খাব? - আমার মাথা খাও।। - না আমি রাক্ষসী দের থেকে দুরে থাকি। - কি! আমি রাক্ষসী? দাড়াও তোমার একদিন কি আমার যতদিন লাগে। অতঃপর লাঠি নিয়ে আমাকে কানে ধরিয়ে ছোট ছেলেদের মত শাসণ করছে।আর আমিও ছোট ছেলের মত কান ধরে দাড়িয়ে আছি আর তাকে দেখে দেখে অবাক হচ্ছি।খুব মায়াবী একটা চেহারা। আর চোখ দুইটা খুব সুন্দর। ইচ্ছা করছে সেই চোখের প্রেমে হাড়িয়ে যায়। কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম আবির আর নীলা আমার সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাসছে। আরো কয়েকজন কে লক্ষ করলাম।। বুঝলাম আমি কান ধরে দাড়িয়ে ছিলাম এতক্ষণ।। . . - কিরে দোস্ত? কই হারিয়ে গেলি? (আবির) - না মানে? (লজ্জায় কিছু বলতে পারছিনা) - নীলা তুই কিভাবে এই রাম ছাগল কে কানে ধরালি!! এটা তো বিশ্বযুদ্ধ জয় করার সমান। নীলা হাসছে,, আবির ও হাসছে।।। . . তারপর থেকে নীলার সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায়।। আপনি থেকে তুমি আর তুমি থেকে তুই।। এই অল্প কিছুদিন এ ওর খুব মায়ায় পরে গিয়েছি।। বুঝতে দেরি রইল না আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি।। তো একদিন তাকে কল দিয়েঃ - দোস্ত কাল একটু দেখা করতে পারবি! (আমি) - আচ্ছা দোস্ত। - ঐ কাল তুই একটা নীল রঙের শাড়ি পরে আসবি। - আচ্ছা। কিন্তু কেন? - তোর মাথা খাব। - আচ্ছা।। - সকাল ৮ টা বাজে আমি তোর জন্য লেকের পাড়ে অপেক্ষা করব। তারাতারি চলে আসবি। - আচ্ছা দোস্ত। পরের দিন সকাল এ ৮টা বাজা র কিছুক্ষন আগে আমি পৌঁছে গেলাম।। লেকের পাড়ে বসে আছি বেঞ্চিতে। ৮টা বাজা র কিছু মিনিট পর দেখি কেও আসছে আমার দিকে নীল রঙের শাড়ি পরে। বুঝতে বাকী রইল না এটা নীলা। নীলা কে অপরুপ সুন্দর দেখাচ্ছে। যেন ডানাকাটা নীলপরি আসছে।।। - ঐ!! (নীলার ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম) হা করে কি দেখছিস এমন? জানি আমি খুব সুন্দর দেখতে।। (নীলা) - সুন্দর আর তুই!!! (আমি) - মানে? - কাক ও তুর থেকে অনেক বেশি সুন্দর জানিস তুই। - কি বল্লি তুই আমাকে? তাহলে ভালবেসেছিস কেন? - হুম!! ভালবাসা আর তুকে? শত শত মেয়ে আমার পিছনে ঘুর ঘুর করে। আর আমার কাজ নাই তুকে ভালবাসতে যাব!! - কি তুই আমাকে ভাল বাসিস না? তাহলে এখানে কেন আসতে বল্লি নীল শাড়ি পরে? (কান্না জড়িত কন্ঠে) - তুকে নিয়ে মার্কেট এ যাব তাই।। তার মানে এই না যে তুকে ভালবাসি। - সত্যি তুই আমাকে ভালবাসিস না? - আরে তুর কি মাথা খারাপ? এই সব ভালবাসার জন্য অনেক আছে।। এইসব বাদ দে।। আর এখন চল। - কই যাবো? - আরে চলতো।। আমি মনে মনে অসম্ভব খুশি। আমি আমার উত্তর পেয়ে গেলাম।। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে মার্কেট এ গিয়ে কিছু শপিং করলাম। এক ফাঁকে ও না দেখে একটা আংটি নিলাম নীলার জন্য। তারপর আবার রওনা দিলাম একটা জায়গার উদ্দেশ্যে। রিকসা তে উঠলাম। নীলার মুখে কোনো কথা নেই।বেচাড়ি খুব কষ্ট পেল। ভাবলাম কিছু বলব কিন্তু বলিনি।। চলে গেলাম সেই লেকের পাড়ে।। নীলা এতক্ষণ পর মুখ খুলল। - কিরে আবার এখানে কেন এলি? আমি ঘরে যাব।ভাল লাগছেনা। - অপেক্ষা কর তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে। তুই চোখ বন্ধ কর। - কেন? - কর না।। নীলার চোখ রুমাল দিয়ে বেধে দিলাম।সে আমার হাত ধরে হাটছে।।। - কিরে কই নিচ্ছিস আমাকে? - তোকে কিডন্যাপ করব। তারপর জায়গাই গিয়ে ওর চোখ থেকে রুমাল খুলে দিলাম। ও তো পুরাই অবাক। আসলে আমি ওলে পচানি দিয়েছিলাম সকালে। যাতে তার মুড খারাপ থাকে।। যে সারপ্রাইজ দিব সেটা যাতে উপভোগ করতে পারে তাই। - এই সব কি?? - দেখে যা শুধু!!! আমি হাতে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে হাটু গেড়ে বসে প্রপোজ করলাম আমি তোমাকে খুব খুব খুব ভালবাসি।। তুমি কি আমার হবে? নীলা কিছু বলতে পারেনা। ওর চোখে পানি টলমল করছে। দাড়িয়ে ওর হাতে গোলাপ দিয়ে ওর আঙুলে আংটি টা পরিয়ে দিলাম।। ওর চোখের বাধ ভেঙে বন্যা বইছে।। বিকেল বেলার সময়। হালকা রোদ এসে নীলা কে স্পর্ষ করেছে। খুব সুন্দর লাগছে। ওর মুখে কোনো কথা নেই। শুধু কাঁদছে।। - কিরে পাগলি! এভাবে কাঁদছিস কেন? - তুই সকালে এমন করলি কেন? - তখন যদি বলে দিতাম এই সারপ্রাইজ উপভোগ করতে পারতি? - তুই খুব পচা। তোর সাথে কোনো কথা নেই। - আচ্ছা বাবা সরি। - কানে ধরে ২০ বার উঠাবসা কর।। বাধ্য ছেলের মত কানে ধরতে বাধ্য হলাম।। ঐদিকে দেখি আবির শালা সব দেখে দেখে হাসছে।। এ কি ওর সাথে সব বন্ধুরা এসে আমাদের সামনে হাসছে। খুব লজ্জাকর অবস্থা। তবুও ক্ষমা নেই। ২০বার কানে ধরে উঠাবসা শেষ করলাম।। - আর কখনো এমন টা করবি? - না। - সত্যি! - হ্যা।। - হুম। - ভালবাসিস? - হুম। - কত টুকু? - অনেক বেশি। - আমি আরো বেশি। - না আমি বেশি।। - ঐ আমি বেশি ভালবাসি। তুই চুপ। চুপ করে গেলাম। নাহলে আবার কানে ধরতে হল।। সবাই হাসছে আমাকে দেখে। নীলা আমাকে খুব জোড়ে জড়িয়ে ধরল।। সবাই হাত তালি দেয়। আবির সবাই কে নিয়ে চলে গেল। আমি আর নীলা আছি শুধু। নীলা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। আমি কিছুই বলছিনা। কারণ এই কান্না ভালবাসার পবিত্র জল।

কোন মন্তব্য নেই

diane555 থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.