Sponsor

banner image

recent posts

আদুরি বোন,, তার বান্ধবী

এই ভাই ওঠ। আর কত ঘুমাবি ওঠ না প্লিজ আমার দেরি হয়ে যাচ্ছেতো। - এই তোর কি হয়েছে এই সাঝ সকালে কাকের মতো এরকম চেঁচাচ্ছিস কেন? - আমি কাকের মতো চেঁচাচ্ছি না ঘরিতে দেখেছিস কটা বাজে। - এই বাবা এতো সারে আটটা বাজে। এতো দেরি হয়ে গেল আগে ডাক দিবি না। - মহারাজকে সেই কখন থেকে ডাকছি আর কানেই যাচ্ছে না আবার আমার উপরেই ঝাড়ি না। এসব শুনে আর লাভ নাই এটা ডেইলি রুটিন যাই তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নেই নয়তো আবার অফিসে চাকরি থাকবে না। এই ফাঁকে আমার পরিচয়টা দেই। আমি আর্গন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করি। আর যে আমার ঘুম ভাঙ্গাল সে আমর ছোট বোন অরিন। আমি বাবার বড় ছেলে আর সে ছোট্ট মেয়ে এটাই আমাদের সুখি পরিবার। - এ ভাই কি হলো টয়লেটে গিয়ে কি এতক্ষণ লাগে নাকি। বলছি দেরি হয়ে যাচ্ছে এটা তার কানেই যাচ্ছে না। - আপনার সাথে কথা বলতে দেরি হয়ে গেল আর কিছু বলতে পারব না যা জানার গল্পের মাঝেই জানতে পারবেন। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অরিনের সামনে গেলাম। -হুম আমি রেডি এবার চল। -(সে টেবিলের দিকে আঙুল দেখিয়ে) খাবার বেড়ে বেখেছি তাড়াতাড়ি খেয়ে নে। জানি এই ডাইনি বোনটির হাত থেকে রক্ষা নেই তাই কিছু না বলে চুপ করে খেয়ে নিলাম। আসলে আমার মা আমার যতটুকু খেয়াল নেয় তার থেকেও বেশি আমার খেয়াল রাখে আমার এই লক্ষ্ণী বোনটি। আর আমিও আমার জীবনের চেয়েও ভালবাষি এই বোনকে যদিও কখনও তাকে বুঝতে দেইনা সবসময় সুধু ঝগড়াই করি। খাওয়া শেষে আমি বাইক নিয়ে বাহিরে গিয়ে দাড়ালাম। সে এসে লাফ দিয়ে বাইকে উঠলো। আমি পড়েই যাচ্ছিলাম তবু অনেক কষ্টে সামলে নিলাম। - তোকে না বলেছি এভাবে কখনও বাইকে চড়বি না। যদি পড়ে যেতাম।রেগে গিয়ে - সে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে বলল সরি ভাইয়া আর কখনও হবে না। - আচ্ছা ঠিক আছে ভাল হয়ে বস। আমি চুপচাপ বাইক চালাচ্ছি। তাই অরিন ভেবেছে আমি তার উপর রেগে আছি। তাই সে বলল - কি ভাইয়া সরি বললাম তো তবু রেগে আছিস কেন? - আরে সত্যি রেগে নেই। - তাহলে এরকম চুপচাপ আছিস যে। - বেশি কথা বললে মনোযোগ অন্য দিকে যাবে তাই চুপচাপ গাড়ি চালাতে হয়। কিছুক্ষণ পর অরিনের কলেজে এসে পড়লাম। অরিন এবার নিকড়দিঘি ডিগ্রি কলেজ ইন্টারমিডিয়েটে পড়াশোনা করছে। আমি তাকে প্রতিদিন কলেজে নামিয়ে দিয়ে অফিসে যাই। আমি কলেজের গেটের সামনে দাড়ালাম। অরিন নামছিল না চুপচাপ বসে আছে। - কি হলো নামবি না। তোর কলেজে এসে গেছি। এই ঘুমাচ্ছিস নাকি তুই। - নামছি তা কি হয়েছে এভাবে বলতে হবে। বোন দেরি করলে তোর গায়ে লাগে তুই দেরি করিস তাতে কিছু হয় না। - এই তোর কি হয়েছে বল। সে কিছু না বলে কলেজের ভিতরে চলে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না যে হঠাৎ কি হলো। আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই আমি চলে আসলাম। কিছুদূর আসার পর দেখি তার টিফিন বাটি সে না নিয়ে চলে গেছে। তাই আবার বেক করে অরিনের কলেজে আসলাম। গেটের সামনে দাড়াতেই অরিন দৌড়ে এসে সামনে দাড়াল। দেখলাম সে ভয়ে কাঁপছিল । - আচ্ছা তোর কি হয়েছে বলবি তো। রাগ করে চলে গেলি টিফিন বাটিও নেসনি। আমি তার হাতে টিফিন বাটি দিচ্ছিলাম। ঠিক তখনই তিনটা ছেলে এসে অরিনের সামনে দাড়াল। - এই সুইট হাট আমরা থাকতে তোমার আসিককে লাগবে কেন? আমরাই তোমাকে আদর দিব।( বলে হাসতে লাগল) তারা অরিনের দিকে এগিয়ে আসছিল। আমি বাইক থেকে নামলাম । অরিন ভয়ে আমার পিছনে দাড়াল। আমি তাদেরকে বললাম - এক মিনিট দাড়া। - এই দেখ ছেরির আসিক আমাদের থেকে এক মিনিট সময় চাচ্ছে (হাহাহা) - শোন আমি এক থেকে তিন পযন্ত গুনবো যদি তোদের মা বোন থেকে থাকে তবে এখান থেকে চলে যাবি। তারা শুনলো না সমনের দিকে আসছিল। আমি মাথার হেলমেট খুলে ঠাস ঠাস করে তাদের তিন জনের মাথাই মারতে লাগলাম। দুইজন পালিয়ে গেল আর একজন হোচট খেয়ে পড়ে গেল। আমি গিয়ে তার কলার ধরে সোজা নাক বরাবর কয়েকটি ঘুসি দিলাম। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে লাগল। সে আমার পা ধরে বলতে লাগল - ভাই ভুল হয়ে গেছে আর জীবনেও হবে না। - ঠিক আজে ওঠ (সে দাড়াল) এবার শাট খোল (সে শাট খুলল) এবার কান ধরে উঠাবসা কর, আর বল যে আর জীবনেও এরকম কাজ করবি না। যদি কেউ করে তবে তাকে বাধা দিবি। সে তাই করল। তারপর দৌড় দিল। আমি অরিনের কাছে গেলাম। সে নিচের দিকে তাকিয়ে ছিল। তাকে বললাম - এবার বল তখন রাগ করে টিফিন বাটি ছেড়ে চলে গেলি কেন? - কালকে ছুটির পর তোর আসতে দেরি হয়েছিল, তখন এরা আমার সাথে অসভ্যতা করেছিল। -তো কাল বলিসনি কেন? - কাল বলে কি হতো ওরা তখন চলে গেছিল। আজ তোকে তাদের দেখাতে চাইলাম, কিন্তু তুই রাগ করে আমাকে নামতে বলছিস তাই রাগ করে চলে গেলাম। - আচ্ছা ঠিক আছে আর কখনও তোর সাথে রাগ করবো না। এবার খুশি। - (হেসে বলল) হুম খুশি। - ঠিক আছে এবার টিফিন বাটি নে আর ক্লাসে যা। আমি তোর অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে অফিসে যাচ্ছি। - আচ্ছা ঠিক আছে যা তাহলে। কিন্তু আজ যেন আবার আসতে দেরি না হয়। - আচ্ছা ঠিক আছে হবে না। অরিন চলে গেল। আমি অধ্যক্ষের কাছে কমপ্লেন দিলাম আর যেন কোন ছেলে অরিনকে দিসটাব না করে। অধ্যক্ষ সয়ং আমার নিজেও স্যার তাই তিনি নিশ্চিন্ত করলেন যে আর কখনও কোনো ছেলে অরিন কে ডিসটার্ব করতে পারবে না। তারপর আমি অফিসে চলে আসলাম। আজ অফিসে আসতে এক ঘন্টা লেট তাই বসের কাছে বকা খেতে হলো, কিন্তু তাতে কোনও আপসোস নাই তবু বোনকে বাঁচাতে পেরেছি, তাই মনে একটা আনন্দ কাজ করছিল। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করলাম। অরিনের কলেজ তিন টাই ছুটি কিন্তু আমার অফিস চারটাই ছুটি হয়। কিন্তু আমি এক ঘন্টা আগেই আমার কাজ শেষ করি। কারণ অন্যরা ব্রেক টাইমে কাজ করে না কিন্তু আমি তখনও কাজ করি তাই এক ঘন্টা আগেই আমার কাজ শেষ হয়। আজকে যদিও লেট করে এসেছি তবু তারাতারি করে কাজ করে তিনটার আগেই শেষ করলাম। তারপর বসকে বলে অফিস থেকে চলে আসলাম। আমি অরিনের কলেজে আসতেই কলেজ ছুটি হলো। আমি বাহিরে অপেক্ষা করলাম। অরিন তার বান্ধবীদের সঙ্গে বাহিরে আসলো। তারপর তার বান্ধবীদের বিদায় দিয়ে আস্তে করে বাইকে উঠে পড়ল কোনও কথা বলল না। দেখে মনে হলো মন খারাপ। ভাবলাম সকালের বিষয়টির জন্য হয়তো এখনো মন খারাপ আছে। তাই আমীও কিছু বললাম না। বাড়িতে আসার পর সে সোজা তার রুমে চলে গেল কিছুই বুঝলাম কি কারণ আজ কেন জানি তার আচরণ গুলো সব অদ্ভুত অদ্ভুত। আমি বাইক রুমে রেখে নিজের রুমে চলে গেলাম। রাতে ঘরে বসেই লেপটপে কাজ করছিলাম। কিছুক্ষণ পর অরিন রুমে আসলো। আমার পাশে বসে পড়ল। আমি কাজ করেই যাচ্ছিলাম। - ভাইয়া রে,,,, - (কাজ করতে করতে) কি বল কি হয়েছে আজ এরকম মন খারাপ কেন। -,,,,,,, (তার দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ জলে ভরে আছে।) - এই কি হয়েছে বল কাঁদছিস নাকি, চোখে জল কেন?(অস্থির হয়ে),,,,,,, ,,,,,,,, চলবে,,,,,, গল্পটি কেমন লাগল জানাবেন প্লিজ।
আদুরি বোন,, তার বান্ধবী আদুরি বোন,,  তার বান্ধবী Reviewed by MD ASAD RAHMAN on মে ২৯, ২০১৯ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.